বাংলাদেশ   রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬  

শিরোনাম

দয়া করে পিতার পদাংক অনুসরণ করে এনাকোন্ডার পিঠ থেকে নেমে পড়ুন, কোটি মানুষের স্বপ্নকে ধ্বংস করবেন না

নিজস্ব প্রতিবেদক    |    ০২:১৭ পিএম, ২০২৫-১১-২২

দয়া করে পিতার পদাংক অনুসরণ করে এনাকোন্ডার পিঠ থেকে নেমে পড়ুন, কোটি মানুষের স্বপ্নকে ধ্বংস করবেন না

--নবীন চাণক্য সেন 

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন ১৯৭৭ সালের ৩০শে এপ্রিল। এটা ছিল একটা রাজনৈতিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন কর্মসূচি। এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে ওনি ঘোষণা দিয়ে বসে ছিলেন না, সামনে হতে নেতৃত্ব দিয়েছেন, সারা দেশে ঘুরে বেড়িয়েছেন, মাইলের পর মাইল মেঠো পথে হেঁটে গেছেন, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত অক্লান্ত পরিশ্রম করে গেছেন।
কোন বড় কর্মযজ্ঞই একার পক্ষে সম্পন্ন করা সম্ভব হয় না; দরকার হয় একটা ভালো দলের, একদল ভালো মানুষের। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এটা জানতেন বলেই ওনার চারপাশে দেশের সেরা মানুষগুলোকে সমবেত করেছিলেন। ১৯৭৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে যাঁরা নির্বাচিত হন, সিংহভাগ ছিলেন ঐ সময়ে দেশের সবচেয়ে উপযুক্ত মানুষগুলো। এদেশের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে মেধাবী, শিক্ষিত এবং কার্যকর মন্ত্রীসভা ছিল ওনার সময়ে। আর একারণেই খুব কম সময়ে ওনি অনেক বেশি সফলতা অর্জন করতে পেরেছিলেন, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের মতো কঠিন এক লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হয়েছিলেন খুব স্বল্প সময়ের ব্যবধানে।

জাতির সামনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা রূপরেখা উপস্থাপন করেন ২০২৩ সালের ১৩ই জুলাই তারিখে। ৩১ দফা রূপরেখাটি মূলত দুভাগে বিভক্ত। প্রথম ভাগে রাষ্ট্রের সংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো সংস্কারের প্রস্তাবনা এবং দ্বিতীয় ভাগে অর্থনীতি ও সমাজসংক্রান্ত নানা বিষয়ে নীতি-সংস্কারের প্রতিশ্রুতি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

প্রথম ভাগের কথা বিবেচনায় নিলে বলতে হয়-এধরনের কাজের জন্য আমাদের দরকার হবে একদল অসাধারণ মেধাবী, সুশিক্ষিত এবং দূরদর্শী মানুষ। আর দ্বিতীয় ভাগের বাস্তবায়নের সাথে জড়িয়ে থাকবে বড় বড় প্রজেক্ট, লাগবে বিশাল অর্থের যোগান এবং এগুলোর যথাযথ ব্যবহার। এগুলোর বাস্তবায়নে যেমন দরকার হবে সুদক্ষ জনবল, একই সাথে সততা।

সরকারের যেকোনো কর্মকাণ্ডের সফল বাস্তবায়ন, সুনাম, দুর্নাম নির্ভর করে দলের নেতাকর্মীদের সৎ ও  যথাযথ অংশগ্রহণের উপর। বর্তমান রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে দলের সাংসদ এবং মন্ত্রীরাই সব ধরনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের নেতৃত্ব দেন। অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সফলতা এবং দলের সুনাম সাংসদ এবং মন্ত্রীদের ব্যক্তিগত সততার উপর অনেকখানি নির্ভর করে।

১৯৯১ এবং ২০০১ সালে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে ক্ষমতায় গেলেও মেয়াদ শেষে দু'বারই চরম ভাবে পরাজিত হয়ে ক্ষমতা হারান। ২০০৬ সালে ক্ষমতাচ্যুত হবার পর গত ১৯ বছর দলটি ক্ষমতার বাইরে। এদেশের ইতিহাসে বেগম খালেদা জিয়া ব্যক্তিগতভাবে এ পর্যন্ত কোন নির্বাচনে পরাজিত হননি, ওনার জনপ্রিয়তা কখনোই কমেনি। কিন্তু দল হিসেবে বিএনপি ব্যর্থ হয়েছে। এ ব্যর্থতার অন্যতম কারণ ছিল, ক্ষমতায় থাকতে সাংসদ এবং মন্ত্রীদের বিতর্কিত ভূমিকা ও ব্যক্তিগত সততার অভাব। অনেকেই ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য হচ্ছে, দলের মধ্যে এসব নিয়ে কখনো আলোচনা হয়েছে কিনা বলা কঠিন এবং দলীয়ভাবে কারো বিরুদ্ধে কখনোই কোনো ব্যবস্থা নিতেও দেখা যায়নি।

