বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬  

শিরোনাম

চট্টগ্রাম বন্দরের বর্ধিত ট্যারিফ শিডিউল স্থগিত করার দাবি

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা    |    ০৪:২২ পিএম, ২০২৫-১০-১২

চট্টগ্রাম বন্দরের বর্ধিত ট্যারিফ শিডিউল স্থগিত করার দাবি

 দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের বর্ধিত ট্যারিফ শিডিউল স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে আলাপ না করা পর্যন্ত স্থগিত করার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।  
রোববার (১২ অক্টোবর) দুপুরে রেডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে ভিউতে চট্টগ্রাম বন্দরে অস্বাভাবিক ট্যারিফ বৃদ্ধির প্রতিবাদে ব্যবসায়ীদের সমন্বয় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
চট্টগ্রামের সর্বস্তরের ব্যবসায়ীদের ব্যানারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চিটাগং চেম্বারের সাবেক সভাপতি আমির হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী। 
তিনি বলেন, আমরা ২০০৩ সালে বাফার সঙ্গে গার্মেন্টসের সমস্যা হয়েছিল।
আমি চেম্বারের সভাপতি ছিলাম। বিজিএমইল, বিকেএমইএসহ একসঙ্গে প্রতিরোধ করতে পেরেছিলাম। এবার বন্দরের নতুন ট্যারিফ সাধারণ মানুষকে দিতে হবে। দেশে ভালো ব্যবসায়ী আছে বলেই প্রতিবাদের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বন্দর নিয়ে যে খেলা শুরু হয়েছে তা খেলতে দেওয়া হবে না। বন্দরে চট্টগ্রাম চেম্বার থেকে একজন প্রতিনিধিকে পরিচালক বানাতে হবে।  
তিনি বলেন, বন্দর ৪১ শতাংশ ট্যারিফ বাড়াবে কেন? অন্তর্বর্তী সরকারের এত জবাবদিহি নেই যে, বন্দরের ট্যারিফ বাড়াতে উঠে পড়ে লাগতে হবে! তাদের শনাক্ত করতে হবে।
চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক পরিচালক মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, বন্দরের মাশুল ব্যবসায়ীরা পেমেন্ট করব না। এটা জনগণকে পেমেন্ট করতে হবে। পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে স্বাধীন পরিচালক আছে, বন্দরে নেই কেন? আমরা কারও গোলাম না। আমার টাকায় আপনারা চালান। ট্যারিফ বাড়ানো ষড়যন্ত্র। মোংলা, পায়রায় বাড়াননি। আমি ৪০ বছর ব্যবসা করছি। কচি খোকা নই। বন্দর বাঁচাতে হবে। বন্দরকে কস্ট বেইজড ট্যারিফ করতে হবে। আমরা কি গোলাম? কলুর বলদ? অন্তর্বর্তীকালীন কেন ট্যারিফ বাড়াবে? আর কোনো টাকা বন্দরের বাইরে যেতে দেওয়া হবে না। এনসিটির পর একটি পতেঙ্গা টার্মিনাল হয়েছিল, সেটি দিয়ে দিয়েছেন!
বিজিএমইএর প্রথম সহ-সভাপতি সেলিম রহমান বলেন, আরএমজি ব্যবসায়ীরা বন্দর দিয়ে আমদানি রপ্তানি দুটোই করে। ভিয়েতনাম, ভারত ও মালয়েশিয়ার চেয়ে আমাদের কস্ট অব ডুয়িং বিজনেস বেশি। ২৯ বছরের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতায় বন্দরকে লস করতে দেখিনি। তাহলে বন্দরে ৪১ শতাংশ ট্যারিফ কেন বাড়াতে হবে?
