শিরোনাম
আবদুল্লাহ মজুমদার : | ০৭:২৫ পিএম, ২০২৬-০৭-০১
একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেবল শ্রেণিকক্ষ, পাঠদান আর পরীক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি একটি সমাজের চিন্তা, মূল্যবোধ ও ভবিষ্যৎ নির্মাণের অন্যতম ভিত্তি। তাই কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ প্রশাসন, পরিচালনা কাঠামো কিংবা সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের বিষয় হয়ে থাকে না—তা স্পর্শ করে পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতাকে।
চট্টগ্রামের হাটহাজারীর কে সি শহীদ জিয়াউর রহমান ডিগ্রি কলেজের গভর্নিং বডির এক সদস্যকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলো এমনই একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে। কলেজ শিক্ষক পরিষদের পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর দেওয়া আবেদনে ওই সদস্যের বিরুদ্ধে অনিয়ম, অসদাচরণ, প্রশাসনিক হস্তক্ষেপসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, গভর্নিং বডিতে সদস্য অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে প্রচলিত নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি এবং শিক্ষক পরিষদের মতামত নেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে দায়িত্ব পাওয়ার পর ওই সদস্য কলেজের বিভিন্ন বিষয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হলে তা একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক প্রশাসনিক কাঠামো ও জবাবদিহির জন্য উদ্বেগজনক বিষয় হয়ে দাঁড়াবে।
একটি গভর্নিং বডির মূল দায়িত্ব হলো প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে সহযোগিতা করা। এটি কোনো ব্যক্তি বিশেষের ক্ষমতা প্রদর্শন কিংবা প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্র নয়। তাই কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে নিয়মবহির্ভূত হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিবাদ করায় কয়েকজন শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া এবং মানসিকভাবে হয়রানির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি একজন প্রবীণ ও প্রতিষ্ঠাকালীন শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করার অভিযোগও তোলা হয়েছে। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকরা যদি স্বাধীনভাবে নিজেদের মত প্রকাশ করতে না পারেন কিংবা নিরাপদ কর্মপরিবেশ না পান, তাহলে এর নেতিবাচক প্রভাব পুরো শিক্ষা কার্যক্রমের ওপর পড়ে।
তবে অভিযোগের বিষয়টি যেমন গুরুত্বের দাবি রাখে, তেমনি এটিও মনে রাখতে হবে—অভিযোগই চূড়ান্ত সত্য নয়। একটি সভ্য ও দায়িত্বশীল ব্যবস্থায় যেকোনো অভিযোগের নিষ্পত্তি হতে হয় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে। অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র এবং সব পক্ষের মতামত যাচাই করেই প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা সম্ভব।
শিক্ষাঙ্গনের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো আস্থা। শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে বিশ্বাসের পরিবেশ না থাকলে কোনো প্রতিষ্ঠানই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে পারে না। প্রশাসনিক দ্বন্দ্ব, অনিয়মের অভিযোগ কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রশ্ন উঠলে তার সমাধান হতে হবে স্বচ্ছতা ও নিয়মের ভিত্তিতে।
বর্তমান সময়ে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কাঠামো নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা যাচ্ছে। এসব সংকট কাটাতে প্রয়োজন শক্তিশালী জবাবদিহি, নিয়মের যথাযথ প্রয়োগ এবং প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা। কারণ একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে পরিচালিত হওয়ার জায়গা নয়; এটি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গড়ার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র।
কে সি শহীদ জিয়াউর রহমান কলেজের ক্ষেত্রেও এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো—শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। এ জন্য চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া।
একটি শিক্ষাঙ্গনের মর্যাদা তার ভবন, অবকাঠামো কিংবা আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে নয়; তার প্রকৃত শক্তি নিহিত থাকে ন্যায়, স্বচ্ছতা, শৃঙ্খলা ও জবাবদিহির সংস্কৃতিতে। কে সি শহীদ জিয়াউর রহমান কলেজকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের সমাধানও হতে হবে সেই পথেই—যেখানে ব্যক্তি নয়, প্রাধান্য পাবে প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার স্বার্থ।
লেখক: অভিভাবক সদস্য, জুলেখা আমিনুর রহমান সিটি কর্পোরেশন উচ্চবিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদ।
আবদুল্লাহ মজুমদার : : জাতীয় পরিচয়পত্র একজন নাগরিকের রাষ্ট্রীয় পরিচয়ের অন্যতম প্রধান দলিল। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে তাঁর নাগর...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : ভাত আমাদের খুব আপন। প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় তার উপস্থিতি এত স্বাভাবিক যে, ভাত নিয়ে আলাদা করে ভা...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : আবদুল্লাহ মজুমদার রাত গভীর। চারপাশ নিস্তব্ধ। হঠাৎ দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ। ঘুম ভেঙে দরজা খুললেন মা। ...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট। ঢাকার মাটিতে থেমে গেল কাজী নজরুল ইসলামের জীবনের পথচলা। যে কবি একদিন অন্যায়ের ...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : কোনো কোনো কণ্ঠ শুধু গান গায় না, একটি সময়কে ধারণ করে। আবদুর রহমান বয়াতীর কণ্ঠ ছিল তেমনই—মাটির গন্ধ...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : ফল প্রকাশের পর মোবাইলের পর্দায় ভেসে ওঠে কয়েকটি সংখ্যা। কারও জন্য সেই সংখ্যা আনন্দের, কারও জন্য হতা...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Bangla | Developed By Muktodhara Technology Limited