চট্টগ্রাম   বৃহস্পতিবার, ২১ অক্টোবর ২০২১  

শিরোনাম

কোচবিহার হত্যাকাণ্ডঃ পশ্চিমবঙ্গের ভোটের রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ!  

গণহত্যা আখ্যা দিয়ে প্রচারণায় মমতা 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :    |    ০৪:৪০ পিএম, ২০২১-০৪-১৫

কোচবিহার হত্যাকাণ্ডঃ পশ্চিমবঙ্গের ভোটের রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ!  

রতন কান্তি দেবাশীষ,পশ্চিমবঙ্গ থেকেঃ 
পশ্চিমবঙ্গের আট দফা ভোটের মধ্যে চার দফা ভোট হয়ে গেল। এখনও চার দফা ভোট বাকি। তার মানে, শতকরা পঞ্চাশ ভাগ ভোট হয়ে গেলেও শতকরা পঞ্চাশ ভাগ ভোট এখনও বাকি। সবচেয়ে দুঃখজনক ঘটনা হল, চতুর্থ দফার ভোটে কোচবিহারের শীতলকুচি গ্রামে সিআরপিএফ-এর গুলিতে চার যুবকের মৃত্যু। এঁদের মধ্যে একজন নতুন ভোটার, যিনি জীবনে প্রথম ভোটার হয়ে ভোট দিতে এসেছেন, এমন যুবকেরও মৃত্যু হল।
এহেন পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পশ্চিমবঙ্গে এসেছেন এবং তিনটি জনসভাও করেছেন। অন্য দিকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও রোড-শো করেছেন। এই গুলিচালনার মাধ্যমে হত্যাকে ‘জেনোসাইড’ আখ্যা দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও সাংঘাতিকভাবে প্রচার শুরু করেছেন। বিজেপির আক্রমণাত্মক প্রচারকে ব্যাকফুটে নিয়ে যাওয়ার জন্য, তৃণমূল কংগ্রেস কিন্তু কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলি চালনাকে একটা বিরাট ইস্যু করে তুলেছেন। অভিযোগ উঠেছে যে, কেন্দ্রীয় বাহিনী এখানে কী করতে এসেছে? গুলি চালাতে, না ভোট করাতে?
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বা অমিত শাহ আজ যে রাজনৈতিক লাইন-টা নিচ্ছেন, তাতে বিজেপি-র শীর্ষ নেতৃত্বের পাল্টা রণকৌশলটাও কিন্তু খুব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সেই রণকৌশলটা হল, ‘এই হত্যার জন্য দায়ী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।‘ রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ এই অভিযোগটা প্রথম দিন থেকেই শুরু করেছিলেন। তিনি তাঁর স্টাইলে বলেছিলেন, হুইল চেয়ারের রাজনীতির পর এবার লাশ নিয়ে রাজনীতি শুরু হয়েছে। লাশ নিয়ে এই রাজনীতিতে কোনও ফল হবে না। তার কারণ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরাস্ত হয়েছেন, তাঁর রাজনীতি পরাস্ত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তাঁর আর নতুন করে ভেসে ওঠার কোনও সম্ভাবনা নেই। সেই কারণে তিনি এখন লাশ নিয়ে রাজনীতি করছেন।
 সিআরপিএফ-এর বিরুদ্ধে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগটা এখন সাধারণ মানুষের কাছে, বিশেষ করে যারা তাঁর ভোটার, তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য হচ্ছে। এই গুলি চালনাকে কেউ সমর্থন করতে পারে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার বলছেন, পায়ে কেন গুলি চালানো হল না? সরাসরি বুকে কেন গুলি চালানো হল? যারা গুলি চালায় তারা প্রথমেই যদি বুক লক্ষ্য করে গুলি চালায় এবং মানুষকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়! এটা কখনোই পুলিশ বাহিনীর লক্ষ্য হতে পারে না।
এখন পরিস্থিতিটা একটা গুরুত্বপূর্ণ অভিমুখ নিয়েছে। এখন এই হত্যা নিয়েও একটা মেরুকরণের রাজনীতে হচ্ছে। অমিত শাহ সরাসরি বলেছেন, যে চারজন নিহত হয়েছেন, তাদের কথা বলছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু আর একজন পঞ্চম ব্যক্তির কথা বলছেন না। তার কারণ কী পঞ্চম ব্যক্তি ‘আনন্দ বর্মন’ বলে? তিনি রাজবংশী, সেই কারণে তাঁর কথা বলছেন না? অর্থাৎ, একটা ধর্মের প্রতি তিনি তাঁর বেদনা ব্যক্ত করছেন। এই অভিযোগটাও কিন্তু মারাত্মক!
অমিত শাহের এই অভিযোগের জবাবে তৃণমূলের পক্ষ থেকে রাজ্যসভার সদস্য, তৃণমূলের উপনেতা, রাজ্যসভার সংসদীয় দলের উপনেতা, সুখেন্দ্র শেখর রায় বলেছেন, এটা সম্পূর্ণ অসত্য। এই কথা বলে বিজেপি একটা মেরুকরণের রাজনীতি করার চেষ্টা করছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রত্যেক নিহত মানুষের জন্য গভীর সমবেদনা ব্যক্ত করেছেন। এই ঘটনায় ভীষণভাবে আবেগতাড়িত হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতিবাদে মুখর হয়েছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ইস্তফা দাবী করেছেন। মৃত্যুর মধ্যে ধর্মকে টেনে আনা বিজেপির রাজনীতি।
একটা জিনিস ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে, পঞ্চম দফা ভোটের আগে কোচবিহারের গুলি চালনার এই ঘটনা কিন্ত একটা বড় আলেখ্য তৈরি করে দিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আক্রমণাত্মভাবে একটা জিনিস প্রতিষ্ঠা করতে চাইছেন। সিআরপিএফ সম্পর্কে তাঁর প্রথম অভিযোগ হল, কেন্দ্রের অঙ্গুলিহেলনে আধা সামরিকবাহিনী এখানে হিংসার সৃষ্টি করে ভোটটা নিজেদের মতো করে করাতে চাইছে। যারা তৃণমূলের সমর্থক, তাদের ভোট দিতে বাধা দিচ্ছে এবং এইসমস্ত কাজের জন্যেই তাদেরকে প্রশিক্ষণ দিয়ে পাঠানো হয়েছে।
বিজেপি আবার পাল্টা আলেখ্য দিতে নেমে পড়েছে। তাদের প্রথম যুক্তি হচ্ছে, এই কারণেই বিজেপি আট দফায় ভোট করার কথা প্রথম থেকেই বলেছে। পশ্চিমবঙ্গে হিংসা মুক্ত ভোট করা খুব কঠিন। আট দফা ভোট করেও নির্বাচন কমিশন হিংসা থামাতে পারছে না। তার মানে, পশ্চিমবঙ্গ তাহলে কতটা হিংসাতাড়িত হয়ে রয়েছে! এই পরিস্থিতিতে যদি ভোটটা আট দফায় না করা হত তাহলে আরও অনেক বেশি মানুষ মারা যেত। একদফায় ভোট করা হলে হয়তো আরও ভয়ঙ্করভাবে ভোটের দৃশ্য আমরা দেখতে পেতাম! এমনকী বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমেও বলা হচ্ছে, এই কোচবিহারের ঘটনাও কিন্তু দেখিয়ে দিচ্ছে যে, পশ্চিমবঙ্গের এই ভোট পর্বে আধা সামরিক বাহিনীর বা নিরাপত্তার কতটা প্রয়োজন ছিল এবং আছে। এই চাপানউতোরটা অব্যাহত থাকছে এবং এই চাপানউতোরের মধ্য দিয়েই পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের প্রক্রিয়া অতিবাহিত হচ্ছে।
 

