শিরোনাম
আমাদের বাংলা ডেস্ক : | ০৬:৩৮ পিএম, ২০২৫-১২-১৭
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) মতো দেশের সর্ববৃহৎ সরকারি চিকিৎসা কেন্দ্র থাকা সত্ত্বেও ক্রিটিক্যাল রোগীদের ক্ষেত্রে বারবার বেসরকারিভাবে পরিচালিত এভারকেয়ার হাসপাতালের নাম সামনে চলে আসছে।
সম্প্রতি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা কিংবা গুলিবিদ্ধ শরিফ ওসমান হাদির উন্নত চিকিৎসার ঘটনায় নতুন করে আবারও এভারকেয়ারের নাম আলোচনায় এসেছে।
গত ২৩ নভেম্বর থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তিনি বিভিন্ন জটিল স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে বর্তমানে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে চিকিৎসাধীন।
এদিকে গত শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শরীফ মো. ওসমান হাদীর প্রয়োজনীয় অপারেশন সম্পন্ন হয়। অপারেশন-পরবর্তী উন্নত চিকিৎসা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য তাকে এভারকেয়ার হাসপাতাল ঢাকার ক্রিটিকাল কেয়ার ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সরকারি চিকিৎসা কেন্দ্র থাকা সত্ত্বেও জটিল ও সংকটাপন্ন রোগীর ক্ষেত্রে বেসরকারি হাসপাতালের ওপর নির্ভরতা রাষ্ট্রীয় হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা ও সংকটের বহিঃপ্রকাশ।
সংশ্লিষ্টরা আরও বলছেন, সরকারি হাসপাতালগুলোতে ডাক্তার নার্সের তুলনায় রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ার রোগীদেরকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া যায় না। পাশাপাশি ক্রিটিক্যাল রোগের জন্যে বিশেষায়িত নার্সেরও ঘাটতি আছে সরকারি হাসপাতালে। এছাড়া সরকারি হাসপাতালে আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থায় ব্যবহৃত যন্ত্রপাতির অপর্যাপ্ততা আছে। অনেক হাসপাতালে যন্ত্রপাতি থাকলেও সেগুলো পরিচালনায় দক্ষ লোকবল নেই।
সরকারি হাসপাতালের সীমাবদ্ধতা
দেশের বড় সরকারি হাসপাতালগুলোতে দক্ষ চিকিৎসকের অভাব না থাকলেও জটিল ও ক্রিটিক্যাল রোগের চিকিৎসায় বেশকিছু সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে। যেগুলো হচ্ছে, সরকারি হাসপাতালে আইসিইউ বেডের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত কম। সংকটাপন্ন রোগীকে একটি আইসিইউ বেডের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রেই সরকারি হাসপাতালের আইসিইউ বেডের অভাবে রোগীকে তাৎক্ষণিক বেসরকারি কোনো চিকিৎসা কেন্দ্রে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাব, প্রশিক্ষিত ক্রিটিক্যাল কেয়ার নার্সের অভাব, সমন্বিত চিকিৎসা ব্যবস্থার দুর্বলতা, জরুরি পরীক্ষার ক্ষেত্রেও রিপোর্ট পেতে দীর্ঘ সময়, প্রশাসনিক দুর্বলতা ও সমন্বয়হীন প্রশাসনিক কাঠামো, দায়বদ্ধতার অভাব সরকারি হাসপাতালে প্রকট আকার ধারণ করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসার বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা কোনও একক সমস্যার ফলফল নয়, দীর্ঘদিনের অবহেলা, বিনিয়োগ ঘাটতি ও ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার সম্মিলিত প্রতিফলন। এর ফলেই জটিল ও ক্রিটিক্যাল রোগের ক্ষেত্রে সরকারি হাসপাতালগুলো ধীরে ধীরে চিকিৎসার কেন্দ্রবিন্দু হারাচ্ছে। অপরদিকে দিকে বেসরকারি হাসপাতালগুলো আধুনিক যন্ত্রপাতির সমন্বয়ে চিকিৎসা সেবার মান বৃদ্ধি করে চলেছে।
