বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬  

শিরোনাম

আন্দোলন সংগ্রামের মূর্ত প্রতীক নোবিপ্রবির ফাউন্টেনপেন

আমাদের বাংলা ডেস্ক :    |    ০৫:২৫ পিএম, ২০২৫-১১-১৬

আন্দোলন সংগ্রামের মূর্ত প্রতীক নোবিপ্রবির ফাউন্টেনপেন

সামিয়া হোসেন মুনিয়া :
নোয়াখালি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশ করলেই যে স্থাপত্যটি সবার দৃষ্টি প্রথমেই আকর্ষণ করে, সেটি হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার। এই অনন্য স্থাপত্যটি শুধু একটি নির্মাণ নয়, এটি একদিকে শিল্প ও নান্দনিকতার প্রতীক, অপরদিকে এটি আমাদের ভাষা আন্দোলন ও স্বাধীনতার ইতিহাসের এক জীবন্ত স্মারক।

বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েরই রয়েছে নিজস্ব শহিদ মিনার। যা সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য, ইতিহাস এবং শিক্ষার্থীদের আত্মত্যাগের চেতনাকে বহন করে। প্রতিটি শহিদ মিনারের রয়েছে একটি স্বতন্ত্র নকশা, যার মাধ্যমে প্রকাশ পায় জাতির প্রতি, ভাষার প্রতি, ও দেশের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। এই সব শহিদ মিনারের নির্মাণশৈলির পেছনে থাকে এক গভীর ঐতিহাসিক তাৎপর্য, যা নতুন প্রজন্মকে স্মরণ করিয়ে দেয় ভাষার জন্য, স্বাধীনতার জন্য বাঙালির ত্যাগ ও সংগ্রামের কথা।

ঠিক তেমনি, নোয়াখালি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারটি নির্মিত হয়েছে শহিদদের আত্মত্যাগের স্মৃতিকে অমর করে রাখার উদ্দেশ্যে। এই শহিদ মিনার শুধু একটি স্থাপত্য নয়, এটি শিক্ষাঙ্গনে মানবতা, জ্ঞান, এবং দেশপ্রেমের আলো ছড়ানোর এক অবিচ্ছেদ্য প্রতীক।

নোবিপ্রবি কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয় ২০১৪ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি, মহান ভাষা শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে। দিনটি শুধু বাংলাদেশের নয়, সমগ্র বিশ্বের জন্যই ভাষার মর্যাদা রক্ষার প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত। তাই এ দিনেই মিনারটির উদ্বোধন ছিল যথার্থ ও অর্থবহ।

এই মিনারটির উচ্চতা মূল বেদি থেকে ২৬ ফুট, যা দৃষ্টিনন্দন এক শিল্পকর্ম হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের চত্বরকে শোভিত করে রেখেছে। এর স্থাপত্যে রয়েছে সাতটি স্তর, যা ১৯৫২ সাল থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের ইতিহাসে সংঘটিত সাতটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপকে প্রতীকায়িত করে। এই সাতটি স্তর যেন আমাদের মুক্তির ইতিহাসের সাতটি অধ্যায় ভাষা আন্দোলন, স্বায়ত্তশাসনের দাবি, গণঅভ্যুত্থান, নির্বাচন, স্বাধীনতা সংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধ এবং অবশেষে স্বাধীনতার বিজয়।

নোবিপ্রবি শহিদ মিনারের নকশা অন্য যেকোনো শহিদ মিনার থেকে আলাদা ও অভিনব। এটি ফাউন্টেনপেনের আকৃতিতে নির্মিত, যা শিক্ষাঙ্গনের মূল প্রতীক জ্ঞান, যুক্তি ও আলোকিত চিন্তার বাহক। একাডেমিক পরিমণ্ডলে কলমের চেয়ে প্রাসঙ্গিক আর কিছু হতে পারে না, কারণ জ্ঞানের মাধ্যমে সমাজকে আলোকিত করা ও সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য কলমই মানুষের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র।

