বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬  

শিরোনাম

কথা দিয়ে, রাখেনি সরকার

আমাদের বাংলা ডেস্ক :    |    ০৮:৪৩ পিএম, ২০২৬-০৬-০৭

কথা দিয়ে, রাখেনি সরকার

মুহাম্মদ আমির হোছাইন :

বর্তমানে দেশে মূল্যস্ফীতি ৯.০৪ শতাংশ। গত মার্চ মাসে প্রকাশিত সিপিডির তথ্য অনুযায়ী, গড় ঋণখেলাপির হার ৩৬ শতাংশ এবং সরকারি ব্যাংকগুলোতে তা প্রায় ৫০ শতাংশে পৌঁছেছে।

সম্প্রতি নির্বাচনের পর তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। এ সরকারের প্রথম ও প্রধান চ্যালেঞ্জ হচ্ছে সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং দুর্বল অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার করা। সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদন ও অর্থনৈতিক সূচক বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, একদিকে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও রাজস্ব ঘাটতি, অন্যদিকে বৈদেশিক ঋণের চাপ ও ব্যাংক খাতের অস্থিরতা—সব মিলিয়ে দেশ এক কঠিন সময় পার করছে।

অন্যদিকে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি সত্ত্বেও দফায় দফায় জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে। ফলে সবজি থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সব পণ্যের ওপর এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমতে শুরু করলেও বাংলাদেশ সরকার তেলজাত পণ্যের দাম বৃদ্ধি করেছে, যা অনেকের কাছেই যুক্তিসংগত মনে হয়নি। এর আগে ইরান-মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধজনিত তেল সরবরাহ সংকটের অজুহাতে গত ১৮ এপ্রিল প্রথম দফায় দাম বাড়ানো হয়।

পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হওয়ার পরও দ্বিতীয় দফায় মূল্যবৃদ্ধি করা হয়। ফলে অকটেনের দাম ২৫ টাকা, পেট্রোলের দাম ২৪ টাকা, কেরোসিনের দাম ২৩ টাকা এবং ডিজেলের দাম ১৫ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। ভোক্তাপর্যায়ে অকটেনের মূল্য ১৪৫ টাকা, পেট্রোলের মূল্য ১৪০ টাকা এবং কেরোসিনের মূল্য ১৩৫ টাকা পুনর্নির্ধারণ করা হয়।

দুই দফা জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর বিদ্যুতের দামও বাড়িয়েছে সরকার। পাইকারি ও খুচরা—উভয় পর্যায়েই বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বাড়তি দামের চাপ পড়বে সব শ্রেণির গ্রাহকের ওপর; বাদ যাবেন না গ্রামের প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীরাও।

সর্বশেষ ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি নির্বাহী আদেশে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম সাড়ে ৮ শতাংশ বাড়ানো হয়েছিল। গত মার্চের শুরুতে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, আপাতত বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হবে না। যদিও পরের মাসেই বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর লক্ষ্যে অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি পাইকারি পর্যায়ে ২১ শতাংশ দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়। শেষ পর্যন্ত প্রায় ২০ শতাংশ বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করা হয়।

এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়বে শিল্প খাতে। পাশাপাশি গ্রামের প্রান্তিক গ্রাহকদের ওপরও এর ধাক্কা এসে পড়বে।

তেল ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির ফলে কৃষি ও পরিবহন খাত সরাসরি প্রভাবিত হবে। এর ফলে বাজারে পণ্যমূল্য আরও বৃদ্ধি পাবে।

বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির কারণে শিল্প-কারখানার উৎপাদন ব্যয় বাড়বে। বিশেষ করে পোশাকশিল্পে এর প্রভাব পড়তে পারে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানও দুর্বল হতে পারে।

দাম বৃদ্ধির প্রবণতার সঙ্গে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় সরাসরি সম্পর্কিত। তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে দ্রব্যমূল্যও বেড়েছে, অথচ মানুষের আয় সেই হারে বাড়েনি। উচ্চ মূল্যস্ফীতির এ সময়ে তেল ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির এমন সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে জনস্বার্থবিরোধী।

বর্তমান তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন সরকার তেল ও বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি না করার বিষয়ে জনগণকে আশ্বস্ত করেছিল। কিন্তু তিন মাসের মাথায় সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা হয়নি।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত না করে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে না। এতে অর্থনীতির ওপর আরও চাপ সৃষ্টি হবে, যা ভবিষ্যতে রাজনৈতিক অঙ্গনকে আরও অস্থির করে তুলতে পারে।

