শিরোনাম
আলাউদ্দিন বেলাল: | ০৫:৩৮ পিএম, ২০২৫-০৫-০৪
২০২৪ সালের জুলাই মাসে সংঘটিত রাষ্ট্রীয় সহিংসতা ও গণহত্যাকে “মিথ্যা”, “বানোয়াট” ও “রাজনৈতিক নাটক” বলে দাবি করে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেন চট্টগ্রাম বেতারের উপ-আঞ্চলিক পরিচালক গুলশাহানা উর্মি। একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তার এমন বক্তব্য কেবল শহিদদের অবমাননা নয়, বরং রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের কাঠামোকে আড়াল করার একটি সুস্পষ্ট প্রচেষ্টা। ছাত্ররাজনীতি থেকে প্রশাসনে, তারপর প্রোপাগান্ডার মঞ্চে জানা যায়, গুলশাহানা উর্মি দীর্ঘদিন ধরেই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ২০০২-২০১০ পর্যন্ত তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হল শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পরবর্তীতে ২৮তম বিসিএসের মাধ্যমে তথ্য ক্যাডারে যোগ দিয়ে তিনি প্রশাসনে ঢোকেন। অথচ তাঁর রাজনৈতিক আনুগত্য এবং পক্ষপাত কখনোই আড়াল থাকেনি। বরং আজ তা প্রকাশ্য।
এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হলে সিট পাওয়ার ২ দিনের মাথায় আমি ছাত্রলীগ নেতাদের খুঁজে বের করে বলেছিলাম আমি ছাত্রলীগ করতে চাই।” ১/১১-এর সময় শেখ হাসিনার মুক্তির দাবিতেও তিনি সক্রিয় ছিলেন। আওয়ামী লীগ: একটি গণহত্যাকারী রাজনৈতিক দল? বর্তমান বাস্তবতায় আওয়ামী লীগকে একটি গণহত্যাকারী রাজনৈতিক দল হিসেবে চিহ্নিত করা এখন কেবল রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, বরং বাস্তব ঘটনার আলোকে বিশ্লেষণ। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর গুলিতে একাধিক ছাত্র ও মানবাধিকার কর্মী নিহত হন—যা আজকের ইতিহাসে ‘জুলাই গণহত্যা’ হিসেবে চিহ্নিত। ভিডিও, ছবি এবং প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য এই হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ বহন করে। এই প্রেক্ষাপটে গুলশাহানা উর্মির বক্তব্য—যেখানে তিনি শহিদদের পরিচয় অস্বীকার করে সেই হত্যাকাণ্ডকে “প্রোপাগান্ডা” বলেন—তা নিছক মতামত নয়। বরং এক গভীর রাজনৈতিক অপপ্রচারের অংশ। তিনি প্রশাসনের ছত্রছায়ায় থেকে আওয়ামী লীগের পক্ষে কাজ করছেন—এই দাবি এখন নাগরিক সমাজে জোরালো। দলীয় প্রচারে স্বামী-স্ত্রীর জোট গুলশাহানা উর্মির স্বামী এন. আই. আহমেদ সৈকত বর্তমানে আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির উপ-আইসিটি সম্পাদক। অভিযোগ রয়েছে, তিনি সরকারি রিসোর্স ও প্রভাব ব্যবহার করে ডিজিটাল মাধ্যমে দলীয় ইমেজ পুনর্গঠন ও আন্দোলন বিরোধী প্রোপাগান্ডায় সক্রিয়। এ দম্পতির যৌথ অবস্থান স্পষ্ট করে, তাঁরা কেবল ক্ষমতাসীন দলের পরিবারই নন—বরং প্রশাসনের ভিতরে বসেই সেই দলের হয়ে সরাসরি কাজ করছেন। মানবিক ও প্রশাসনিক বিশ্বাসঘাতকতা গুলশাহানা উর্মির পিতা ছিলেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা (BCS Admin)। সেই পরিবারের সন্তান হয়েও আজ তিনি শহিদদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছেন, যা দেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মানবিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। তাঁর কর্মকাণ্ডে প্রকাশ পায়—একজন সরকারি কর্মকর্তা কীভাবে রাষ্ট্রীয় সহিংসতার পক্ষে অবস্থান নিয়ে ইতিহাস বিকৃতির অংশ হতে পারেন। তদন্ত দাবি ও নাগরিক প্রতিক্রিয়া নাগরিক সমাজ, মানবাধিকার কর্মী ও সাবেক আমলারা বলছেন—গুলশাহানা উর্মিকে অবিলম্বে ওএসডি করে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করা হোক। অন্যথায় তিনি ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে প্রশাসনের ভিতর থেকে প্রভাব বিস্তার করে জনগণের স্বার্থবিরোধী অপতৎপরতা চালাতে পারেন। একজন মানবাধিকার কর্মীর ভাষায়, “এই ধরনের কর্মকর্তা প্রশাসনে থাকলে সত্যকে গলা টিপে হত্যা করা হয়—তাঁদের অবস্থান চিহ্নিত করে ব্যবস্থা না নিলে শুদ্ধি আসবে না।”
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : চট্টগ্রামের কিশোরী সুপর্বা সুধা বিশ্বাস। ১৩ বছর বয়সী অষ্টম শ্রেণির এই শিক্ষার্থীর ঝুলিতে ইতোমধ্...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : বাংলাদেশ এডিটরস্ ফোরাম গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছে যে, সম্প্রতি চট্টগ্রামের একটি দৈনিক পত্রি...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : নোবিপ্রবি প্রতিনিধি : জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি ও শহীদদের স্মরণে বাংলাদেশ ইসলাম...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে শারীরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শুধু পুরুষের শাস্তির বিধান কেন অবৈধ নয়, তা জানতে ...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাগুলোর বিচার অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে এগোচ্...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষা প্রতি...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Bangla | Developed By Muktodhara Technology Limited