বলা হয়, “The pen is mightier than the sword”—অর্থাৎ, কলম তলোয়ারের চেয়েও শক্তিশালী। নোবিপ্রবি শহিদ মিনারের স্থাপত্য এই বিখ্যাত উক্তির বাস্তব প্রতিফলন। শহিদ মিনারের মূল কলামটি কালো রঙের, যা দৃঢ়তা, শক্তি এবং সম্মানের প্রতীক। আর এর শীর্ষে রয়েছে টকটকে লাল গোলাকার বল, যা শহিদদের রক্তের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। এই লাল-কালো রঙের মেলবন্ধন যেন এক নীরব শ্রদ্ধাঞ্জলি। যারা তাদের প্রাণ উৎসর্গ করে আমাদের মাতৃভাষা ও স্বাধীনতা রক্ষা করেছিলেন, তাদের প্রতি চিরন্তন সম্মান প্রকাশ।

ফাউন্টেনপেনের কালো দেহটি প্রতীক করে জ্ঞান, যুক্তি ও প্রজ্ঞার শক্তি৷ যা একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মূলে থাকা উচিত। আর এর মাথার লাল বলটি যেন আমাদের মনে করিয়ে দেয় সেই উত্তপ্ত সময়, যখন রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছিল মাতৃভাষার অধিকার ও স্বাধীনতার স্বপ্ন।
একই সঙ্গে, এই রঙের সমন্বয় নির্দেশ করে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং শিক্ষার শক্তি। কারণ শহিদদের ত্যাগ বৃথা যায়নি; তাদের রক্তের বিনিময়ে যে স্বাধীনতার বীজ বপন হয়েছিল, সেই বীজ থেকেই আজকের এই জ্ঞানভিত্তিক, মুক্তচিন্তার বাংলাদেশ গড়ে উঠছে।

দিনের আলোয় এই ফাউন্টেনপেন আকৃতির মিনারটি যেমন শিক্ষার্থীদের চোখে অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে ওঠে, তেমনি রাতের আলোকসজ্জায় এটি যেন দাঁড়িয়ে থাকে অন্ধকারে আলোর দিশারী হয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রায়ই এখানে জড়ো হয় ২১ ফেব্রুয়ারি, ২৬ মার্চ ও ১৬ ডিসেম্বরের মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় দিবসগুলোতে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে। এছাড়াও, শিক্ষার্থীদের কাছে এই স্থানটি শুধু স্মৃতিস্তম্ভ নয়। এটি এক চেতনার কেন্দ্র, যেখানে দাঁড়িয়ে প্রতিটি শিক্ষার্থী প্রতিজ্ঞা করে, তারা জ্ঞানের আলোয় নিজেদের এবং সমাজকে আলোকিত করবে।

নোবিপ্রবির এই শহিদ মিনার শিক্ষার্থীদের মনে চেতনা জাগিয়ে রাখে। যে কলম কেবল লেখার উপকরণ নয়, বরং তা হতে পারে মুক্তির হাতিয়ার, সত্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যম। এই মিনার নতুন প্রজন্মকে মনে করিয়ে দেয়, জ্ঞানের শক্তিই আসল শক্তি। ভাষার জন্য যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের উত্তরসূরি হিসেবে আমাদের দায়িত্ব সত্য, ন্যায়, ও স্বাধীন চিন্তার পথে অটল থাকা। যখনই কেউ নোবিপ্রবির এই শহিদ মিনারের সামনে দাঁড়ায়, তখন সে শুধু একখণ্ড স্থাপত্য দেখে না, সে দেখে ইতিহাস, আত্মত্যাগ, এবং শিক্ষার চিরন্তন শক্তিকে।

সামিয়া হোসেন মুনিয়া
সমাজ বিজ্ঞান, 
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

রিটেলেড নিউজ

স্মার্টফোন: সম্পর্কে দূরত্ব সৃষ্টির নতুন অস্ত্র

স্মার্টফোন: সম্পর্কে দূরত্ব সৃষ্টির নতুন অস্ত্র

আমাদের বাংলা ডেস্ক : : লেখক: মাহাবুব রহমান দুর্জয় : এক ক্লিকেই ভাঙছে সম্পর্কের নীরব বন্ধন : একটা সময় ছিল, সন্ধ্যা নামলেই ...বিস্তারিত