যা বলছেন সংশ্লিষ্টরা
সরকারি হাসপাতালের ক্রিটিক্যাল চিকিৎসা প্রসঙ্গে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, আমাদের দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকের সংখ্যা রোগীর তুলনায় অনেক কম। ফলে চিকিৎসকদের রোগীকে যে পরিমাণ সময় এবং মনোযোগ দেওয়া দরকার, সেটা সম্ভব হয়ে ওঠে না। একই কথা নার্স এবং সাপোর্টিং অন্যান্য স্টাফের বেলায়ও প্রযোজ্য।
তিনি বলেন, যেহেতু সরকারি হাসপাতালে শয্যার তুলনায় রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি থাকে, ফলে নার্সিং এবং সাপোর্টিং কেয়ারের মান কমে যায়। নির্দিষ্ট সংখ্যার তুলনায় কয়েক গুণ বেশি রোগী ভর্তি হওয়ার কারণে হাসপাতালের পরিবেশ নষ্ট হয়। রাজনৈতিক ক্ষমতার মদদপুষ্ট ডাক্তাররা রোগীদের সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে অনেকটাই উদাসীন থাকে। আমরা দেখতে পাচ্ছি, প্রায় সব সরকারি হাসপাতালে কিছু ব্যতিক্রম বাদে সেবার মান বেসরকারি হাসপাতালগুলোর চেয়ে ক্রমাগত নিচের দিকে নেমে যাচ্ছে।
সরকারি হাসপাতালের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা দেখতে পাই অনেক সরকারি হাসপাতালে আধুনিক মানের যন্ত্রপাতি রয়েছে। আবার অনেক হাসপাতালে এমন যন্ত্রপাতি রয়েছে যা বর্তমানে আর ব্যবহৃত হয় না। হাসপাতালে সামঞ্জস্যপূর্ণ উন্নয়ন যেভাবে প্রয়োজন সেটি ঘটে নাই। ঘটে নাই বলেই রোগী সরকারি হাসপাতালের বদলে বেসরকারি হাসপাতাল পছন্দ করে। সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে সরকারি হাসপাতালগুলোতে যে ঢিলেমি ভাব দেখা যায়, বেসরকারি হাসপাতালগুলো এটা অনেকটাই কমিয়ে ফেলেছে। এর ফলেই লোকজন বেসরকারি হাসপাতালে যেতে আগ্রহী হচ্ছে। আমরা এর আগে দেখেছি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক তিনি তার অধীনস্থ কোনো হাসপাতালে ভর্তি না হয়ে সিএমএইচে কিংবা অন্য কোনখানে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। অর্থাৎ তারা নিজেরাও জানেন যে মানসম্পন্ন হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা গড়ে ওঠেনি।
বর্তমান অবস্থা থেকে উত্তরণের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে দক্ষ চিকিৎসক তৈরি করতে হবে। রোগীর অনুপাতে চিকিৎসক নার্স অন্যান্য সাপোর্টিং স্টাফ নিয়োগ দিতে হবে। প্রয়োজনের অনুপাতে নতুন হাসপাতাল তৈরি করতে হবে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের যেখানে দরকার সেইখানেই পদায়ন করতে হবে। রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় যেসব পদায়ন হয় সেটি বাতিল করে মেধা এবং প্রয়োজনের অনুযায়ী সঠিক জায়গায় পদায়ন করতে হবে। পাশাপাশি হাসপাতালে ওষুধ এবং অনন্য লজিস্টিক সাপ্লাই বাড়ানো দরকার। তাহলে লোকজন বেসরকারি হাসপাতালে যাবে না।