একটা দল সরকারে গেলে কতোটা কার্যকরভাবে কাজ  করতে পারবে সেটা অনেকটাই বোঝা যায় -দল কোন ধরনের নেতা-নেত্রীদের নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে দেখতে চায় তার উপর। গত ৩রা নভেম্বর , ২৫ - এ  বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ২৩৭ জনের প্রাথমিক মনোনয়ন ঘোষণা করেছে। দলের মনোনয়ন দিতে গিয়ে কোন রকম গনতান্ত্রিক পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়নি, নির্বাচনী এলাকার তৃণমূল নেতাকর্মীদের কোন মতামত নেয়া হয়নি। এলাকার মানুষের পছন্দ অপছন্দের তুলনায় ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে বেশি। একারণে দেশের অনেক জায়গায় নীরব ক্ষোভ জন্মেছে।

অতীতে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন, অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছিলেন, হাজার কোটি টাকা ব্যাংক ঋণ নিয়ে ফেরত দেননি এবং স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার পতনের পর বিগত মাসগুলোতেও চাঁদাবাজিসহ নানান  বিতর্কিত কাজ করেছেন এরকম অনেককেই মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। এমন কি  ৫ আগস্ট ২৪ -এর পর মারামারি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও অবৈধ দখলের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়ে  দল হতে বহিষ্কৃত ব্যক্তিদেরকেও মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। সবচেয়ে দু:খজনক হলো- পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ব্যাংক ডাকাত এস. আলম গ্ৰুপের সাথে সংশ্লিষ্টতার কারণে বহিষ্কৃত ব্যক্তিকে দলে  ফিরিয়ে এনে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে পটিয়া থেকে । তিনি  এস.আলম গ্ৰুপের মূল ব্যক্তি মাসুদ সাহেবের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ও বটে। এস. আলমের গাড়ি  কেলেংকারিতে জড়িত আরেকজনকে  চট্টগ্রাম- ৯ আসনে মনোনীত  ঘোষণার পর  আবার স্থগিত রাখা হয়েছে। 
শুনা যায়-আর্থিকভাবে অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও উর্বরতা সম্পন্ন  এই আসনের মনোনয়ন নিয়ে শক্তিশালী ও অদৃশ্য গ্রুপগুলোর মধ্যে জোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। 
এস. আলমের গাড়ি কেলেংকারী নাকি আসলে গাড়ি কেলেংকারী ছিল না।এটা ছিল নাকি ডলার কেলেঙ্কারি(?!)।গাড়িগুলোতে রক্ষিত লক্ষ লক্ষ ডলার নাকি চুক্তিভিত্তিক সরানো হয়েছিল।
কতকিছু হয়ে যায় আমাদের মত সাধারণ মানুষের দৃষ্টিকে ভিন্নদিকে সরিয়ে! 
 এস.আলমের সাথে সংশ্লিষ্টদের এভাবে মনোনয়নের জন্য বিবেচিত হওয়ায় সাধারণ সচেতন মানুষ চরম হতাশ হয়েছে। কারণ উনারা ভাবছেন - বিএনপি'র পিঠে ভর দিয়ে ব্যাংক লুটেরারা আবার ফিরছে।এস.আলম আওয়ামী লীগকে দিয়ে,আবার আওয়ামী লীগ এস.আলমকে দিয়ে এদেশে অনেক খারাপ কাজ করিয়েছে।সেই চক্র আবার সক্রিয় হবে।এমনকি প্রতিশোধ নেয়ার জন্য এস.আলম বিএনপিকে দিয়ে অনেক খারাপ কাজ করাবে।এস.আলমের মত অর্থ-সন্ত্রাসীদের সাথে সংশ্লিষ্টতা ভবিষ্যতে ভবিষ্যতের যেকোন সরকার প্রধানকে হাসিনার চেয়েও বড়ো দানবে পরিণত করবে। এটা দ্বিধাহীনভাবে বলা যায়।

ফ্যাসিস্টদের পুরো ১৭ বছর সময়ে তারেক জিয়ার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয়েছে। বেশ জোরালোই ছিল সেই সব অপপ্রচার ও মিথ্যাচার।এরপরও সচেতন সাধারণ মানুষ ঐসব অপপ্রচার বিশ্বাস করতো না।অন্যকে এবং নিজেকে বুঝাতো-
এত অপপ্রচার ও এত চেষ্টা করার পরও  দেশে-বিদেশে কোথাও কোন ব্যাংক একাউন্টে তারেক জিয়া ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের একটি টাকাও পাওয়া যায়নি।কিন্তু এখন মানুষ ভাবছে- টাকা কেবল একাউন্টে নয়,অন্য অনেকভাবে অবৈধ  টাকা লুকিয়ে রাখা যায়।মানুষ ভাবছে পিছনের অনেক কথা। সচেতনরা নতুনভাবে তাঁদের চিন্তাভাবনা সাজাচ্ছে। মানুষ এখন স্মৃতি হাতড়ে বের করছে- সালাউদ্দিন সাহেবদের সাথে এস.আলমের পুরনো সম্পর্ক।মানুষ বলছে-এস.আলমের সাধারণ ঋণগ্রস্ত একজন উদ্যােক্তা থেকে  আর্থিক দানবে পরিণত করার পিছনে সালাউদ্দিন আহমেদসহ আরও কিছু বিএনপিওয়ালাদের অবদানই বেশি।মানুষ বলছে - এস.আলমের ব্যবসা-বাণিজ্যে বিএনপি'র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানেরও বিনিয়োগ আছে।সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রাম অঞ্চলের  নমিনেশনপ্রাপ্তদের আরএস-বি.এস পর্যালোচনা করে অনেকেই বলছেন -ভবিষ্যৎ সরকার হবে এস.আলমের সরকার।এক কথায়  ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সদিচ্ছা ও সৎ প্রচেষ্টা নিয়ে  জনমনে সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে। 

