শিরোনাম
আবদুল্লাহ মজুমদার : | ০৭:৫১ পিএম, ২০২৬-০৯-২৪
চট্টগ্রাম বন্দরের জেটিতে দিনভর কনটেইনারের ওঠানামা। বিশাল ক্রেন, ছুটে চলা ট্রাক আর ব্যস্ত বন্দরের এই কর্মযজ্ঞের আড়ালে প্রতিটি পণ্যের সঙ্গে যুক্ত হয় নানা ধরনের খরচ। জাহাজ থেকে নামার পর হ্যান্ডলিং, পরিবহন, গুদামজাতকরণ, শুল্ক-কর, ব্যাংকিং—একটির পর একটি ব্যয়ের ধাপ পেরিয়ে পণ্যটি যখন বাজারে পৌঁছায়, তখন তার দামের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায় অনেক হিসাব। এবার সেই হিসাবের আরেকটি জায়গায় যোগ হয়েছে নতুন সংখ্যা—৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ। প্রশ্ন হলো, এই বাড়তি ব্যয়ের শেষ বোঝা গিয়ে পড়বে কার ওপর?
বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোস অ্যাসোসিয়েশন (বিআইসিডিএ) আমদানি, রপ্তানি ও খালি কনটেইনার ব্যবস্থাপনার ছয় ধরনের সেবা চার্জ ৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ বাড়িয়েছে। ২১ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন হার কার্যকর হয়েছে। সংগঠনটির বক্তব্য, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে বেসরকারি আইসিডিগুলোর জ্বালানি-নির্ভর পরিচালন ব্যয় বেড়েছে। একই দিনে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা হয়েছে, যা প্রায় ১৭ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি।
বিআইসিডিএর ব্যয় বৃদ্ধির যুক্তি থাকতেই পারে। কিন্তু জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—এই বাড়তি ব্যয়ের শেষ বোঝা কে বহন করবে? আমদানিকারক তা নিজেরা সামলাবেন, ব্যবসায়ী মুনাফা কমাবেন, নাকি শেষ পর্যন্ত পণ্যের দাম বাড়িয়ে সেই ব্যয় ভোক্তার ওপর চাপানো হবে?
প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ কনটেইনার হ্যান্ডলিং কোনো বিচ্ছিন্ন ব্যয় নয়। আমদানি করা একটি পণ্য বন্দরে আসার পর পরিবহন, হ্যান্ডলিং, গুদামজাতকরণ, শুল্ক-কর, ব্যাংকিংসহ নানা খরচের মধ্য দিয়ে বাজারে পৌঁছায়। এসবের কোনো একটি স্তরে ব্যয় বাড়লে পণ্যের মোট অবতরণ ব্যয় বা ল্যান্ডেড কস্ট বাড়তে পারে। এরপর সেই বাড়তি ব্যয়ের কতটা ব্যবসায়ী বহন করবেন এবং কতটা বাজারদরে যুক্ত হবে, সেটিই নির্ধারণ করবে ভোক্তার ওপর প্রকৃত চাপ।
তবে একটি বিষয় পরিষ্কার থাকা দরকার—হ্যান্ডলিং চার্জ ৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ বাড়লেই পণ্যের দাম ৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ বাড়বে, এমন নয়। পণ্যের চূড়ান্ত দাম নির্ভর করে আন্তর্জাতিক বাজারদর, ডলার বিনিময় হার, শুল্ক-কর, পরিবহন, গুদামজাতকরণ, অর্থায়ন ব্যয়, সরবরাহ পরিস্থিতি ও ব্যবসায়িক মুনাফাসহ আরও অনেক বিষয়ের ওপর। তাই চার্জ বৃদ্ধির সঙ্গে খুচরা দামের সরাসরি এক-অনুপাতের সম্পর্ক তৈরি করা ঠিক হবে না।
তবে আমদানিকারকের ব্যয় বাড়লে পণ্যের মোট খরচ বাড়ার সম্ভাবনা থাকে। বিশেষ করে যেসব পণ্য বা শিল্পের কাঁচামাল আমদানিনির্ভর, সেখানে এই বাড়তি ব্যয় সরবরাহব্যবস্থার পরবর্তী ধাপেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
একসঙ্গে বাড়ছে ব্যয়ের একাধিক স্তর
এবারের পরিস্থিতির বিশেষত্ব এখানেই। ২১ সেপ্টেম্বর শুধু কনটেইনার হ্যান্ডলিং চার্জ বাড়েনি, একই দিন ডিজেলের দামও ১৭ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা থেকে ১৩৫ টাকা, পেট্রল ১৪০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৪৫ টাকা থেকে ১৬৫ টাকা করা হয়েছে।
জ্বালানির দাম বাড়লে প্রথমে পরিবহন ও পরিচালন ব্যয়ে চাপ পড়ে। সেখান থেকে কনটেইনার ব্যবস্থাপনা এবং সরবরাহব্যবস্থার অন্যান্য ধাপেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
অর্থনীতিতে এ ধরনের পরিস্থিতিকে ব্যয়-চালিত মূল্যচাপ হিসেবে দেখা হয়। কোনো একটি খাতে ব্যয় বাড়লে তা উৎপাদন বা সরবরাহের পরবর্তী ধাপে চলে যেতে পারে। একপর্যায়ে সেই বাড়তি ব্যয়ের একটি অংশ পণ্যের দামে যুক্ত হতে পারে।
তবে এর প্রকৃত প্রভাব কতটা হবে, তা এখনই নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। এটি নির্ভর করবে বাজারের প্রতিযোগিতা, ব্যবসায়ীদের ব্যয় বহনের সক্ষমতা, পণ্যের চাহিদা ও সরবরাহ এবং অন্যান্য ব্যয়ের ওপর।
চট্টগ্রামের জন্য বিষয়টি কেন গুরুত্বপূর্ণ?
চট্টগ্রাম দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। বেসরকারি আইসিডিগুলো এই বাণিজ্য ও সরবরাহব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম ও আশপাশের ১৯টি বেসরকারি আইসিডিতে প্রায় ৯৩ শতাংশ রপ্তানি পণ্য জাহাজে ওঠার আগে কনটেইনারে ভরা হয়। আবার বন্দর থেকে প্রায় ২১ শতাংশ আমদানি কনটেইনার বেসরকারি আইসিডিতে যায়, যেখানে আমদানিকারকদের কাছে পণ্য সরবরাহ করা হয়।
তাই হ্যান্ডলিং চার্জের পরিবর্তনকে শুধু আইসিডির নিজস্ব ব্যয়ের বিষয় হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি পাওয়া যাবে না। এর প্রভাব আমদানিকারক থেকে পরিবহন, গুদামজাতকরণ, পাইকারি ও খুচরা বাজার পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে।
আমদানি করা কাঁচামালের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান বিদেশ থেকে কাঁচামাল এনে দেশে পণ্য উৎপাদন করলে সেই কাঁচামালের আমদানি ব্যয়ের সঙ্গে হ্যান্ডলিং ও পরিবহন ব্যয়ও যুক্ত হয়। এসব ব্যয় বাড়লে উৎপাদন খরচে চাপ তৈরি হতে পারে। ফলে কনটেইনারের বাড়তি খরচ দেশে উৎপাদিত পণ্যের ক্ষেত্রেও পরোক্ষ মূল্যচাপ তৈরি করতে পারে।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—মানুষের আয় কতটা বাড়ছে?
এই প্রশ্নটি উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ। জুলাইয়ে যা ছিল ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ। আগস্টে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমে ৭ দশমিক ০২ শতাংশে নেমেছে। তবে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয়েছে ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ।
একই সময়ে জাতীয় মজুরি হার সূচকের প্রবৃদ্ধি ছিল ৮ দশমিক ০৫ শতাংশ। অর্থাৎ আগস্টে মজুরি বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতির চেয়ে ০ দশমিক ২১ শতাংশীয় পয়েন্ট কম ছিল।
মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমেছে—এটি স্বস্তির খবর। কিন্তু মূল্যস্ফীতি কমার অর্থ পণ্যের দাম কমে যাওয়া নয়; এর অর্থ হলো আগের তুলনায় দাম বাড়ার গতি কিছুটা কমেছে।
অন্যদিকে, মজুরি বৃদ্ধির হার যখন মূল্যস্ফীতির নিচে থাকে, তখন মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতার ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোতে এর প্রভাব বেশি অনুভূত হতে পারে।
একজন দিনমজুর, শ্রমজীবী বা নির্দিষ্ট বেতনের কর্মজীবীর আয় প্রতিদিন বাজারদরের সঙ্গে সমন্বয় হয় না। কিন্তু খাদ্য, পরিবহন, চিকিৎসা, বাসাভাড়াসহ প্রয়োজনীয় নানা খাতে ব্যয় বাড়তে পারে। ফলে একই আয় দিয়ে আগের তুলনায় কম পণ্য ও সেবা কিনতে হয়।
এখানেই কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের মতো একটি তুলনামূলক ছোট ব্যয়ের পরিবর্তন বৃহত্তর অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়।
‘ছোট’ ব্যয় কীভাবে বড় হয়?
