শিরোনাম
কাজী হুমায়ুন কবির | ০৭:৪২ পিএম, ২০২৬-০৬-১০
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কতৃপক্ষের কর্মকর্তাদের দুর্ণীতি যেন থামছেই না। ফ্যাসিস্ট আমলে যে দুর্ণীতির মহিরুহ শুরু হয়েছে তা ইন্টেরিম সরকারসহ বর্তমান নির্বাচিত সরকারের আমলেও একের পর এক সিডিএর তদন্ত কমিটির তদন্ত ও দুদুকের তদন্ত চলেছে । এত তদন্তের মাঝেও সরকারী অর্থ লুটপাটের নতুন করে কৌশল বের করছেন কর্মকর্তারা। প্রকল্প হলো সেই কৌশলের হাতিয়ার। প্রকল্প মেয়াদ বাড়িয়ে ব্যয় বৃদ্ধি যেন কৌশলের ফাঁদ হয়ে দাড়িয়েছে।
জানা যায়, চট্টগ্রামে মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে সিডিএ হয়েছে একাধিক কর্মকর্তার লূটপাটের স্বর্গরাজ্য। সিডিএর সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম, দোভাষ, প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামসসহ প্রকল্প পরিচালকদের বিরুদ্ধে অভিযোগের যেন শেষ নাই। তার মধ্যে প্রকল্প পরিচালক মাহফুজুর রহমানের বিরুদ্ধে দুর্ণীতির অভিযোগ যেন গায়ে গায়ে লেগে আছে।
জানা যায়, নির্বাহী প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমানের বিরুদ্ধে নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী রোড, দেওয়ানহাট থেকে এ.কে খান রোড, সাগরিকা স্টেডিয়াম রোড নির্মাণেও দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। ক্ষমতাবলে নিয়মবহির্ভূতভাবে পর পর দুটি প্রকল্পের কাজ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ম্যাক্সকে পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তাছাড়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প ঘিরে অতীতেও তার দুর্ণীতি তদন্তে একাধিক তদন্ত কমিটি গঠিত হলেও তার রহস্যময় তদবীরের কারনে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দৃশ্যমান হয়নি । ফলে অভিযোগের পাহাড় জমলেও তার নিষ্পত্তি না হয়ে এখনো রয়েছে বহাল তবিয়তে।
উল্লেখ্য যে, ২০১৭ সালের ১১ জুলাই জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। তিন বছর মেয়াদি প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছিল তিন হাজার ২৫০ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। ২০১৮ সালের অক্টোবর মাসে সিডিএ এবং ম্যাক্স-র্যা ঙ্কিন যৌথ কোম্পানির মধ্যে আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিলো। চুক্তি অনুযায়ী, ২০২০ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল।
নথি অনুযায়ী, নির্ধারিত সময় পেরিয়ে প্রকল্পের মেয়াদ প্রথমে দুই বছর ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়। এরপর আরও দফায় দফায় সময় বৃদ্ধি করা হয়। একই সঙ্গে ব্যয়ও বাড়তে থাকে ধারাবাহিকভাবে। তবে নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ না করে প্রথম দফায় ব্যয় বৃদ্ধি ছাড়াই মেয়াদ দুই বছর বাড়িয়ে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়। পরবর্তীতে সিডিএর প্রকৌশলীদের বিশেষ তদবিরে এক লাফে প্রকল্পের ব্যয় আরও ১ হাজার ৪৮ কোটি টাকা বাড়িয়ে দেওয়া হয়। ফলে ৩ হাজার ২৫০ কোটি টাকার প্রকল্পের বর্তমান ব্যয় দাঁড়িয়েছে চার হাজার দুইশত ৯৮ কোটি টাকায়। একই সঙ্গে কাজের মেয়াদও ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে।
সর্বশেষ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে চুক্তি বহির্ভূত ও মূল্য সমন্বয় বা প্রাইস অ্যাডজাস্টমেন্ট নামে অতিরিক্ত প্রায় ১৯৩ কোটি টাকার দাবি। পরবর্তীতে তা আবার অগ্রসর হয়। গণপূর্ত অধিদফতরের একটি সূত্র জানিয়েছে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের মূল্য সমন্বয় ভেরিয়েশন করার জন্যে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে প্রকল্প পরিচালক মাহফুজুর রহমান ফাইল জমা দেয়। সূত্রমতে, গণপূর্ত সচিব ওই ফাইলটি সিডিএ এর সদস্য জামিলুর রহমান ও সিডিএ প্রধান প্রকৌশলী আনোয়ারুল নজরুলকে তদন্ত করে ফাইল সাবমিট করার দায়িত্ব দেন। কিন্তু পিডি মাহফুজ ম্যানেজে তাদেরকেও নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেন।
সূত্রের দাবি, পরবর্তীতে ফাইলটিতে পজিটিভ রিপোর্ট দিয়ে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয় এবং গণপূর্ত মন্নােনলয় থেকে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রী সভা কমিটিতে প্রেরণ করা হয়। সিডিএর কয়েক কর্মকর্তা সুত্রে জানা যায়, বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী আনোয়ারুল নজরুলকে তদন্ত করে ফাইল সাবমিট করার দায়িত্ব দেন। ফাইলটি তদন্তের জন্যে সিডিএ-তে আসলে পিডি মাহফুজ ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সার্বক্ষণিক সদস্য ও প্রধান প্রকৌশলীকেও ম্যানেজ করে নেন বলে জানা যায়।। পরবর্তীতে ফাইলটিতে পজিটিভ রিপোর্ট দিয়ে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। এবং গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রী সভা কমিটিতে প্রেরণ করা হয়। যদিও ফাইলটি এখনও পর্যন্ত পাস হয়নি। এই ফাইলটি পাস হলে ১৯৩ কোটি টাকার বেশি টাকা হাতিয়ে নিয়ে যাবে পিডি মাহফুজ ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স।