চট্টগ্রাম শহরে একটি আসনের মনোনয়ন স্থগিত হওয়ায় হাজার কোটি টাকার ঋণখেলাপি  জোর তদবির করার  সাহস দেখাচ্ছেন   ঐ আসনের মনোনয়ন পেতে।
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে চিহ্নিত সন্ত্রাসীকে। সন্ত্রাসের অভিযোগে ওনাকে কিছু দিন আগে দল হতে বহিষ্কার করা হয়েছিল।তরুণ এক কেন্দ্রীয় নেতা, যাঁর নামে অনেক অভিযোগ রয়েছে,তাঁকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। 
হজ্ব এবং হাজীদের নিয়ে দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছিলেন তাঁর বাবা। উনার পিতার হজ্ব সংক্রান্ত  দুর্নীতির কারণে সেই সময় বিএনপির অনেক বদনাম হয়েছিল।এই দুর্নীতির কারণে ঐসময়  বিএনপি  নৈতিক এবং রাজনৈতিকভাবে ব্যাপক ধাক্কা খায়। উনার পিতা নিজ কার্যকলাপের কারণে খুব খারাপভাবে সমালোচিত হয়েছিলেন । তাছাড়া এই তরুণ নেতা অনেক পুরনো ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়ন করায় 
তৃণমূলে দল ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে  সাধারণ নিবেদিতপ্রাণ কর্মীরা মনে করছেন।কয়েকদিন আগে  এক প্রাক- নির্বাচনী প্রচারণায় সন্ত্রাসীদের  গুলিতে একজন নিহত হয়।   নিহত ব্যক্তির ভাই এক সাক্ষাৎকারে  প্রকাশ্যে   অভিযোগ করেছেন যে,তাঁর ভাইয়ের  হত্যাকাণ্ডে এই তরুণ নেতার হাত ছিল। 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নিজস্ব আসন চট্টগ্রাম- ১১। কিন্তু ওনি নির্বাচন করতে বেছে নিয়েছেন চট্টগ্রাম- ১০ আসন।   শেখ হাসিনার দুঃশাসনের পুরো সময় জুড়ে রাজপথে লড়াই করা যুবদল নেতা মোশাররফ হোসেন দীপ্তি ও মরহুম আবদুল্লাহ আল নোমান সাহেবের ছেলে সাইদ আল নোমানসহ বেশ কয়েকজন সম্ভাবনাময় তরুণ আছেন এ আসনে নির্বাচন করার মতো। ওনাদের যেকেউ সুযোগ পেলে দল উপকৃত হতো, নতুন নেতৃত্বের বিকাশ ঘটতো। নিজের আধিপত্য ধরে রাখতে, চট্টগ্রাম- ১১ আসনে নিজের ছেলে বা ওনার বশংবদ  কাউকে নির্বাচন করার সুযোগ দিতে ওনি চরম স্বার্থপরতার পরিচয় দিয়ে চট্টগ্রাম- ১০ কে নিজের করে নিয়েছেন। দলের যেখানে প্রয়োজন তরুণ প্রজন্মের মেধাবী নেতৃত্বের, দলের সিনিয়র নেতা হিসেবে ওনার কাছে দলের জুনিয়রদের প্রত্যাশাও ছিল তরুণ নেতৃত্ব বিকাশে উনি সহায়তা করবেন।কিন্তু  ওনি করলেন বিপরীতটা। উনার জন্য সিট দরকার। উনার ছেলের জন্যও দরকার একটা সিট।উনার ভাগিনার জন্যও একটা আসন।আহা সিট।আহা আসন।
উনাদের সিটে সিটে বাকী  সবাইতো  ছিটকেই পড়লো। 
অর্থাৎ ১০ দরকার।১১ দরকার।১৬ দরকার।আরো কত যে দরকার কে জানে!
চট্টগ্রামে ১ থেকে ১৬ সব দিয়ে দিলেই ত হতো।লোকজনকে দিয়ে এত রাজনীতি করানোর ত প্রয়োজন ছিল না।বলে দিলেই ত হতো- " উনারা জমিদার,নেতারা পাহারাদার।বাকীসব প্রজা হাজার হাজার।করিও না হাহাকার।"

