শিরোনাম
আ.ন.ম. তাজওয়ার আলম | ০৬:০৩ পিএম, ২০২৫-০২-১১
সেন্ট জোসেফের শিক্ষার্থী শহীদ আদনান তাসিনের বাবা ও ‘সড়কে সন্তান-স্বজনহারা পরিবার ফোরাম’-এর আহ্বায়ক জানান, ২০১৯ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি আদনান তাসিন সেন্ট জোসেফ থেকে বাসায় ফেরার পথে দ্রুতগামী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ‘উত্তরা পরিবহন’ নামের একটি বাস তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করে।
ঢাকা বিমানবন্দর সড়কের শেওড়া বাসস্ট্যান্ডের (বর্তমানে প্রস্তাবিত ‘আদনান চত্বর’) জেব্রা ক্রসিংয়ে শিক্ষার্থী পোশাকে দাঁড়িয়ে থাকা আদনানকে ২৯ জুলাইয়ের দিয়া-করিম সড়ক আন্দোলনের প্রতিশোধ নিতে ঠাণ্ডা মাথায় বাসের চাকায় পিষ্ট করা হয়।
ঘাতকরা ধরাছোঁয়ার বাইরে, হয়নি বিচার
এই নির্মম হত্যাকাণ্ড মিডিয়ায় তেমনভাবে না আসা, ভাইরাল না হওয়া, বাবার অসুস্থতা এবং টাকার শক্তির অভাবে আজও ঘাতকদের ধরা হয়নি, বিচারও হয়নি। পুলিশ এখনো ঘাতক চালককে খুঁজে পায়নি। যদি ধরাই না হয়, তবে বিচার কিসের ভিত্তিতে হবে?
সরকারি কুর্মিটোলা হাসপাতালে পুলিশ কেসের ভয়ে তাসিনকে চিকিৎসা না দিয়ে বারান্দায় ফেলে রাখা হয়। দুই ঘণ্টা পর পরিবারের সদস্যরা জানতে পেরে তাকে ঢাকা সিএমএইচ-এ নিয়ে যান। সিএমএইচ তাকে "Received Dead Body" বলে ডেড সার্টিফিকেট দেয়। অথচ পুলিশ তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, "ভিকটিমকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে।"
তাসিনের বাবা প্রশ্ন করেন, "আমার সন্তান কোন হাসপাতালে ভর্তি ছিল? চিকিৎসা কোথায় হয়েছিল?"
মামলায় দুর্বলতা রেখে দায়মুক্তি দেওয়ার চেষ্টা
হত্যাকাণ্ডের দিন পুলিশ বাদী হয়ে খিলক্ষেত থানায় সড়ক পরিবহন আইনের ১০৫ ধারায় মামলা করে। শুরুতে মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন এসআই মোফাখখারুল ইসলাম। পরবর্তীতে দায়িত্ব নেন এসআই রিপন কুমার।
এ বছরের ১৫ জানুয়ারি তিনি মামলার ধারা পরিবর্তন করে দণ্ডবিধির ২৭৯/৩০৪ (খ) ধারায় আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। এতে চালক মো. জাকিরকে (৪০) একমাত্র আসামি করা হয়। বাসের মালিক সাত্তার হাওলাদার ও লিজ নিয়ে পরিচালনাকারী এমরান শেখকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয় এবং আদালতে বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়।
তাসিনের বাবা বলেন, "মামলায় যতটা সম্ভব ফাঁকফোকর রাখা হয়েছে, যেন দোষীরা ছাড় পেয়ে যায়। এমনকি জব্দ করা বাসটিও মালিককে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।"
প্রথম আলো গাজীপুর প্রতিনিধি চালকের গ্রামের ঠিকানায় গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন। তারা জানান, জাকিরকে এলাকায় দেখা যায় না।
বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি
মেধাবী শিক্ষার্থী আদনান তাসিন হত্যাকাণ্ডের বিচারহীনতার ৬ বছর উপলক্ষে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ ঘাতক চালক, বাস মালিক, পরিচালক ও হেল্পারের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে।
১১ ফেব্রুয়ারি "সড়কে হত্যাকাণ্ড প্রতিবাদ দিবস" হিসেবে ঘোষণা দিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ আহ্বান করা হয়েছে।
নিরাপদ সড়ক চাই-এর প্রতিষ্ঠাতা ইলিয়াস কাঞ্চন এক মানববন্ধনে বলেন, "সড়কে ফুটওভার ব্রিজ যারা সরিয়েছে, তারা বিকল্প ব্যবস্থা না করেই জনগণের জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে।" তিনি বিআরটি কর্মকর্তাদের ও সিটি কর্পোরেশনকে এ ঘটনার জন্য দায়ী করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
শিক্ষার্থীদের একটাই দাবি— ন্যায়বিচার চাই, নিরাপদ সড়ক চাই!
আমাদের বাংলা : : যশোর ব্যুরো যশোরে পৃথক দুর্ঘটনায় এক ইন্টারনেটকর্মী ও এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার ২২ সেপ্টে...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা : : যশোর ব্যুরো যশোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে একটি মিনি কাভার্ডভ্যান থেকে বিপুল পরিমাণ ...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা : : যশোর ব্যুরো অত্যন্ত আনন্দ ও উদ্দীপনাময় পরিবেশের মধ্য দিয়ে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে স...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানি খাতের বড় অংশজুড়েই রয়েছে মৌলিক বা ‘বেসিক’ পণ্য। টি-শার্ট, প্যান্ট, ...বিস্তারিত
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি : : কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশ...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : তেলের দাম বাড়লেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে না বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Bangla | Developed By Muktodhara Technology Limited