শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৭:০৮ পিএম, ২০২৬-০৮-১২
যমুনার দুই পাড়ে হবে দুই নদীবন্দর
২০০ কিমি পথ কমে হবে ১৬ কিমি
বদলে যাবে উত্তরবঙ্গের চিত্র
একপাশে বগুড়ার সারিয়াকান্দি, অন্যপাশে জামালপুরের মাদারগঞ্জ। মাঝখানে যমুনা নদী। এই নদী পার হয়ে সড়কপথে যেতে হলে ঘুরতে হয় সিরাজগঞ্জ ও বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে। এতে বগুড়া থেকে মাদারগঞ্জের যাত্রাপথ দাঁড়ায় প্রায় ২০০ কিলোমিটার।
এবার সেই দীর্ঘ ঘুরপথের অবসানের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। যমুনার তীরে বগুড়ার সারিয়াকান্দি ও ধুনটকে দেশের নতুন দুটি অভ্যন্তরীণ নদীবন্দর ঘোষণা করেছে সরকার। ৮ জুলাই নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপনে দুই বন্দরের সীমানা নির্ধারণ করা হয়। এর ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৬টিতে।
নদীবন্দর দুটি কার্যকর হলে সরাসরি নৌপথে সারিয়াকান্দি-মাদারগঞ্জ যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হবে। স্থানীয়দের হিসাবে নদীর দুই পাড়ের সরাসরি দূরত্ব প্রায় ১৬ কিলোমিটার। ফলে ২০০ কিলোমিটার পথ ঘুরে যাওয়ার বদলে যমুনা পেরিয়েই জামালপুরে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হবে। সারিয়াকান্দি উপজেলা প্রশাসনের ওয়েবসাইটেও বর্তমানে সারিয়াকান্দি ঘাট দিয়ে জামালপুরের মাদারগঞ্জের সঙ্গে নৌযোগাযোগের তথ্য রয়েছে।
‘নদীবন্দর দুটি কার্যকর হলে সরাসরি নৌপথে সারিয়াকান্দি-মাদারগঞ্জ যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হবে। স্থানীয়দের হিসাবে নদীর দুই পাড়ের সরাসরি দূরত্ব প্রায় ১৬ কিলোমিটার। ফলে ২০০ কিলোমিটার পথ ঘুরে যাওয়ার বদলে যমুনা পেরিয়েই জামালপুরে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হবে’
যমুনা আছে, যোগাযোগ নেই
সরেজমিন দেখা যায়, সারিয়াকান্দির যমুনার তীরঘেঁষে গড়ে ওঠা ঘাটগুলোতে সকাল থেকেই ব্যস্ততা। কোথাও ছোট নৌকায় মানুষ পার হচ্ছে, কোথাও নদীর পাড়ে পড়ে আছে কৃষিপণ্য বোঝাই বস্তা, আবার কোথাও নৌযানে মাল ওঠানামার অপেক্ষা। নদীর ওপারেই জামালপুরের মাদারগঞ্জ। দুই পাড়ের মানুষের যাতায়াত, আত্মীয়তা ও ব্যবসায়িক সম্পর্কও দীর্ঘদিনের। অথচ যমুনা পার হওয়ার সহজ ও নিয়মিত যোগাযোগব্যবস্থা না থাকায় এই নৈকট্য কাজে লাগছে না অর্থনীতিতে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সারিয়াকান্দি থেকে মাদারগঞ্জের সরাসরি দূরত্ব খুব বেশি নয়। কিন্তু সড়কপথে যেতে হলে সিরাজগঞ্জ হয়ে বঙ্গবন্ধু সেতু পার হয়ে ঘুরে যেতে হয়। ফলে যে পথ নদীপথে কয়েক কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ, সড়কপথে সেটিই প্রায় ২০০ কিলোমিটারে গিয়ে ঠেকে। এতে শুধু যাত্রীর সময় নয়, পণ্য পরিবহনের খরচও বেড়ে যায়।
স্থানীয় ব্যবসায়ী আবুল কালাম বলেন, ‘নদীর দুই পাড়ে কৃষিপণ্য, নিত্যপণ্য ও অন্যান্য ব্যবসার সম্ভাবনা থাকলেও যোগাযোগের সীমাবদ্ধতার কারণে বড় পরিসরে বাণিজ্য গড়ে ওঠেনি। সারিয়াকান্দির উৎপাদিত পণ্য মাদারগঞ্জ ও জামালপুরের বাজারে সহজে পাঠানো গেলে যেমন নতুন বাজার তৈরি হবে, তেমনি ওই অঞ্চলের পণ্যও কম সময়ে বগুড়ায় আনা সম্ভব হবে।’
কাঁচামাল ব্যবসায়ী ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘বগুড়া থেকে মাদারগঞ্জ মানচিত্রে পাশাপাশি। কিন্তু মালামাল নিয়ে যেতে হলে অনেক ঘুরতে হয়। এতে ভাড়া বাড়ে, সময় লাগে। নিয়মিত নৌযান চলাচল করলে দুই পাড়ের ব্যবসাই বাড়বে।’
