বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২৬  

শিরোনাম

চট্টগ্রামের চব্বিশের ক্যানভাস, আন্দোলনে এক প্রজন্মের জাগরণ ও আত্মত্যাগ, “দাবির স্ফুলিঙ্গ থেকে গণঅভ্যুত্থানের দাবানল:

আমাদের বাংলা ডেস্ক :    |    ০৬:০৯ পিএম, ২০২৬-০৩-৩০

চট্টগ্রামের চব্বিশের ক্যানভাস, আন্দোলনে এক প্রজন্মের জাগরণ ও আত্মত্যাগ, “দাবির স্ফুলিঙ্গ থেকে গণঅভ্যুত্থানের দাবানল:

আবদুল্লাহ মজুমদার 

ফেব্রুয়ারি মানেই বই-এর মৌ মৌ ঘ্রাণ, গল্প-কবিতার সমাহারে মেলার ক্যানভাস। নয়তো প্রবন্ধ-নিবন্ধ কিংবা ছড়ার মেলা! সাথে সেলফির ঝড়! অনুবাদ বা ভাষান্তরেরও সভ্যতা মেলে বইলেমায়,,,  একঝাঁক সাহিত্যিকের পদচারণা। আরো কত কী। দেশ-বিদেশ থেকে লেখকেরা অংশগ্রহণ করেন মেলায়। 
লেখালিখির রয়েছে নানা বিষয়।  তবুও ব্যতিক্রম বিষয় খুঁজে বেড়ায় লেখক, বই প্রকাশের জন্য। তেমনি রহিমা আকতার মৌ-ও এবারের বইমেলায় নিয়ে এসেছে তার ব্যতিক্রম গ্রন্থ- "চট্টগ্রামের চব্বিশের ক্যানভাস"। হ্যা চট্টগ্রামের চব্বিশের ক্যানভাসের কথাই বলবো আজ আপনাদের। 

চব্বিশের ক্যানভাস চট্টগ্রামে জুলাইয়ের আগুন, এক প্রজন্মের জাগরণ। '২৪ এর জুলাই—বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অগ্নিগর্ভ অধ্যায়। আর সেই অধ্যায়ের এক শক্তিশালী ক্যানভাস হয়ে ওঠে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম। শিক্ষার্থীদের হাত ধরে শুরু হওয়া কোটা সংস্কার আন্দোলন এখানে রূপ নেয় এক বিস্তৃত গণআন্দোলনে, যার ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে।
দাবির আগুন থেকে গণঅভ্যুত্থান। সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থার সংস্কার দাবিতে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ নতুন নয়। ২০২৪ সালের মাঝামাঝি এসে সেই ক্ষোভ বিস্ফোরিত হয়।
চট্টগ্রামে প্রথমে ছোট ছোট বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি দেখা গেলেও দ্রুতই তা রূপ নেয় বৃহৎ আন্দোলনে। এই আন্দোলনের মূল শক্তি ছিল তরুণ প্রজন্ম—যারা নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছিল।
শিক্ষাঙ্গন থেকে রাজপথ। চট্টগ্রামের আন্দোলনের প্রাণকেন্দ্র ছিল—
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম কলেজ, ক্লাসরুম ছেড়ে শিক্ষার্থীরা নেমে আসে রাজপথে। জিইসি মোড়, টাইগারপাস, নিউ মার্কেট এলাকা হয়ে ওঠে আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু। “আমাদের ভবিষ্যৎ আমাদেরই”—এই স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো শহর।
 সংঘর্ষ, দমন-পীড়ন ও উত্তপ্ত দিনগুলো আন্দোলন যত বিস্তৃত হয়, ততই বাড়তে থাকে উত্তেজনা। পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে একাধিকবার ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। কাঁদানে গ্যাস, রাবার বুলেট, গ্রেফতার—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি হয়ে ওঠে অস্থিতিশীল। ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনাও আন্দোলনকে আরও উসকে দেয়। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ—তাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে বাধা দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের বক্তব্য—আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