রিটেলেড নিউজ

মায়ের রক্তে ভাসছে ঘর, ছেলেকে খুঁজছে পুলিশ!

মায়ের রক্তে ভাসছে ঘর, ছেলেকে খুঁজছে পুলিশ!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : :   স্বপ্না চন্দ। পেশায় নার্স। তার স্বামী পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে অন্য নারীর সঙ্গে থাকেন। তাই শাশু...বিস্তারিত


মৃত্যুর পরে এমপি হলেন আনসাম

মৃত্যুর পরে এমপি হলেন আনসাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : :   ইরাকের খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের নেত্রী আনসাম ম্যানুয়েল ইস্কান্দার ২৪ আগস্ট মহামারি করোনায় আক্...বিস্তারিত


 প্রকাশ্য শাস্তিতে তালেবানের ‘না’

প্রকাশ্য শাস্তিতে তালেবানের ‘না’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : :   আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: প্রকাশ্য শাস্তিতে তালেবানের ‘না’ মরদেহ ক্রেনে ঝুলিয়ে ২৫ সেপ্টেম্বর শ...বিস্তারিত


সৌদির বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা, তিন বাংলাদেশিসহ আহত ১০

সৌদির বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা, তিন বাংলাদেশিসহ আহত ১০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : :   সৌদি আরবের জাজান শহরের বাদশাহ আবদুল্লাহ বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে তিন বাংলাদ...বিস্তারিত


সৌদিআরবে স্বর্ণ উৎপাদনের পরিমাণ বাড়ছে 

সৌদিআরবে স্বর্ণ উৎপাদনের পরিমাণ বাড়ছে 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : :   সৌদি আরবের স্বর্ণ খনিতে প্রচুর স্বর্ণ রিজার্ভ রয়েছে যার মূল্য প্রায় ১.৩ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছ...বিস্তারিত


সৌদিআরবে প্রবাসীরা অন্যত্র কাজ করলে জেল এবং নিজ দেশে ফেরতের ঘোষণা 

সৌদিআরবে প্রবাসীরা অন্যত্র কাজ করলে জেল এবং নিজ দেশে ফেরতের ঘোষণা 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : :     সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে সৌদি নিয়োগকর্তা ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য বা অর্থের বিনিময়ে তার ক...বিস্তারিত



সর্বপঠিত খবর

পার্বত্য ভিক্ষসংঘু ও পার্বত্য ত্রাণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে বই বিতরণ 

পার্বত্য ভিক্ষসংঘু ও পার্বত্য ত্রাণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে বই বিতরণ 

বিহারী চাকমা, রাঙামাটি : :   রাঙ্গামাটির লংগদু কলেজে পার্বত্য ভিক্ষুসংঘ ও পার্বত্য ত্রাণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে দরিদ্র ও ম...বিস্তারিত


“ হিন্দুরা বাংলার দেশপ্রেমি নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে আখ্যায়িত করে অশুর আর বাংলার দুশমন ক্লাইভকে আখ্যায়িত করে মা দূর্গা! ”

“ হিন্দুরা বাংলার দেশপ্রেমি নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে আখ্যায়িত করে অশুর আর বাংলার দুশমন ক্লাইভকে আখ্যায়িত করে মা দূর্গা! ”

নবাবজাদা আলি আব্বাসউদ্দৌলা :- :   নবাবজাদা আলি আব্বাসউদ্দৌলা :- পলাশী একটি বিশ্বাসঘাতকতার ইতিহাস। এই ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছিল...বিস্তারিত



সর্বশেষ খবর