শিরোনাম
আমাদের বাংলা ডেস্ক : | ০৮:৪৪ পিএম, ২০২৫-০২-০৫
---- এম এন মোস্তফা নূর-এডভোকেট----
"সামাজিক সংহতি" মানুষের সাথে মানুষের সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করে, বিশ্বাসের ভিত্তি মজবুত হয় এবং গণমানুষের ঐক্য তৈরি করে। রাজনৈতিক কুসংস্কার, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, হানাহানি প্রতিহত করতে সবচেয়ে বেশি কার্যকর ভূমিকা নেয়। জনগণের নিজেদের মানবিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা এক পবিত্র শক্তির নাম সামাজিক সংহতি। এ এক মহান শক্তি যার ব্যাপকতাকে রাষ্ট্রীয় কিংবা জাতীয় সংহতিও বলা যায়।
"রাজনৈতিক সংহতি" কেবল রাজনৈতিক দল সমূহের মাঝে কতিপয় বিষয়ে নিজ নিজ দলের স্বার্থ কেন্দ্রিক ঐক্য বা বিশেষ এক ধরনের সংহতি। যা দলীয় বা গোষ্ঠী স্বার্থের পিছু পিছু চলে। সেই স্বার্থ ভিত্তিক সংহতি কখনো টেকসই হয় না। যেমন বি.এন.পি জামায়াতের ঐক্য এবং তাদের সাথে আরো কিছু দল নিয়ে চারদলীয় ঐক্যজোট, ১৮ দলীয় ঐক্যজোট, ২০ দলীয় ঐক্যজোট, ২২ দলীয় ঐক্যজোট নামে অভিহিত হয়। প্রথমত: চারদলীয় ঐক্যজোট একটি আদর্শ এবং মূল্যবোধের উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে। আর সেই আদর্শ বা মূল্যবোধটি ছিল- “বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ এবং ইসলামি মূল্যবোধ”। “বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ এবং ইসলামি মূল্যবোধ” এর ভিত্তিতে সেই চারদলীয় (রাজনৈতিক) ঐক্যজোট ১৯১৯ সালে গঠিত হয়। ২০০১ সালের নির্বাচনকে সামনে রেখে চারদলীয় ঐক্যজোট গঠিত হলে ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিশাল বিজয় আসে এবং তারা সরকার গঠন করে। সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কঠিন পরাজয় ঘটে। চারদলীয় সরকার গঠনের পর খুব দ্রুত পরিস্থিতি বদলে যায়। বিএনপি অফিসিয়ালি এবং নন-অফিসিয়ালি ঘোষণা করতে থাকে সেই ঐক্য নাকি ভোটের ঐক্য বা ভোটের জোট, সেটা নাকি কোনো আদর্শের জোট ছিল না! তারা (BNP) কাকে যেন খুশি করতে এমন বক্তব্য অতি উৎসাহের সাথে প্রচার করতে ওঠেপড়ে লাগে। কিন্তু BNP-র এমন প্রচারণার বিষয়ে চারদলীয় ঐক্য জোটের ২য় প্রধান শরিক দল জামায়াত কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। প্রতিক্রিয়া না দেখানোর বিষয়ে জামায়াত হয়ত বলবে, তারা পরিস্থিতি আরো ঘোলাটে হোক সেটা চায়নি বলে সেই বিষয়ে তারা চুপ থেকেছে। BNP-র পক্ষ হতে আওয়ামী লীগের গঠিত মানবতা বিরোধী আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার ব্যবস্থার বিরুদ্ধে কোনো পরিষ্কার ভূমিকা না থাকা এবং চারদলীয় জোটের আদর্শকে অস্বীকার করার মাঝে কঠিন যোগসূত্র থাকা স্বত্বেও জামায়াত কেন চারদলীয় জোট ছাড়েনি! এই বিষয়ে জামায়াতের কেন্দ্রীয় ধারণা এভাবেই প্রচারিত ছিল যে, জোট ছাড়লে ঐক্য বিনষ্টের দায় নাকি জামায়াতকেই বহন করতে হবে। ফলে BNP যা-ই বলুক না কেন, যা করুক না কেন জামায়াত ঘোষণা দিয়ে জোট ছড়াবে না। BNP জোট হতে জামায়াতকে বের করে দিলে দিক, জোট ভেঙ্গে