‘সারিয়াকান্দি থেকে মাদারগঞ্জের সরাসরি দূরত্ব খুব বেশি নয়। কিন্তু সড়কপথে যেতে হলে সিরাজগঞ্জ হয়ে বঙ্গবন্ধু সেতু পার হয়ে ঘুরে যেতে হয়। ফলে যে পথ নদীপথে কয়েক কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ, সড়কপথে সেটিই প্রায় ২০০ কিলোমিটারে গিয়ে ঠেকে। এতে শুধু যাত্রীর সময় নয়, পণ্য পরিবহনের খরচও বেড়ে যায়’
তবে শুধু ব্যবসা নয়, প্রতিদিনের প্রয়োজনেও নদীর দুই পাড়ের মানুষের যোগাযোগ রয়েছে। চিকিৎসা, শিক্ষা, আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়া, হাটবাজার কিংবা কৃষিপণ্য বেচাকেনার জন্য অনেককেই নদীর এপার-ওপার যেতে হয়। স্থানীয়দের দাবি, একটি নিরাপদ ও নিয়মিত নৌযোগাযোগ ব্যবস্থা চালু হলে তাদের দৈনন্দিন ভোগান্তি অনেকটাই কমবে।
স্থানীয় বাসিন্দা হাফিজুর রহমান বলেন, ‘নদীর ওপারেই মাদারগঞ্জ। অথচ কোনো জরুরি কাজে যেতে হলে ঘুরে যেতে হয়। নৌপথটা ঠিকভাবে চালু হলে আমাদের জন্য অনেক সুবিধা হবে।’
পেশায় একজন স্কুলশিক্ষক তাহের আলী। তার মতে, সারিয়াকান্দি ও ধুনটের নদীবন্দর কার্যকর হলে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসবে কৃষিপণ্য পরিবহনে।
তিনি বলেন, ‘বগুড়া ও আশপাশের এলাকায় বিপুল পরিমাণ ধান, আলু, ভুট্টা, পেঁয়াজ, মরিচ ও বিভিন্ন ধরনের সবজি উৎপাদিত হয়। এসব পণ্যের একটি বড় অংশ ট্রাক ও অন্যান্য সড়কযানে করে বিভিন্ন মোকাম ও জেলার বাজারে পাঠানো হয়।’
‘নদীবন্দরকে কেন্দ্র করে শুধু নৌযান চলাচল নয়, একটি পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গড়ে ওঠার সুযোগ রয়েছে। জেটি, টার্মিনাল, গুদাম, পণ্য ওঠানামা, পরিবহন, প্যাকেজিং, কোল্ড স্টোরেজ, নৌযান মেরামত ও অন্যান্য সেবার চাহিদা তৈরি হতে পারে। এর সঙ্গে বাড়তে পারে হোটেল, খাবারের দোকান, ছোট ব্যবসা ও পরিবহনসেবা’
কৃষক আবু তাহের বলেন, তাদের সমস্যা শুধু উৎপাদন নয় উৎপাদিত পণ্য কম খরচে দ্রুত বাজারে পৌঁছানোও বড় বিষয়। বিশেষ করে আলু, সবজি, পেঁয়াজসহ পচনশীল পণ্যের ক্ষেত্রে কয়েক ঘণ্টার অতিরিক্ত পরিবহনও ক্ষতির কারণ হতে পারে। আবার দূরের বাজারে পণ্য পাঠাতে পরিবহন খরচ বেশি হলে সেই ব্যয়ের চাপ শেষ পর্যন্ত কৃষকের বিক্রয়মূল্যেই পড়ে। নৌপথে একসঙ্গে বড় পরিমাণ পণ্য পরিবহনের সুযোগ তৈরি হলে এই হিসাব বদলাতে পারে। তারা তখন কাছের নদীবন্দরে পণ্য এনে নৌযানে তুলে দিতে পারবেন। সেখান থেকে যমুনার ওপারের বাজারসহ দেশের অন্য অঞ্চলেও তুলনামূলক কম খরচে পণ্য পাঠানোর সুযোগ তৈরি হবে।
তাহের বলেন, ‘ফসল বিক্রি করার আগে এখন আমাদের প্রথম হিসাব থাকে গাড়িভাড়া কত পড়বে। ভাড়া বেশি হলে ভালো দাম পেলেও লাভ কমে যায়। নদীপথে কম খরচে পণ্য পাঠানো গেলে কৃষকের হাতে বেশি টাকা থাকবে।’
‘নদীবন্দর দুটি শুধু স্থানীয় যোগাযোগের জন্য নয়, উত্তরাঞ্চলের কৃষিপণ্য ও ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। সঠিক অবকাঠামো গড়ে উঠলে যমুনার দুই পাড়ের বাজারের সঙ্গে বগুড়ার সরাসরি যোগাযোগ বাড়বে। এর ফলে কৃষি ও বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে’
আরেক কৃষক ফজলু মিয়ার ভাষ্য, ‘মৌসুমে একই সময়ে অনেক কৃষক পণ্য বাজারে তোলেন। তখন স্থানীয় বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেড়ে গেলে দাম কমে যায়। নদীপথে দ্রুত অন্য এলাকার বাজারে পণ্য পাঠানোর সুযোগ থাকলে কৃষক এক বাজারের ওপর নির্ভরশীল থাকবে না।’
