শিরোনাম
রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি : | ০৩:৪০ পিএম, ২০২৬-১০-২২
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের উজোবাজার এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের গুলি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে এতে পর্যটকদের কোনো সমস্যা হয়নি, তারা নিরাপদে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে সাজেক ছেড়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সাজেক সড়কে অবরোধ চলাকালে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকেলে ‘সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি’ ও ‘কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন’ যৌথভাবে তৃতীয় দফায় সড়ক অবরোধের ডাক দেয়।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আন্দোলনকারীরা উজোবাজার এলাকায় সাজেক সড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ কর্মসূচি পালন করতে থাকেন।
সকাল ১১টার দিকে সাজেকে আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে খাগড়াছড়ির উদ্দেশ্যে পৌঁছে দিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সড়ক থেকে ব্যারিকেড সরানোর চেষ্টা করেন।
এসময় আন্দোলনকারীরা বাধা দিয়ে প্রথমে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন। একপর্যায়ে উভয়পক্ষের মধ্যে গুলি ছোড়া শুরু হয়।
অবরোধ ও গুলির ঘটনায় সাজেকে ঘুরতে আসা দুই হাজার ৯৩৩ জন পর্যটক কিছু সময়ের জন্য আটকা পড়েন। পরে তাদের নিরাপদে বিশেষ নিরাপত্তায় খাগড়াছড়ি পাঠানো হয়।
সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন বলেন, আমরা ব্যস্ত আছি। পরে সব জানাচ্ছি।
এর আগে বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জারি করা জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী উল্লেখ করেন, বুধবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত রাঙামাটি জেলাধীন বাঘাইছড়ি উপজেলার অন্তর্গত সাজেক ভ্যালি পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হলো। একইসঙ্গে বর্তমানে সাজেক পর্যটন এলাকায় অবস্থানরত পর্যটকদের আগামী বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেল ৪টার মধ্যে সাজেক ত্যাগ করে নিজ নিজ গন্তব্যে নিরাপদে ফিরে যেতে বলা হয়েছে।
ওইদিন বিকেলে বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক সড়কে ফের অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচির ঘোষণা দেয় সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন ও সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি।
ওইদিন বিকেলে সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা এবং সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির আহবায়ক বাবুধন চাকমা স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এমন তথ্য জানানো হয়। বৃহস্পতিবার থেকে এ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেয় সংগঠন দুটি।
ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বুধবার সব পর্যটক যেন সাজেক ছেড়ে চলে যায়। পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত এ কর্মসূচি পালন করা হবে বলে জানানো হয়। অবরোধ চলাকালে জরুরি ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স ও লাশবাহী গাড়ি, জরুরি ওষুধ সরবরাহকারী ও সংবাদপত্র বহনকারী যান, সংবাদ সংগ্রহের কাজে ব্যবহৃত সাংবাদিকদের গাড়ি এ অবরোধের আওতামুক্ত থাকবে বলে নেতৃবৃন্দ বিবৃতিতে উল্লেখ করেন।
সাজেক রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার একটি প্রসিদ্ধ পর্যটন নগরী। সারা বছর এখানে পর্যটকদের আনাগোনা থাকে। যে কারণে পর্যটকদের জন্য এখানে উন্নতমানের কটেজ, হোটেল-মোটেল নির্মাণ করা হয়েছে। আলাদা একটি পরিবহন স্টেশন গড়ে উঠেছে।
এছাড়া স্থানীয় বস্ত্র ও খাবারের দোকান, স্থানীয় পণ্য সামগ্রীর বিকিকিনির নতুন অর্থনৈতিক খাত তৈরি হয়েছে। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে সাজেক বারবার বন্ধ ঘোষণা করা হচ্ছে। এতে পর্যটন ভিত্তিক পুরো অর্থনৈতিক খাত ধ্বংস হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এর আগে গত গত ১১ অক্টোবর সকাল ৬টা থেকে সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন ও সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির ডাকে সাজেক-দীঘিনালা সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ পালন করা হয়।
অনাকাঙ্খিত ঘটনা এড়াতে এবং পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে ১১ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সাজেকে পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে জেলা প্রশাসন।
ওই বিজ্ঞপ্তিতে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত পর্যটনকেন্দ্রটি বন্ধ রাখার কথা জানানো হয়। একই সঙ্গে সাজেকে অবস্থানরত পর্যটকদের ১৩ অক্টোবর বিকেল ৫টার মধ্যে এলাকা ছেড়ে নিজ নিজ গন্তব্যে নিরাপদে ফিরে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।
এরপর দুদিন কর্মসূচি বন্ধ রেখে সাজেকে ফের ১৫ অক্টোবর সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করে সংগঠন দুটি।
সাজেকের মাচালং বাজার দুর্গাপূজা উদযাপন কমিটির অনুরোধে এবং সারাদেশের সনাতন ধর্মালম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রতি যথাযথ মর্যাদা ও সম্মান জানিয়ে সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন ও সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির ডাকা সাজেক পর্যটন সড়ক অবরোধ কর্মসূচি ১৬ অক্টোবর থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত করেছিল।
সাজেক থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস) সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে দিতে এবং সাজেকে ধারাবাহিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি, সাধারণ মানুষকে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রর্দশনের প্রতিবাদ এবং সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও স্থানীয়দের সার্বিক নিরাপত্তা ও জানমাল রক্ষার দাবিতে সাজেকে সড়ক অবরোধের কর্মসূচি পালন করছে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন নামে দুটি সংগঠন।
বলে রাখা ভালো, সাজেক প্রসীত খীসার নেতৃত্বাধীন ইউপিডিএফ অধ্যুষিত অঞ্চল এবং সংগঠন দুটি ইউপিডিএফ সমর্থিত সংগঠন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
চট্টগ্রাম ব্যুরো : : বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেছেন, বন্ধ আমিন জুট মিলসকে পুনরায় উৎপাদনমুখী করার মাধ্য...বিস্তারিত
মো. আরফান উদ্দীন : পৃথিবীর আর কোন দেশে বাংলাদেশের মতো প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনায় এত মানুষের প্রাণহানি ঘটে কি না, তা আমার...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রতিদিন নানা কাজে ঘর থেকে বের হন মানুষ। কেউ যান কর্মক্ষেত্রে, কেউ বেড়াতে, কেউ জরুরি কাজে। কাজ শেষে ...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : চাল ও ভোজ্যতেল, প্রতিদিনের খাদ্যতালিকার এই দুই অপরিহার্য পণ্যের দাম বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব পড়à§...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি : নজরুল বর্ষ উপলক্ষে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় কà§...বিস্তারিত
চট্টগ্রাম ব্যুরো : : মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন এবং ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি করাকে কেন্দ্র করে ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর ২০২৬ ...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Bangla | Developed By Muktodhara Technology Limited