শিরোনাম
মো. আনিসুজ্জামান, খুলনা : | ০৫:১৮ পিএম, ২০২১-০৫-০৫
খুলনায় সরকারীভাবে নির্মিত হচ্ছে বিভাগীয় পর্যায়ের দুইশ’ শয্যার শিশু হাসপাতাল। যার নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলছে। দেড় বছরের সময় নিয়ে শুরু হওয়া শিশু হাসপাতাল নির্মাণ কাজের ইতোমধ্যেই এক বছর অতিবাহিত হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় ২৪ কোটি টাকা ব্যয় ধরে নির্মাণ কাজ শুরু করেছে গণপূর্ত বিভাগ-১, খুলনা। দু’টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ও কেডিএ’র নির্মিতব্য ময়ুরী আবাসিক এলাকার মধ্যবর্তী সোনাডাঙ্গা বাইপাস সড়কের পাশে এর নির্মাণ কাজ করছে। পাইলিংয়ের কাজ শেষ করে ইতোমধ্যেই লোড টেস্ট করা হয়েছে। মঙ্গলবার এর লোড টেস্ট সম্পন্ন হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ২০১১ সালের ৫ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খালিশপুরের জনসভায় বক্তৃতা দিতে গিয়ে খুলনায় একটি বিভাগীয় শিশু হাসপাতাল নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। সে অনুযায়ী ২০১২ সালেই হাসপাতালটি নির্মাণের জন্য জায়গার খোঁজা শুরু করে গণপূর্ত বিভাগ। প্রথমে নগরীর বয়রায় মন্নুজান স্কুলের সামনে জায়গা দেখা হলেও সেটি নির্বাচন করা হয়নি। সর্বশেষ ডুমুরিয়ার চকমাথুরাবাদ ও বটিয়াঘাটার কৃষ্ণনগর মৌজার সোনাডাঙ্গা বাইপাস সড়কের পাশের খুবি ও ময়ূরী আবাসিক প্রকল্পের মধ্যবর্তী স্থানে চার একর ৮২ শতক জমি নির্ধারণ করা হয়। জমি অধিগ্রহণ শেষে তা’ গণপূর্ত বিভাগের কাছে হস্তান্তর করে জেলা প্রশাসন। এর পরই টেন্ডারসহ অন্যান্য কার্যক্রম সম্পন্ন করে হাসপাতালটির নির্মাণ কাজ শুরু করে গণপূর্ত বিভাগ। গণপূর্ত বিভাগ-১, খুলনা’র নির্বাহী প্রকৌশলী মো. লতিফুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুত প্রকল্প হিসেবে খুলনা শিশু হাসপাতাল নির্মাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়। যার আলোকে ইতোমধ্যেই ২৩ কোটি ৯৬ লাখ ৭২ হাজার টাকা ব্যয় ধরে ১০ তলা ফাউন্ডেশন ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। তবে প্রথম প্যাকেজে এটি বেজমেন্টসহ এক তলার নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হবে। যেটি এ বছরের ৩১ অক্টোবরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু হাসপাতালের সামনের রাস্তা সংক্রান্ত কিছুটা জটিলতার কারণে কাজ শুরু করতেই কয়েক মাস দেরি হয়। প্রথম প্যাকেজের দ্বিতীয় পর্যায়ে দোতলা থেকে ৪র্থ তলা পর্যন্ত ভবন নির্মাণের কাজ হবে এবং এ জন্য আরও ২২ কোটি টাকার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন হয়ে আসলেই চলমান কাজ শেষ হতে না হতেই পরবর্তী ধাপ শুরু হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। গণপূর্ত বিভাগ-১, খুলনার উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মিঠুন মিস্ত্রী বলেন, প্রথম ধাপে ৪ তলা পর্যন্ত হাসপাতালটি একশ’ বেডের হবে। এরপর বাকী ৬ তলার নির্মাণ শেষে এটি একটি পূর্ণাঙ্গ ২শ’ বেডের শিশু হাসপাতাল হবে। কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি বলেন, এ পর্যন্ত ৪০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, সর্বমোট ৫৬৫টি পাইল বসানো হয়েছে। লোড টেস্টও মঙ্গলবার সম্পন্ন হয়েছে। এখন মাটি কেটে বেজমেন্ট ও প্রথম তলার নির্মাণ কাজ করা হবে। ভবন নির্মাণ ছাড়াও আপাতত তারা ভবনের অভ্যন্তরীণ বৈদ্যুতিক কাজ করবেন। তবে বৈদ্যুতিক উপ-কেন্দ্র স্থাপন, সীমানা দেয়াল নির্মাণসহ অন্যান্য কাজ পরে পর্যায়ক্রমে করা হবে বলেও তিনি জানান। খুলনার