বাংলাদেশ   রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬  

শিরোনাম

ভাসানচর হাতিয়ার নয় সন্দ্বীপের, ক্ষোভে ফুঁসছেন নোয়াখালীবাসী

ভাসানচরকে সন্দ্বীপে অন্তর্ভুক্ত করতে মন্ত্রণালয়ের চিঠি

আমাদের বাংলা ডেস্ক :    |    ০৪:১৯ পিএম, ২০২৬-০১-১৮

ভাসানচর হাতিয়ার নয় সন্দ্বীপের, ক্ষোভে ফুঁসছেন নোয়াখালীবাসী

নোয়াখালী প্রতিনিধি :
ভাসানচরের ছয়টি মৌজা নোয়াখালীর হাতিয়া নয়, চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার অন্তর্গত হবে বলে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে নোয়াখালীবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের গঠিত কারিগরি কমিটি ভাসানচরকে সন্দ্বীপের অন্তর্গত বলে প্রতিবেদন দেয়। ভূমি মন্ত্রণালয়ের জরিপ শাখা সেই মোতাবেক প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করে ১৩ জানুয়ারি সংশ্লিষ্টদের কাছে চিঠি প্রেরণ করে। এ খবর ছড়িয়ে পড়তেই নোয়াখালীর সর্বস্তরের মানুষ ক্ষোভে ফুঁসে ওঠেন। তাদের দাবি, ভাসানচরকে হাতিয়া উপজেলার অনুকূলে দিয়ারা জরিপ সম্পাদন করে চূড়ান্ত রেকর্ড প্রকাশ করা হয়েছে এবং হাতিয়া উপজেলাধীন চর ঈশ্বর ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত করে ভাসানচর থানা গঠনও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। একটি কুচক্রী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অত্র অঞ্চলের শান্তি ও শৃঙ্খলা বিনষ্ট করতে ভাসানচরকে বিতর্কিত ইস্যু বানানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৬০-এর দশক থেকে হাতিয়া উপজেলায় নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করে। গত প্রায় ৬৮ বছরে নদীভাঙনে হাতিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা মেঘনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। সাহেবানীর চরসহ একাধিক চর সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। সেই প্রেক্ষাপটে বঙ্গোপসাগরের বুকে জেগে ওঠা ভাসানচরকে হাতিয়ার স্বাভাবিক ভৌগোলিক সম্প্রসারণ হিসেবেই বিবেচনা করা হয়। ২০১০ সালে ভাসানচর দৃশ্যমান হলেও ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা পুনর্বাসনের সিদ্ধান্তের পর দ্বীপটি জাতীয় পর্যায়ে আলোচনায় আসে। সে বছরই সরকারি জরিপের মাধ্যমে ভাসানচরকে নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার সঙ্গে যুক্ত করা হয়। পরে ২০০২–২০০৩ সালে হাতিয়া উপজেলাধীন বন বিভাগ সেখানে বনায়ন কার্যক্রম পরিচালনা করে। বর্তমানে রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পসহ রাষ্ট্রীয় সব ধরনের প্রশাসনিক, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন কার্যক্রম হাতিয়া উপজেলার অধীনেই পরিচালিত হচ্ছে।  সরকারের গেজেট ও বিদ্যমান প্রশাসনিক বাস্তবতা উপেক্ষা করে ভাসানচরকে সন্দ্বীপের সঙ্গে যুক্ত করার অপচেষ্টার প্রতিবাদে হাতিয়াসহ জেলা ও রাজধানীতে ‘ভাসানচর রক্ষা আন্দোলন’ অব্যাহত রয়েছে। হাতিয়ার বাসিন্দা মো. আজম বলেন, ভাসানচর হাতিয়ার মানুষের রক্ত-ঘামে গড়া ভূমি। যুগের পর যুগ নদীভাঙনে আমরা সব হারিয়েছি। এখন নতুন করে জেগে ওঠা ভূমিটুকুও যদি কেড়ে নেওয়া হয়, তাহলে আমরা কোথায় যাব? স্থানীয় শিক্ষক ইব্রাহিম হোসেন বলেন, এটি শুধু ভূমির প্রশ্ন নয়, এটি আমাদের অস্তিত্বের প্রশ্ন। প্রশাসনিকভাবে, ঐতিহাসিকভাবে এবং বাস্তবতায় ভাসানচর হাতিয়ার অংশ। এ নিয়ে কোনো আপস হবে না। রওশন আরা বেগম নামের আরেক শিক্ষক বলেন, আমরা মা-বোনেরা ঘরে বসে থাকব না। প্রয়োজনে রাজপথে নামব। ভাসানচর আমাদের, আমরা জীবন দেব কিন্তু ভূমি দেব না। এদিকে ভাসানচর নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের প্রার্থী আব্দুল হান্নান মাসউদ। তিনি বলেন, ভাসানচর হাতিয়ার ছিল, হাতিয়ারই থাকবে। দরকার শুধু ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ। আমরা লড়াই করেছি, সামনেও করবো ইনশাআল্লাহ। শেষ পর্যন্ত হাতিয়াবাসীরই বিজয় হবে। সবাইকে বলছি এত্তো খুশি না হয়ে, আপনারাও আসেন এ দ্বীপের ভূমি রক্ষায় একসাথে লড়ি। একই বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও নোয়াখালী-৬ আসনের প্রার্থী মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, ভাসানচর হাতিয়ার অংশ এবং এটি হাতিয়ার চর ঈশ্বর ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত। হাতিয়ার জনগণের এক ইঞ্চি ভূমিও যেন কেউ দখল করতে না পারে—এটাই আমাদের স্পষ্ট অবস্থান। সাধারণ মানুষের ন্যায্য অধিকার রক্ষায় বিএনপি অতীতের মতো ভবিষ্যতেও রাজপথ ও আইনি লড়াই চালিয়ে যাবে।

