শিরোনাম
রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি : | ০৩:৩২ পিএম, ২০২৬-০২-০৭
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাঙামাটি জেলার ২৯৯ নং সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সাতজন প্রার্থী। প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পরই প্রার্থীরা এলাকায় এলাকায় প্রচারণা শুরু করেছেন। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলছেন এবং নিজেরা এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরছেন।
এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন—
বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান,
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি মনোনীত কোদাল প্রতীকের প্রার্থী জুঁই চাকমা,
গণঅধিকার পরিষদ মনোনীত ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী মো. আবুল বাশার (বাদশা),
খেলাফত মজলিস মনোনীত রিক্সা প্রতীকের প্রার্থী আবু বকর সিদ্দিক,
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী জসিম উদ্দিন,
জাতীয় পার্টি মনোনীত লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী অশোক তালুকদার, এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী পহেল চাকমা ফুটবল প্রতীকে।
প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারণার শুরু থেকে শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত রাঙামাটির ১০টি উপজেলায় পৌঁছে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ রেখেছেন। বিশেষভাবে পার্বত্য জেলার দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকায় পৌঁছে তারা ভোটারদের কথা শোনেন, সমস্যা বোঝার চেষ্টা করেন এবং এলাকার উন্নয়ন ও পরিকল্পনার প্রতিশ্রুতি দেন। এসময় প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা জনসংযোগ, লিফলেট বিতরণ, দলীয় প্রতীক নিয়ে শোভাযাত্রা এবং স্লোগান-উচ্চারণের মাধ্যমে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে পৌঁছে প্রচারণা চালাচ্ছেন।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিদিন বেলা ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মাইকিংসহ প্রচার কার্যক্রম চালাচ্ছেন প্রার্থীরা।
প্রার্থীদের বক্তব্য—
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান বলেন, আমি এই রাঙামাটির সন্তান। এই মাটিতেই আমার জন্ম ও বেড়ে ওঠা, তাই এই এলাকার মানুষের প্রতি আমার দায়বদ্ধতা রয়েছে। আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির রাজনীতি করি, কারণ এই দল গণতন্ত্র, মধ্যপন্থা ও সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষায় বিশ্বাস করে। এই পাহাড়ে আমি কখনো বিভেদ সৃষ্টি করিনি, আমার রাজনীতিও কাউকে বিভক্ত করবে না। রাঙামাটি সকলের, সব সম্প্রদায়ের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করাই আমার লক্ষ্য। তাই রাঙামাটির আগামীর উন্নয়নের জন্য ২৯৯ নম্বর আসনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে আমাকে বিজয়ী করার আহ্বান জানাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, সবার আগে বাংলাদেশ—এই বিশ্বাস নিয়ে দেশের উন্নয়নের পাশাপাশি রাঙামাটিকে এগিয়ে নিতে কাজ করতে চাই। রাঙামাটি একটি সম্ভাবনাময় এলাকা হলেও এখনো শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন প্রয়োজন। জনগণ আমাকে নির্বাচিত করলে এসব খাতে বাস্তবমুখী উন্নয়ন নিশ্চিত করতে কাজ করবো। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থন নিয়ে বিজয় অর্জন সম্ভব হবে।
এ আসনের একমাত্র নারী প্রার্থী জুঁই চাকমা বলেন, আমি সাধারণ মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। পার্বত্য অঞ্চলের নারী, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নই আমার প্রধান লক্ষ্য। কোদাল প্রতীক শ্রমজীবী মানুষের সংগ্রামের প্রতীক। আমি ভয় বা বাধা উপেক্ষা করে মানুষের পাশে থাকবো। একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জনগণ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দেবে বলে আমি আশা করি, জনগণ পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দেবেন।
গণঅধিকার পরিষদ মনোনীত প্রার্থী মো. আবুল বাশার (বাদশা) বলেন, তিনি জনগণের অধিকার ও সুশাসনের জন্য কাজ করতে চান। তিনি বলেন, তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দুর্নীতি কমাতে কাজ করবো। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জনগণ আমাকে সমর্থন দেবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী আবু বকর সিদ্দিক বলেন, তিনি সৎ ও জনকল্যাণমূলক রাজনীতি করতে চান। জনগণ সুযোগ দিলে এলাকার উন্নয়নে কাজ করবেন বলে জানান তিনি।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী জসিম উদ্দিন বলেন, তিনি সমাজে ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করতে চান। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে উন্নয়নেও কাজ করার কথা জানান তিনি।
জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী অশোক তালুকদার বলেন, তিনি রাঙামাটির কৃষি, পর্যটন এবং স্থানীয় অর্থনীতি উন্নয়নে কাজ করতে চান।
স্বতন্ত্র প্রার্থী পহেল চাকমা বলেন, তিনি দলীয় রাজনীতির বাইরে থেকে মানুষের জন্য কাজ করতে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। জনগণ তাকে নির্বাচিত করলে তিনি সবাইকে নিয়ে এলাকার উন্নয়নে কাজ করবেন বলে জানান।
নির্বাচন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, রাঙামাটি-২৯৯ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫,০৯,২৭২ জন, যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ২,৬৩,৪১১, নারী ভোটার ২,৪৫,৮৫৯, এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ২ জন রয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সাত প্রার্থীর জমজমাট ও সক্রিয় প্রচারণা রাঙামাটি-২৯৯ আসনের নির্বাচনী মাঠকে আগুনঝরা করে তুলেছে। তারা বলেন, বিএনপি এতদিন কোনো প্রার্থীর পক্ষে একসঙ্গে শতভাগ ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার নজির রাখেনি, এবার তা ভেঙে নতুন সম্ভাবনার জন্ম দিয়েছে। দীর্ঘ ১৭ বছর ভোট দিতে না পারা এই অঞ্চলের মানুষ এবার ভোটাধিকার প্রয়োগে প্রস্তুত, এবং বিশ্লেষকদের ধারণা অনুযায়ী এই আসনে বিপুল ভোট পেতে পারেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান।
নিজস্ব প্রতিবেদক : বিএনপির নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে সর্বোচ্চ ১২ জনকে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্য...বিস্তারিত
রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি : : মনোনয়ন নয়, জনগণের ভোটে ঠিক হোক পার্বত্য জেলা পরিষদের নেতৃত্ব। এমন দাবি এখন তিন পার্বত্য জেলায় ক্রম...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ এই দুই আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে উভয় আসনেই জয়লা...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : আনোয়ারায় ঋণের চাপ সহ্য করতে না পেরে এক যুবক বিষপান করে আত্মহত্যা করেছেন। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) উপ...বিস্তারিত
রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি : : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাঙামাটির একমাত্র সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সাতজন প্রার্থী...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : ফটিকছড়ি প্রতিনিধি : চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী বাংলাদেশ জাতীয়...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Bangla | Developed By Muktodhara Technology Limited