শিরোনাম
- মাহাবুব রহমান দুর্জয় | ০১:৩৮ পিএম, ২০২১-০৫-০৫
যারা রাজনীতি করেন তারা এবং যারা রাজনীতি করেন না তারাও বুঝে বর্তমান সময়ে ছাত্ররাজনীতি থেকে শুরু করে যুব ও প্রবীণদের রাজনীতি খুব বেশি নোংরা হয়ে গেছে। মারামারি, হানাহানি, লুটপাট, জুলুমবাজ এবং অত্যাচারীরাই এখন রাজনীতির প্রভাব খাটিয়ে সমাজ নিয়ন্ত্রণ করছে। যারা রাজনীতি করেন তারা কেউই সংগঠন ও সংগঠনের আদর্শের ধার ধারে না। চলমান এই ধারা অব্যাহত থাকলে এটা নিশ্চিত যে, সার্বিক ভাবে জাতীয় রাজনীতিতে এর ব্যাপক প্রভাব পড়বে।
সবাই ভাই চিনে, দল ও আদর্শ চিনে না। আগে যারা রাজনীতি করতো তাদের সম্মান ছিলো আকাশচুম্বী। আর বর্তমান সময়ে রাজনৈতিক ব্যক্তিদ্বয় নিজেদের সম্মান হারাচ্ছেন হর-হামেশা। এর মূল কারণ হচ্ছে- টাকার কাছে বিক্রি হওয়া, লোভে পরে কর্মীদের মূল্যায়ন না করা। যোগ্য ও দক্ষ নেতৃত্বের হাতে সংগঠনের মূল দায়িত্ব না দেওয়া। মেধাবী ছেলে মেয়েদের রাজনীতিতে অন্তর্ভুক্ত করতে না পারা। বিপদেআপদে কর্মীর পাশে না থাকা সহ আরো অনেক উদাহরণ রয়েছে।
দেশজুড়ে চোখ খুলে দেখলেই দেখা যায় যে, রাজনীতির সাথে যারা জড়িত তাড়া বেশিরভাগই অন্যায় ও অপরাধের সাথে জড়িয়ে আছে। যার কারণে কর্মীরা সিনিয়র নেতাদের কটাক্ষ করে কথা বলে। অনেক সময় হাতাহাতি ও দলাদলিও করে। এর চর্চা স্থানীয় পর্যায় সহ জাতীয় পর্যায়ের রাজনীতিতেও খুব বেশি পরিলক্ষিত হয়। সারাদেশ জুড়ে জরিপ করলে দেখা যাবে যে- নিজদলীয় রাজনীতিবিদরা একি দলের নেতাকর্মীদের মতের বিরোধিতা এবং স্বার্থের কারণে মিথ্যাচার করে থাকে, যা আগামীর রাজনীতি ও সংগঠনের জন্য মোটেও শুভকর নয়।
নোংরা রাজনীতির চলমান এই ধারা অব্যাহত থাকলে সংগঠন ক্ষতির সম্মুখীন হবে এবং আগামীতে দূরদর্শী, উন্নত গুণাবলী সম্পন্ন দক্ষ নেতাকর্মী তৈরীতে ঝুঁকির সম্মুখীন হতে হবে। রাজনীতির এখন যা পরিস্থিতি চলছে এই পরিস্থিতি যদি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজ চোখে দেখতে পেতেন তাহলে হয়তো তিনি লাজলজ্জা আর অভিমানে রাজনীতি ছেড়ে দিতেন। এটাও সত্য যে তিনি বেচে থাকলে হয়তো রাজনীতির এই বেহাল পরিস্থিতি হতো না।
যেদিকেই তাকাবেন সেদিকেই অসৎ নেতাকর্মী আর ভন্ডদের ছড়াছড়ি। যারা ভালো কর্মী হওয়ার যোগ্যতা রাখেনা তাড়াও নাকি বর্তমান সময়ে অনেক বেশি প্রভাবশালী নেতা। অদক্ষ, অযোগ্য ভন্ডদের এমন পরিস্থিতি দেখে দক্ষ ও যোগ্যতা সম্পন্ন নেতাকর্মীরা রাজনীতি থেকে সরে দাড়াচ্ছেন, আবার কেউ কেউ দীর্ঘশ্বাস নিয়ে সময়ের অপেক্ষায় থাকছেন। কিন্তু তাদের জন্য সুসময় আর আসে না। কেননা সুসময় এখন টাকায় কিনতে পাওয়া যায়।
প্রতিটি সংগঠনের নিজস্ব নিয়মনীতি বা গঠনতন্ত্র থাকে। যাকে বলা হয় সংগঠনের মূল হাতিয়ার বা দলিল। বলা জরুরী যে, বর্তমান সময়ে কোন এমন একটি রাজনৈতিক সংগঠন পাবেন না যারা তাদের সংগঠনের সংবিধান মেনে সংগঠন পরিচালনা করেন। যার উপর ভিত্তি করে সংগঠন প্রতিষ্ঠিত হয় তার নামই হচ্ছে সংবিধান বা গঠনতন্ত্র। এখন কথা হচ্ছে যদি সংগঠনের নেতাকর্মীরা সংগঠনের আইন না মানেন তাহলে সংগঠনের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ থাকে কিভাবে?