ভাসানচরকে সন্দ্বীপে অন্তর্ভুক্ত করতে মন্ত্রণালয়ের চিঠি
বঙ্গোপসাগরের বুকে জেগে ওঠা বিচ্ছিন্ন দ্বীপ ভাসানচরকে নোয়াখালীর হাতিয়া থেকে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত দিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে।  গত ১৩ জানুয়ারি মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া চিঠিতে বলা হয়, আন্তঃজেলা সীমানা বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে গঠিত কারিগরি টিম যে প্রতিবেদন দিয়েছে, তার আলোকে ছয়টি মৌজা সন্দ্বীপ উপজেলায় অন্তর্ভুক্ত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করা হলো। চিঠির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সন্দ্বীপের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মং চিনু মারমা বঙ্গোপসাগরের বুকে জেগে ওঠা বিচ্ছিন্ন দ্বীপ ভাসানচর। ২০১০ সালে চরটি দৃশ্যমান হলেও ২০১৭ সালে এসে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের কারণে আলোচনায় আসে দ্বীপটি। ওই বছরই জরিপের মাধ্যমে দ্বীপটি নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার সঙ্গে যুক্ত করা হয়। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের প্রভাব খাটিয়ে এটিকে হাতিয়ার সঙ্গে যুক্ত করেছেন বলে তখন অভিযোগ তুলেছিল সন্দ্বীপ উপজেলার বাসিন্দারা। তবে ক্ষোভ থাকলে ওবায়দুল কাদেরের প্রভাবে সন্দ্বীপের লোকজন ওইসময় বড় ধরনের কোনো আন্দোলনে যেতে পারেননি। পাশাপাশি সন্দ্বীপের তৎকালীন প্রভাবশালী কোনো রাজনৈতিক নেতাও মুখ খুলতে সাহস করেননি। তবে ছাত্র-জনতার গণ অভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের সরকারের পতন হয়। এরপর থেকে দ্বীপটি নিজের মানচিত্রের সঙ্গে যুক্ত করতে মরিয়া হয়ে ওঠে সন্দ্বীপের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। তাদের দাবি ও নানামুখী তৎপরতার মুখে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় সীমানা জটিলতা নিরসনের লক্ষ্যে একটি কমিটি গঠন করে। এতে সন্দ্বীপ ও হাতিয়ার নির্বাহী কর্মকর্তাদের পাশাপাশি পেশাজীবীদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এরপর কমিটির একাধিক সভা হয়। সভায় সিদ্ধান্তের আলোকে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রাজস্ব শাখা ভাসানচরকে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার অন্তর্গত দেখিয়ে প্রতিবেদন জমা দেয়। এর আগে চট্টগ্রাম জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিরোধপূর্ণ চরের ৬টি মৌজা ভাসানচর, শালিকচর, চর বাতায়ন, চর মোহনা, চর কাজলা ও কাউয়ারচরের সিএস (ক্যাডাস্ট্রাল সার্ভে) ও আরএস-এ পেন্টাগ্রাফ এবং আর্কাইভ জিআইএস পদ্ধতি পর্যালোচনা করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, ভাসানচরের ৬টি মৌজা চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার সীমানায় অন্তর্ভুক্ত মর্মে দৃশ্যমান হয়। কিন্তু দিয়ারা জরিপে এই ৬টি মৌজাকে নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। সব দিক বিবেচনা করে বিরোধপূর্ণ এ চরটি (ভাসানচর) সন্দ্বীপ উপজেলার অন্তর্ভুক্ত মর্মে প্রতীয়মান হয়।