সিভিল সার্জন ডা. নিয়াজ মোহাম্মদ বলেন, খুলনা শিশু হাসপাতালটি স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুত একটি প্রতিষ্ঠান। ভিসি নিয়োগের মধ্যদিয়ে খুলনায় যেমন শেখ হাসিনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হয়েছে তেমনি বিভাগীয় পর্যায়ের শিশু হাসপাতালটির নির্মাণ কাজও এগিয়ে চলছে। এ হাসপাতালটি নির্মাণ হলে খুলনার একমাত্র বেসরকারি পর্যায়ের শিশু হাসপাতালটির ওপর চাপ কমবে বলেও তিনি মনে করছেন। সেই সাথে এ অঞ্চলের শিশু স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ঘটবে। বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ উজ জামান বলেন, বিভাগীয় পর্যায়ের শিশু হাসপাতাল নির্মাণ খুলনাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি এবং সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত একটি প্রতিষ্ঠান। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার দীর্ঘ ১০ বছর পরে হলেও এটির নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ায় এ অঞ্চলের মানুষ আশান্বিত। এর মধ্যদিয়ে খুলনাঞ্চলের শিশুস্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন ঘটবে বলেও তিনি আশা করেন। তবে নির্মাণের সাথে জড়িত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে তিনি বলেন, খুলনায় আধুনিক রেল স্টেশন নির্মাণ করে যে প্রতিষ্ঠান বিতর্কের জন্ম দিয়েছে সেই একই প্রতিষ্ঠান শিশু হাসপাতালের নির্মাণ কাজটি করায় এর মান নিয়ে যাতে পরবর্তীতে প্রশ্ন না ওঠে সেদিকে গণপূর্ত বিভাগকে আরও সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। রেল স্টেশনের ন্যায় শিশু হাসপাতালের নির্মাণ কাজেও ত্রুটি হলে খুলনাবাসীকে সাথে নিয়ে রাজপথে আন্দোলনের কোন বিকল্প পথ থাকবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সরকারের অর্থাৎ জিওবি’র অপারেশন প্লানের অর্থায়নে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় গণপূর্ত বিভাগ কাজটি বাস্তবায়ন করছে। তমা কনষ্ট্রাকশন লি. এবং রইতি এন্টারপ্রাইজ নামের দু’টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজটি করছে। বর্তমানে খুলনার সিভিল সার্জন এ হাসপাতাল নির্মাণ ও কিছুটা তদারকি করলেও ভবন নির্মাণ শেষ হলে এর জন্য পৃথক পরিচালক নিয়োগসহ স্বতন্ত্রভাবেই অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালিত হবে বলেও খুলনার সিভিল সার্জন ডা. নিয়াজ মোহাম্মদ জানিয়েছেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক : আব্দুল হালিম সরদার: জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা এ...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : মাহমুদুর রহমান, ভালুকা প্রতিনিধি: বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ পল্লী চিকিৎসক সমিতি, ভালুক...বিস্তারিত
এনামুল হক, সিরাজগঞ্জ ব্যুরো চীফ : : টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ ও মানিকগঞ্জ জেলার যমুনা নদীতে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইড...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : মাহমুদুর রহমান, ভালুকা প্রতিনিধি: ময়মনসিংহের ভালুকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। রোববার (২...বিস্তারিত
চট্টগ্রাম ব্যুরো : : চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ পেয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেনকে। ব...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Bangla | Developed By Muktodhara Technology Limited