মেট্রোপলিটন চেম্বারের সহ সভাপতি এ এম মাহবুব চৌধুরী বলেন, আমরা ট্যারিফ বাড়ানোর বিরুদ্ধে। চট্টগ্রাম বন্দর জনগণের টাকায় তৈরি সেবার জন্য। ২০২৩ সালের বন্দর আইনে উপদেষ্টা পরিষদ বাতিল করেছে। স্বাধীনতার সময় বন্দরে কাঁটাতারের বেড়া ছিল। পৃথিবীতে সাড়ে চার হাজার বন্দর আছে। আড়াই হাজার কোটি টাকা লাভ করেছে চট্টগ্রাম বন্দর। বাড়াতে হলে জাতীয় সংসদ বাড়াবে। এ দেশের গার্মেন্টস থেকে বায়ার পোশাক কিনবে না। ভিয়েতনাম, ভারতে চলে যাবে বায়ার। বন্দর আমাদের কাছে নেই। আমাদের চুষে টাকা আদায়ের ব্যবস্থা করছে। আমদানি খরচ বাড়লে রপ্তানি খরচ বাড়বে। সব শিপিং এজেন্টদের সমভাবে নির্ধারণের দায়িত্ব চিটাগাং চেম্বারের।  
শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক খায়রুল আলম সুজন বলেন, দেশে প্রধান বন্দর নদীনির্ভর। বন্দরের মাশুল বাড়ানো নিয়ে আমাদের ক্ষোভ আছে। আমরা বলেছি সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ বাড়াতে। ১৯৮৬ সালে ডলার ছিল ৩০ টাকা। এখন ডলারের দাম চারগুণ বেড়েছে। শিপিং এজেন্ট ফ্রেইট বাড়িয়েছে। ৪১ শতাংশের মধ্যে শুভঙ্করের ফাঁকি আছে। ২০ ফুটের কনটেইনারে ১২-১৪ হাজার টাকা অতিরিক্ত পরিশোধ করতে হবে। আমরা ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ চাই, আমরা স্বনির্ভর দেশ গড়ে দেব।  
বিজিপিএমইএ’র সহসভাপতি শহীদুল্লাহ চৌধুরী বলেন, বন্দরে পর্যাপ্ত জায়গা না অফডকে নিতে চাপ দিচ্ছে। অফডক আপটুডেট হয়নি। নানা অজুহাতে দু-তিনগুণ খরচ নিতে হচ্ছে। তাই নীতিমালা করতে হবে।  
বিজিএমইএ’র সাবেক প্রথম সহ-সভাপতি নাসির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ করে আসছিল। আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে সরকার। আমরা দুশ্চিন্তায় আছি। ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। শিপিং এজেন্ট ফি বাড়াবে। ভিয়েতনামের তিনগুণ খরচ হবে চট্টগ্রাম বন্দরে। আজকের দিনে ব্যবসায়ীদের পক্ষে কথা বলার কোনো সংগঠন নেই। ব্যবসায়ী সমাজ বিচ্ছিন্ন, হতাশাগ্রস্ত। সরকারি আমলারা এখন চট্টগ্রাম চেম্বার চালাচ্ছেন। দেশের অর্থনীতি, রাষ্ট্র ও ব্যবসায়ীদের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
বেপজিয়ার সিনিয়র সহ-সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তানভির বলেন, আমরা সাফার করছি বিভিন্ন কারণে। অনেক সিদ্ধান্ত আসছে ব্যবসায়ীদের ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে। আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিলে ভালো হয়। দেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য আরএমজি। বায়াররা খরচ কমাতে নানা উদ্যোগ নিচ্ছে। কস্ট মিনিমাইজ করছে। বাংলাদেশ আরও কস্ট বাড়িয়ে দিচ্ছে। এটা হতাশার। বন্দরের নতুন ট্যারিফ রপ্তানি প্রতিযোগিতায় আমরা পিছিয়ে যাব। আমরা এখনো আমদানিনির্ভর দেশ। আমদানি করে রূপান্তরের মাধ্যমে রপ্তানি করি আমরা। ভুলে গেলে চলবে না বন্দর অর্থনীতির মেরুদণ্ড। ১০-১৫ বছর ধরে বে টার্মিনালের কথা শুনে আসছি। আমি আশা করবো সরকার বন্দরের মাশুল বাড়ানোর বিষয়টি স্থগিত করবে।  
