শিরোনাম
আমাদের বাংলা ডেস্ক : | ১১:২৬ এএম, ২০২৬-০৮-১৬
মোঃ ছলিম উল্লাহ, গফরগাঁও, ময়মনসিংহ
গ্যাসের সংকট, জ্বালানি তেলের সরবরাহে চাপ এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতির কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং আবারও জনজীবন ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। শিল্পকারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় একাধিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রয়োজনীয় জ্বালানি না পাওয়ায় উৎপাদন কমেছে।
একজন সংবাদকর্মী হিসেবে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বিবেচনায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের কাছে একটি যৌক্তিক ও বাস্তবভিত্তিক জ্বালানি পরিকল্পনা গ্রহণের প্রস্তাব রাখা যেতে পারে।
প্রথম কাজ জরুরি ভিত্তিতে গ্যাস ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা
বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত গ্যাস না থাকলে শুধু বিদ্যুৎকেন্দ্রের সক্ষমতা বাড়িয়ে লাভ হবে না। তাই বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প, সার ও আবাসিক খাত কোন খাতে কত গ্যাস প্রয়োজন, তার একটি স্বচ্ছ অগ্রাধিকার তালিকা তৈরি করতে হবে।
এলএনজি আমদানির ক্ষেত্রে একক উৎসের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী স্পট মার্কেট থেকে আমদানির ব্যবস্থা রাখতে হবে। একই সঙ্গে দেশের নিজস্ব গ্যাস অনুসন্ধানে বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি। বাংলাদেশে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়ায় আমদানিনির্ভরতা বাড়ছে এটি ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি।
দ্বিতীয় কাজ লোডশেডিংকে ‘ব্যবস্থাপনা’ নয়, স্থায়ীভাবে কমানোর পরিকল্পনা
লোডশেডিং হলে শুধু ঘণ্টাভিত্তিক রুটিন প্রকাশ করাই সমাধান নয়। কোন এলাকায় কেন বিদ্যুৎ যাচ্ছে, কোন বিদ্যুৎকেন্দ্র জ্বালানি সংকটে বন্ধ আছে এবং কোথায় সঞ্চালন বা বিতরণ লাইনের সমস্যা এসব তথ্য জনগণের সামনে নিয়মিত প্রকাশ করা উচিত।
কৃষি সেচ ও হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের আলাদা পরিকল্পনা প্রয়োজন।
তৃতীয় কাজ সৌরবিদ্যুৎকে জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তার অংশ করা
বাংলাদেশে বিপুল পরিমাণ ছাদ ও খালি জমি রয়েছে। সরকারি-বেসরকারি ভবন, শিল্পকারখানা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও বড় মার্কেটের ছাদে বাধ্যতামূলক বা প্রণোদনাভিত্তিক রুফটপ সোলার চালু করা যেতে পারে।
সরকার ইতোমধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি বাড়ানোর উদ্যোগের কথা জানিয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে ১০ হাজার মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করার কথা প্রকাশ্যে এসেছে।
এই পরিকল্পনাকে শুধু প্রকল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রত্যেক উপজেলা পর্যায়ে সরকারি ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের কর্মসূচি নেওয়া যেতে পারে।
চতুর্থ কাজ জ্বালানি তেলের মজুত বাড়াতে হবে
বিশ্ববাজারে সংকট দেখা দিলে বাংলাদেশ যেন হঠাৎ করে জ্বালানি সংকটে না পড়ে, সেজন্য কৌশলগত জ্বালানি মজুত বাড়ানো দরকার। ডিজেল, ফার্নেস অয়েল ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জ্বালানির জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তামূলক মজুত রাখতে হবে।
একই সঙ্গে জ্বালানি আমদানিতে স্বচ্ছ আন্তর্জাতিক দরপত্র, প্রতিযোগিতামূলক মূল্য এবং দুর্নীতিমুক্ত ক্রয়প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হবে।
পঞ্চম কাজ—অতিরিক্ত বিদ্যুৎকেন্দ্র নয়, বিদ্যমান কেন্দ্রের দক্ষতা বাড়ানো
দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও জ্বালানি সংকট, রক্ষণাবেক্ষণ ও অন্যান্য কারণে সব কেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যায় না। ফলে নতুন নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের আগে বিদ্যমান কেন্দ্রগুলোর প্রকৃত উৎপাদনক্ষমতা, দক্ষতা ও ব্যয় পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
যে কেন্দ্র কম খরচে বেশি বিদ্যুৎ দিতে পারে, তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। একই সঙ্গে অদক্ষ ও অতিরিক্ত ব্যয়বহুল উৎপাদন ব্যবস্থার সংস্কার করতে হবে।
ষষ্ঠ কাজ—ভারতসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আঞ্চলিক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সহযোগিতা
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তা শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ আমদানি-রপ্তানি, আঞ্চলিক গ্রিড এবং ভবিষ্যতে নেপাল-ভুটানের জলবিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ বাড়ানো যেতে পারে।
তবে কোনো একটি দেশ বা একটি জ্বালানি উৎসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল না হয়ে বহুমুখী সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
সপ্তম কাজ ‘জ্বালানি কমিশন’ গঠন করে পাঁচ ও ১০ বছরের রোডম্যাপ
সরকার চাইলে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি তেল নিয়ে একটি স্বাধীন বিশেষজ্ঞ কমিশন গঠন করতে পারে। সেখানে প্রকৌশলী, অর্থনীতিবিদ, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও ভোক্তা প্রতিনিধিদের রাখা যেতে পারে।
কমিশনের কাজ হবে আগামী ৫, ১০ ও ২০ বছরে দেশের কত বিদ্যুৎ প্রয়োজন হবে, কত গ্যাস লাগবে, কত জ্বালানি আমদানি করতে হবে এবং কত নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন করা সম্ভব—তার বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা তৈরি করা।
সংবাদকর্মী হিসেবে সরকারের প্রতি প্রস্তাব
দেশের মানুষ এখন শুধু বিদ্যুৎ চায় না; তারা নিরবচ্ছিন্ন, সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য জ্বালানি ব্যবস্থা চায়। তাই বর্তমান সংকটকে সাময়িক সমস্যা হিসেবে না দেখে জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হতে পারে—গ্যাস অনুসন্ধান, এলএনজি সরবরাহের বহুমুখীকরণ, জ্বালানি তেলের কৌশলগত মজুত, সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণ, আঞ্চলিক বিদ্যুৎ সহযোগিতা এবং বিদ্যুৎ সঞ্চালন-বিতরণ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন—এই ছয়টি বিষয়কে একই পরিকল্পনার আওতায় আনা।
আজকের লোডশেডিং সাময়িকভাবে কমানো সম্ভব; কিন্তু আগামী দিনের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে এখনই দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা। আর সেই জায়গাতেই সরকারের সবচেয়ে বড় নীতিগত মনোযোগ প্রয়োজন।
নিজস্ব প্রতিবেদক : নিয়ম করেই মাসশেষে আসে গ্যাসের বিল, টাকাও জমা পড়ে ঠিক সময়ে। কিন্তু বিনিময়ে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত স...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : সকাল ১০টা বাজতেই রাজধানীর বনশ্রীতে অবস্থিত ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ডিপি...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানী ঢাকার পাশের গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বরমী গ্রামের বাসিন্দা ছোয়াইদ হাসান নুজাইম। স্থান...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: জমিজমা বিরোধের মীমাংসার কথা বলে বাড়িতে ডেকে নিয়ে স্বামী-স্ত্রীসহ পাঁচজন...বিস্তারিত
মাহাদী বিন সুলতান, রাঙ্গামাটি: : রাঙামাটির নানিয়ারচর থানার আয়োজনে মাদক বিরোধী র্যালী ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) ...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : কোনো কোনো কণ্ঠ শুধু গান গায় না, একটি সময়কে ধারণ করে। আবদুর রহমান বয়াতীর কণ্ঠ ছিল তেমনই—মাটির গন্ধ...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Bangla | Developed By Muktodhara Technology Limited