ছাত্রদল,যুবদল করে তৃনমূল থেকে উঠে আসা জিয়ার আদর্শের সৈনিকরা কেনই বা তাহলে রাজনীতি করবে?শুধু উনাদের আর উনাদের সন্তান বা উনাদের বশংবদ আত্মীয়-স্বজনদের পিছনে পিছনে আজীবন  উনাদের জয়ধ্বনি করার জন্যই কি ওঁদের জন্ম?
আওয়ামী আমলে ইউনিয়ন পরিষদের ভোটেও নৌকা বিক্রি হতো।এখন দেখছি বিএনপিও সেই পথে হাঁটা শুরু করেছে।আবার সুষ্ঠু নির্বাচনও একটি ব্যবসা হয়ে গিয়েছিল। ডিসি এসপিরা বলতেন -নৌকা পাইছেন তো কি হয়েছে, নির্বাচন কিন্তু সুষ্ঠু হবে।তিন কোটি টাকা  জলে যাওয়ার আতংকে আরো ঢাল এক কোটি।নিচের ও মধ্যম সারির নেতাদের টাকা চলে যেত জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতাদের পকেটে।বিদগ্ধজনদের মধ্যে রসিকজনরা বলতেন- "ইঁদুরের কলের মত ইলেকশন একটি কল।এটা হলো টাকার কল।"
যাক গে সেই সব কথা।যেটা বলছিলাম সেটা হলো নমিনেশন সংক্রান্তে ; আমাদের সমাজে একটি কথা প্রচলিত আছে।তাহলো- "সৎসঙ্গে স্বর্গবাস, অসৎসঙ্গে সর্বনাশ।"এদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ মনে করে শহীদ জিয়ার ছেলে সৎ সঙ্গে বসবাস করেন;অসৎ সঙ্গ ওনার কাছে ঘেঁষতে পারে না। অথবা মানুষ অন্তত এইটুকু বিশ্বাস করে যে, তিনি অসৎসংগ এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেন।কিন্তু হতাশার কথা হলো এবার নমিনেশন লিস্টে এমন কিছু মানুষের নাম এসেছে, যা সাধারণ মানুষের বিশ্বাসে আঘাত করেছে। মানুষকে বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে যে শহীদ জিয়ার ছেলে 
সৎসঙ্গে চলাফেরা করেন কিংবা সৎ মানুষের পরামর্শ নেন। এটা বড়ই দুঃখের কথা।  অনেক বড় কষ্টের কথা। অনেক মানুষ মনে কষ্ট পেয়েছে।মানুষ নিজেকে প্রতারিত ও আহত ভাবছে। জানিনা সে বিষয়টা তাঁর  চিন্তাভাবনায় উঁকি দিচ্ছে কিনা। 
কোন কোন অন্ধ সমর্থক নিজেদের সান্ত্বনা দিয়ে বুঝাচ্ছেন-রাজনৈতিক কৌশলের অংশ   হিসেবে তিনি  হয়তো ভেবেছেন ক্ষমতায় আসার পর  সবাইকে শাসন করতে পারবেন। এটা বড়ই ঝুঁকিপূর্ণ এবং অনিশ্চিত পথ। সহজে সাধারণ মানুষ এটা বিশ্বাস করবে না।
অথবা উনি হয়তো ভাবছেন-   কিছু পেশী বা অর্থ  শক্তিসম্পন্ন লোককে নমিনেশন না দিলে আগামী নির্বাচনে জিতে আসা যাবে না। ফলে বিএনপি এবং জিয়া পরিবারের লিগ্যাছি হুমকির সম্মুখীন হবে কিংবা চিরতরে মুছে যাবে। কিন্তু এই ধারণা ভুল। তারেক জিয়ার মনে রাখা উচিত তিনি কার সন্তান।  সারা পৃথিবীর মানুষ যাঁরা হজ্বে গেছেন কিংবা ওমরায় গেছেন তাঁরা জানেন- আরাফাতের ময়দানে উনার শহীদ পিতা জিয়াউর রহমানের  উপহার দেওয়া নিম গাছগুলি আল্লাহ চাহেন তো  জিয়াট্রি হিসাবে কেয়ামত পর্যন্ত হাজীদেরকে ছায়া দিতে থাকবে।কাজেই  তারেক জিয়ার  মনে রাখা দরকার  -সৎ মানুষদের সাথে থাকলে উনি কোনদিন হারবেন না; আরাফাতের ময়দানে যতদিন জিয়াট্রি হাজীদের ছায়া দিতে থাকবে, ততদিন জিয়া পরিবারের নাম  শুধু এদেশের মাটি থেকে নয় বরং সারাবিশ্ব থেকে  কেউ মুছে ফেলতে পারবে না; এই পরিবার এবং এই পরিবারের রাজনীতি টিকিয়ে রাখার জন্য কোন  অর্থসন্ত্রাস এবং পয়সাওয়ালা মুনাফিকদের প্রয়োজন হবে না।  

সীতাকুণ্ড আসনে আসলাম চৌধুরী মনোনয়ন পাননি।ওখানে বিএনপির লোকজনের মধ্যে চলছে ভয়াবহ অস্থিরতা। এরূপ অস্থিরতা চট্টগ্রামের অন্য আসনেও পরিলক্ষিত হচ্ছে। এই অস্থিরতার জন্য  প্রত্যক্ষ বা  পরোক্ষভাবে খসরু সাহেবকেই দায়ী মনে করছেন রাজনীতি  সচেতনরা। সাধারণ মানুষ আজকাল ভাবেন - চট্টগ্রামের রাজনীতির  সকল ঘটন-অঘটনের পিছনে  খসরু সাহেবের কারসাজি রয়েছে। উনার রাজনৈতিক আধিপত্যবাদী মানসিকতার কারণে  অনেক গুণী ও অপেক্ষাকৃত কমবয়সীদের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। যা দল হিসাবে বিএনপিকে ভবিষ্যতে মারাত্মকভাবে ভোগাবে। ঐতিহ্যবাহী, রাজনৈতিক, ধনী ও অভিজাত পরিবারের সন্তান বলে খসরু সাহেবকে সবাই একজন   মুরুব্বি  ও সবার উপর পাখা বিছিয়ে দেয়া স্নেহপরায়ণ  অভিভাবক হিসাবে  দেখতো।
কিন্তু দু:খজনক হলেও সত্য যে, ৫ই আগস্ট , ২৪-এর পরে  চট্টগ্রাম শহরে চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্মে   উনার  অনুসারী  এবং এপিএসদের নাম উঠে এসেছে। 
সর্বশেষ নমিনেশন নিয়ে উনি যেভাবে নির্লজ্জ নেপোটিজমের প্রকাশ দেখিয়েছেন, তাতে তাঁর    দলের বিভিম্ন স্তরের নেতাকর্মীরা তাঁকে 'রাজনীতির আইকনিক ছ্যাঁচড়া' বলে অভিহিত করছেন।