বিশেষ করে গ্যাস ও বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং ঋণের সুদের হার নিয়ে আইএমএফের শর্ত ও ব্যবসায়ীদের দাবির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা সরকারের জন্য বড় অর্থনৈতিক ও নীতিগত চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। ফলে অর্থনীতির বিদ্যমান অচলাবস্থার সঙ্গে রাজনৈতিক অস্থিরতাও বৃদ্ধি পেতে পারে।

সরকারকে শুধু রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি রক্ষা করলেই চলবে না; রাজস্ব আয় বৃদ্ধি ও ব্যয়-সাশ্রয়ী নীতি গ্রহণেও গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে দুর্বল অর্থনীতি ও অস্থির ব্যাংক ব্যবস্থার মধ্যে গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। অন্যদিকে, আইএমএফের শর্ত অনুযায়ী ব্যাংক খাতের সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়ন করা গেলে বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব হতে পারে।

রিটেলেড নিউজ

ডিসেম্বর থেকে নতুন মজুরি কার্যকর, তবু সাভারে শ্রমিকদের সংঘর্ষ

ডিসেম্বর থেকে নতুন মজুরি কার্যকর, তবু সাভারে শ্রমিকদের সংঘর্ষ

নিজস্ব প্রতিবেদক : পোশাকশ্রমিকদের নতুন ন্যূনতম মজুরি ডিসেম্বর থেকে কার্যকর এবং জানুয়ারি মাসে বর্ধিত বেতন দেওয়ার বà¦...বিস্তারিত


আরেকটি বিপ্লবের প্রস্তুতি নিতে হবে: মাহমুদুর রহমান

আরেকটি বিপ্লবের প্রস্তুতি নিতে হবে: মাহমুদুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক : জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটলেও তরুণ প্রজন্মের রাষ্ট্র মেরামতের আকাঙ্ক্ষà¦...বিস্তারিত


তথ্য গোপন করে জামিনের চেষ্টা: আইনজীবীসহ ১১ জনকে হাইকোর্টের শোকজ

তথ্য গোপন করে জামিনের চেষ্টা: আইনজীবীসহ ১১ জনকে হাইকোর্টের শোকজ

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর মুগদা থানার সাইফুল হত্যা মামলায় তথ্য গোপন করে নিম্ন আদালতের একই আদেশের বিপরীতে তিনবার à¦...বিস্তারিত


কুড়িগ্রামে পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে রান্নার সরঞ্জাম ও বিশ্রামের বিছানা, অফিস নাকি বাসাবাড়ি?

কুড়িগ্রামে পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে রান্নার সরঞ্জাম ও বিশ্রামের বিছানা, অফিস নাকি বাসাবাড়ি?

আমাদের বাংলা ডেস্ক : : মোঃ মিজানুর রহমান, কুড়িগ্রাম :: সরকারি দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নির্ধারিত কুড়িগ্রাম জেà...বিস্তারিত


বাংলাদেশ ও কসোভোর মধ্যে অভিন্ন স্বাধীনতা ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন রয়েছে : স্পিকার

বাংলাদেশ ও কসোভোর মধ্যে অভিন্ন স্বাধীনতা ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন রয়েছে : স্পিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, বাংলাদেশ ও কসোভোর মধ্যে অভিন্à¦...বিস্তারিত


সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র পরিদর্শনে সমাজসেবার মহাপরিচালক

সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র পরিদর্শনে সমাজসেবার মহাপরিচালক

আমাদের বাংলা ডেস্ক : : মোঃ নাজিম উদ্দীন হাটহাজারী :  ৩/১১/২০২৬ খ্রিস্টাব্দ (১৮ই কার্তিক) রোজ মঙ্গলবার বিকাল ৩টায় চট্টগ্রà...বিস্তারিত



সর্বপঠিত খবর

দশম শ্রেণির ছাত্রীকে গণধর্ষণ করে ভিডিও ধারণ, গ্রেফতার ২

দশম শ্রেণির ছাত্রীকে গণধর্ষণ করে ভিডিও ধারণ, গ্রেফতার ২

নোয়াখালী প্রতিনিধি : : নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী (১৭) গণধর্ষণের শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় সম্পৃক্তার অà¦...বিস্তারিত


সৌদি আরবে  গাড়ির নির্দিষ্ট গতি  অমান্য করলে  ২ হাজার রিয়াল জরিমানা 

সৌদি আরবে  গাড়ির নির্দিষ্ট গতি  অমান্য করলে  ২ হাজার রিয়াল জরিমানা 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : : সৌদি ট্রাফিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, স্পীড লিমিট এর চাইতে অধিক গতিতে যানবাহন চালানো ব্যক্তিদের উপà¦...বিস্তারিত



সর্বশেষ খবর