শিরোনাম
কাজী হুমায়ুন কবির | ০৩:৪৬ পিএম, ২০২৬-০৭-০৪
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলাগুলোর তদন্তের দীর্ঘসূত্রিতা এবং প্রধান কার্যালয় থেকে জেলা কার্যালয়গুলোতে অভিযোগ, মামলার নথি চালাচালি,পর্যবেক্ষন, তদন্তের দায়িত্ব প্রদান ও মামলার প্রক্রিয়া পর্যন্ত যে সময় অতিবাহিত হওয়ার সংস্কৃতি চলমান তাতে অপরাধীরা মামলা ও শাস্তির আওতায় আসতে দীর্ঘ বছর লেগে যায়। এই সুযোগে অপরাধী কর্মকর্তারা সুযোগ তবিয়তে প্রতিষ্ঠানের পদে বহাল থাকেন। অভিযোগ আছে, বিচারের দীর্ঘসুত্রিতা ও কয়েক দুদুক কর্মকর্তা ম্যানেজ হওয়ার কারনে সেসব কর্মকর্তারা আরো বেপোরোয়া হয়ে উঠে । আইনি দুর্বলতা, তদন্তে দীর্ঘ সময়ক্ষেপণ এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারের অভাবে বছরের পর বছর ধরে অপরাধীরা থাকে ধরাছোঁয়ার বাইরে। এতে দুর্নীতি কমে যাওয়ার চেয়ে ঘুষ, অর্থপাচার, অর্থ ও সম্পদ লুটপাট, দুর্নীতি বাড়ছে দিনের পর দিন।
সরেজমিন দুদুক সুত্রে জানা যায়, রেল পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চল, রাজউক, সিডিএ, গৃহায়ন ও গণপূর্ত, পাসপোর্ট অফিস, এলজিইডি, কর্নফুলী গ্যাস, বিআইডব্লিউটিএ, বিসিআইসি, সেতু অধিদপ্তর, অয়েল কোম্পানি, স্বাস্হ্য অধিদপ্তরের অসংখ্য দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ও অসংখ্য মামলা রয়েছে। যা এখনো তদন্তাধীন, নিস্পত্তি হয়নি। অনেকগুলো অভিযোগ এখনো অভিযোগ আকারেই রয়েছে। দুদকে চলমান মামলার দীর্ঘসুত্রিতার জটে দুদুকের প্রতি জনগণ ও সৎকর্মকর্তাদের আস্থার সংকট তৈরী হচ্ছে। আরো অভিযোগ রয়েছে দুদুক রোলিং পার্টি বা সরকারের চলমান কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে হওয়া দুর্ণীতির মামলাগুলোতে শিথিল ভাবে তদন্ত করে। যার কারনে সরকারে দূর্ণীতিবাজ কর্মকর্তারা ম্যানেজ করে নিজ পদে বহাল থেকে দুর্নীতি করার আরো সুযোগ পেয়ে যায়।
জানা যায়, দুর্নীতি দমন ব্যুরোর পুরোনো অমীমাংসিত মামলাগুলোর অনিষ্পত্তির দীর্ঘ জট মামলার কার্যকারিতা কমিয়ে দিচ্ছে। তদন্ত প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়ার কারণে অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীরা হারিয়ে যান বা প্রমাণাদি নষ্ট হয়ে যায় অথবা অনেকের চাকুরীর মেয়াদকালও শেষ হয়ে যায়। আবার অনেকে মামলা স্ট্রে করে রাখেন দীর্ঘ সময়, দুদুক সেই মামলাগুলো ঠিকমতো পরিচালনা করেন না। করলেও আদালতে অপরাধীদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান তৈরি করা কঠিন হয়ে পড়ে। বাংলাদেশের সামগ্রিক বিচার ব্যবস্থায় একটি ফৌজদারি মামলা নিষ্পত্তি হতে যেখানে প্রায় ৫ থেকে ১০ বছর সময় লেগে যায়, সেখানে দুদুকে দুর্নীতির মামলাগুলো আরও বেশি বছর ধরে আইনি মারপ্যাঁচে আটকে থাকে। সরকারি বিভিন্ন দপ্তর বা ব্যাংক থেকে দুর্নীতির সঠিক তথ্য, নথিপত্র ও রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করতে অনেক সময় লেগে যায়। আবার অনেক সময় রাস্ট্রের সরকার পরিবর্তন হলে কয়েক প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে করা মামলাগুলো তদন্ত না হয়ে অটোমেটিক শ্রীঘরে চলে যায়।
গত কয়েক বছরে ধরে দুদকের মামলা নিষ্পত্তির হার এবং সাজার হারের বড় ধরনের ওঠানামা দেখা গেছে। সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মামলা নিষ্পত্তির গতি অত্যন্ত ধীর হলেও সাজার হারে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে।
নিচে দুদক সুত্রে পাওয়া মামলা নিষ্পত্তির হার এবং সাজার হারের মূল পরিসংখ্যানে দেখা যায় মামলা নিষ্পত্তির ধীরগতিতে আদালতে বিচারাধীন হাজার হাজার মামলার তুলনায় বার্ষিক মামলা নিষ্পত্তির হার খুবই হতাশাজনক। দুদকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৫ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর মোট বিচারাধীন মামলার মাত্র ৭.৫% থেকে ১০% মামলা নিষ্পত্তি সম্ভব হয়েছে। বাকি ৯০% মামলাই বছরের পর বছর ঝুলে থাকে। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে মাত্র ৩৩টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। বর্তমানে বিশেষ জজ আদালতগুলোতে কমিশন ও ব্যুরো আমলের হাজার হাজার মামলা বিচারাধীন রয়েছে। ২২ বছর আগে বিলুপ্ত হওয়া 'দুর্নীতি দমন ব্যুরো'র আমলের ৩৩৫টি মামলা এখনও দেশের বিভিন্ন আদালতে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ঝুলে রয়েছে।
দুদকের মামলায় আসামিদের দোষী সাব্যস্ত হওয়ার বা সাজার হার বিগত বছরগুলোতে ধারাবাহিকভাবে কমেছিল, তবে সাম্প্রতিক সময়ে তা কিছুটা ইতিবাচক দিকে মোড় নিয়েছে। ২০২০ সালে সাজার হার ছিল সর্বোচ্চ ৭২%। ২০২৩ সালে সাজার হার কমে দাঁড়ায় ৫৭%-এ, ২০২৪ সালে সাজার হার গত আট বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন ৪৭%-এ নেমে আসে (অর্থাৎ অর্ধেকের বেশি আসামি খালাস পেয়ে যান)। ২০২৫ সালে পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় সাজার হার কিছুটা বেড়ে ৫২%-এ উন্নীত হয়। মামলা দায়ের ও চার্জশিটের চিত্রে ২০২৫ সালে রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পটপরিবর্তনের পর দুদক রেকর্ডসংখ্যক ৫৯৪টি নতুন মামলা দায়ের করে এবং ৪১৩টি মামলায় চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করে। তবে ২০২৬ সালের মার্চ মাসে কমিশনের শীর্ষ নেতৃত্ব (চেয়ারম্যান ও কমিশনারগণ) পদত্যাগ করায় বর্তমানে মামলা দায়ের এবং তদন্ত অনুমোদনের গতিতে কিছুটা স্থবিরতা তৈরি হয়েছে।
তাছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশনে বর্তমানে চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের পদশূন্যতার কারণে কমিশনের মূল কার্যক্রম যেমন- অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু, মামলা দায়ের এবং চার্জশিট অনুমোদন মারাত্মকভাবে অনেকটা বন্ধ রয়েছে। যার ফলে দুদক আইনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও বাস্তবে তা মানা হয় না। বর্তমানে দুদুকে করা অসংখ্য অভিযোগ ও মামলা অনেকটাই নিস্ক্রিয় অবস্হায় রয়েছে। দুদুককে টেকসই প্রতিরোধ কার্যক্রম পরিচালনায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হলে যত দ্রুত সম্ভব দুর্নীতি দমন কার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিনত করতে হবে।
উল্লেখ্যযে, রাষ্ট্র সংস্কারের অংশ হিসেবে একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও কার্যকর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কোনও বিকল্প নেই। সেই উদ্দেশ্যে দেশের বিগত অন্তর্বর্তী সরকার গত বছরের ৩ অক্টোবর গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ‘দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কার কমিশন’ গঠন করেন। এই সংস্কার কমিশন দুদকের প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা, আইনি কাঠামো, কার্যপদ্ধতি, জবাবদিহি, আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনা ও সক্ষমতা, অভ্যন্তরীণ সুশাসন, পেশাগত দক্ষতা, দুর্নীতি প্রতিরোধী ভূমিকা এবং আন্ত-এজেন্সি সমযোগিতা ও সমন্বয়কে চিহ্নিত করে। দুদুকের সংস্কার কমিশন গঠন যত দেরী হবে তত রাস্ট্রীয়ভাবে ঘুষ ও দূর্নীতি বন্ধ হবেনা। দেশের টাকা লুট হয়ে যাবে। দুর্নীতির লাগাম টানতে ও অপরাধীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে স্বাধীন কমিশন হিসেবে দুদককে কার্যকর করা এবং বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা কমানো এই সময়ের প্রধান দাবি। একটি সত্যিকারের স্বাধীন ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান হিসেবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) যাতে তার কার্যক্রম পরিচালনা এবং জনআস্থার সংকটে নিমজ্জিত অবস্থা থেকে উত্তরণ লাভ করতে পারে, সেই লক্ষ্যে সরকারের কাছে দুর্নীতি দমন কমিশন অধ্যাদেশ প্রণয়নের জোর দাবি জানিয়েছে বিশিষ্টজনরা।
গতকাল বিকেলে নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলা পরিষদ চত্বরে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে কৃষি উপকরণ বিতরণ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও নোয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন দুদকের ভেতরেই সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি হয়। তারা ক্ষমতাসীন সরকারের প্রতি তোষামোদ করে। সরকারি এ প্রতিষ্ঠানটিকে চরিত্র বদলাতে হবে। ছোটখাটো বিষয় নিয়ে মানুষকে হয়রানি করা হয়। আর বড় বড় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ক্লিন সার্টিফিকেট দেয়া হয়। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে দুদকের বর্তমান চরিত্র বদলাতে হবে। বিগত সরকারের সময়ে অনেক সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিকে চাকরি হারাতে হয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক : রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র দাখিলের ...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : চট্টগ্রামের কিশোরী সুপর্বা সুধা বিশ্বাস। ১৩ বছর বয়সী অষ্টম শ্রেণির এই শিক্ষার্থীর ঝুলিতে ইতোমধ্...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : বাংলাদেশ এডিটরস্ ফোরাম গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছে যে, সম্প্রতি চট্টগ্রামের একটি দৈনিক পত্রি...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : নোবিপ্রবি প্রতিনিধি : জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি ও শহীদদের স্মরণে বাংলাদেশ ইসলাম...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে শারীরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শুধু পুরুষের শাস্তির বিধান কেন অবৈধ নয়, তা জানতে ...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাগুলোর বিচার অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে এগোচ্...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Bangla | Developed By Muktodhara Technology Limited