জানা গেছে, এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্প নিয়ে বেশ কিছু অভিযোগ উঠে এসেছিল। এর মধ্যে রয়েছে এক্সপ্রেসওয়ের পিলারে ফাটল, যেখানে-সেখানে র্যা ম্প নির্মাণ, হুকুম দখল না করে জমি কেনা হয়েছে। আবার কাজের গুণগত মান নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া এই প্রকল্পের ব্যয় এক হাজার ২০০ কোটি টাকা বেড়েছে। মূলত এসব বিষয়গুলো তদন্ত করার জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে। দুদুক এসব অভিযোগের অনেকটা সত্যতা পেয়েছে বলে জানা যায। প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধির ধারাবাহিকতার মধ্যেই এবার সামনে এসেছে চুক্তির বাইরে গিয়ে প্রায় ১৯৩ কোটি টাকার অতিরিক্ত অর্থ দাবির উদ্যোগ, যা ঘিরে প্রশাসনিক ও প্রকৌশল মহলে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এই অর্থ অনুমোদনের প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে সচিবালয় পর্যন্ত চলছে তৎপরতা ও দৌড়ঝাঁপ।
জানা যায়, বিগত সরকারের আমলে এই দুই কর্মকর্তা রাজনৈতিক প্রভাব ও আওয়ামী কার্ড ব্যবহার করে বহাল তবিয়তে ছিলেন।রাজনৈতিক সখ্যতার কারণে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কিংবা অন্যান্য সংস্থার তদন্তের মুখ থেকেও বারবার তারা পার পেয়ে যান।
সংশ্লিষ্ট সুত্রমতে, বিগত সময়ে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণে যে দুর্নীতি হয়েছে তার তদন্তের জন্য গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কামাল উদ্দিনকে আহ্বায়ক করে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছিলো। সেই তদন্ত কমিটি পিডি মাহফুজের কব্জির জোড়ে কোনো ব্যবস্থা গ্রহন করতে পারেনি। ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের পরও আওয়ামী লীগের দাপুটে প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমানের বিরুদ্ধে গঠিত তদন্ত কমিটি থামিয়ে দেয়া হয়েছে অদৃশ্য হাতের ইশারায়।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, এই অর্থ অনুমোদনের জন্য প্রশাসনিক পর্যায়ে ফাইল অগ্রসর হলে তবে প্রক্রিয়াটি ঘিরে উঠেছে স্বচ্ছতা ও নিয়মনীতি লঙ্ঘনের প্রশ্ন।বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যমান চুক্তির কাঠামোর বাইরে গিয়ে এই ধরনের অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হলে তা প্রকল্পের আর্থিক শৃঙ্খলা ও সরকারি ক্রয়নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।লুটপাটে একটি মহল লাভবান হয়ে যাবে।
এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের টোলপ্লাজার টোল আদায়ে প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমানের সুবিধা নেয়ার অভিযোগ উঠে এসেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, টোল প্লাজার ইজারার দরপত্র আহবান করে একবার রি টেন্ডার করা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী দুই, তিন, চারবার কিংবা তার চেয়ে বেশিবার রি টেন্ডার করা হবে। যাতে ইজারা মুল্য সর্বোচ্চ ও যুক্তি সংগত হয়। তিন মাসের বেশি সময় অনুসন্ধানে করে জানা যায় জহির উদ্দিন ( ফার্মের নাম বেস্ট ইস্টার্ন, ভিন্ন মালিক ) জনবল নিয়োগ করে টোল আদায় করে ও টোল চুরির ড্রাই রান সম্পন্ন করেছে। প্রকল্প পরিচালক মাহফুজুর রহমানের সাথে চুক্তি অনুযায়ী জহিরই এই এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের টোলের ইজারা পাবেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) ও সিডিএর নির্বাহী প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, এসব অভিযোগগুলোর সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। অভিযোগগুলো আপনারা আরো ভালো করে তদন্ত করে দেখুন।
নিজস্ব প্রতিবেদক : রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র দাখিলের ...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : চট্টগ্রামের কিশোরী সুপর্বা সুধা বিশ্বাস। ১৩ বছর বয়সী অষ্টম শ্রেণির এই শিক্ষার্থীর ঝুলিতে ইতোমধ্...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : বাংলাদেশ এডিটরস্ ফোরাম গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছে যে, সম্প্রতি চট্টগ্রামের একটি দৈনিক পত্রি...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : নোবিপ্রবি প্রতিনিধি : জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি ও শহীদদের স্মরণে বাংলাদেশ ইসলাম...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে শারীরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শুধু পুরুষের শাস্তির বিধান কেন অবৈধ নয়, তা জানতে ...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাগুলোর বিচার অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে এগোচ্...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Bangla | Developed By Muktodhara Technology Limited