দিলেও দিক। তখন দেশবাসী ঐক্য বিনষ্টের জন্যে নাকি বিএনপিকে দায়ী করবে, জনগণ বুঝবে! এভাবে ডানপন্থার রাজনীতিতে বার বার রাজনৈতিক ঐক্য ও সংহতি ভেঙে গেছে এবং বিপর্যয় নেমে এসেছে। সেই ১৯৭৭, ১৯৮১, ১৯৯১ এবং ২০০১ ও ২০১৩-২০২৪ এর ছাত্র-জনতার বিপ্লব পূর্ববর্তী সময় অবধি এই ঐক্য ও সংহতি শুধু রাজনৈতিক ধান্দাবাজির কারণে ভেঙেছে। এই ধরনের ভাংচুরে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাংলাদেশি জাতি-রাষ্ট্র।
জনগণের সামাজিক সংহতি কেবল সামাজিক ভূমিকায় সীমাবদ্ধ নয়, এই সামাজিক সংহতি এবার ছাত্র-জনতার জাতীয় সংহতিতে পরিণত হয়েছিল। ২০২৪ এর জুলাই বিপ্লব বা ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান এমন এক ঐক্য ও সংহতির জন্ম দিয়েছে যা রাজনৈতিক দল সমূহের মাঝে শুধু ক্ষমতায় দলের পরিবর্তন নয় বরং রাষ্ট্র সংস্কার এবং পুনর্গঠন কর্মসূচিতে ঐক্যবদ্ধতায় বাধ্য করেছে। ফলে জনগণের সামাজিক ঐক্য রাজনৈতিক এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ঐক্যবদ্ধতা ঘোষণা করে এবং সব সময় এটা অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পরিগ্রহ করে।
এই দুটি বিষয় বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, ২৪ শের জুলাই বিপ্লবে ব্যাপক আকারে সামাজিক সংহতি তথা ছাত্র জনতার সংহতি কাজ করেছে। যার ফলে সশস্ত্র আওয়ামী রাজনৈতিক ক্যাডার এবং রাষ্ট্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ঐক্য ও সংহতি বিশাল রাজনৈতিক সংহতিতে পরিণত হয়েছে। রাজনৈতিক দল সমূহ মাঠে না থেকে প্যাভিলনে বসে থাকা সক্রিয় দর্শকের ভূমিকায় থাকা অবস্থা হতে কেবল বিজয়ী পক্ষের মিছিলে শামিল হয়েছে বা রাজনৈতিক দল সমূহ তাদের রাজনৈতিক স্বার্থ হাত ছাড়া হতে চলেছে কি না এমন ভাবনায় মাঠে নেমে এসে সংহতি ঘোষণা করতে বাধ্য করেছে। মানে তাদের রাজনৈতিক স্বার্থ তাদেরকে টেনে নামিয়েছে। মানে আন্দোলন চূড়ান্ত বিজয়ের ক্ষণে এমন একটা সময়ে কেবল সমর্থন প্রকাশ করেছে রাজনৈতিক দল সমূহ।
দুঃখের বিষয় হল, মাত্র কিছুদিনের মধ্যে রাজনৈতিক দল সমূহের সেই কিঞ্চিৎ রাজনৈতিক সংহতির ভিত্তি ভেঙ্গে পড়েছে! এখন এই ক্রান্তিকালে, বেহায়া রাজনৈতিক বাতাসে ছাত্র-জনতার সামাজিক সংহতি জোরালোভাবে ধরে রাখতে হবে। ছাত্র-জনতার সামাজিক সংহতি যাতে কোনো রাজনৈতিক কূটচালে বিনষ্ট না হয়।
এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল সামাজিক সংহতির মাধ্যমে জনগণের যে ইস্পাত কঠিন ঐক্য তৈরি হয় এবং সেই সংহতি এক দুর্দমনীয় আন্দোলনে রূপ নেয়, কঠিন অসম্ভবকে সম্ভব করতে ঝাঁপিয়ে পড়েছে এবং সে আন্দোলন এক দফায় মিলিত হয়েছে, অস্ত্রধারী রাষ্ট্রীয় এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণরূপে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতা অবতীর্ণ হয়েছে অসম প্রাণঘাতি সংগ্রামে এবং তারা বুক টান টান করে রাজপথে লড়াই করে, জীবন দিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। সেই আন্দোলনে আমরা যুক্ত নাই, যুক্ত নাই, বলে আগ বাড়িয়ে ঘোষণা দিয়েছে রাজনৈতিক দলগুলো। স্বৈরাচার পতনের সাথে সাথে কেবল মাত্র ক্ষমতার রাজনীতির স্বার্থে তারা আনুষ্ঠানিক সময় হাজির হয়েছে মাত্র। ফলে এই হাজির হওয়াকে ছাত্র-জনতার গণবিপ্লবে কেবল মাত্র সমর্থন হিসেবে বিবেচনা করা যায়। কিন্তু আন্দোলনের সক্রিয় উপাদান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক শক্তিসমূহকে পাওয়া যায় না।