 ২০০১- ২০০৪ সাল পর্যন্ত ওনি বিএনপি সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রী ছিলেন। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে ওনাকে সরিয়ে দেয়া হয়েছিল।ঐ সময়  শোনা গিয়েছিল- ব্যক্তিগত আর্থিক এবং বাণিজ্যিক সুবিধা নিয়ে অন্য কয়েকজনের সাথে মিলে তাইওয়ানকে স্বীকৃতি দিতে গিয়ে চীনের সাথে বিএনপির ঐতিহাসিক সম্পর্ক নষ্ট করেছিলেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিএনপি'র পুরনো শুভাকাঙ্ক্ষীরা লক্ষ করছেন-
দলের ভেতর তিনি নিজের প্রভাব বলয় বাড়ানোর চেষ্টা করছেন;
নিজেদের স্বার্থে উনার মত লোক দল ও দেশকে যেকোনো সময় বিকিয়ে দিতে পারেন। উনাদের ইতিহাস ও  রক্ত সেই সাক্ষ্য বহন করছে।
কেউ কেউ অতিরিক্ত উদ্বিগ্নতা নিয়ে  বলছেন - ওনাকে আগের সরকারের সময় বাণিজ্যমন্ত্রীর পদ সরিয়ে দেয়ায় উনি আর্থিকসহ নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন;তাই হয়তো  এবার প্রতিশোধ নিবেন এবং এর  প্রস্তুতি গ্রহণ করছেন। 
শুনা যাচ্ছে- ভিন্ন কোন পরিস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশে ফিরতে না পারলে বেগম জিয়ার অসুস্থতার সুযোগে আমীর  খসরু সাহেব নাকি প্রধানমন্ত্রীও হয়ে যেতে পারেন।ফখরুল সাহেব ও সালাউদ্দীন সাহেবকে নিয়েও নাকি এমন অভাবনীয় পরিকল্পনা করে কোন গোষ্ঠী দিবাস্বপ্ন দেখছেন। খসরু সাহেব  মাথা নুইয়ে  ভিন দেশের  একজন প্রভাবশালী নেতার সাথে কথা বলার চেষ্টা করছেন। এমন একটা ভিডিও নেটে ঘুরে বেড়ায়। এটাকে মানুষ এতদিন সিরিয়াসলি না নিলেও এখন সেই  ভিডিও'র ভিন্ন ও নিগূঢ় মিনিং বের করার চেষ্টা করছে।