ধরা যাক, একটি আমদানি পণ্যের মোট ব্যয়ের একটি অংশ হলো কনটেইনার হ্যান্ডলিং। সেই অংশে ৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ বৃদ্ধি পুরো পণ্যের দামে একই হারে প্রভাব ফেলবে না। কিন্তু আমদানির অন্যান্য খাতেও যদি একই সময়ে ব্যয় বাড়ে, তাহলে মোট অবতরণ ব্যয় বাড়তেই পারে।
এর সঙ্গে পরিবহন ব্যয়, গুদাম ভাড়া, ব্যাংকিং ব্যয় ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয় বাড়লে প্রতিটি খরচ আলাদাভাবে ছোট মনে হলেও সম্মিলিত প্রভাব বড় হতে পারে।
অর্থনীতিতে এ কারণেই একটি ব্যয় নয়, পুরো সরবরাহশৃঙ্খলের ব্যয় বিবেচনা করা জরুরি।
ব্যবসার যুক্তি যেমন আছে, ভোক্তার স্বার্থও আছে
জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে জ্বালানি ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যয় বাড়বে—এটি বাস্তবতা। ফলে সেই বাড়তি ব্যয়ের একটি অংশ সমন্বয়ের প্রয়োজনও থাকতে পারে।
বিআইসিডিএর বক্তব্য অনুযায়ী, জ্বালানি-নির্ভর কার্যক্রমের পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ছয় ধরনের সেবার চার্জ সমন্বয় করা হয়েছে। নতুন চার্জের আওতায় খালি কনটেইনার পরিবহন, খালি কনটেইনার ওঠানো-নামানো, রপ্তানি পণ্য কনটেইনারে ভরা ও হ্যান্ডলিং, রপ্তানি কনটেইনারের ওজন নির্ধারণ এবং আমদানি পণ্য ডেলিভারি প্যাকেজসহ বিভিন্ন সেবা রয়েছে।
কিন্তু এখানেই স্বচ্ছতার প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। জ্বালানি ব্যয় ১৭ দশমিক ৪ শতাংশ বাড়ার পর সংশ্লিষ্ট সেবাগুলোতে ৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ অতিরিক্ত চার্জ নির্ধারণের পেছনে কোন কোন ব্যয় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে, সেটিও জনসমক্ষে পরিষ্কার থাকা দরকার।
এখানে উদ্দেশ্য কারও ব্যবসায়িক স্বার্থকে প্রশ্নবিদ্ধ করা নয়। বরং ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে চার্জ বৃদ্ধির সম্পর্কটি স্বচ্ছ রাখা। স্বচ্ছ হিসাব থাকলে ব্যবসায়ী, আমদানিকারক, সরকার ও ভোক্তা—সব পক্ষই প্রকৃত পরিস্থিতি বুঝতে পারবেন।
নজরদারি দরকার আরও একটি জায়গায়
চার্জ বাড়ার পর কোনো কোনো পণ্যের দাম বাড়তেই পারে। কিন্তু প্রশ্ন হলো—কতটা বাড়া যৌক্তিক?
একটি সেবার ব্যয় ৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ বাড়ার পর কোনো পণ্যের খুচরা মূল্য তার চেয়ে কয়েক গুণ বেড়ে গেলে সেই বৃদ্ধির পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার। কারণ বৈধ ব্যয় সমন্বয় এবং ব্যয়ের অজুহাতে অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধি এক বিষয় নয়।
এ জন্য বাজার তদারকির পাশাপাশি আমদানি ব্যয়ের তথ্যও আরও স্বচ্ছ হওয়া প্রয়োজন। একটি পণ্যের আমদানি পর্যায়ে কত টাকা বাড়তি ব্যয় হলো, তার কতটা পরিবহন ও হ্যান্ডলিংয়ে, কতটা শুল্ক-কর ও অন্যান্য খাতে—এসব তথ্য বিশ্লেষণ করা গেলে বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি শনাক্ত করাও সহজ হবে।
এখন দরকার ‘চার্জের’ পাশাপাশি ‘প্রভাবের’ হিসাব
৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ একটি নির্দিষ্ট সংখ্যা। কিন্তু জনস্বার্থে আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—এই বৃদ্ধির কারণে একটি কনটেইনারে প্রকৃত বাড়তি ব্যয় কত টাকা হচ্ছে এবং সেই বাড়তি ব্যয় পণ্যের প্রতি কেজি বা প্রতি ইউনিট মূল্যে কতটা প্রভাব ফেলছে?