স্বাগত বক্তব্যে এশিয়ান গ্রুপের প্রধান এমএ সালাম বলেন, সংকট নিয়ে আজকের সভা। চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম এক দিনের জন্যও বন্ধ হয়নি। এটা প্রশংসার দাবি রাখে। বন্দর ব্যবসা করে না, সেবা দেয়। বন্দরের মাশুল এক মাসের জন্য পিছিয়েছে। ব্যবসা বাণিজ্য নিয়ে আমরা ভালো অবস্থানে নেই। আমরা চাই না বন্দর লস করুক। আমরা এটাও চাই না বন্দরের ট্যারিফ বাড়ানোর ফলে আমরা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ে।  
বারভিডার হাবিবুর রহমান বলেন, চট্টগ্রামের মানুষ ড. ইউনূস। তাঁর কাছে আমাদের অনেক প্রত্যাশা ছিল। লাভে থাকার পরও কেন চট্টগ্রাম বন্দর ট্যারিফ বাড়াচ্ছে। চিটাগং চেম্বারে নির্বাাচিত নেতৃত্ব নেই বলে ব্যবসায়ীদের নানা সংকট নিয়ে আলোচনা হচ্ছে না। চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা ভালো নেই। তারা ব্যাংকঋণ পাচ্ছে না। ট্যারিফ দিচ্ছি ডলারে। ৮০ টাকার ডলার এখন ১২২ টাকা। এখানেই তো ট্যারিফ বেড়ে গেছে। কাউকে লাভ করানোর জন্য অর্থনীতি ধ্বংস করা যাবে না। প্রধান উপদেষ্টা বিষয়টি বিবেচনা করবেন আশাকরি।  
সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের সভাপতি এসএম সাইফুল আলম বলেন, আমরা বসে নেই। কাজ করছি। বিজিএমই, চেম্বারে যখন নির্বাচিত প্রতিনিধি ছিল না তখন আমরা কাজ করেছি আপনাদের পক্ষে। ডুয়েল ডেলিভারির বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আশা করছি চট্টগ্রাম চেম্বারে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা আসবেন। চট্টগ্রাম বাণিজ্যিক রাজধানী, ব্যবসায়ীদের সমস্যা নেই। সাড়ে পাঁচশ টন ডাল এনে বাজারে বিক্রি করতে পারেনি। ডিপোতে অনৈতিক চার্জ বাড়ানো হচ্ছে। বন্দর, বার্থ, শিপিং, ডিপোতে যেন চার্জ বাড়ানো না হয়। সবাই ঐক্যবদ্ধ হলে অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে পারবে না।
সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী বলেন, বাংলাদেশ আমদানি রপ্তানিকারকের প্রতিনিধি হয়ে কাজ করি আমরা। কাজেই ব্যথা আপনাদের চেয়ে আমাদের বেশি। পোশাকশিল্পে অর্থনৈতিক চাপ আসলে লাখ লাখ নারী বেকার হবেন। আপনি বিদেশে কর কমাতে তদবির করছেন, দেশের বন্দরে কেন ট্যারিফ বাড়াবেন? আড়াই হাজার কোটি টাকার বেশি লাভ করেছে বন্দর। এইচএস কোডের অনেক ঝামেলা আমরা সমাধান করিয়েছে। এনবিআর চেয়ারম্যান অনেক কালো আইন বাতিল করেছেন। চট্টগ্রাম লাইফ লাইন। চট্টগ্রাম বাঁচলে দেশ বাঁচবে। আড়াইশ বিলিয়ন রিজার্ভ থাকত যদি লুটপাট না হতো।  
সঞ্চালক এসএম আবু তৈয়ব বলেন, যুদ্ধসহ নানা টানাপোড়েনে অর্থনীতিতে ধকল যাচ্ছে। দেশে সেবাখাত ট্যারিফ বাড়িয়ে ব্যবসা দুর্বিসহ করছে। প্রতিবাদ হিসেবে আশাদের এ আয়োজন। নতুন ট্যারিফ কার্যকরের পর এ অঞ্চলের সবচেয়ে কস্টলি বন্দর হবে চট্টগ্রাম। বন্দরে আমদানি বন্ধ হলে রপ্তানিও বন্ধ হয়ে যাবে। তখন বন্দর কমিউনিটি সেন্টার হিসেবে ভাড়া দিতে হবে। ট্যারিফ বাড়িয়ে বন্দরকে মেরে ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 

