চট্টগ্রাম   মঙ্গলবার, ২২ জুন ২০২১  

শিরোনাম

‘যশ’ আতঙ্ক খুলনা উপকূলে মে মাস এলেই উপকূলবাসীর বুক কাঁপে

মো. আনিসুজ্জামান, খুলনা :    |    ০৮:৫১ পিএম, ২০২১-০৫-২৪

‘যশ’ আতঙ্ক খুলনা উপকূলে মে মাস এলেই উপকূলবাসীর বুক কাঁপে

 দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় জনপদের মানুষের বুকে কাঁপন ওঠে মে মাস এলেই। এই মে মাসেই আঘাত হেনেছে অনেক বিপদ।  আঘাত হেনেছে আইলা, আম্পানের মতো ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ। ২০০৯ সালের ২৫ মে আঘাত হানে আইলা। ২০২০ সালের ২০ মে আম্পানে ক্ষত বিক্ষত হয় কয়রাসহ উপকূল। এবার ২৬ মে ঘূর্ণিঝড় ‘যশ’ এর সম্ভাব্য আঘাত হানার খবরে গোটা উপকূল জুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। ২০০৪ সাল থেকে মে মাস ও নভেম্বর মাসে সিডর, বিজলী, রেশমী, আইলা, নার্গিস, মহাসেন, বুলবুল, আম্পান প্রভৃতি বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের মূর্তিমান ভয়াল রূপ দেখে আসছেন উপকূলীয় মানুষ।

ঘূর্ণিঝড় ‘যশ’ এর আঘাতের আগাম খবরে গোটা উপকূল জুড়ে ভয়ার্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সবাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার বিষয়ে পূর্বপ্রস্তুতি নিয়েছেন। তবে অধিক জোয়ারের চাপে বাঁধ ভেঙে বা ছাপিয়ে সাগরের পানিতে সমগ্র এলাকা প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। প্লাবিত হলে আবারও ঘর-বাড়ি পুকুর জলাশয় লবণ পানিতে ক্ষতিগ্রস্থ হবে। সমগ্র জনপদ জুড়ে পানীয় জলের অভাব আরও প্রকট হয়ে উঠবে।

আইলার আঘাতের পর ১২ বছর কেটে গেছে।  কিন্তু আইলার ধকল এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেননি ক্ষতিগ্রস্থরা। আবার এক বছর আগে ঘটে যাওয়া ‘আম্পান’র ধকল কাটিয়ে ওঠার আগেই আরও একটি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের আগমনী বার্তা। স্থানীয়দের মধ্যে রীতিমত ভীতিকর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সংস্কারের অভাবে জীর্ণশীর্ণ উপকূল রক্ষা বাঁধের করুণ অবস্থা। যা উপকূলবাসীকে সবচেয়ে বেশি ভাবাচ্ছে। এছাড়া ব্যবহার উপযোগী পানীয় জলের তীব্র সংকটের পাশাপাশি ‘আম্পান’ এর আঘাতে বিধ্বস্ত ঘরবাড়ি এখনও পূর্ণভাবে মেরামত হয়নি। ফলে চরম উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছেন উপকূলের মানুষ।

উপকূলীয় বাসিন্দারা জানায়, আইলা, বুলবুল ও ‘আম্পান’র আঘাতে লন্ডভন্ড হয়ে যাওয়া উপকূল রক্ষা বাঁধের বেশিরভাগ অংশ মজবুত করে বাঁধা হয়নি। অনেকাংশের বাঁধ যেমন টেকসইভাবে মেরামত করা হয়নি, আবার গোটা উপকূল রক্ষা বাঁধের উপরিভাগে আজ পর্যন্ত কোনও মাটির কাজ হয়নি। এ অবস্থায় ঘূর্ণিঝড় ‘যশ’ যদি আবারও সুন্দরবন সংলগ্ন এ উপকূলীয় জনপদে আঘাত হানে তাহলে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির শঙ্কা রয়েছে। এছাড়া ভরা পূর্ণিমার কারণে একই সময়ে স্বাভাবিকের তুলনায় নদ-নদীতে জোয়ারের পানি ৩-৪ ফুট বৃদ্ধির প্রবল সম্ভাবনা থাকায় তারা চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন পার করছেন বলেও জানান।

উপকূলীয় বাসিন্দা ফিরোজ হোসেন বলেন, আম্পানের পর একটা বছর কেটে গেলেও গাবুরাকে ঘিরে থাকা বাঁধের ওপর মাটি দিয়ে উঁচু করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ভাঙন মুখে থাকা অনেক জায়গার বাঁধ এখনও সরু আইলে পরিণত হয়ে আছে। এ অবস্থায় পূর্ণিমার মধ্যে যদি ঘূর্ণিঝড় ‘যশ’ আছড়ে পড়ে, তবে সাগরে ভেসে যেতে হবে।

চকবারা গ্রামের মুর্শিদা খাতুন বলেন, মাত্র দশ দিন আগে স্বামীকে বাঘে খেয়েছে। ছেলে মেয়ের মুখে খাবার দিতে পারছিনা। এই দুঃসময়ে কোনও জায়গায় যে আশ্রয় নেবো ভেবে পাচ্ছি না।

কয়রা সদরের আজমল হোসেন জানান, বাঁধের দুরবস্থা আর কর্মসংস্থানসহ পানীয় জলের তীব্র অভাবে প্রতিনিয়ত তারা সংগ্রাম করে চলেছেন। প্রকৃতির হুমকিতে বারবার বাড়ি-ঘর ছেড়ে যাওয়া ও ফিরে আসার এমন টানা হেঁচড়ার মধ্যে ভাঙন কবলিত বাঁধ তাদের দুর্দশায় অন্যতম প্রধান কারণ।

উত্তর বেদকাশির হোসনে আরা বেগম বলেন, আশ্রয়কেন্দ্রে যেয়ে নিজেদের জীবন বাঁচানোর সুযোগ থাকলেও বাড়ি ঘর আর গৃহস্থলীর জিনিসপত্রের সঙ্গে গবাদি পশু-পাখি নিয়ে চিন্তিত রয়েছেন।

গোলাখালীর আকিরুন বেগম বলেন, তিন পাশে নদী আর এক পাশে বনকে আশ্রয় করে বসবাস। আম্পান’র আঘাতে বাঁধ ভেঙে সমগ্র এলাকা এলোমেলো হয়ে গেলো। তিন/চার দিন আগে স্থানীয়রা বাঁধের ভাঙন কবলিত অংশ বেঁধেছে। এবার ঘূর্ণিঝড় ভরা জোয়ারের সময় আঘাত করলে সাগরের সঙ্গে মিশে যেতে হবে’। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দেখে বাড়ি-ঘর ফেলে পরিবার-পরিজন নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজ যাবেন তিনি।

এদিকে সাগরে সৃষ্টি হয়েছে লঘুচাপ। এ খবর ইথারে ইথারে প্রচার হওয়ার পর খুলনার পাঁচ উপজেলার দু’লাখ মানুষ আতঙ্কে আছে। ঘূর্ণিঝড়টি শক্তিশালী হয়ে খুলনা উপকূলে আঘাত হানতে পারে। এ কারণে মোংলা সমুদ্রবন্দর এলাকায় এক নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। গত বছর ২০ মে আম্পানে খুলনা জেলায় ২০ কোটি টাকার সম্পদ নষ্ট হয়।

খুলনা ত্রাণ ও পুর্ণবাসন অধিদপ্তরের সূত্র জানায়, ঘূর্ণিঝড়ে প্রাণহানি ও সম্পদের নিরাপত্তার জন্য কয়রায় ১১৮টি, দাকোপে ১২৩টি, ডুমুরিয়ায় ১৯টি, বটিয়াঘাটায় ১৮টি ও পাইকগাছায় পাঁচটি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এসব কেন্দ্রের ধারণ ক্ষমতা এক লাখ ৯০ হাজার ৩৭০ জন। জেলা ত্রাণ পুর্ণবাসন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গো খাদ্য ও শিশু খাদ্য প্রস্তুত রয়েছে। পাঁচ হাজার ৩২০ জন্য স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রয়েছে। সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় শুকনো খাদ্য ও অর্থ বরাদ্দ করা হয়নি। আশ্রয়কেন্দ্রগুলো পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। ফায়ার ব্রিগেড প্রস্তুত করা হয়েছে। ২০২০ সালের ২০ মে আম্পান নামক প্রাকৃতিক দূর্যোগে খুলনা জেলায় দু’লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হয়। কয়রা উপজেলার কয়েকটি বেড়িবাধ ভেঙ্গে যায়। আম্ফানে গাছ পড়ে তিন জনে মৃত্যু হয়।

কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনিমেষ বিশ্বাস জানান, ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় সাতটি ইউনিয়নে এক হাজার ২৬০ জন সিপিপি কর্মী প্রস্তুত রয়েছে। দক্ষিণ বেদকাশী, উত্তর বেদকাশী, মহারাজপুর, মহেশ্বরীপুর ও সদর ইউনিয়নে কাল থেকে মাইকিং করা হবে। এ পাঁচটি ইউনিয়ন সব সময় দূর্যোগে ঝূঁকিপূর্ণ থাকে। আশ্রয়কেন্দ্রের জন্য শুকনো খাবার ও শিশু খাদ্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

খুলনা জেলা প্রশাসনের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক ইকবাল হোসেন বলেন, ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলার জন্য খুলনা জেলা প্রশাসন থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে উপকূলীয় অঞ্চলে ৩৫৯টি আশ্রয় কেন্দ্রর ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি উপকূলীয় বাসিন্দাদের গরু, ছাগল, হাস, মুরগিসহ বিভিন্ন গবাদি পশু নিরাপদে রাখার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাছাড়া সার্বক্ষণিক রেস্কিউ টিম থাকবে এবং জরুরি চিকিৎসাসেবার জন্য চিকিৎসকসহ ১১৬টি মেডিক্যাল টিম প্রস্তুত করা হয়েছে। খাদ্য নিশ্চয়তা শুকনা খাবারে পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানি ও খাবার স্যালাইনের ব্যবস্থা রয়েছে।

খুলনা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আজিজুল হক জোয়ার্দ্দার বলেন, জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির এক সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় খুলনার ৯ উপজেলায় ১ হাজার ৪৮টি  আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যার মধ্যে সাইক্লোন সেন্টার, স্কুল, কলেজ ও মাদরাসা রয়েছে। যেখানে ৫ লাখ লোকের ধারণক্ষমতা রয়েছে। প্রস্তুত রয়েছে ১১৬টি মেডিক্যাল টিম। ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) ৫৩২০ জন স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রয়েছে।

রিটেলেড নিউজ

২৪ ঘণ্টায় ৮২ জনের মৃত্যু, সাত সপ্তাহে সর্বোচ্চ

২৪ ঘণ্টায় ৮২ জনের মৃত্যু, সাত সপ্তাহে সর্বোচ্চ

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে আরও ৮২ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের ম‌ধ্য...বিস্তারিত


মুজিববর্ষে দেশের সকল গৃহহীনকে ঘর করে দেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত প্রধানমন্ত্রীর

মুজিববর্ষে দেশের সকল গৃহহীনকে ঘর করে দেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভূমিহীন-গৃহহীনদের মাঝে ৫৩ হাজার ৩৪০টি ঘর বিনামূল্যে বিতরণকালে মুজিববর...বিস্তারিত


‘আল্লাহ মরণ রাইখলে এইহ্যানে মরুম’

‘আল্লাহ মরণ রাইখলে এইহ্যানে মরুম’

রাঙামাটি প্রতিনিধি : : রাঙ্গামাটিতে পাহাড়ধসে প্রাণহানি ঠেকাতে ২৩টি আশ্রয়কেন্দ্র খুলেছে প্রশাসন। তবে শত চেষ্টার পরও ঝু...বিস্তারিত


লাকসামে মডেল ফারিয়ার ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

লাকসামে মডেল ফারিয়ার ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

লাকসাম প্রতিনিধি :: : ‘‘ অধিকার আদায়ে আমরা সবাই একসাথে ’’ এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কুমিল্লার লাকসামে শনিবার (১৯ জ...বিস্তারিত


কক্সবাজারে পুলিশের অভিযানে এস.এ পরিবহন থেকে ৯ হাজার ৬শ ইয়াবাসহ  ইয়াবা ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

কক্সবাজারে পুলিশের অভিযানে এস.এ পরিবহন থেকে ৯ হাজার ৬শ ইয়াবাসহ  ইয়াবা ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

সংবাদদাতা কক্সবাজার :: : কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ এক অভিযান চালিয়ে এস.এ পরিবহন কক্সবাজার শাখা থেকে ৯ হাজার ৬শ পিস ইয়াব...বিস্তারিত


কক্সবাজারের পেকুয়ায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে বৃদ্ধ নিহত, আহত ১২

কক্সবাজারের পেকুয়ায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে বৃদ্ধ নিহত, আহত ১২

সংবাদদাতা কক্সবাজার :: : কক্সবাজারের পেকুয়ায় সানলাইন পরিবহনের দুই বাসের সংঘর্ষে ছাবের আহমেদ (৬০) নামের এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছে...বিস্তারিত



সর্বপঠিত খবর

পার্বত্য ভিক্ষসংঘু ও পার্বত্য ত্রাণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে বই বিতরণ 

পার্বত্য ভিক্ষসংঘু ও পার্বত্য ত্রাণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে বই বিতরণ 

বিহারী চাকমা, রাঙামাটি : :   রাঙ্গামাটির লংগদু কলেজে পার্বত্য ভিক্ষুসংঘ ও পার্বত্য ত্রাণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে দরিদ্র ও ম...বিস্তারিত


নবাব সিরাজউদ্দৌলার জন্ম উৎসবে বাংলার তিন গুণী সন্তান পেলেন সম্মাননা স্মারক

নবাব সিরাজউদ্দৌলার জন্ম উৎসবে বাংলার তিন গুণী সন্তান পেলেন সম্মাননা স্মারক

আমাদের বাংলা ডেস্ক : :                                                    - মুহাম্মদ শাহ্‌ আলম       ...বিস্তারিত



সর্বশেষ খবর