রিটেলেড নিউজ

চতুর্থবারের মতো খোলা হলো শাহজালাল মাজারের দানবাক্স, মিলল প্রায় ৮৯ লাখ টাকা

চতুর্থবারের মতো খোলা হলো শাহজালাল মাজারের দানবাক্স, মিলল প্রায় ৮৯ লাখ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক : সিলেট প্রতিনিধি : সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সের টাকা গণনা শেষে চতুর্থ দফায় পাওয়া গ...বিস্তারিত


কুড়িগ্রামে বিএনপির ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান

কুড়িগ্রামে বিএনপির ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান

আমাদের বাংলা ডেস্ক : : কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানের অংশ হিসেবে পরিষ্কার-পরিচ...বিস্তারিত


বাড়ছে পানি, ৫ জেলায় বন্যার শঙ্কা

বাড়ছে পানি, ৫ জেলায় বন্যার শঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক : বৃষ্টিপাত বেড়ে নদ-নদীর পানি সতর্কসীমায় পৌঁছালে দেশের পাঁচ জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে। শনি...বিস্তারিত


পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে : লাভের আশায় ১১টি ট্রেন ইজারা দেবে রেল

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে : লাভের আশায় ১১টি ট্রেন ইজারা দেবে রেল

আমাদের বাংলা ডেস্ক : : রাজশাহী প্রতিনিধি : পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের ১১টি ট্রেন ইজারা দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে চারটি ট্রেনের দর...বিস্তারিত


ড্রোনে অপরাধী, ক্যাম্পাসে ইয়াবা: নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পুলিশ

ড্রোনে অপরাধী, ক্যাম্পাসে ইয়াবা: নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক : পুলিশের একাংশের পুরোনো ও অচল যানবাহন, পুলিশের অবস্থান নজরদারিতে অপরাধীদের ড্রোনের ব্যবহার এবং মে...বিস্তারিত


বিরোধীদলের কারণেই কেউ কেউ ডিসেম্বরে আসতে চায় : পানিসম্পদ মন্ত্রী

বিরোধীদলের কারণেই কেউ কেউ ডিসেম্বরে আসতে চায় : পানিসম্পদ মন্ত্রী

আমাদের বাংলা ডেস্ক : : লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি : প্রথমদিন থেকেই বিরোধীদল প্রতিমুহূর্তে সরকারি দলকে অসহযোগিতা করার কারণেই ...বিস্তারিত



সর্বপঠিত খবর

দশম শ্রেণির ছাত্রীকে গণধর্ষণ করে ভিডিও ধারণ, গ্রেফতার ২

দশম শ্রেণির ছাত্রীকে গণধর্ষণ করে ভিডিও ধারণ, গ্রেফতার ২

নোয়াখালী প্রতিনিধি : : নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী (১৭) গণধর্ষণের শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় সম্পৃক্তার অ...বিস্তারিত


সৌদি আরবে  গাড়ির নির্দিষ্ট গতি  অমান্য করলে  ২ হাজার রিয়াল জরিমানা 

সৌদি আরবে  গাড়ির নির্দিষ্ট গতি  অমান্য করলে  ২ হাজার রিয়াল জরিমানা 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : : সৌদি ট্রাফিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, স্পীড লিমিট এর চাইতে অধিক গতিতে যানবাহন চালানো ব্যক্তিদের উপ...বিস্তারিত



সর্বশেষ খবর