শিরোনাম
সাজেদা হক : | ০৭:৩৫ পিএম, ২০২৪-০৫-১৬
আমার বয়স এখন ৭৩ বছর। ২০/২২ বছর বয়সে মায়ের কাছে ২৫০০ টাকা নিয়ে কাপড়ের ব্যবসা শুরু করি। সেই ব্যবসা দিয়েই প্রতিষ্ঠা করি সোনালী বস্ত্রালয়। পরে সেই ব্যবসায় ভাইকে বসিয়ে শুরু করি মুদি দোকানের ব্যবসা। সেই ব্যবসার টাকা দিয়ে ক্রয় করি ট্রাক, শুরু করি হোটেল ব্যবসাও। এভাবে আস্তে আস্তে আমার সম্পদ বেড়েছে। তিন সন্তানকে মানুষ করেছি। ছেলে এসপি হওয়ার আগেই আমি সেরা করদাতা হয়েছি। একবার না বার বার, বহুবার। কথাগুলো বলছিলেন জামালপুর এসপি কামরুজ্জামানের বাবা আবুল কাশেম। সম্প্রতি ‘এসপির বাবার সম্পদের পাহাড়ঃ ছেলেকে ধরতে গিয়ে দুদকের জালে বাবা’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করে একটি জাতীয় দৈনিক।
সেই সুত্র ধরে জানতে চাইলে এসপির বাবা আবুল কাশেম বলেন, ২০০৭-০৮ করবর্ষে দিনাজপুর জেলার সর্বোচ্চ আয়কর প্রদানকারী হিসেবে সম্মাননা নিয়েছি, তখনও এসপি হয়নি ছেলে। এরপর ২০১৭-২০১৮, ২০১৮-২০১৯ করবর্ষেও সেরা করদাতা হয়েছি। ব্যবসা করতে গিয়ে, বন্ধু যত পেয়েছি, প্রতিযোগীও পেয়েছি ততই। পেশাগত প্রতিদ্বন্দ্বীদের অনেকেই শত্রুতা পরবশ হয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগ দায়ের করলে আমি নিজেই আমার সম্পদের হিসেব দিয়েছি। যা ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে। সারাজীবন সৎ পথে চলেছি, সৎভাবে ব্যবসা করেছি, সৎ উপার্জন করেছি। আমার প্রত্যেক সম্পদের জন্য প্রচলিত আয়কর আমি নিয়মিত প্রদান করে আসছি। সন্তানদেরকেও একই নির্দেশ দেয়া আছে। এখন আমার বয়স ৭৩। আমি আরো ১৫ বছর বাঁচতে চাই। একটি হাসপাতাল বানাতে চাই। সে হাসপাতালে গরীবদের চিকিৎসা হবে বিনাখরচে আর ধনীদের সেবা নিতে ব্যয় করতে হবে অর্থ। আমার বানানো হাসপাতালেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করবো এটাই আমার শেষ ইচ্ছা বলতে পারেন-বলে প্রতিবেদককে জানান তিনি।
এই্ প্রতিবেদনের বিষয়ে জামালপুরের এসপি’র সাথে যোগাযোগ করলে প্রতিবেদককে তিনি জানান, দৈনিকে প্রকাশিত “এসপির বাবার সম্পদের পাহাড়ঃ ছেলেকে ধরতে গিয়ে দুদকের জালে বাবা” শিরোনামে করা অসত্য ও মানহানিকর সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ ও আপত্তি জানাচ্ছি। তিনি বলেন, সাংবাদিকতার সকল ধরনের মানদণ্ডকে উপেক্ষা করে সংবাদটি এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যাতে পুলিশ সুপারের মতো একটি দায়িত্বশীলকে পদকে হেয় করা হয়েছে এবং একজন প্রাথমিক অনুসন্ধানে পাওয়া অভিযোগকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে পাঠকের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। আমার বাবা জনাব আবুল কাশেমের প্রায় ৫০ বছরের অধিক সময়ে ধরে তিনি সুনামের সাথে ব্যবসা করে আসছেন। তিনি দিনাজপুর জেলার সেরা করদাতা নির্বাচিত হন। এ ছাড়াও তিনি একাধিকবার জেলার সেরা করদাতা ও রংপুর বিভাগের সেরা ১০ করদাতার তালিকায় স্থান করে নেন। তিনি অত্যন্ত স্বচ্ছতা ও ন্যায়নীতির সাথে তার ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। দুদকের করা এজাহারেও তার বিরুদ্ধে তথ্য গোপণ ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, সেসব সম্পদের বিষয় তার ট্যাক্স ফাইলে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।
তিনি প্রতিবেদককে আরও জানান, আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এটি এক ধরনের “ইচ্ছাকৃত ভুল বা ভুল বোঝাবুঝি”। একজন পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে, আমি বিশ্বাস করি, এই মামলার তদন্তের মাধ্যমে এই ঘটনার প্রকৃত সত্য বের হয়ে আসবে। আমি এই মামলার এজাহারের কপি দেখে দায়িত্ব নিয়ে বলছি, এই মামলার কোথাও আমার নাম কিংবা আমার সরকারি পদ এর কথা উল্লেখ না থাকলেও আমার নাম ও আমার বর্তমান পদকে উল্লেখ করে কালের কন্ঠের মানহানিকর, অর্ধসত্য ও মিসলিডিং সংবাদ প্রকাশ করা সাংবাদিকতার নীতিবিরোধী ও বাংলাদেশের বিদ্যমান আইনানুসারে দণ্ডনীয় অপরাধ। মামলার তদন্ত শেষ না হওয়ার পূর্বেই আমার নাম ও আমার পদকে এরূপ আপত্তিকর সংবাদ প্রকাশের জন্য দৈনিকটিকে তিনি ক্ষমা প্রার্থনাসহ উক্ত সংবাদটি সরিয়ে নেওয়া এবং আমার এই রিজয়েন্ডারটি প্রকাশ করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছি বলে জানান। একই সাথে তিনি এই প্রতিবেদককে জানান, অন্যথায়, আমার ও আমার সরকারি পদের বিরুদ্ধে মানসম্মানহানীকর সংবাদ প্রকাশের জন্য বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবে আমার সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনে বাধ্য হবো।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৩ সালের জানুয়ারি মাসের আট তারিখে দুর্নীতি দমন কমিশনের উপ-পরিচালক মলয় কুমার সাহা দুদকে তৎকালীন এএসপি (সদর সার্কেল) কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে তার ড্রাইভার নজরুল ইসলামকে মারধরের অভিযোগ করেন। সেই অভিযোগ পত্রে তৎকালীন এএসপি (সদর সার্কেল)এর নাম উল্লেখ করেন কামরুল ইসলাম। আবার একই বছরের এপ্রিলের ২৫ তারিখে দুর্নীতি দমন কমিশনের উপ-পরিচালক ও অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা মোঃ জুলফিকার আলী সাক্ষরিত এক অভিযোগ পত্রেও তৎকালীন এএসপি (সদর সার্কেল)কে অভিহিত করা হয় কামরুল ইসলাম নামে। আদলে তৎকালীন এএসপি (সদর সার্কেল) এর সার্টিফিকেট এবং অফিসিয়াল নাম হলো মোঃ কামরুজ্জামান। অভিযোগ ২টি হলেও ভুলের ধরণ এক। অর্থাৎ নিশ্চিতভাবে অনুমেয় যে, অভিযোগের উৎপত্তিস্থল একই। এছাড়া জুলফিকার আলীর অভিযোগ তদন্ত করেন দুদকের সহকারী পরিচালক মানসী বিশ্বাস। দীর্ঘদিন এই বিষয়ে অনুসন্ধান করে তিনি জামালপুরের এসপি মো. কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি মর্মে প্রতিবেদনও জমা দেন। মানসী বিশ্বাস তাঁর প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, মো. কামরুজ্জামানের অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধানের জন্য তাঁকে দায়িত্ব দেওয়া হলে তিনি এ বিষয়ে দীর্ঘদিন কাজ করেন। এ সময় পুলিশ কর্মকর্তার নামে কোন অবৈধ সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়নি।
অনুসন্ধানকালে জানা যায়, ২০২০ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি আবুল কাশেম দুদককে সাত কোটি ২১ লাখ ৭৩ হাজার ৫৮০ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের হিসাব বিবরণী জমা দেন। সব সম্পদের আয়কর বিবরনীও সংযুক্ত করেন। তাঁর সব ধরণের ব্যবসাও চলমান। একইভাবে সময়ও গড়িয়েছে ৪ বছর। ব্যবসা থাকলে সম্পদও বাড়বে এটাই স্বাভাবিক, সেটিও বিবেচনায় রাখা উচিত বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন দুদকের একাধিক কর্মকতা। তারা বলছেন, আবুল কাশেমের সম্পদের বিবরনীতেও কোন গড়মিল পাওয়া যায় নাই। প্রতিশোধ পরায়ন হয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন দুদকের কোন কোন কর্মকর্তা বলেও জানান বিশ্বস্ত সুত্রগুলো।
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : সিরাজগঞ্জ ব্যুরো চীফ : সিরাজগঞ্জ জেলার কামারখন্দ উপজেলার হালুয়া কান্দি মফিজ উদ্দিন তালুকদার স্ম...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : সিরাজগঞ্জ ব্যুরো চীফঃ বিগত সতেরো বছরে ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সকল রক্ত চক্ষুকে উপেক্ষা করে ...বিস্তারিত
মাহাদী বিন সুলতান, রাঙ্গামাটি: : সারাদেশের ন্যায় 'নৌযান শুমারি-২০২৬' সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে রাঙামাটিতে অংশীজনদের নিয়...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি : জুলাই ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভ...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি : ৫ আগস্ট ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি ...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি : জুলাই ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভ...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Bangla | Developed By Muktodhara Technology Limited