প্রতিটি সংগঠনের সাংবিধানিক নিয়ম হচ্ছে তাদের প্রতিটি শাখার কার্যকরী কমিটি/পরিষদের মেয়াদ শেষে যথারীতি নিয়ম মেনে পরবর্তী কমিটি বা কার্যাদেশ বাস্তবায়নে সহায়ক ভূমিকা রাখা। কিন্তু কেউ এই নিয়ম মানছেন না, মানবেন না। কেননা- কেউ এখন আর সংগঠনের চিন্তা করে না, সবাই যার যার মেয়াদে ব্যক্তিস্বার্থের কথাই বেশি চিন্তা করে। যে যতদিন বেশি থাকবে তার ততবেশি লাভ। লাভের এই মনোভাব নিয়ে কেউ কেউ তো সংগঠনকে অনেক সময় নিজেদের ক্রয়কৃত সম্পত্তি মনে করে। করাটাও স্বাভাবিকতা, কারণ- বর্তমান সময়ে টাকায় কেনা কমিটির অভাব নেই।
রাজনীতি এখন সিন্ডকেটের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। কয়েকজন মিলে সিন্ডিকেট করবে, ওই সিন্ডিকেট যাকেই চাইবে সেই সংগঠনের মূল দায়িত্ব পাবে। এতে তার সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, যোগ্যতা আর দক্ষতার তেমন একটা প্রয়োজন পড়ে না। সকল যোগ্যতা জেনো টাকায়, উপহারে, বেডরুমে, তেলবাজিতে, ফেইচবুকে আর চামচামিতে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। যারা মেধাবী, যোগ্য, দক্ষ আর অভিজ্ঞ তারা শান্তনা নিয়ে হেরে যায়। অন্যদিকে অযোগ্য ভন্ডরা টাকায় খেলায় জিতে যায়।
আগেকার সময়ে চর্চা হতো সাংগঠনিক দক্ষতার, এখন চর্চা হয় নেশার। আগেকার সময়ে চর্চা হতো শিক্ষা ও মেধার, এখন চর্চা হয় সুন্দর চেহারা ও শরীরের। আগেকার সময়ে চর্চা হতো বক্তব্য আর স্লোগানের, এখন চর্চা হয় গলাবাজি আর অশালীনতার। আগেকার সময়ে প্রতিযোগিতা হতো খেলাধুলা আর উপস্থিত বুদ্ধিমত্তার, এখন প্রতিযোগিতা হয় মারামারি আর উপস্থিত দখলবাজির।
- কোথায় যাচ্ছে আগামী?
- কারা দিবে আগামীর নেতৃত্ব?
- কারা দেখাবে অন্ধকারে আলোর পথ?
"আমরা মুক্তি চাই-
আলোর পথে ফিরতে চাই।"
লেখকঃ সাবেক ছাত্রনেতা ও তরুণ আওয়ামী লীগ নেতা।
আবদুল্লাহ মজুমদার : : ইতিহাসে কিছু মানুষ জন্ম নেন একটি দেশকে বদলে দিতে, আবার কিছু মানুষ তাঁদের জীবন ও আদর্শ দিয়ে সমগ্র ব...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : মে. জে. (অব.) এইচআরএম রোকন উদ্দিন প্রায় দুই দশক ধরে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর ভেতরে একটি নীরব যন্ত্...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : মেজর (অব.) মনজুর কাদের সম্রাট নেপোলিয়ন বলেছিলেন, ‘চীনকে ঘুমাতে দাও; যখন সে জেগে উঠবে, সে বিশ্বকে কা...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : কাজী আব্দুল্লাহ আল বোরহান রিজভী বাংলাদেশ গত এক দশকে অবকাঠামো উন্নয়ন, রপ্তানি প্রবৃদ্ধি এবং সামাজ...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : জাহাঙ্গীর আলম, সাংবাদিক ও কলামিস্ট আমরা এমন এক সময়ে বাস করছি, যেখানে মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, কিন্ত...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : আবদুল্লাহ মজুমদার : শহরের ব্যস্ত মোড়ে দাঁড়ানো ক্ষুদ্র দোকানি, গ্রামের হতাশ তরুণ কিংবা চাকরির আশায়...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Bangla | Developed By Muktodhara Technology Limited