কোটা বিরোধী কর্মসূচিতে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন যখন এক দফার আন্দোলনে রূপ নেয় এবং অসংখ্য শহিদের রক্তের বিনিময়ে সেই সামাজিক সংহতি ছাত্র-জনতার রাজনৈতিক সংহতিতে পরিণত হয় এবং বিজয়ের সম্ভাবনা তৈরি করে সেই সময়ে রাজনৈতিক দলসমূহ সামান্য আকারে সমর্থন সূচক যুক্ত হয়েছিল মাত্র।
ফ্যাসিবাদের পতনের পর দ্রুততার সাথে সেই পালাবদলের সন্ধিক্ষণে যুক্ত হওয়া রাজনৈতিক সংহতির মধ্যে কিন্তু পরিষ্কার একটা ছলনা ছিল। যেহেতু স্বৈরাচার বিরোধী রাজনৈতিক দলসমূহ বিশ্বাস করে নাই এভাবে স্বৈরাচারীর পতন ঘটবে, ফলে তারা একটা রাজনৈতিক ছলনার অ্যাক্টিং করতে গিয়ে বিজয়ের দিনে ছাত্র-জনতার বিপ্লবকে সমর্থন করেছে বা এক ধরনের রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা হতে সমর্থন করতে বাধ্য হয়েছে বলা যায়। এখন তারা নিজেদের ক্ষমতামুখী হীন রাজনৈতিক স্বার্থে নিজেরাই বরং বৈষম্যবাদী চিন্তাধারায় আক্রান্ত হয়ে রাজনৈতিক হীনমন্যতায় নিমজ্জিত হয়েছে এবং জাতীয় সংহতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।।
আশা করব রাজনৈতিক দলসমূহ হীনম্মন্যতা থেকে বেরিয়ে আসবে এবং রাষ্ট্র সংস্কারে বিপ্লবীদের পাশে দাঁড়াবে। ঘোষণা করবে জুলাই বিপ্লবের ইশতেহার বা পো ক্লা মেশান।
চট্টগ্রাম- ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ইং
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : সামিউল আজাদ শামীম : শিশুদের পৃথিবী রঙে রঙে ভরা। তারা রঙ পছন্দ করে, তারা উজ্জ্বলতা ভালোবাসে, তারা চা...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : এসএম রায়হান মিয়া : মানুষ সামাজিক প্রাণীÑএই সত্যটি মানবসভ্যতার শুরু থেকে অটুট। পরিবার ছিল সেই স...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : এসএম হাসানুজ্জামান : বাংলাদেশের রাজনীতি আজ এমন এক ভয়াবহ বাস্তবতায় উপনীত হয়েছে, যেখানে নেতৃত্বের ...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : রাফায়েল আহমেদ শামীম : একসময় যার নাম উচ্চারণ করলেই পশ্চিমা বিশ্বে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ত, যিনি ছিলেন যুক্...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : মোঃ শামীম মিয়া : মানবসভ্যতার অগ্রযাত্রায় নৈতিকতা এমন এক মৌলিক শক্তি, যার অভাবে জ্ঞান অন্ধ, ক্ষমতা ন...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : চট্টগ্রাম বন্দরে ডিজেল সিন্ডিকেট ও মাফিয়া চক্রের কার্যক্রম নিয়ে দৈনিক আমাদের বাংলা ও দৈনিক আমাদে...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Bangla | Developed By Muktodhara Technology Limited