শিরোনাম
খুলনা প্রতিনিধি : | ০৭:৪৯ পিএম, ২০২১-০৬-২৯
শিল্প ও মেডিকেল অক্সিজেন উৎপাদনের জন্য ২০০২ সালে খুলনায় স্থাপিত হয়েছিল খুলনা অক্সিজেন লি. নামের একটি প্রতিষ্ঠান। বিদ্যুৎ বিভাগের অসতর্কতার কারণে মাত্র চার বছরের মাথায় অর্থাৎ ২০০৬ সালে ভয়াবহ বিষ্ফোরণ হয়ে কোম্পানীটি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর খুলনায় আবারো অক্সিজেন কোম্পানী করার উদ্যোগ নিয়েছিল কোম্পানী কর্তৃপক্ষ। কিন্তু উৎপাদন অনুযায়ী এ অঞ্চলে চাহিদা না থাকায় সেটি আর হয়নি। এজন্য ঢাকা থেকে সিলিন্ডার অক্সিজেন রিফিল করে খুলনায় এনে সরবরাহ করা হয়। খুলনার এই অক্সিজেন কোম্পানীটির এমন দুরবস্থার কারণে এ অঞ্চলে অক্সিজেন সরবরাহের ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকে স্পেক্ট্রা নামের আর একটি প্রতিষ্ঠান। লিন্ডে নামের অপর একটি অক্সিজেন কোম্পানীর কার্যক্রম এ অঞ্চলে থাকলেও স্পেক্ট্রাই একমাত্র খুলনায় সিলিন্ডার রিফিলের ব্যবস্থা করতে পারছে। আর লিন্ডে কোম্পানীটির রিফিল কেন্দ্র রয়েছে যশোরে। সব মিলিয়ে করোনা মহামারীকালে খুলনায় অক্সিজেনের চাহিদা বাড়লেও এখানে উৎপাদন না হওয়ায় সিলিন্ডার রিফিল করতে গিয়ে সময় অপচয় হচ্ছে। আবার করোনার শুরুর দিকে যে চাহিদা ছিল পক্ষকালের ব্যবধানে সে চাহিদার প্রায় চারগুণ বেড়েছে বলে অক্সিজেন কোম্পানীগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়। বিশেষ করে হাসপাতালগুলোতে বেড না থাকায় বাসা-বাড়িতে সিলিন্ডারের চাহিদা বেড়েছে উল্লেখ করে কোম্পানীগুলোর পক্ষ থেকে বলা হয়, বাজারে পর্যাপ্ত সিলিন্ডার থাকলে অক্সিজেনের তেমন কোন সংকট থাকবে না বলে আশা করা হচ্ছে।
খুলনা অক্সিজেন কোম্পানীর ম্যানেজার মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে ঢাকা থেকে লিকুইড অক্সিজেন আনা হয় সড়কপথে। এরপর রূপসা নদীর পাশর্^বর্তী খুলনা অক্সিজেন লি. এ বসে সেগুলো সিলিন্ডারে রিফিল করে সরবরাহ করা হয়। খুলনায় মেডিকেল অক্সিজেন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে আগেই লিন্ডে অক্সিজেন কোম্পানী প্লান্ট বসিয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে হাসপাতালে পাইপলাইনের মাধ্যমে অক্সিজেন সরবরাহ করছে। আবার স্পেক্ট্রা কোম্পানীও সম্প্রতি সেখানে আরও একটি প্লান্ট বসিয়েছে। ওই কোম্পানী খুলনা জেনারেল হাসপাতালেও প্লান্ট বসিয়ে অক্সিজেন সরবরাহ করায় সিলিন্ডার সেখানে সিলিন্ডার অক্সিজেনের তেমন চাহিদা নেই। তবে চাহিদা রয়েছে বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে। ওই কোম্পানীটি প্রাইভেট হাসপাতাল ও ব্যক্তিগতভাবে বাসা-বাড়ির জন্য সিলিন্ডার অক্সিজেন সরবরাহ করে থাকে। এজন্য সবচেয়ে বেশি চলে ছোট সাইজের অর্থাৎ ১০ লিটারের সিলিন্ডার। প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতেও ১০, ৩০ এবং ৪০ লিটারের সিলিন্ডার চলে বলেও ম্যানেজার জানান।
ঢাকা থেকে খুলনায় লিকুইড গ্যাস আনতে গিয়ে অনেক সময় ফেরিতে দেরি হয় জানিয়ে তিনি বলেন, লকডাউনের কারণে হয়তো কিছুটা যানবাহন কম থাকে কিন্তু অন্যান্য সময় জটে পড়ে গাড়ি আটকে যাওয়ায় সঠিক সময়ে রিফিল করতে সমস্যায় পড়তে হয়। এজন্য তিনি ফেরিতে অক্সিজেনের গাড়িকে প্রাধান্য দেয়ার ব্যাপারেও সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