শীতে রূপ-লাবণ্যে ভরে উঠে নোবিপ্রবি ক্যাম্পাস

শীতে রূপ-লাবণ্যে ভরে উঠে নোবিপ্রবি ক্যাম্পাস

আমাদের বাংলা ডেস্ক : : মেহেদী হাসান : ষড়ঋতুর দেশ বাংলাদেশ— এখানে প্রতিটি ঋতু আসে নিজস্ব রূপ, রস ও গন্ধ নিয়ে। ঠিক তেমনি নো...বিস্তারিত


স্বপ্ন আর বাস্তবতার দ্বন্দ্বে বিশ্ববিদ্যালয় জীবন

স্বপ্ন আর বাস্তবতার দ্বন্দ্বে বিশ্ববিদ্যালয় জীবন

আমাদের বাংলা ডেস্ক : : চৌধুরী নওরাজ মাহমুদ সাদুল্লাহ, নোবিপ্রবিঃ আকাশ জুড়ে ছিল ভোরের নরম আলো। হঠাৎ করেই এক নতুন দিনের সূ...বিস্তারিত


মা’র কাছে নূর হোসেন

মা’র কাছে নূর হোসেন

আমাদের বাংলা ডেস্ক : : মা’র কাছে নূর হোসেন ১৪.০২.৯৭ (রচনাকাল) (একটি কাল্পনিক চিঠি) স্নেহহময়ী মা- আমার,  ভালবাসা নিও। ভাল...বিস্তারিত


সকল আন্দোলনের মূর্তপ্রতীক: নোবিপ্রবির কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার

সকল আন্দোলনের মূর্তপ্রতীক: নোবিপ্রবির কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার

আমাদের বাংলা ডেস্ক : : মো সামিউল হাসান স্বাধীন : নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) — এক সময়ের নির্...বিস্তারিত


কাশফুলের রাজ্যে শরতের ছোঁয়া: নোবিপ্রবির অপার সৌন্দর্যের গল্প

কাশফুলের রাজ্যে শরতের ছোঁয়া: নোবিপ্রবির অপার সৌন্দর্যের গল্প

আমাদের বাংলা ডেস্ক : : মো. সামিউল হাসান স্বাধীন : বাংলার শরৎ মানেই কাশফুল। নদীর তীর, মাঠের কিনারা কিংবা নিঃশব্দ প্রান্তর...বিস্তারিত



সর্বপঠিত খবর

দশম শ্রেণির ছাত্রীকে গণধর্ষণ করে ভিডিও ধারণ, গ্রেফতার ২

দশম শ্রেণির ছাত্রীকে গণধর্ষণ করে ভিডিও ধারণ, গ্রেফতার ২

নোয়াখালী প্রতিনিধি : : নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী (১৭) গণধর্ষণের শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় সম্পৃক্তার অ...বিস্তারিত


সৌদি আরবে  গাড়ির নির্দিষ্ট গতি  অমান্য করলে  ২ হাজার রিয়াল জরিমানা 

সৌদি আরবে  গাড়ির নির্দিষ্ট গতি  অমান্য করলে  ২ হাজার রিয়াল জরিমানা 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : : সৌদি ট্রাফিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, স্পীড লিমিট এর চাইতে অধিক গতিতে যানবাহন চালানো ব্যক্তিদের উপ...বিস্তারিত



সর্বশেষ খবর


A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: fwrite(): write of 34 bytes failed with errno=122 Disk quota exceeded

Filename: drivers/Session_files_driver.php

Line Number: 265

Backtrace:

A PHP Error was encountered

Severity: Warning

Message: session_write_close(): Failed to write session data using user defined save handler. (session.save_path: /var/cpanel/php/sessions/ea-php74)

Filename: Unknown

Line Number: 0

Backtrace: