বাংলাদেশ   শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬  

শিরোনাম

কোটি কোটি টাকা খরচেও অপরাজিত মশা, ডেঙ্গু ভয়ে নগরবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক    |    ০৬:২৯ পিএম, ২০২৬-০৯-০১

কোটি কোটি টাকা খরচেও অপরাজিত মশা, ডেঙ্গু ভয়ে নগরবাসী

আসন্ন দুই মাস ডেঙ্গুর জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সময় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে; কারণ এই সময়ে এডিস মশার বংশবিস্তারের জন্য প্রকৃতি সবচেয়ে অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে দেয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্যেও এর প্রতিফলন স্পষ্ট— দেশজুড়ে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বমুখী হতে শুরু করেছে।

অথচ এমন উদ্বেগজনক বাস্তবতার মুখেও ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম সেই পুরোনো বৃত্তেই আবদ্ধ। নিয়মমাফিক ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’ আর কাগুজে জনসচেতনতামূলক কর্মসূচির বাইরে বাস্তবমুখী ও সমন্বিত কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। ফলে চলতি মৌসুমে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিগত ১০ বছরে মশা নিয়ন্ত্রণে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ১,০০০ কোটি টাকার বেশি ব্যয় করলেও ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হয়েছে। চলতি মাসের ২০ দিনেই আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে ১১ হাজার ছাড়িয়েছে। দক্ষিণ সিটির জরিপে ২৮টি ওয়ার্ড উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত হলেও কার্যকর পদক্ষেপের অভাব এবং লোকদেখানো উদ্যোগে বর্ষা মৌসুমে মশার দাপট আরও বৃদ্ধির আশঙ্কায় নগরবাসী
পরিসংখ্যানও সেই একই বার্তার ইঙ্গিত দিচ্ছে। চলতি মাসের প্রথম ২০ দিনেই দেশে ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন ১১ হাজার ৭১২ জন, যেখানে পুরো জুলাই মাসজুড়ে এই সংখ্যা ছিল ৯ হাজার ২০৬ জন। তবে স্বস্তির বিষয়, মৃত্যুর সংখ্যায় কিছুটা ভাটা দেখা গেছে— চলতি মাসে এ পর্যন্ত ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা জুলাইয়ে ছিল ৩৬ জন। চলতি বছরের হিসাব ধরলে, সারা দেশে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ২৭ হাজার ৩৮৮ জন।

এদিকে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) কয়েক মাস আগের একটি জরিপেও বেরিয়ে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য। সংস্থাটির ৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৬৩টিতেই এডিস মশার ঘনত্ব নির্ধারিত মানদণ্ডের চেয়ে অনেক বেশি পাওয়া গেছে, যার মধ্যে ২৮টি ওয়ার্ডকে চিহ্নিত করা হয়েছে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে। ডিএসসিসির নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার ৩৬ জন কর্মী মিলে আধুনিক ‘কবো টুলবক্স’ প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই জরিপ পরিচালনা করেন।

জরিপে মোট ২,২৫০টি বাড়ি থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়, যার মধ্যে ২৮১টি বাড়িতেই এডিস মশার লার্ভা ও পিউপার অস্তিত্ব মিলেছে। ভবনভেদে প্রজননের হারে ভিন্নতা দেখা গেছে— বহুতল ভবনে সবচেয়ে বেশি (৩৫.২৩%), একক বাড়িতে ২৭.৭৬%, নির্মাণাধীন ভবনে ১৭.৪৪% এবং সেমিপাকা বাড়িতে ১৪.৫৯% লার্ভার উপস্থিতি ধরা পড়েছে। প্রজননক্ষেত্র হিসেবে মূলত চিহ্নিত হয়েছে মেঝেতে জমে থাকা পানি (১২.২৬%), বালতি (১০.৩৪%) এবং প্লাস্টিকের ড্রাম (৮.৮৯%)। উল্লেখ্য, ডিএসসিসি নিজ উদ্যোগে এই জরিপ চালালেও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনো জরিপ পরিচালনা করেনি।

১০ বছরে বাজেটের পাহাড়, অথচ ফল শূন্য

ঢাকায় মশা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার ইতিহাস বেশ দীর্ঘ। দুই সিটি করপোরেশনের বাজেট পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১৬-১৭ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর— এই ১০ বছরে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন মশা নিয়ন্ত্রণ খাতে ব্যয় করেছে ৬৮৮.৩৯ কোটি টাকা, আর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ব্যয় ছিল ৩২৩.৬৩ কোটি টাকা। সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরেই মশা নিয়ন্ত্রণে উত্তর সিটি করপোরেশন বরাদ্দ রেখেছিল ১৮৭.৭৫ কোটি টাকা এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বরাদ্দ ছিল ৫৩.৫০ কোটি টাকা।

মশক নিধনে ড্রোন ব্যবহার বা ব্যাঙ ছাড়ার মতো নানা ব্যর্থ উদ্যোগের পর জনবল সংকটকে অজুহাত হিসেবে দেখাচ্ছে নগর কর্তৃপক্ষ। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু রাস্তাঘাটে ওষুধ ছিটিয়ে সমাধান সম্ভব নয়। ডেঙ্গু প্রতিরোধে দ্রুত ওয়ার্ডভিত্তিক হটস্পট চিহ্নিতকরণ, বিজ্ঞানসম্মত কীটনাশক প্রয়োগ, পরিবেশ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এবং নগরবাসীর প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধমূলক পরিকল্পনা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এসে বাজেটের অঙ্ক আরও বেড়েছে। মশক নিধনকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে ডিএনসিসি এই খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে করেছে ২০৭ কোটি টাকা। অন্যদিকে, ডিএসসিসি একই অর্থবছরে ডেঙ্গু ও মশা নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য খাতে মোট বরাদ্দ রেখেছে ১২১ কোটি ৬৬ লাখ টাকা।

কোটি কোটি টাকা ব্যয়, হরেক রকম কর্মসূচি আর প্রযুক্তির প্রয়োগ সত্ত্বেও বছরজুড়ে মশার দৌরাত্ম্য ঠেকাতে পারেনি ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। ফলে বছরের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নগরবাসীকে বয়ে বেড়াতে হচ্ছে ডেঙ্গু-আতঙ্ক আর মশার দুঃসহ যন্ত্রণা।

বিগত কয়েক বছর ধরে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর মিছিল ক্রমে দীর্ঘ হলেও তা ঠেকাতে কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অব্যবস্থাপনা আর অবহেলার কারণেই দিনদিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে পরিস্থিতি। সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম এখনও আটকে আছে সেই ‘রুটিনমাফিক’ ওষুধ ছিটানোর গণ্ডিতেই। ফলে নগরবাসীর জন্য স্বস্তি মিলছে না ঘরে কিংবা বাইরে কোথাও; দিনের আলোতেও ভরসা রাখতে হচ্ছে কয়েল বা মশারি ব্যবহারে। একই সঙ্গে সিটি করপোরেশনের ব্যবহৃত ওষুধ আদৌ কতটা কার্যকর, তা নিয়েও জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

ভীতি ও ক্ষোভ নগরবাসীর

রাজধানীর মালিবাগ এলাকার বাসিন্দা আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘ঢাকায় দিনদিন ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। পরিবার, বন্ধু-বান্ধব ও পরিচিতজনদের অনেকেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছেন। সিটি কর্পোরেশনের কর্মীদের মাঝে মধ্যে ওষুধ ছিটাতে দেখা গেলেও তা নিয়মিত নয়। কয়েকদিন পর আবার মশার উপদ্রব বেড়ে যায়। অনেক জায়গায় নালা-নর্দমা, ড্রেন ও জলাবদ্ধ স্থান দীর্ঘদিন ধরে অপরিষ্কার অবস্থায় পড়ে থাকায় মশার প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।’

আগে বর্ষাকালে মশার উপদ্রব বাড়লে মানুষ কিছুটা চিন্তিত হতো, কিন্তু এখন পরিস্থিতি এমন যে জ্বর হলেই প্রথমে ডেঙ্গুর কথা মাথায় আসে। প্রতি বছর ডেঙ্গুর মৌসুম আসে, রোগী বাড়ে, মানুষ মারা যায়; তারপর সিটি করপোরেশন কয়েক দিনের জন্য নড়েচড়ে বসে। রোগী হাজার হাজার হওয়ার পর নয়, বরং আগেই কেন কার্যকর প্রস্তুতি নেওয়া হয় না
এনামুল হক, উত্তর বাড্ডা এলাকার বাসিন্দা
উত্তর বাড্ডা এলাকার বাসিন্দা এনামুল হক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আগে বর্ষাকালে মশার উপদ্রব বাড়লে মানুষ কিছুটা চিন্তিত হতো, কিন্তু এখন পরিস্থিতি এমন যে জ্বর হলেই প্রথমে ডেঙ্গুর কথা মাথায় আসে। প্রতি বছর ডেঙ্গুর মৌসুম আসে, রোগী বাড়ে, মানুষ মারা যায়; তারপর সিটি করপোরেশন কয়েক দিনের জন্য নড়েচড়ে বসে। রোগী হাজার হাজার হওয়ার পর নয়, বরং আগেই কেন কার্যকর প্রস্তুতি নেওয়া হয় না?’

জনবল সংকটের অজুহাত ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) এক কর্মকর্তা জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, জমে থাকা পানি অপসারণ, লার্ভার উৎস ধ্বংস ও ওষুধ ছিটানোর কাজ নিয়মিত চলছে। পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং চিহ্নিত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে।

তবে তিনি স্বীকার করেন, ডেঙ্গুর মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই প্রতিটি ওয়ার্ডে ব্যাপকভিত্তিক প্রস্তুতি নেওয়া উচিত ছিল। তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনের তুলনায় জনবল অনেক কম থাকায় বিশাল এই নগরীর সব এলাকায় একই সময়ে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় তদারকি ও অভিযান চালানো সম্ভব হয় না। তবুও সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেই কর্মীরা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।’

একই সুর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) স্বাস্থ্য বিভাগের এক কর্মকর্তার কণ্ঠেও। তিনি জানান, জনসচেতনতা তৈরি ও প্রজননস্থল ধ্বংসের নিয়মিত কার্যক্রম চলমান থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে আরও নিবিড় ও পরিকল্পিত পদক্ষেপ প্রয়োজন। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে পর্যবেক্ষণ চালানো জরুরি হলেও জনবল সংকটই তাদের প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশনের চেষ্টার পাশাপাশি নাগরিকদের সহযোগিতা অত্যন্ত প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

নিজস্ব জরিপে চিহ্নিত ২৮টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। সেখানে ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’-এর মাধ্যমে লার্ভা ধ্বংস ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদার করা হয়েছে। তবে, ডেঙ্গুর মতো বড় জনস্বাস্থ্য সংকট কেবল সিটি করপোরেশনের একা সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। নাগরিকদেরও সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন
মো. আবদুস সালাম, প্রশাসক, ডিএসসিসি


এ বিষয়ে ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, “নিজস্ব জরিপে চিহ্নিত ২৮টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। সেখানে ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’-এর মাধ্যমে লার্ভা ধ্বংস ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদার করা হয়েছে। তবে, ডেঙ্গুর মতো বড় জনস্বাস্থ্য সংকট কেবল সিটি করপোরেশনের একা সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। নাগরিকদেরও সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন।”