প্রথমে ছিল শিক্ষার্থীদের আন্দোলন। কিন্তু খুব দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ে সমাজের নানা স্তরে। অভিভাবক, শিক্ষক, এমনকি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও প্রকাশ্যে সমর্থন দিতে শুরু করেন। চট্টগ্রামের অলিগলি থেকে শুরু করে ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকা—সবখানেই আলোচনার কেন্দ্র হয়ে ওঠে এই আন্দোলন।

লেখক ও গবেষক রহিমা আক্তার মৌ-এর চট্টগ্রামের “চব্বিশের ক্যানভাস”: একটি গ্রন্থ বা সংকলন নয় যেন চট্টগ্রামের এক টুকরো পূর্ণিমার চাঁদ। সে চাঁদের আলো পূর্ণিমার আলোর মতো মুগ্ধতা ছড়িয়ে দিলো চাটগাবাসীর বুকে। এটি শুধু একটি দাবি নয়, বরং সময়ের প্রতিচ্ছবি। এই ক্যানভাসে আঁকা হয়েছে—তরুণদের স্বপ্ন, বঞ্চনার ক্ষোভ, প্রতিবাদের সাহস এবং পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা।
“চব্বিশের ক্যানভাস” শুধু আন্দোলন নয়—একটি বার্তা। একঝাঁক তরুণ ও বিজ্ঞ লেখকদের সমন্বয়ে নির্মিত অনবদ্য গ্রন্থ। 

'চট্টগ্রামের চব্বিশের ক্যানভাস' পাঠে জানা যাবে চট্টগ্রামে জুলাই আন্দোলনে আসলে কী কী ঘটেছিলো। চট্টগ্রামের আন্দোলন প্রমাণ করেছে—
প্রতিটি শহরেরই কণ্ঠস্বর আছে, ইতিহাস আছে। '২৪ জুলাইয়ে, চট্টগ্রাম সেই কণ্ঠস্বরকে রূপ দিয়েছে এক বিশাল ক্যানভাসে—
যেখানে আঁকা হয়েছে প্রতিবাদ, সংগ্রাম ও আশার ছবি।
চট্টগ্রামের জুলাই আন্দোলন নিয়ে সচিত্র বাংলাদেশ এর বিশেষ সংখ্যা প্রকাশের পর রহিমা মৌ-এর এমন সাহসী ও চ্যালেঞ্জিং পদক্ষেপ যতটা না খুশি করেছে ততটা চিন্তিতও। কেননা এমন বিশাল বাজেটের গ্রন্থ পাঠকের হাতে পৌছানো যতটা সহজ মনে করছি-- আসলে ততটা সহজ নয়; একথা ভেবে। তবুও এ গ্রন্থের বহুল প্রচার-প্রসার কামনা করে লেখক ও প্রকাশকের উদ্যেশ্যে বলছি-- ২০ ফর্মা বা ৩২০ পৃষ্ঠার একটি গ্রন্থ বাজারজাত বা পাঠকের কাছে সহজে তুলে দেওয়ার সে কৌশল বা পদ্ধতি যেন যথাযথ উপস্থাপনে সক্ষম হন সে বিষয়ে নজর রাখতে।

গ্রন্থের ভুমিকায় লেখক ও তথ্যপ্রযুক্তি উদ্যোক্তা নাদিম মজিদ মন্তব্য করেন, " বইটিতে শুধু আন্দোলন নয়, আন্দোলনের পরেরও কিছু ঘটনা যোগ করা হয়েছে। যা অন্যমাত্রা নিয়ে এসেছে। বইটিতে উঠে এসেছে বাড়ি থেকে পালিয়ে আন্দোলন করা, আন্দোলন করতে গিয়ে মাঠে নিজের পুলিশে কর্মরত বোনের সামনে মুখোমুখি হওয়ার কথা, চোখের সামনে শহীদ হওয়ার কথা।"

পাশাপাশি বাণিজ্যিক রাজধানী থেকে প্রকাশিত দৈনিক পত্রিকাগুলোর শিরোনাম ও খবরের অংশ ডায়েরির মতো করে সংযুক্ত করেছেন। চব্বিশকে প্রজন্মান্তরে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য,,,।

গ্রন্থের লেখক রহিমা মৌ তার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে লিখেন, "জুলাই আন্দোলনে চট্টগ্রামের ছাত্রসমাজের অবদান অনেক। জীবন দিয়ে, অঙ্গ হারিয়ে, পঙ্গুত্ব বরণ করে শত শত শিক্ষার্থী চব্বিশের ইতিহাসের অংশ হয়ে আছে। আন্দোলনের শুরু থেকে জুলাইয়ের শেষদিক অনেকেই ভাবেনি এই আন্দোলনের ভবিষ্যৎ কী? তবুও জীবনের মায়া না করে, পরিবার-সংসারের কথা চিন্তা না করেই তারা রাজপথে নেমেছে। চট্টগ্রামের ছাত্ররা সাধারণ মানুষের মধ্যে কোটা সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা এবং বৈষম্যের বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পুরো দেশের মতো চট্টগ্রামেও শিক্ষার্থীদের সাথে ছিলেন অভিভাবকসহ সব পেশার সচেতন ব্যক্তিরা। চট্টগ্রামের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে অংশ নেয় এবং শান্তিপূর্ণভাবে রাজপথে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে। এলাকা কিংবা প্রতিষ্ঠানের সবাই মিলে সংগঠিত হয়ে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করে সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করে। সাধারণ জনগণের চলার পথে কিংবা অসুস্থ রোগীদের চলাচলে নিরলস সহযোগিতা করে। নিজেদের জীবনবাজি রেখে সহযোদ্ধাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে। " এসব কথা।

এ সংকলন বা গ্রন্থে যারা যুক্ত আছেন, তারা হলেন-
অভিমত লিখেছেন লেখক মোহাম্মদ অংকন, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের বক্ষব্যাধি সার্জন ও বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ জাকির হোসেন ভূঁইয়া, ইউএসটিসির'র শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম ফরহাদ, লেখক-সাংবাদিক আবদুল্লাহ মজুমদার, শিক্ষানবিশ আইনজীবী ও কবি সাইফুর রহমান খান (রূদ্র),  চবির ফিলোসফির ছাত্র যোদ্ধাহত মুহাম্মদ জালাল উদ্দিন, মোহাম্মদ মাইনুল হোসেন, জুলাই যোদ্ধা ও শিক্ষার্থী ওয়াহিদুজ্জামান রোমান, জুলাই যোদ্ধা দ্যুতি মনি তালুকদার , শিক্ষার্থী ও জুলাই যোদ্ধা নেভী দে, জুলাই যোদ্ধা কামরুল হাসান, জুলাই যোদ্ধা ও শিক্ষার্থী মোহাম্মদ সম্রাট রোবায়েত, শিক্ষার্থী ও জুলাই যোদ্ধা আফিয়া তাসনিম, সমাজকর্মী ও জুলাই যোদ্ধা আবু হানিফ নোমান,  শিক্ষানবিস আইনজীবী মোশাররফ সাদিয়া আফরিন, গুলিবিদ্ধ জুলাই যোদ্ধা মোঃ ওমর ফারুক, শিশু সাহিত্যিক ও জুলাই যোদ্ধা জাহেদুল ইসলাম বাঁধন, জুলাই যোদ্ধা মোঃ রবিউল হোসেন ও ২৪ জুলাই গণ -অভ্যুত্থানের অন্যতম সমন্বয়কারী উমামা ফাতেমার দীর্ঘ সাক্ষাৎকার নিয়েছেন লেখক  রহিমা মৌ নিজেই।
রয়েছে সমগ্র গ্রন্থ জুড়ে সচিত্র প্রতিবেদন ও পত্রিকার প্রকাশিত সংবাদের দৃষ্টিনন্দন প্রতিবেদনও। তবে লেখক কেন অন্য একটি বই তথা 'চব্বিশের কন্যারা' গ্রন্থের সচিত্র ছবিগুলো তুলে এনেছেন বোধগম্য নয়! 

এ প্রশ্নের জবাব হয়তো লেখক চট্টগ্রামের বইমেলায় এলে খুঁজে পাবো।

লেখক: কবি, সাহিত্য সমালোচক ও সাংবাদিক। 

রিটেলেড নিউজ

ফেসবুক থেকে সংবাদ: কেন যাচাই জরুরি 

ফেসবুক থেকে সংবাদ: কেন যাচাই জরুরি 

আমাদের বাংলা ডেস্ক : : আবদুল্লাহ মজুমদার : ডিজিটাল সময়ের এক বহুল উচ্চারিত প্রশ্ন—Facebook-এ কেউ কিছু লিখলেই গণমাধ্যম কেন তা ...বিস্তারিত


বইমেলা শেষ আজ: কবিতা-ছড়া ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে প্রাণবন্ত ১৯ দিন

বইমেলা শেষ আজ: কবিতা-ছড়া ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে প্রাণবন্ত ১৯ দিন

আমাদের বাংলা ডেস্ক : : আবদুল্লাহ মজুমদার :  চট্টগ্রামে সিটি কর্পোরেশনের আয়োজনে ৩১ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ১৯ দিনব্যাপী স্...বিস্তারিত


আন্দোলন সংগ্রামের মূর্ত প্রতীক নোবিপ্রবির ফাউন্টেনপেন

আন্দোলন সংগ্রামের মূর্ত প্রতীক নোবিপ্রবির ফাউন্টেনপেন

আমাদের বাংলা ডেস্ক : : সামিয়া হোসেন মুনিয়া : নোয়াখালি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) প্রধান ফটক দিয়ে প্...বিস্তারিত


স্মার্টফোন: সম্পর্কে দূরত্ব সৃষ্টির নতুন অস্ত্র

স্মার্টফোন: সম্পর্কে দূরত্ব সৃষ্টির নতুন অস্ত্র

আমাদের বাংলা ডেস্ক : : লেখক: মাহাবুব রহমান দুর্জয় : এক ক্লিকেই ভাঙছে সম্পর্কের নীরব বন্ধন : একটা সময় ছিল, সন্ধ্যা নামলেই ...বিস্তারিত


শীতে রূপ-লাবণ্যে ভরে উঠে নোবিপ্রবি ক্যাম্পাস

শীতে রূপ-লাবণ্যে ভরে উঠে নোবিপ্রবি ক্যাম্পাস

আমাদের বাংলা ডেস্ক : : মেহেদী হাসান : ষড়ঋতুর দেশ বাংলাদেশ— এখানে প্রতিটি ঋতু আসে নিজস্ব রূপ, রস ও গন্ধ নিয়ে। ঠিক তেমনি নো...বিস্তারিত


স্বপ্ন আর বাস্তবতার দ্বন্দ্বে বিশ্ববিদ্যালয় জীবন

স্বপ্ন আর বাস্তবতার দ্বন্দ্বে বিশ্ববিদ্যালয় জীবন

আমাদের বাংলা ডেস্ক : : চৌধুরী নওরাজ মাহমুদ সাদুল্লাহ, নোবিপ্রবিঃ আকাশ জুড়ে ছিল ভোরের নরম আলো। হঠাৎ করেই এক নতুন দিনের সূ...বিস্তারিত



সর্বপঠিত খবর

দশম শ্রেণির ছাত্রীকে গণধর্ষণ করে ভিডিও ধারণ, গ্রেফতার ২

দশম শ্রেণির ছাত্রীকে গণধর্ষণ করে ভিডিও ধারণ, গ্রেফতার ২

নোয়াখালী প্রতিনিধি : : নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী (১৭) গণধর্ষণের শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় সম্পৃক্তার অ...বিস্তারিত


সৌদি আরবে  গাড়ির নির্দিষ্ট গতি  অমান্য করলে  ২ হাজার রিয়াল জরিমানা 

সৌদি আরবে  গাড়ির নির্দিষ্ট গতি  অমান্য করলে  ২ হাজার রিয়াল জরিমানা 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : : সৌদি ট্রাফিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, স্পীড লিমিট এর চাইতে অধিক গতিতে যানবাহন চালানো ব্যক্তিদের উপ...বিস্তারিত



সর্বশেষ খবর