শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৪:২৩ পিএম, ২০২৫-১২-২২
জুলাই-আগস্ট আন্দোলন দমন ঘিরে গঠিত গ্যাং অব ফোরে থেকে ছাত্র-জনতাকে শেষ করে দেওয়ার সব ধরনের পরিকল্পনা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের ওপর শুনানি শেষে এমন মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। আজ (সোমবার) দুপুরে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ মন্তব্য করেন তিনি। কারফিউ দিয়ে গণহত্যায় উসকানির দায়ে সালমান-আনিসুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আবেদন করেন চিফ প্রসিকিউটর। প্রেস ব্রিফিংয়ে তাজুল ইসলাম বলেন, সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হককে গ্যাং অব ফোরের সদস্য বলা হয়। অর্থাৎ জুলাই-আগস্ট আন্দোলন দমনে চারজনের এই বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছিল। এতে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাতও ছিলেন। জুলাই অভ্যুত্থান চলাকালীন নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে হত্যা বা নিঃশেষ-নির্মূল করার পরিকল্পনার জন্য এ চারজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে আন্দোলন দমনে কোথায়, কীভাবে অপারেশন হবে, কী অস্ত্র ব্যবহার হবে, কীভাবে হত্যা করা হবে, কাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে রাখা বা রিমান্ডে নেওয়া হবে, এসব কিছুর পরিকল্পনা করেছেন আনিসুল ও সালমান। জরুরি অবস্থা তথা কারফিউ জারির জন্য তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীকে পরামর্শও দিয়েছিলেন তারা। জরুরি অবস্থা কার্যকরের ব্যবস্থা করেছেন এই দুজন। তিনি বলেন, আমরা সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হকের একটি ফোনালাপের কিছু অংশ বাজিয়ে শুনিয়েছি ট্রাইব্যুনালে। ফোনালাপে ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে দমন করার দুটি পদ্ধতি নিয়ে কথা বলেছিলেন তারা। একটা হলো কারফিউ দিয়ে আন্দোলনকারীদের একদম শেষ করে দেওয়া। দ্বিতীয়টি সামরিক শাসন জারি করে অভ্যুত্থান দমন করা। এই পরিকল্পনা তারা একইভাবে প্রধানমন্ত্রীকে দেন। এ পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৪ দলের বৈঠকে কারফিউ জারির সিদ্ধান্ত হয়েছে। সুতরাং আমাদের হাতে যথেষ্ট প্রমাণাদি রয়েছে। অর্থাৎ তাদের পরামর্শ, নির্দেশনা, উসকানির মাধ্যমেই জুলাই-আগস্টে গণহত্যা হয়েছিল। তাদের এই সুপিরিয়র স্ট্যাটাস বা জয়েন্ট ক্রিমিনাল এন্টারপ্রাইজ; এ দুটোর সমন্বয়ে সংঘটিত হয়েছিল হত্যাযজ্ঞ। সবমিলিয়ে আমরা তাদের বিরুদ্ধে আনা পাঁচটি অভিযোগ গঠনের জন্য আবেদন করেছি ট্রাইব্যুনালে।
কারফিউ দিয়ে গণহত্যায় উসকানি, সালমান-আনিসুলের মামলায় অভিযোগ গঠনের ফের শুনানি ৪ জানুয়ারি
চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানে কারফিউ দিয়ে গণহত্যার উসকানিসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি শেষ করেছে প্রসিকিউশন। আসামিপক্ষে শুনানির জন্য আগামী ৪ জানুয়ারি দিন ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অন্য সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ। ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। শুনানিতে সালমান ও আনিসুলের ব্যক্তিগত দায় পড়ে শোনান তিনি। একপর্যায়ে তাদের একটি ফোনালাপ বাজিয়ে শোনানো হয়। এরপর সুনির্দিষ্ট পাঁচটি অভিযোগ আলাদা আলাদা পড়ে এই দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর প্রার্থনা করেন চিফ প্রসিকিউটর। তবে এ বিষয়ে আসামিদের পক্ষে শুনানির জন্য আরও দুই সপ্তাহ সময় চান সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী। পরে ৪ জানুয়ারি দিন ঠিক করেন ট্রাইব্যুনাল। ওই দিন সালমান ও আনিসুলের অব্যাহতি চেয়ে শুনানি করবেন বলে জানিয়েছেন এই আইনজীবী। এ মামলায় সালমান-আনিসুলের বিরুদ্ধে ফরমাল চার্জের ওপর শুনানির কথা ছিল ১৭ ডিসেম্বর। কিন্তু অন্য মামলা থাকায় প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানি পিছিয়ে আজকের দিন ধার্য করা হয়। যদিও এ মামলায় সালমান-আনিসুলের হয়ে লড়তে বিদেশি আইনজীবী চাওয়া হয়েছে। ১০ ডিসেম্বর এ আবেদন করেন মনসুরুল হক। এর আগে, ৪ ডিসেম্বর সালমান ও আনিসুলের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। পরে প্রসিকিউশনের শুনানি শেষে অভিযোগ আমলে নেন আদালত। জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় ফোনালাপ করেন আনিসুল হক ও সালমান এফ রহমান। ফোনালাপের একপর্যায়ে কারফিউ চলাকালে আন্দোলনকারীদের শেষ করে দিতে হবে বলে জানান তারা। তাদের এ বক্তব্যের পর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছাত্র-জনতাকে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়। সালমান-আনিসুলের এই বক্তব্যটি হত্যাকাণ্ডে উসকানি হিসেবে কাজ করেছে বলে অভিযোগ প্রসিকিউশনের। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট পালাতে গিয়ে গ্রেপ্তার হন সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হক। এরপর থেকে হত্যাসহ বেশ কয়েকটি মামলা কাঁধে নিয়ে কারাগারে রয়েছেন তারা।
নিজস্ব প্রতিবেদক : সাহাবুদ্দিন আহাম্মদ চৌধুরী (এমরান) দীর্ঘ প্রতীক্ষার বাঁধ ভেঙ্গে শত বাধাঁকে উপেক্ষা করে ১২ই ফ...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : ১৪৪৭ হিজরি সনের পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা এবং এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের লক্ষ্যে আগামীকাল জাতী...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : বিএনপির নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে সর্বোচ্চ ১২ জনকে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্য...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোটের বৈধতা চ্যালেঞ্জ এবং ১৩ ফেব্রুয়ারি ঘোষিত গণভোটের ফল বাতিল চেয়ে ...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানের পরপরই নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের আমন্ত্রণ জানানো শুরু করেছে মন্ত্র...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ শপথ নিয়েছেন মন্ত্রিষদের সদস্যরা। মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের ...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Bangla | Developed By Muktodhara Technology Limited