রিটেলেড নিউজ

সংসদের কাছে জনগণের প্রত্যাশা

সংসদের কাছে জনগণের প্রত্যাশা

নিজস্ব প্রতিবেদক : সাহাবুদ্দিন আহাম্মদ চৌধুরী (এমরান)  দীর্ঘ প্রতীক্ষার বাঁধ ভেঙ্গে শত বাধাঁকে উপেক্ষা করে  ১২ই ফ...বিস্তারিত


জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা বুধবার

জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা বুধবার

নিজস্ব প্রতিবেদক : ১৪৪৭ হিজরি সনের পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা এবং এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের লক্ষ্যে আগামীকাল জাতী...বিস্তারিত


কোন বিভাগ কতজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী পেল

কোন বিভাগ কতজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী পেল

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিএনপির নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে সর্বোচ্চ ১২ জনকে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্য...বিস্তারিত


গণভোটের ফল বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে রিট

গণভোটের ফল বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে রিট

নিজস্ব প্রতিবেদক : গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোটের বৈধতা চ্যালেঞ্জ এবং ১৩ ফেব্রুয়ারি ঘোষিত গণভোটের ফল বাতিল চেয়ে ...বিস্তারিত


আলোচনায় থেকেও মন্ত্রিসভায় জায়গা পেলেন না যারা

আলোচনায় থেকেও মন্ত্রিসভায় জায়গা পেলেন না যারা

নিজস্ব প্রতিবেদক : সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানের পরপরই নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের আমন্ত্রণ জানানো শুরু করেছে মন্ত্র...বিস্তারিত


শপথ নিলেন মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা

শপথ নিলেন মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ শপথ নিয়েছেন মন্ত্রিষদের সদস্যরা। মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের ...বিস্তারিত



সর্বপঠিত খবর

দশম শ্রেণির ছাত্রীকে গণধর্ষণ করে ভিডিও ধারণ, গ্রেফতার ২

দশম শ্রেণির ছাত্রীকে গণধর্ষণ করে ভিডিও ধারণ, গ্রেফতার ২

নোয়াখালী প্রতিনিধি : : নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী (১৭) গণধর্ষণের শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় সম্পৃক্তার অ...বিস্তারিত


সৌদি আরবে  গাড়ির নির্দিষ্ট গতি  অমান্য করলে  ২ হাজার রিয়াল জরিমানা 

সৌদি আরবে  গাড়ির নির্দিষ্ট গতি  অমান্য করলে  ২ হাজার রিয়াল জরিমানা 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : : সৌদি ট্রাফিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, স্পীড লিমিট এর চাইতে অধিক গতিতে যানবাহন চালানো ব্যক্তিদের উপ...বিস্তারিত



সর্বশেষ খবর


A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: fwrite(): write of 34 bytes failed with errno=122 Disk quota exceeded

Filename: drivers/Session_files_driver.php

Line Number: 265

Backtrace:

A PHP Error was encountered

Severity: Warning

Message: session_write_close(): Failed to write session data using user defined save handler. (session.save_path: /var/cpanel/php/sessions/ea-php74)

Filename: Unknown

Line Number: 0

Backtrace: