শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৫:৪৬ পিএম, ২০২৬-০৭-০৭
দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে লাভজনক নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব দুবাই-ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে তুলে দেওয়ার তোড়জোড় যত বাড়ছে, তার সাথে পাল্লা দিয়ে সামনে আসছে এক ভয়ানক জাতীয় নিরাপত্তা ও ভূ-রাজনৈতিক শঙ্কা।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ডিপি ওয়ার্ল্ডের বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ পদই প্রতিবেশী দেশ ভারতের নাগরিকদের দখলে। এই ‘ইন্ডিয়ান চেইন’-এর হাতে বন্দরের চাবিকাঠি তুলে দিলে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ও রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য পাচারের বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হবে বলে আশঙ্কা করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।
ডিপি ওয়ার্ল্ডের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটির গ্রুপ সিইও হিসেবে দায়িত্বরত আছেন যুবরাজ নারায়ণ। এছাড়া ‘ইন্ডিয়া সাবকন্টিনেন্ট’ অঞ্চলের পুরো ব্যবসা ও স্ট্র্যাটেজি নিয়ন্ত্রণ করেন রিজওয়ান সুমার (CEO & MD)। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, প্রতিষ্ঠানটির গ্লোবাল চিফ টেকনোলজি অফিসার (CTO) হিসেবে দায়িত্বরত আছেন ভারতীয় নাগরিক প্রদীপ দেশাই। নীতিগতভাবে ডিপি ওয়ার্ল্ড যেখানেই কোনো বন্দরের দায়িত্ব নেয়, সেখানে তাদের আইটি ইনোভেশন, সার্ভার আর্কিটেকচার এবং ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশনের পুরো নিয়ন্ত্রণ থাকে এই সিটিও-র দপ্তরের অধীনে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক বন্দর ব্যবস্থাপনা এখন সম্পূর্ণ ডিজিটাল ডেটাবেজ ও ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের ওপর নির্ভরশীল। চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনাল একাই দেশের মোট কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের প্রায় ৪৪ শতাংশ সামলায়।
প্রদীপ দেশাইয়ের নেতৃত্বাধীন আইটি সিস্টেমের অধীনে টার্মিনালটি পরিচালিত হলে বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানির নিখুঁত ধরণ, কোন দেশ থেকে ঠিক কী ধরনের কৌশলগত মালামাল বা সামরিক সরঞ্জাম আসছে এবং সামগ্রিক সাপ্লাই চেইনের স্পর্শকাতর তথ্য সরাসরি ডিপি ওয়ার্ল্ডের সেন্ট্রাল সার্ভারে জমা হবে। যেহেতু এই পুরো ডিজিটাল নেটওয়ার্ক ও সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থার শীর্ষ নিয়ন্ত্রক একজন ভারতীয় কর্মকর্তা, সেহেতু এই তথ্য প্রতিবেশী দেশের রাষ্ট্রীয় স্বার্থে ব্যবহৃত হবে না—তার কোনো আন্তর্জাতিক গ্যারান্টি বাংলাদেশের হাতে নেই।
লজিস্টিকস বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি একটি সরাসরি আন্তর্জাতিক 'কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট' বা স্বার্থের সংঘাত। ডিপি ওয়ার্ল্ডের এই ভারতীয় কর্মকর্তারা একই সাথে ভারতের মুন্দ্রা, চেন্নাই ও কোচিন পোর্টের বাণিজ্যিক স্বার্থ দেখাশোনা করেন। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এই চক্রটি কৌশলগতভাবে চট্টগ্রাম বন্দরের গতি কমিয়ে দিয়ে আন্তর্জাতিক শিপিং লাইনগুলোকে ভারতের বন্দরগুলো ব্যবহারে বাধ্য করতে পারে। এতে বাংলাদেশ নিজের বন্দর থাকা সত্ত্বেও প্রতিবেশী দেশের বাণিজ্যিক ব্লুপ্রিন্টের কাছে জিম্মি হয়ে পড়তে বাধ্য।
সংশ্লিষ্ট মহলে অভিযোগ উঠেছে, এই জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তিটি দ্রুত সম্পন্ন করতে ১২০০ কোটি টাকার এক বিশাল কমিশন লেনদেনের ঘটনা ঘটেছে। বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান এবং বিডা চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এই অনৈতিক সুবিধার বিনিময়েই ডিপি ওয়ার্ল্ডের মার্কেটিং অফিসারের মতো মরিয়া হয়ে কাজ করছেন মর্মে প্রমাণিত অভিযোগ রয়েছে। চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান এনসিটির সচল যন্ত্রপাতিকে ‘অকেজো’ বলে যে প্রচার চালাচ্ছেন, তা মূলত এই ভারতীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত করার একটি কৌশল মাত্র বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যেখানে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রতিষ্ঠান এবং দেশীয় বিশেষজ্ঞরা নিজস্ব দক্ষতায় চট্টগ্রাম বন্দর পরিচালনা করে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৬৬২৯ কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের রেকর্ড গড়েছে, সেখানে এই স্পর্শকাতর স্থাপনার আইটি ও অপারেশনাল নিয়ন্ত্রণ বিদেশিদের হাতে ছেড়ে দেওয়া সার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দেয়ার নামান্তর।
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : নতুন এক দেশ গঠনের স্বপ্ন নিয়ে বাংলাদেশের মানুষ ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। কিন্ত...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : Bangladesh Society for the Enforcement of Human Rights (BSEHR)-এর চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলা শাখার দ্বিবার্ষিক নির্বাচন গত ৬ নভেম্বর, শুক্রà¦...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : পোশাকশ্রমিকদের নতুন ন্যূনতম মজুরি ডিসেম্বর থেকে কার্যকর এবং জানুয়ারি মাসে বর্ধিত বেতন দেওয়ার বà¦...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটলেও তরুণ প্রজন্মের রাষ্ট্র মেরামতের আকাঙ্ক্ষà¦...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর মুগদা থানার সাইফুল হত্যা মামলায় তথ্য গোপন করে নিম্ন আদালতের একই আদেশের বিপরীতে তিনবার à¦...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : মোঃ মিজানুর রহমান, কুড়িগ্রাম :: সরকারি দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নির্ধারিত কুড়িগ্রাম জেà...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Bangla | Developed By Muktodhara Technology Limited