এই হিসাব প্রকাশ্যে এলে বিতর্কও অনেকটা পরিষ্কার হবে। তখন বোঝা যাবে, বাড়তি ব্যয়ের কতটা বাস্তব পরিচালন ব্যয়, কতটা ব্যবসায়িক সমন্বয় এবং কতটা শেষ পর্যন্ত ভোক্তার ওপর যাচ্ছে।
কারণ মানুষের আয় যদি একই হারে না বাড়ে, অথচ ব্যয়ের প্রতিটি স্তরে নতুন চাপ তৈরি হয়, তাহলে কাগজে অর্থনীতির হিসাব হয়তো ঠিক থাকবে; কিন্তু পরিবারের মাসিক বাজেটের হিসাব কঠিন হয়ে উঠবে।
ব্যবসার ব্যয় সমন্বয় যেমন প্রয়োজন, তেমনি মানুষের ক্রয়ক্ষমতা রক্ষাও জরুরি। কনটেইনার হ্যান্ডলিং চার্জ বৃদ্ধি তাই শুধু আইসিডির ট্যারিফের বিষয় নয়; এটি আমদানি ব্যয়, পণ্যের মূল্য, উৎপাদন খরচ এবং মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে যুক্ত একটি বৃহত্তর অর্থনৈতিক প্রশ্ন।
শেষ বিকেলে বাজারের ব্যাগ হাতে ঘরে ফেরা মানুষটির কাছে হয়তো ৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ কোনো পরিচিত সংখ্যা নয়। তাঁর হিসাবটা অন্য রকম—আজকের বাজারে আগের টাকায় কতটুকু পণ্য পাওয়া গেল, মাসের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত সংসারের খরচ চলবে কি না, সন্তানের পড়াশোনা বা চিকিৎসার টাকা থেকে আবার কতটা কমাতে হবে। বন্দরের কনটেইনার থেকে বাজারের থলে পর্যন্ত যে দীর্ঘ ব্যয়ের পথ, তার প্রতিটি ধাপ আলাদা করে ছোট মনে হতে পারে; কিন্তু সবগুলো মিলে যদি সাধারণ মানুষের সংসারে বড় চাপ তৈরি করে, তখন প্রশ্নটি আর শুধু ব্যবসার হিসাব থাকে না। জ্বালানি থেকে কনটেইনার, কনটেইনার থেকে আমদানি, আমদানি থেকে বাজার—এই ব্যয়ের শৃঙ্খলের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটি আর কতটা বাড়তি ব্যয় বহন করতে পারবেন?
এই প্রশ্নের উত্তর শুধু বাজারের ওপর ছেড়ে দিলে চলবে না। প্রয়োজন স্বচ্ছ হিসাব, কার্যকর বাজার তদারকি এবং এমন নীতি, যাতে ব্যবসার যৌক্তিক ব্যয় সমন্বয় হয়, কিন্তু তার অযৌক্তিক বোঝা সাধারণ মানুষের কাঁধে না পড়ে।
লেখক: অভিজ্ঞ ও প্রাজ্ঞ সিএন্ডএফ পেশাজীবী।
আবদুল্লাহ মজুমদার : : জাতীয় পরিচয়পত্র একজন নাগরিকের রাষ্ট্রীয় পরিচয়ের অন্যতম প্রধান দলিল। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে তাঁর নাগর...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : ভাত আমাদের খুব আপন। প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় তার উপস্থিতি এত স্বাভাবিক যে, ভাত নিয়ে আলাদা করে ভা...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : আবদুল্লাহ মজুমদার রাত গভীর। চারপাশ নিস্তব্ধ। হঠাৎ দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ। ঘুম ভেঙে দরজা খুললেন মা। ...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট। ঢাকার মাটিতে থেমে গেল কাজী নজরুল ইসলামের জীবনের পথচলা। যে কবি একদিন অন্যায়ের ...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : কোনো কোনো কণ্ঠ শুধু গান গায় না, একটি সময়কে ধারণ করে। আবদুর রহমান বয়াতীর কণ্ঠ ছিল তেমনই—মাটির গন্ধà...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : ফল প্রকাশের পর মোবাইলের পর্দায় ভেসে ওঠে কয়েকটি সংখ্যা। কারও জন্য সেই সংখ্যা আনন্দের, কারও জন্য হতা...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Bangla | Developed By Muktodhara Technology Limited