বিশেষ মশক নিধন কর্মসূচির আওতায় মশককর্মীরা মাঠে কাজ করছেন এবং লার্ভা ধ্বংসে স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে, নগরবাসী যদি নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও আঙিনা পরিষ্কার না রাখেন, তবে এই কার্যক্রমের পূর্ণ সফলতা পাওয়া কঠিন
মো. শফিকুল ইসলাম খান, প্রশাসক, ডিএনসিসি
ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘বিশেষ মশক নিধন কর্মসূচির আওতায় মশককর্মীরা মাঠে কাজ করছেন এবং লার্ভা ধ্বংসে স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে, নগরবাসী যদি নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও আঙিনা পরিষ্কার না রাখেন, তবে এই কার্যক্রমের পূর্ণ সফলতা পাওয়া কঠিন।’

ব্যর্থ হরেক রকমের উদ্যোগ ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

মশা নিধনে প্রতি বছর বাজেটে শত কোটি টাকার বরাদ্দ রাখে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। একসময় মশার প্রজননস্থল শনাক্ত করতে ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার, কিংবা ডেঙ্গুর উৎস হিসেবে পরিচিত পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসা, ব্যবহৃত টায়ার ও কমোড সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কিনে নেওয়ার মতো নানা পদক্ষেপ দেখা গেছে।

বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতির মাধ্যমেই এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। সিটি করপোরেশনকে কীটনাশকের ধরন ও ব্যবহারের নিয়মে পরিবর্তন আনতে হবে। শুধু প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং হটস্পটগুলোতে স্থানীয় জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি
অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার, কীটতত্ত্ববিদ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
এমনকি জলাশয়ে লার্ভা ধ্বংসের উদ্দেশ্যে ব্যাঙ ও হাঁস ছাড়া, কিংবা মাইকে জিঙ্গেল বাজিয়ে সচেতনতা বাড়ানোর মতো অদ্ভুত সব উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল। তবে, সুদূরপ্রসারী কৌশলের অভাবে কোটি কোটি টাকার এসব আয়োজন দিনশেষে মশার দাপটের কাছে ব্যর্থ হয়েছে।

সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার জানান, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে পাড়া-মহল্লা পর্যায়ে হটস্পটগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি বলেন, ‘বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতির মাধ্যমেই এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। সিটি করপোরেশনকে কীটনাশকের ধরন ও ব্যবহারের নিয়মে পরিবর্তন আনতে হবে। শুধু প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং হটস্পটগুলোতে স্থানীয় জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।’

রোগী বাড়ার পর তড়িঘড়ি অভিযান না চালিয়ে নিয়মিত গবেষণা ও তথ্যের ভিত্তিতে সিটি করপোরেশনকে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধমূলক পরিকল্পনা নিতে হবে। কোথায় কী কারণে মশার বিস্তার ঘটছে তা চিহ্নিত করে আগেভাগেই ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন অ
ধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান, নগর পরিকল্পনাবিদ
অন্যদিকে, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইপিডি) নির্বাহী পরিচালক ও নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ‘শুধু রাস্তাঘাটে রাসায়নিক ওষুধ বা ফগিং ছিটিয়ে ডেঙ্গুর মতো সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। নগরায়ন, পরিবেশ ব্যবস্থাপনা এবং জৈবিক পদ্ধতির কার্যকর সমন্বয় ছাড়া কেবল কেমিক্যাল ব্যবহার করে কাঙ্ক্ষিত ফল আসবে না।’

মশাবাহিত রোগকে কেবল মৌসুমি সমস্যা হিসেবে না দেখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘রোগী বাড়ার পর তড়িঘড়ি অভিযান না চালিয়ে নিয়মিত গবেষণা ও তথ্যের ভিত্তিতে সিটি করপোরেশনকে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধমূলক পরিকল্পনা নিতে হবে। কোথায় কী কারণে মশার বিস্তার ঘটছে তা চিহ্নিত করে আগেভাগেই ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।’

রিটেলেড নিউজ

বন্ধ আমিন জুট মিলস চালুর উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার:  প্রতিমন্ত্রীআমিন জুট মিলস পরিদর্শন

বন্ধ আমিন জুট মিলস চালুর উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার: প্রতিমন্ত্রীআমিন জুট মিলস পরিদর্শন

চট্টগ্রাম ব্যুরো : : বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেছেন, বন্ধ আমিন জুট মিলসকে পুনরায় উৎপাদনমুখী করার মাধ্য...বিস্তারিত


সড়ক দুর্ঘটনায় আর কত প্রাণ গেলে টনক নড়বে? নিরাপদ সড়কের দাবি দেশজুড়ে

সড়ক দুর্ঘটনায় আর কত প্রাণ গেলে টনক নড়বে? নিরাপদ সড়কের দাবি দেশজুড়ে

মো. আরফান উদ্দীন : পৃথিবীর আর কোন দেশে বাংলাদেশের মতো প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনায় এত মানুষের প্রাণহানি ঘটে কি না, তা আমার...বিস্তারিত


সড়ক হয়েছে ‘মৃত্যুফাঁদ’, জেনেও বাস্তবায়ন হয়নি ১১১ সুপারিশ

সড়ক হয়েছে ‘মৃত্যুফাঁদ’, জেনেও বাস্তবায়ন হয়নি ১১১ সুপারিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রতিদিন নানা কাজে ঘর থেকে বের হন মানুষ। কেউ যান কর্মক্ষেত্রে, কেউ বেড়াতে, কেউ জরুরি কাজে। কাজ শেষে ...বিস্তারিত


চাল-তেলে ভোক্তার নাভিশ্বাস, লাভের টাকায় পকেট ভারী কার?

চাল-তেলে ভোক্তার নাভিশ্বাস, লাভের টাকায় পকেট ভারী কার?

নিজস্ব প্রতিবেদক : চাল ও ভোজ্যতেল, প্রতিদিনের খাদ্যতালিকার এই দুই অপরিহার্য পণ্যের দাম বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব পড়à§...বিস্তারিত


কুড়িগ্রামে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী প্রস্তুতিমূলক সাংস্কৃতিক কর্মশালার উদ্বোধন।

কুড়িগ্রামে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী প্রস্তুতিমূলক সাংস্কৃতিক কর্মশালার উদ্বোধন।

আমাদের বাংলা ডেস্ক : : কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি : নজরুল বর্ষ উপলক্ষে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় কà§...বিস্তারিত


মা-ইলিশ রক্ষা নিষেধাজ্ঞা: সাগরে নামার আগেই ঋণের জালে অসংখ্য মৎস্যজীবীরা

মা-ইলিশ রক্ষা নিষেধাজ্ঞা: সাগরে নামার আগেই ঋণের জালে অসংখ্য মৎস্যজীবীরা

চট্টগ্রাম ব্যুরো : : মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন এবং ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি করাকে কেন্দ্র করে ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর ২০২৬ ...বিস্তারিত



সর্বপঠিত খবর

দশম শ্রেণির ছাত্রীকে গণধর্ষণ করে ভিডিও ধারণ, গ্রেফতার ২

দশম শ্রেণির ছাত্রীকে গণধর্ষণ করে ভিডিও ধারণ, গ্রেফতার ২

নোয়াখালী প্রতিনিধি : : নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী (১৭) গণধর্ষণের শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় সম্পৃক্তার অà¦...বিস্তারিত


সৌদি আরবে  গাড়ির নির্দিষ্ট গতি  অমান্য করলে  ২ হাজার রিয়াল জরিমানা 

সৌদি আরবে  গাড়ির নির্দিষ্ট গতি  অমান্য করলে  ২ হাজার রিয়াল জরিমানা 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : : সৌদি ট্রাফিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, স্পীড লিমিট এর চাইতে অধিক গতিতে যানবাহন চালানো ব্যক্তিদের উপà¦...বিস্তারিত



সর্বশেষ খবর