শিরোনাম
মো. আরফান উদ্দীন | ০৭:২২ পিএম, ২০২৬-০৯-২০
দূর থেকে দেখলে মনে হবে ছোট্ট কোনো ঝোপঝাড়ে ঢাকা পরিত্যক্ত বনভূমি। কাছে গেলেই চোখে পড়ে মরিচা ধরা গাড়ির ছাদ, ভাঙা কাচ, খোলা দরজা আর লতাপাতায় ঢেকে যাওয়া ইঞ্জিনের অংশ।
কোথাও গাড়ির ভেতর জন্মেছে আগাছা, কোথাও আবার ছাদ ভেদ করে মাথা তুলেছে ছোট ছোট গাছ, শিকড়ে হয়েছে বন্দি। যেন প্রকৃতি ধীরে ধীরে নিজের করে নিচ্ছে মানুষের ফেলে রাখা লোহার এই কাঠামোগুলোকে।
নগরীর সিআরবি সাত রাস্তার মোড় এলাকায় বাংলাদেশ রেলওয়ের অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান হিসাব অধিকর্তা (পূর্ব) কার্যালয়ের পেছনের একটি খোলা জায়গায় বছরের পর বছর ধরে পড়ে আছে রেলওয়ে কর্মকর্তাদের ব্যবহৃত একাধিক সরকারি গাড়ি। একসময় যেসব গাড়ি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কাজে ব্যবহৃত হতো, আজ সেগুলো পরিণত হয়েছে মরিচা ধরা ধ্বংসাবশেষে।
সরেজমিন দেখা যায়, বিভিন্ন মডেলের জিপ, মাইক্রোবাস, পিকআপ ও সেডান গাড়ি সারিবদ্ধভাবে পড়ে আছে খোলা আকাশের নিচে। কোনো গাড়ির চাকা নেই, কোনো গাড়ির কাচ ভাঙা।
অনেকগুলোর ইঞ্জিন ও গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ খুলে নেওয়া হয়েছে। বৃষ্টির পানি, রোদ আর সময়ের নির্মম আঘাতে ধীরে ধীরে ক্ষয়ে যাচ্ছে গাড়িগুলো।
স্থানীয়দের ভাষ্য, অন্তত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে গাড়িগুলো একই জায়গায় পড়ে আছে। নতুন প্রজন্মের অনেক রেলকর্মী চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগেও এসব গাড়ি এখানে ছিল বলে জানিয়েছেন তারা।
এক সময়ের সচল ও মূল্যবান সরকারি যানবাহনগুলো এখন যেন রাষ্ট্রীয় অবহেলার নীরব সাক্ষী। চারপাশে গজিয়ে ওঠা লতাপাতা ও ঝোপঝাড়ের আড়ালে হারিয়ে যাচ্ছে কোটি টাকার সম্পদ। দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে গাড়িগুলোর ধাতব অংশে মরিচা ধরেছে। কোথাও কোথাও বডি ভেঙে পড়তে শুরু করেছে।
রেলওয়ের কয়েকজন কর্মচারী জানান, এসব গাড়ির অনেকগুলো উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের দাপ্তরিক কাজে ব্যবহৃত হতো। মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সেগুলো নিলাম বা অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে একসময় সচল থাকা যানবাহনগুলো ধীরে ধীরে পরিত্যক্ত সম্পদে পরিণত হয়েছে।
তাদের অভিযোগ, বছরের পর বছর অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে থাকায় গাড়িগুলোর মূল্যবান যন্ত্রাংশ চুরি হয়ে গেছে। ব্যাটারি, হেডলাইট, মিটার, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, সিটের অংশসহ নানা উপকরণ একে একে উধাও হয়েছে। ফলে যেসব গাড়ি হয়তো কোনো একসময় সংস্কার করে ব্যবহার করা যেত, সেগুলো এখন সম্পূর্ণ অকেজো।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি যানবাহন মেয়াদোত্তীর্ণ হলে বা ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়লে নির্ধারিত নিয়মে সেগুলোর মূল্যায়ন করে নিলাম বা স্ক্র্যাপ হিসেবে বিক্রির বিধান রয়েছে। কিন্তু বছরের পর বছর ফেলে রাখার কারণে একদিকে সম্পদের মূল্য কমছে, অন্যদিকে সম্ভাব্য রাজস্ব থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে রেলওয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, অনেক গাড়ি দীর্ঘদিন ধরে অকেজো অবস্থায় রয়েছে। এগুলো নিষ্পত্তির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তালিকা প্রস্তুত করে পর্যায়ক্রমে নিলামের উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় আছে। তবে বিভিন্ন প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার কারণে কাজটি দ্রুত এগোচ্ছে না।
রেলওয়ের এক প্রকৌশলী বলেন, কিছু গাড়ির মেরামত ব্যয় নতুন গাড়ি কেনার খরচের কাছাকাছি চলে যায়। সেক্ষেত্রে সেগুলো সচল করা অর্থনৈতিকভাবে যৌক্তিক হয় না। তবে দীর্ঘদিন খোলা জায়গায় ফেলে রাখাও ঠিক নয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, সিআরবির মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এভাবে পরিত্যক্ত যানবাহনের স্তূপ শুধু দৃষ্টিকটুই নয়, নিরাপত্তা ঝুঁকিও তৈরি করছে। এসব স্থানে মাদকসেবীর আড্ডা বা অসামাজিক কার্যকলাপের আশঙ্কাও থাকে।
বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বিভাগ দেখবে।
তবে প্রধান প্রকৌশলী (পূর্ব), প্রধান যান্ত্রিক প্রকৌশলী ও প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক সহ সংশ্লিষ্টদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রেলওয়ের বিশাল সম্পদভাণ্ডারের একটি ক্ষুদ্র অংশের এই চিত্র যেন বৃহত্তর একটি বাস্তবতার প্রতীক। ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়া সরকারি সম্পদ সময়মতো ব্যবস্থাপনার অভাবে কীভাবে ধীরে ধীরে মূল্য হারায়, সিআরবির এই পরিত্যক্ত গাড়িগুলো তারই নীরব উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক : পোশাকশ্রমিকদের নতুন ন্যূনতম মজুরি ডিসেম্বর থেকে কার্যকর এবং জানুয়ারি মাসে বর্ধিত বেতন দেওয়ার বà¦...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটলেও তরুণ প্রজন্মের রাষ্ট্র মেরামতের আকাঙ্ক্ষà¦...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর মুগদা থানার সাইফুল হত্যা মামলায় তথ্য গোপন করে নিম্ন আদালতের একই আদেশের বিপরীতে তিনবার à¦...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : মোঃ মিজানুর রহমান, কুড়িগ্রাম :: সরকারি দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নির্ধারিত কুড়িগ্রাম জেà...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, বাংলাদেশ ও কসোভোর মধ্যে অভিন্à¦...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : মোঃ নাজিম উদ্দীন হাটহাজারী : ৩/১১/২০২৬ খ্রিস্টাব্দ (১৮ই কার্তিক) রোজ মঙ্গলবার বিকাল ৩টায় চট্টগ্রà...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Bangla | Developed By Muktodhara Technology Limited