তবে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কৃষকদের মতে, নদীবন্দর ঘোষণার প্রকৃত সুফল পেতে শুধু নৌযান চালু করাই যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন আধুনিক জেটি, পণ্য ওঠানামার ব্যবস্থা, সড়ক সংযোগ, গুদাম ও কৃষিপণ্য সংরক্ষণের সুবিধা। কারণ বর্তমানে নদীর ঘাটে অনেক জায়গায় পণ্য ওঠানামা করতে গিয়ে সময় ও শ্রম দুটোই বেশি লাগে। বর্ষা ও শুষ্ক মৌসুমে নদীর নাব্য পরিবর্তনও নৌযান চলাচলে প্রভাব ফেলে। ফলে সারা বছর নিরাপদ ও নিয়মিত নৌপথ চালু রাখতে নাব্য রক্ষা এবং পরিকল্পিত ঘাট ব্যবস্থাপনা জরুরি।
একইভাবে নতুন ধুনট নদীবন্দরও উত্তরবঙ্গের নৌযোগাযোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ধুনট নদীবন্দরের সীমানা সারিয়াকান্দির কর্ণিবাড়ি ইউনিয়নের মধুরাপাড়া ঘাট এলাকা থেকে শুরু হয়ে সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার তেকুরিয়া হাটসংলগ্ন যমুনা নদী হয়ে বগুড়ার ধুনট উপজেলার চৌবার মৌজার বেশাঘীর চর পর্যন্ত বিস্তৃত। বন্দরের আওতায় চন্দনবাইশা ও শাহরাবাড়িসহ বিদ্যমান ঘাট ও খালও রয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, ধুনটের সঙ্গে সিরাজগঞ্জের কাজিপুরসহ যমুনার দুই পাড়ের বাজারগুলোর সরাসরি নৌযোগাযোগ জোরদার হলে কৃষিপণ্য ও অন্যান্য মালামাল পরিবহনে নতুন সুযোগ তৈরি হবে।
প্রত্যাশা জেটি ও আধুনিক ঘাট
নদীবন্দর ঘোষণার খবর স্থানীয়দের মধ্যে আশাবাদ তৈরি করলেও তাদের বড় প্রশ্ন এখন অবকাঠামো নিয়ে। সরেজমিনে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা নদীবন্দর ঘোষণার পর দ্রুত জেটি নির্মাণ, যাত্রীছাউনি, পণ্য ওঠানামার স্থান, সড়ক যোগাযোগ ও নিরাপদ নৌযান চলাচলের ব্যবস্থা চান।
স্থানীয় বাসিন্দা আজাদ হোসেন বলেন, ‘নদীবন্দর ঘোষণা হয়েছে এটাই আমাদের জন্য আনন্দের খবর। কিন্তু শুধু কাগজে বন্দর হলে লাভ নেই। আমরা চাই এখানে এমন ঘাট হোক, যেখানে মানুষ নিরাপদে উঠতে পারবে এবং কৃষক তার পণ্য সহজে নৌযানে তুলতে পারবে।’
স্থানীয়রা বলছেন, নদীবন্দরকে কেন্দ্র করে শুধু নৌযান চলাচল নয়, একটি পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গড়ে ওঠার সুযোগ রয়েছে। জেটি, টার্মিনাল, গুদাম, পণ্য ওঠানামা, পরিবহন, প্যাকেজিং, কোল্ড স্টোরেজ, নৌযান মেরামত ও অন্যান্য সেবার চাহিদা তৈরি হতে পারে। এর সঙ্গে বাড়তে পারে হোটেল, খাবারের দোকান, ছোট ব্যবসা ও পরিবহনসেবা।
অপেক্ষা অবকাঠামো-বরাদ্দের
নদীবন্দর ঘোষণার প্রজ্ঞাপনে শুধু সীমানা নির্ধারণই নয়; নৌপথ উন্নয়ন, জেটি নির্মাণ, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো স্থাপন এবং যাত্রীসেবা নিশ্চিত করার বিষয়ও উল্লেখ করা হয়েছে। দুই বন্দরের সংরক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষকে (বিআইডব্লিউটিএ)। ফলে ঘোষণার পরবর্তী ধাপ এখন অবকাঠামো নির্মাণ ও নৌপথকে কার্যকর বাণিজ্যিক রুটে পরিণত করা।
এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে জেটি ও টার্মিনাল নির্মাণের জন্য সমীক্ষা, প্রকল্প ও অর্থ বরাদ্দ। সারিয়াকান্দি ও ধুনট বন্দরে কতটি জেটি নির্মাণ করা হবে, কোন ঘাটকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, এজন্য সম্ভাব্য ব্যয় কত, অর্থের উৎস কী এবং নির্মাণকাজ শুরুর সময়সীমা কত—এসব বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সারা বছর নৌযান চলাচলের জন্য যমুনার প্রয়োজনীয় নাব্য কীভাবে নিশ্চিত করা হবে, নদীপথে নৌযান চলাচলের জন্য কোনো ড্রেজিং পরিকল্পনা আছে কি-না এবং যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের জন্য কী ধরনের নৌযান চালু করা হবে— এসবও নির্ধারণ করতে হবে।