বাঁশখালীর  ব্যাপারে  বুঝানো হয়েছে- প্রাক্তন প্রতিমন্ত্রী জাফর সাহেবের অবদান বিবেচনায় তাঁর কনিষ্ঠপুত্রকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে।যদি সত্য হয়,তবে বলব- বাবা-মামার যোগ্যতায় মনোনয়ন দেওয়াটা এস.আলমের তদবির বা প্রভাবে মনোনয়ন দেয়ার চেয়ে অন্তত ভালো। 
আসলে জাফর সাহেবের ছেলে আর আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর ভাগিনা, এই দুই  পরিচয় ছাড়া  রাজনৈতিক বা পেশাগত কোন   যোগ্যতা ওনার নেই । তবে একটা যোগ্যতা নাকি তিনি ৫ আগস্টের পরে  অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন।তা হলো-   অনুগত লোকদেরকে দিয়ে ব্যাপক  চাঁদাবাজি করানো আর সফলভাবে সেই   চাঁদা নিজের পকেটে ভরা।সাংগু নদীর বালু থেকে শুরু করে মুরগির ফার্ম কোনকিছু বাদ যায়নি।সদ্য বদলি হওয়া মহিলা ডিসিকে ভাগ দিতেন বলেও শুনা যায়।উনার চাঁদাবাজ শীষ্যদের রক্ষা করতে তিনি প্রশাসন ও পুলিশকে ইচ্ছেমত ব্যবহার করাকে রপ্ত করেছেন।ওনার ফোনের কারণে  থানা-পুলিশ থেকে শুরু সব সরকারি অফিস তটস্থ হয়ে আছে। জাফর সাহেবের দুই ছেলে এবার মনোনয়ন চেয়েছিলেন।এই দুই ভাই ঐসময় আওয়ামী লীগের  বড় বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সাথে সখ্যতা রেখে সমস্ত সুযোগ সুবিধা ভোগ করেছেন। প্রকৃতপক্ষে,এই দুই ভাই ফ্যাসিবাদের ১৭ বছরে  প্রকারান্তরে  আওয়ামী লীগই করেছেন।ওনাদের পিতা জাফর সাহেব তো আসলে বিএনপির কেউ ছিলেন না। তিনি মিষ্টভাষী ছিলেন। মানুষের সাথে মিশে যাওয়ার অসাধারণ ক্ষমতা ছিল এই ভদ্র মানুষটার।কড়া সমালোচকরা বলবেন -এগুলো ছিল তাঁর ভাণ ও বিনিয়োগ। অবিশ্বাস্য রকম সৌভাগ্যবান এই মানুষটিকে নিয়ে আত্মীয়-স্বজনরা বলতেন তিনি ' ছাই ধরলে সোনা হয়ে যায়'।একইভাবে ভাগ্যগুণেই বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছিলেন ১৯৯৭ সালে।বিএনপির সাথে  উনার কোন আত্মিক সম্পর্ক ছিল না।দল করা ও গোছানোর ক্ষেত্রে তাই সব সময় তিনি নিজের ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক সম্পর্ককে বেশি গুরুত্ব দিতেন।যার কারণে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আকস্মিক বিদায়ের পর যাঁদের রক্ত ও ঘামে বিএনপি টিকে ছিল, তাঁদের অনেকেই ওনি দলীয় পদ হতে সরিয়ে দিয়ে ওনার পছন্দমত নব্য বিএনপি করা, জাতীয় পার্টি হতে যোগদান করা লোকজনকে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন।এজন্য দক্ষিণ জেলা বিএনপিতে তৃণমূল থেকে উঠে আসা লোকজনের চেয়ে  ব্যবসায়ী লোকজন বেশি।ফলে যেটা হয়েছে এই নব্য নেতারা দলকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করেছেন। ফলশ্রুতিতে দক্ষিণ চট্টগ্রামে  দল আদর্শিক ও রাজনৈতিকভাবে  ভিতর থেকে দুর্বল হয়ে পড়ে।একারণে চট্টগ্রামে বিএনপির অন্য ইউনিটগুলো কমবেশি ফ্যাসিবাদের মোকাবিলা করলেও 
দক্ষিণ জেলা এব্যাপারে অনেক পিছিয়ে ছিল।এসবের জন্য দায়ী ছিল সঠিক নেতাকর্মীদের প্রতি  জাফর সাহেবের সচেতন অবমূল্যায়ন। 
বাঁশখালির এমপি হিসেবেও উনার সেরকম কোন উল্লেখযোগ্য  স্থায়ী অবদান নেই বললেই চলে।উনি শুধু খালিহাত দেখাতেন এবং সেই হাত দেখেই  মানুষ উনার জন্য পাগল যেত।এটা একটা অদ্ভুত অবিশ্বাস্য  বিষয় ছিল। একটা দু:খজনক বিষয় হলো- এই জনপ্রিয় এমপি
  সাহেবের হঠকারি সিদ্ধান্তে সম্পুর্ন অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে  তৈলারদ্বীপ ব্রীজের বেআইনি  টোলটা  আরোপ করা  হয়েছিল।ফলে বাঁশখালী, পেকুয়া, চকরিয়া,মহেশখালী ও কুতুবদিয়া  অঞ্চলের মানুষকে  মাশুল গুনতে হয়েছে বছরের পর বছর‌। ছাত্র- জনতার প্রতিরোধের কারণে ৫ই আগস্ট , ২৪ -এর পর হতে এই ব্রীজের  টোল আদায়  বন্ধ। কিন্তু মরহুম   জাফর সাহেবের  যে ছেলে মনোনয়ন পেয়েছেন  তাঁর  অনুগত কিছু ব্যবসায়ী  আবার ঐ টোল চালু করার অপচেষ্টায় লিপ্ত  রয়েছেন।মরহুম জাফর সাহেব  তিন তিন বার এমপি  এবং একবার প্রতিমন্ত্রী হলেও বাঁশখালীবাসীর জন্য সত্যিকার অর্থে দীর্ঘমেয়াদি উপকারী কিছু করেননি। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির রাজনীতির জন্যও দীর্ঘ মেয়াদে ভালো কোন ভূমিকা রেখে গেছেন বলাটাও  কঠিন। 
উনার আরেকটা সৌভাগ্যের কথা বলতেই হয়।তিনি ফ্যাসিবাদের সময়টা খুব বেশি মিছিল মিটিং করেননি।সেটার সত্যতা   ও  কারণ দলের লোকজন ভালো বলতে পারবেন।কিন্তু মারা যাবার  কিছুদিন আগে থেকে হঠাৎ করে  উনাকে বেশ সক্রিয় মনে হচ্ছিল। ঐসময় একটা মিছিলে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানেই তিনি মারা যান।স্বাভাবিকভাবেই এমন পরিবেশ- পরিস্থিতি সৃষ্টি হলো যে নেতাকর্মীদের সমস্ত মান-অভিমান আবেগে রূপান্তরিত হলো।ভাগ্য কাকে বলে!অথচ খেয়ে-না খেয়ে দল করা, মামলায় মামলায় নিষ্পেষিত, নির্যাতন আর নিপীড়নে  পিষ্ট হওয়া  নেতাকর্মীরা অনেকেই তাঁর উপর  ক্ষুব্ধ ছিলেন।অনেকের অভিযোগ  ছিল - সুযোগ ও সামর্থ্য থাকা সত্বেও তিনি কারাবন্দি নেতাকর্মীদের এবং  পরিবারের কোন খোঁজখবর নেননি।মিথ্যা মামলা চালানোর জন্য  জেলের ভিতর বাইরে তিনি কোনদিন এক টাকা খরচ করেননি। যাই হোক, সবকিছু ঠিক থাকলে উনার কনিষ্ঠ পুত্র নির্বাচন করছেন।তাঁর বাবা দলীয় মিছিল গিয়ে  অসুস্থ হয়ে  হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় মারা গেছেন। এই বিষয়টা নাকি  গুরুত্বের বিবেচিত হয়েছে। এটাও 
অনেকখানি ভালো,যদি এস.আলম ফ্যাক্টর কাজ না করে।
দলের শীর্ষ নেতৃত্ব হয়তো মনে করছেন, এরকম কিছু মনোনয়ন দেয়াতে দলের কোনো ক্ষতি হবে না। ধানের শীষের বাম্পার ফলনে সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু পুরোনো একটা প্রবাদ মনে করলে, ভবিষ্যতে বড় ক্ষতি হতে সবাই রক্ষা পাবেন। "এক মণ দুধে এক ফোঁটা চোনা"- যেমন সব দুধকে নষ্ট করার জন্য যথেষ্ট, ঠিক তেমনি এসব বিতর্কিত ব্যক্তিরা পুরো দলকে বিপদের মুখে ঠেলে দিতে পারে। রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা রূপরেখা বাস্তবায়ন করতে দরকার একদল সৎ, মেধাবী, নির্লোভ, সত্যিকারের দেশপ্রেমিক মানুষ। ঠিক জায়গায় ঠিক মানুষ না থাকলে সব শেষ হয়ে যাবে। বিতর্কিত ব্যক্তিদের চূড়ান্ত ভাবে মনোনয়ন দিলে জনগণের মনে রাষ্ট্র মেরামতে দলের অঙ্গীকার নিয়েই প্রশ্ন জাগবে।

এখনো সময় আছে, চূড়ান্ত মনোনয়ন দেয়ার আগে আরো সাবধানে যাচাই-বাছাই করার। অন্যথায় যতোই ঐক্যের কথা বলা হোক না কেন, সাধারণ ভোটারেরা বলবেন, অতো দফা রফা বুঝিনা, আগে কুত্তা সামলান! এটা মনে রাখতে হবে, শেষ পর্যন্ত সব দায় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সাহেবের উপরই বর্তাবে।আরেকটা কথা মনে রাখা দরকার, এদেশের মানুষ শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়াকে ভালোবেসে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের পতাকাতলে সমবেত হয়েছে। অন্য কোন ব্যক্তি বা নেতার  ভালোবাসায় বাঁধা পড়ে  এদেশের  মানুষ বিএনপি  করে না। কাজেই যাঁরা নিজেদের স্বার্থে দলকে ব্যবহার করছেন, তাঁদের কেউ দলের জন্য অপরিহার্য নয়।

অমুকের সঙ্গে সমঝোতা, সমুককে মাফ করলাম;অর্থ সন্ত্রাস, বিশ্বাসঘাতক ও সুবিধাবাদীদের সাথে বুঝাপড়া করে ক্ষমতায় আসা যাবে- তা হয়তো ঠিক।কিন্তু নানানমুখী দায়বদ্ধতাযুক্ত ক্ষমতা ব্যবহারযোগ্য হবে না,অধিকন্তু  তা আরও ক্ষমতাহীন দুর্বল করবে।তারচেয়ে বরং এই স্ট্যান্ডটুকু নিন- "খারাপ কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সাথে কোন গোপন সমঝোতায় বিএনপি থাকবে না,ক্ষমতায় আসলে আসব,না আসলেও মানুষের পাশে থাকব। "দেখা যাবে  শহীদ জিয়ার সন্তান হিসাবে  তারেক জিয়াট  পাশে এসে দাঁড়াবে।
উনার পিতা স্বমহিমায় উজ্জ্বল ছিলেন।উনার মা তাঁর স্বামীর ছায়াকে ছাপিয়ে যেতে পেরেছেন।কিন্তু উনাদের কারো ছায়াকে তিনি এখনো অতিক্রম করতে পারেননি।কিন্তু তাঁকে তাঁর মহান পিতামাতার উজ্জ্বল  ছায়াকে অতিক্রম  করতেই হবে।শেখ হাসিনাকে কোন একটা গ্রুপ বাঘের পিঠে বসিয়ে দিয়েছিল।
তাঁকে বুঝানো হয়- এটাই তাঁর শক্তিমত্তা।তিনিও মনে করেছিলেন - সেই  বাঘ তাঁর শক্তি।কিন্তু এটা ছিল তাঁর মস্তবড় ভুল।নমিনেশন প্রসূত অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে - তারেক জিয়াকেও কোন শক্তিশালী অদৃশ্য গোষ্ঠী  'এনাকোন্ডা সাপের' পিঠে বসিয়ে দিয়েছে।তাঁকে বুঝানো হচ্ছে -"এই সাপ বিষহীন,কিন্তু অনেক বড় আর শক্তিশালী।এই মুহূর্তে এটাই আপনার দরকার।এটাই আপনার পাওয়ার ।" অথচ তাঁকে বলা হচ্ছে না- 
"এই সাপ সময়মত শিকার করে এবং শিকারকে পেঁচিয়ে ধরে তার হাড় ভেঙে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে এবং তারপর পুরো শিকারটিকে গিলে খেয়ে ফেলে।"
এক বিদগ্ধজন সেদিন বলছিল-"তারেক রহমানের উচিত কেবল পিতা হিসাবে নয়, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হিসাবেও তাঁর পদাংক অনুসরণ  করা; এই অনুসরণ লোকদেখানো হলে চলবে না।
সত্যিকার অর্থে হতে হবে; এবং মানুষের কাছে বিশ্বাসযোগ্যভাবে হতে হবে।।অন্যথায় শত সহস্র অকৃত্রিম প্রার্থনা স্বপ্নভঙ্গকে রুখতে পারবে না।সেই সাথে ধ্বংস  হয়ে যাবে তাঁকে ঘিরে দেখতে থাকা এদেশের কোটি মানুষের বিরামহীন স্বপ্নগুলো।সেই সাথে তাঁর নাম স্মরণ করা হবে ভাগ্য বিড়ম্বিত ট্রাজিক হিরো হিসাবে।

রিটেলেড নিউজ

চতুর্থবারের মতো খোলা হলো শাহজালাল মাজারের দানবাক্স, মিলল প্রায় ৮৯ লাখ টাকা

চতুর্থবারের মতো খোলা হলো শাহজালাল মাজারের দানবাক্স, মিলল প্রায় ৮৯ লাখ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক : সিলেট প্রতিনিধি : সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সের টাকা গণনা শেষে চতুর্থ দফায় পাওয়া গ...বিস্তারিত


অর্থনৈতিক ঝুঁকিতে দেশ, ঋণ ১১৩ বিলিয়ন ডলার

অর্থনৈতিক ঝুঁকিতে দেশ, ঋণ ১১৩ বিলিয়ন ডলার

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঋণের ‘উচ্চঝুঁকি’র দিকে ধাবিত হচ্ছে বাংলাদেশ। বিপুল পরিমাণ অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের সুদ পরিশ...বিস্তারিত


জুলাইয়ের দুই হত্যা মামলা: অভিযুক্ত হাসিনাসহ ৫৫, অব্যাহতির সুপারিশ ১৬১ জন

জুলাইয়ের দুই হত্যা মামলা: অভিযুক্ত হাসিনাসহ ৫৫, অব্যাহতির সুপারিশ ১৬১ জন

নিজস্ব প্রতিবেদক : জুলাই আন্দোলনের সময় যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা দুই হত্যা মামলায় তদন্ত শেষে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন...বিস্তারিত


গ্রামীণ অর্থনীতিতে প্রাণচাঞ্চল্য এনেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় : দুর্যোগ ও ত্রাণমন্ত্রী

গ্রামীণ অর্থনীতিতে প্রাণচাঞ্চল্য এনেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় : দুর্যোগ ও ত্রাণমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : গ্রামীণ অর্থনীতিতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় প্রাণচাঞ্চল্য এনেছে বলে মন্তব্য করেছেন দুর্...বিস্তারিত


দাম বেড়েছে সব ধরনের ফিডের, চাপে খামারিরা

দাম বেড়েছে সব ধরনের ফিডের, চাপে খামারিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক : দিনাজপুরের বাজারে গবাদি পশু, হাঁস-মুরগি ও মাছের খাবার হিসেবে ব্যবহৃত সব ধরনের ফিডের দাম বেড়েছে। গত...বিস্তারিত


জ্বালানি সংকট বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে, সরকারের সৃষ্টি নয়: রিজভী

জ্বালানি সংকট বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে, সরকারের সৃষ্টি নয়: রিজভী

আমাদের বাংলা ডেস্ক : : দেশের চলমান গ্যাস ও জ্বালানি সংকট সরকারের নীতিগত ব্যর্থতার কারণে সৃষ্টি হয়নি বলে দাবি করেছেন বিএ...বিস্তারিত



সর্বপঠিত খবর

দশম শ্রেণির ছাত্রীকে গণধর্ষণ করে ভিডিও ধারণ, গ্রেফতার ২

দশম শ্রেণির ছাত্রীকে গণধর্ষণ করে ভিডিও ধারণ, গ্রেফতার ২

নোয়াখালী প্রতিনিধি : : নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী (১৭) গণধর্ষণের শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় সম্পৃক্তার অ...বিস্তারিত


সৌদি আরবে  গাড়ির নির্দিষ্ট গতি  অমান্য করলে  ২ হাজার রিয়াল জরিমানা 

সৌদি আরবে  গাড়ির নির্দিষ্ট গতি  অমান্য করলে  ২ হাজার রিয়াল জরিমানা 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : : সৌদি ট্রাফিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, স্পীড লিমিট এর চাইতে অধিক গতিতে যানবাহন চালানো ব্যক্তিদের উপ...বিস্তারিত



সর্বশেষ খবর