চট্টগ্রাম   মঙ্গলবার, ২২ জুন ২০২১  

শিরোনাম

খুলনায় নগরজুড়ে  পানির জন্য হাহাকার

খুলনা প্রতিনিধি :    |    ০৬:১২ পিএম, ২০২১-০৫-২২

খুলনায় নগরজুড়ে  পানির জন্য হাহাকার

 প্রায় দুই দশক ধরে ভূ-গর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীল খুলনার মানুষ। নলকূপ দিয়ে চাহিদার শতভাগ পানিই ভূ-গর্ভ থেকে উত্তোলন করা হতো। শুষ্ক মওসুমে পানির স্তর নিচে নেমে গেলে দেখা দিতো পানির কষ্ট। হস্তচালিত নলকূপ থেকে পানি ওঠা বন্ধ হয়ে যেতো। ওয়াসার উৎপাদক নলকূপের পানিও কমে যেতো। পানির জন্য মহানগরজুড়ে শুরু হতো হাহাকার।
মানুষের পানির কষ্ট নিরসন এবং ভূ-গর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমাতে আড়াই হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে মধুমতি নদীর পানি পরিশোধন করে সরবরাহের প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে ওয়াসা। গত দেড় বছর ধরে গ্রাহকদের সেই পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। কিন্তু শুষ্ক মওসুমে ফের পানির কষ্টে ভুগছে খুলনার মানুষ। ওয়াসার পাইপলাইনে পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যাচ্ছে না। যেটুকু পানি পাওয়া যাচ্ছে তাতেও লবণের আধিক্য বেশি। যার কারণে মানুষকে ফের উৎপাদক নলকূপের ওপর নির্ভরশীল হতে হচ্ছে। নলকূপে পানি কমে যাওয়ায় ফের পানির কষ্ট শুরু হয়েছে নগরজুড়ে। আড়াই হাজার কোটি খরচের পরও সেই পুরাতন কষ্ট মানতে পারছে না খুলনার মানুষ।
দেখা গেছে, পরিশোধন কেন্দ্রে পানি শুধু বিশুদ্ধ হয়, লবণাক্ততা যায় না। যার কারণে নদীতে লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় পরিশোধিত পানিতেও অতিরিক্ত লবণ থেকে যাচ্ছে। এই পানি ব্যবহার করা যায় না।
লবণাক্ততার কারণে পরিশোধন কেন্দ্রের পানি যে ব্যবহার করা যাবে না-এ বিষয়ে আগাম কোনো ধারণাই ছিলো না ওয়াসা কর্মকর্তাদের। প্রকল্পের কোনো পর্যায়েই এই বিষয়টি নিয়ে কখনো আলোচনা হয়নি। যার কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে ওয়াসা।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, পরিশোধিত পানি সরবরাহ কমিয়ে লবণ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে সংস্থাটি। বিকল্প হিসেবে উৎপাদক নলকূপ দিয়ে ভূগর্ভ থেকে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। অথচ উৎপাদকগুলো নলকূপ বন্ধ রেখে ভূ-গর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমাতেই বিশাল ব্যয়ের প্রকল্প নেওয়া হয়েছিলো। কিন্তু সংকটের সময় মেগা প্রকল্পটি কাজে লাগছে না।
‘খুলনা পানি সরবরাহ’ নামের এই মেগা প্রকল্পটি ১০ বছর আগে শুরু করে বছর দেড়েক আগে চালু করে খুলনা পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ খুলনা ওয়াসা। নগরীর ১০টি বিভিন্ন এলাকায় পানি পৌঁছায় গত বছর ফেব্রুয়ারিতে। কিন্তু এপ্রিলেই ধরা পড়ে লবণ। হই চই পড়ে গেলে পানিতে লবণের উৎস খুঁজতে নামে ওয়াসা। কিন্তু খুঁজে পায় না কিছুই। প্রথম দিকে গভীর নলকূপের পানিতে নোনা বেশি পাওয়ায় ৫৮টির মধ্যে ৫টিই বন্ধ করে দেয় ওয়াসা। তাতেও কাজ না হওয়ায় ওই মাসেই মোল্লাহাটে মধুমতি নদীর পানি উত্তোলন কেন্দ্র, রূপসার সামন্তসেনায় পানি পরিশোধন কেন্দ্র, নগরীর ভেতরে ওয়াসার ৭টি রিজার্ভার এবং বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা পানি পরীক্ষা করা হয়। দেখা যায়, মধুমতি থেকে এনে পরিশোধন করা পানিতেই লবণ রয়েছে। পরে পানি পরিশোধন কমিয়ে গভীর নলকূপ চালু করে নগরবাসীকে পানি দেওয়া হয় কমিয়ে কমিয়ে।  পরের মাসেই বৃষ্টির কল্যাণে নোনা কমে আসে নদীতে, আর যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচে ওয়াসা। কিন্তু চলতি বছর এপ্রিলে শুষ্ক মওসুমের শুরু থেকে আবার ঘটে সেই বিপত্তি। নগরীর বিভিন্ন এলাকার সাপ্লাইয়ের পানিতে দেখা দেয় লবণ। সেই পানি ব্যবহার করতে না পেরে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন নগরবাসী। 
তথ্য অধিকার আইনের মাধ্যমে পাওয়া ওয়াসার তথ্যই বলছে, গত ১ মে মধুমতি নদীর পানিতে লবণাক্ততা ছিল ১১৩০ পিপিএম; পরিশোধনকেন্দ্র থেকে রিজার্ভারে এসে সেটা দাঁড়ায় ১০৪০ পিপিএম। এর কারণ জানা যায়, কেন্দ্রে নোনা পরিশোধের ব্যবস্থা না থাকলেও অনেক সময় রিজার্ভারে জমা থাকা শুষ্ক মওসুমের আগের পানির সঙ্গে মিশে গড়ে লবণাক্ততার মাত্রা কমে যায়। এভাবে গোঁজামিলের পরিশোধিত পানিতে গত ২মে ১১১০ পিপিএম, ৩ মে ১১৯০, ৪ মে ১৩৮০, ৫মে ১৪৬০ এবং সবশেষ ১৬ মে ১৮১০ পিপিএম নোনা পানি পাওয়া গেছে বলে জানায় খুলনা ওয়াসা।
এসব তথ্য-উপাত্ত নিয়ে ওয়াসার এমডি প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেন, ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টে পানির সব ধরনের ক্ষতিকর উপাদান ব্যাকটেরিয়া, ভাসমান কণা, ময়লা-ঘোলা, দুর্গন্ধ সবই পরিশোধন করে পানযোগ্য করা হয়।
‘কিন্তু ওই পানি তো কেউ পান করতে পারছে না মাত্রাতিরিক্ত নোনার কারণে। নোনা পরিশোধনের ব্যবস্থা রাখা হয়নি কেন’ জানতে চাইলে এমডি বলেন, ‘নদীর পানির লবণাক্ততা দূর করে ব্যবহার করা এতোটাই ব্যয়বহুল যে, এমন কিছু করার কথা কারও ভাবনায়ও আসেনি।’ তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নদীর পানিতে লবণাক্ততা এভাবে বাড়বে, সেটা ওই সময় বোঝা যায়নি। এছাড়া মধুমতির উজানের নদী গড়াই খননের বিষয়ে আলোচনা চলছিল। সেটা হলে মধুমতির পানিপ্রবাহ ও লবণাক্ততা স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছিল।
দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে খুলনাঞ্চলের পরিবেশ নিয়ে গবেষণা করছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সাবেক প্রধান অধ্যাপক ড. দিলীপ কুমার দত্ত। এই মেগা প্রকল্পের পরিকল্পনা চলাকালে বিভিন্ন পরিবেশবাদি সংগঠনের সভা-সেমিনারে তিনি নিয়মিত অংশ নিতেন। গত ১৯ মে তিনি বলেন, ‘আমার সঙ্গে ওয়াসার কোনো যোগযোগ হয়নি। ওই সময় সভা-সেমিনারগুলোতে আমি তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করে বলেছি, বছরের ৪-৫ মাস মধুমতি নদীর পানি ব্যবহার করা যাবে না। ভবিষ্যতে এই সংকট আরও বাড়বে। লবণ এবং উৎপাদন খরচ এতো বেশি হবে যে, এক সময় প্রকল্পটি আর কাজে আসবে না।’
দেশের দক্ষিণাঞ্চলের লবণাক্ততা ব্যবস্থাপনা ও গবেষণা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা অমরেন্দ্রনাথ বিশ্বাস জানান, খুলনাঞ্চলের মানুষ সাধারণত ২ ডিএস মিটার (ডেসি সিমেন পার মিটার) লবণাক্ততা পর্যন্ত পানি খাওয়া ও রান্নার কাজে ব্যবহার করেন। কিন্তু গত ১৫-১৬ বছর ধরেই শুষ্ক মওসুমে মধুমতি নদীর পানির লবণাক্ততা সহনীয় মাত্রার চেয়ে বেশি রয়েছে।
প্রতিবেদনে আরো দেখা যায়, মাত্র দুই বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করেই শুষ্ক মওসুমের ১৫ দিন পানিতে লবণাক্ততা থাকবে এমন ধারণা থেকেই প্রকল্পের নকশা তৈরি করা হয়েছে। ২০২৫ সালে খুলনার জনসংখ্যা এবং পানির চাহিদা কতো থাকবে, তা বলা হয়েছে। অথচ ২০২৫ সাল নাগাদ মধুমতির পানিপ্রবাহ কেমন থাকবে, লবণের পরিমাণ কেমন হতে পারে-তার কোনো ধারণা দেওয়া হয়নি।
ওয়াসার প্রকল্প চলাকালে আইডব্লিউএমের নির্বাহী পরিচালক ছিলেন প্রকৌশলী ইমাদউদ্দিন আহমেদ। করোনা আক্রান্তের পর তিনি এখন বিশ্রামে রয়েছেন। তাই যোগাযোগ করেও তাঁর কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে সরকারি এই প্রতিষ্ঠানটির ওয়াটার রিসোর্স প্লানিং শাখার বর্তমান পরিচালক সোহেল মাসুদ বলেন, ওই সময় যেসব সিনিয়র স্যাররা ছিলেন, তাঁদের বেশিরভাগই অবসরে চলে গেছেন। তখন আমাদের কোনো ভূমিকাই ছিল না; বর্তমান দায়িত্বরতরাও কিছু বলতে পারছেন না। এ সংক্রান্ত কোনো নথিও আমাদের কাছে নেই।

রিটেলেড নিউজ

২৪ ঘণ্টায় ৮২ জনের মৃত্যু, সাত সপ্তাহে সর্বোচ্চ

২৪ ঘণ্টায় ৮২ জনের মৃত্যু, সাত সপ্তাহে সর্বোচ্চ

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে আরও ৮২ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের ম‌ধ্য...বিস্তারিত


মুজিববর্ষে দেশের সকল গৃহহীনকে ঘর করে দেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত প্রধানমন্ত্রীর

মুজিববর্ষে দেশের সকল গৃহহীনকে ঘর করে দেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভূমিহীন-গৃহহীনদের মাঝে ৫৩ হাজার ৩৪০টি ঘর বিনামূল্যে বিতরণকালে মুজিববর...বিস্তারিত


‘আল্লাহ মরণ রাইখলে এইহ্যানে মরুম’

‘আল্লাহ মরণ রাইখলে এইহ্যানে মরুম’

রাঙামাটি প্রতিনিধি : : রাঙ্গামাটিতে পাহাড়ধসে প্রাণহানি ঠেকাতে ২৩টি আশ্রয়কেন্দ্র খুলেছে প্রশাসন। তবে শত চেষ্টার পরও ঝু...বিস্তারিত


লাকসামে মডেল ফারিয়ার ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

লাকসামে মডেল ফারিয়ার ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

লাকসাম প্রতিনিধি :: : ‘‘ অধিকার আদায়ে আমরা সবাই একসাথে ’’ এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কুমিল্লার লাকসামে শনিবার (১৯ জ...বিস্তারিত


কক্সবাজারে পুলিশের অভিযানে এস.এ পরিবহন থেকে ৯ হাজার ৬শ ইয়াবাসহ  ইয়াবা ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

কক্সবাজারে পুলিশের অভিযানে এস.এ পরিবহন থেকে ৯ হাজার ৬শ ইয়াবাসহ  ইয়াবা ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

সংবাদদাতা কক্সবাজার :: : কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ এক অভিযান চালিয়ে এস.এ পরিবহন কক্সবাজার শাখা থেকে ৯ হাজার ৬শ পিস ইয়াব...বিস্তারিত


কক্সবাজারের পেকুয়ায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে বৃদ্ধ নিহত, আহত ১২

কক্সবাজারের পেকুয়ায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে বৃদ্ধ নিহত, আহত ১২

সংবাদদাতা কক্সবাজার :: : কক্সবাজারের পেকুয়ায় সানলাইন পরিবহনের দুই বাসের সংঘর্ষে ছাবের আহমেদ (৬০) নামের এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছে...বিস্তারিত



সর্বপঠিত খবর

পার্বত্য ভিক্ষসংঘু ও পার্বত্য ত্রাণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে বই বিতরণ 

পার্বত্য ভিক্ষসংঘু ও পার্বত্য ত্রাণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে বই বিতরণ 

বিহারী চাকমা, রাঙামাটি : :   রাঙ্গামাটির লংগদু কলেজে পার্বত্য ভিক্ষুসংঘ ও পার্বত্য ত্রাণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে দরিদ্র ও ম...বিস্তারিত


নবাব সিরাজউদ্দৌলার জন্ম উৎসবে বাংলার তিন গুণী সন্তান পেলেন সম্মাননা স্মারক

নবাব সিরাজউদ্দৌলার জন্ম উৎসবে বাংলার তিন গুণী সন্তান পেলেন সম্মাননা স্মারক

আমাদের বাংলা ডেস্ক : :                                                    - মুহাম্মদ শাহ্‌ আলম       ...বিস্তারিত



সর্বশেষ খবর