স্পেক্ট্রা অক্সিজেন কোম্পানীর খুলনা বিক্রয় কেন্দ্রের ইনচার্জ সজিব রায়হান বলেন, হাসপাতালে বেড সংকটের বিষয়টি প্রচার হওয়ার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি আতংক তৈরি হয়েছে। এজন্য খুব বেশি সমস্যা না হলে তারা হাসপাতালে রোগী না নিয়ে বাসায় রেখে চিকিৎসা দেয়ার চেষ্টা করছে। এজন্য সাম্প্রতিককালে ছোট সিলিন্ডারের চাহিদা বেড়েছে প্রায় চারগুণ। ওই কোম্পানীর ১.৪ সাইজের সিলিন্ডার আগে যেখানে প্রতিদিন ৩০টি করে চলতো এখন সেখানে চলে একশ’রও বেশি। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আগে থেকেই একটি সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্লান্ট থাকায় সিলিন্ডার অক্সিজেনে চাহিদা কিছুটা কম ছিল। কিন্তু রোগী বেড়ে যাওয়ায় সেকানেও এখন চাহিদা বেড়েছে। তবে সিলিন্ডার অক্সিজেনের চাহিদা নেই খুলনা জেনারেল হাসপাতালে। ওই হাসপাতালে গত ২০ জুন থেকে ৭০ বেডের করোনা হাসপাতালের যাত্রা হওয়ায় সম্প্রতি স্থাপিত ৬শ’ কিলো’র সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্লান্টটি একবার রিফিল করলে প্রায় ১০ দিন চলে। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটের জন্য স্পেক্ট্রার একটি প্লান্ট বসানো হলেও এখনও সেখানে কার্যক্রম শুরু করা যায়নি। এখনও চলছে আগের লিন্ডে কোম্পানীর অক্সিজেন দিয়ে। তবে সেখানেও স্পেক্ট্রার কিছু সিলিন্ডার প্রতিদিন দেয়া হচ্ছে।
লিন্ডে অক্সিজেন কোম্পানীর জেনারেল ম্যানেজার (এইচআর) সাইকা মাজেদ বলেন, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাদের যে ভিআই প্লান্টটি রয়েছে সেটি আগে সপ্তাহে বা ১০দিনের মাথায় একবার রিফিল করলে হতো। কিন্তু বর্তমানে সেটি কখনও একদিন পর একদিন আবার কখনও প্রতিদিনই রিফিল করতে হয়। আর ওই কোম্পানীর সিলিন্ডারগুলো ঢাকা থেকে রিফিল করে খুলনায় পাঠানো হয়। তবে খুব শীঘ্রই তারা খুলনায় রিফিলের ব্যবস্থা চালু করবেন বলেও জানান। এজন্য খুলনা শিপইয়ার্ডের পাশে একটি স্থানও নির্বাচন করা হয়েছে। অবশ্য স্পেক্ট্রার প্লান্টটি চালু হলে তাদের চাহিদা কোম্পানীর ওপর চাপ কিছুটা কমবে বলেও তিনি আশা করছেন।
অবশ্য একটি প্লান্ট দিয়ে পাইপ লাইনে করোনা ডেডিকেটেডসহ পুরো হাসপাতালে অক্সিজেন সরবরাহ করতে গিয়ে শেষের দিকে এসে অক্সিজেনের প্রেসার কিছুটা কমে যায় উল্লেখ করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ ইনচার্জ ডা. দিলিপ কুমার কুন্ডু বলেন, অক্সিজেনের প্রেসার কমে গেলে মেশিনে টেনে পারে না। এজন্য শীঘ্রই স্পেক্ট্রা কোম্পানীর প্লান্টটির কার্যক্রম শুরুর জন্য বলা হচ্ছে। এজন্য ইতোমধ্যেই ট্যাংকি বসিয়ে ভ্যাকুম রুমের কাজ চলছে। তবে এখনও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে স্পেক্ট্রা কোম্পানীর চুক্তি যেমন হয়নি তেমনি বিষ্ফোরক অধিদপ্তর থেকে লাইসেন্সও গ্রহণ করা হয়নি। এ দু’টি কাজ সম্পন্ন হলে এবং পাইপ লাইন যুক্ত করেই দু’টি প্লান্টের মাধ্যমে অক্সিজেন সরবরাহ করা গেলে সার্বক্ষণিক প্রেসার ঠিক থাকবে। এতে রোগীদের সেবার মানও আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক : আব্দুল হালিম সরদার: জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা এ...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : মাহমুদুর রহমান, ভালুকা প্রতিনিধি: বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ পল্লী চিকিৎসক সমিতি, ভালুক...বিস্তারিত
এনামুল হক, সিরাজগঞ্জ ব্যুরো চীফ : : টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ ও মানিকগঞ্জ জেলার যমুনা নদীতে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইড...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : মাহমুদুর রহমান, ভালুকা প্রতিনিধি: ময়মনসিংহের ভালুকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। রোববার (২...বিস্তারিত
চট্টগ্রাম ব্যুরো : : চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ পেয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেনকে। ব...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Bangla | Developed By Muktodhara Technology Limited