বন্দর দুটির কার্যকারিতা নির্ভর করবে শুধু নৌপথের ওপর নয়, পণ্য ওঠানামার জন্য জেটি, গুদাম ও সংরক্ষণ সুবিধা এবং বন্দরের সঙ্গে আঞ্চলিক সড়ক যোগাযোগ কতটা উন্নত করা যায়, তার ওপরও। বিশেষ করে সারিয়াকান্দি-মাদারগঞ্জ রুটে নিয়মিত নৌযান চলাচল শুরু না হলে ঘোষিত নৌবন্দরের প্রধান যোগাযোগ সুবিধাটিই পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর হবে না।
সারিয়াকান্দির কাজলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘যমুনার কারণে সারিয়াকান্দি ও মাদারগঞ্জের মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের সমস্যা রয়েছে। দুই এলাকার মানুষ ব্যবসা-বাণিজ্য ও আত্মীয়তার কারণে নিয়মিত যাতায়াত করেন। নদীবন্দর কার্যকর হলে তাদের সময় ও খরচ দুটোই কমবে। আমরা চাই দ্রুত আধুনিক ঘাট ও জেটি নির্মাণ করা হোক।’
সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিকাইল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘সারিয়াকান্দি ও মাদারগঞ্জ ভৌগোলিকভাবে কাছাকাছি হলেও সরাসরি সড়ক যোগাযোগ নেই। ফলে দীর্ঘদিন ধরে দুই এলাকার মানুষকে অনেক পথ ঘুরে যাতায়াত করতে হয়েছে। নদীবন্দরটি কার্যকর হলে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যয় কমার সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে কৃষিপণ্য পরিবহনে এর সুফল পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’
বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান বলেন, ‘নদীবন্দর দুটি শুধু স্থানীয় যোগাযোগের জন্য নয়, উত্তরাঞ্চলের কৃষিপণ্য ও ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। সঠিক অবকাঠামো গড়ে উঠলে যমুনার দুই পাড়ের বাজারের সঙ্গে বগুড়ার সরাসরি যোগাযোগ বাড়বে। এর ফলে কৃষি ও বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।’
এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তা আহম্মেদ সাইদ বলেন, ‘নদীবন্দর ঘোষণার পর বন্দর এলাকায় প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, জেটি, নৌযান চলাচলের ব্যবস্থা এবং নৌপথের নাব্য নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা নেওয়া হবে।’
নিজস্ব প্রতিবেদক : ইবনে জালাল: সম্পাদকীয় নীতিমালার সীমারেখা মেনে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি জনস্বার্থে দ...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : হংকং, মালয়েশিয়া, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি থেকে কেনা হবে এই এলএনজি গ্যাস সংকট মেটাতে জরুরিভ...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশ পুলিশে কর্মরত উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শকসহ (ডিআইজি) ঊর্ধ্বতন ২৩ কর্মকর্তাকে একযোগে বদলি করে ন...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী কে হচ্ছেন, তা নির্ধারণ করতে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকালে ...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে বেশ কিছু প্রতিবন্ধকতার কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশে সফররত যু...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : পিরোজপুর প্রতিনিধি ‘একজন পালে আওয়ামী লীগ, যেখানেই টাকা সেখানেই আমাদের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ। বিএনপ...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Bangla | Developed By Muktodhara Technology Limited