সরকারি হাসপাতালগুলোতে সক্ষমতার ঘাটতি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য সংস্কার কমিটির সদস্য ড. আবু মোহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, ‘ঢাকা মেডিকেল কলেজের যে সমস্যা সেটা হচ্ছে, শয্যা সংখ্যার কয়েক গুণ বেশি রোগী থাকে। একজনের জন্য যদি অনেক সময় ব্যয় করতে হয় তাহলে অন্যদের সময় বিঘ্নিত হয়। এখানকার যন্ত্রপাতির মেইনটেনেন্স মেথোডিকাল না। যন্ত্রপাতিগুলো সব ব্যবহারযোগ্য রাখা খুব কঠিন।
তিনি আরও বলেন, একবার কারও সরকারি চাকরি হলে সেই চাকরি চলে যাওয়ার ভয় থাকে না। ফলে জবাবদিহিতা খুব বেশি থাকে না। যেহেতু সরকারি হাসপাতালে ফ্রি সেবা দেওয়া হয়ে থাকে, তাই খুব উন্নত মানের যন্ত্রপাতি এনে সেবা দেওয়া হবে সেই ধরনের প্রস্তুতিও কম। অন্যদিকে বেসরকারি হাসপাতালগুলো চেষ্টা করে সব সময় সর্বাধুনিক যন্ত্রপাতি নিয়ে আসতে। সরকারি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকের সক্ষমতা প্রায় সমান কিন্তু যন্ত্রপাতিগুলো ব্যবহারযোগ্য রাখা, সেটা সরকারি হাসপাতালে ক্ষেত্রে হয় না।
স্বাস্থ্য সংস্কার কমিটির এ সদস্য বলেন, এভারকেয়ার হাসপাতালে যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজে কিন্তু সেটা নেই। ঢাকা মেডিকেলে সেই ধরনের নিরাপত্তা দেওয়াটা কঠিন।
তিনি আরও জানান, আমরা স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশনের সুপারিশে বলেছি, বিশ শতাংশ রোগীকে সকল ধরনের সেবা, সরকারি বেসরকারি সব ক্ষেত্রেই ফ্রি চিকিৎসা সেবা দিতে হবে। তাহলে বাকি আশি শতাংশ রোগী ম্যানেজ করা সহজ হবে। এই বিশ শতাংশ হচ্ছে দরিদ্র জনগোষ্ঠী, তাদের আবার রোগ বেশি হয়, কারণ তারা নোংরা অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে বসবাস করে। এটা করতে পারলে সরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ কম হয়ে যাবে। রেফারেল ব্যবস্থাটা যদি শক্তিশালী করা যায় তাহলে টারশিয়ারি লেভেলের চিকিৎসকগণ রোগীকে পর্যাপ্ত সময় দিতে পারবে। সেটাও আমাদের এখানে নেই।
আবু মোহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন বলেন, বেসরকারি হাসপাতালগুলোর চিকিৎসকের বেতন অনেক বেশি। সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদেরও বিকেলে প্রাইভেট প্র্যাকটিসের দিকে নজর থাকে। আমরা সংস্কার কমিশনে বলেছি, যারা সরকারি হাসপাতালে কাজ করবে তাদেরকে ইনসেন্টিভ দিতে হবে। বাজার ধরে যদি চিকিৎসকদের ইন্সেন্টিভ দেওয়া যায়, সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের যদি বেসরকারি প্রাক্টিস মোহ কমানো যায়, তাহলে সরকারি হাসপাতালে বেশি বেশি সেবা দেওয়া যাবে।
স্বাস্থ্য সংসার কমিশনের এ সদস্য আরও বলেন, মেডিকেল কলেজগুলোতে যে সেবাগুলো দেওয়া হয়, সেই সেবাগুলো জেলা পর্যায়ে দিতে হবে। জেলা পর্যায়ে যে সেবা দেওয়া হয় সেগুলো উপজেলা পর্যায়ে দিতে হবে। চিকিৎসার কোয়ালিটি এবং কভারেজ নিচের দিকে নিয়ে যেতে হবে। এটা করতে যন্ত্রপাতি এবং দক্ষ মানুষও প্রয়োজন হবে। আমাদের দক্ষ মানুষ এবং আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাব রয়েছে। যন্ত্রপাতি ব্যবহার করার লোকও নাই। অনেক উপজেলায় সি সেকশনের যন্ত্রপাতি রয়েছে কিন্তু জনবল নাই। অনেক হাসপাতালে এক্সরে মেশিনও অচল অবস্থায় থাকে। ফলে মানুষ বেসরকারি চিকিৎসা সেবার দিকে ঝুঁকে পড়ছে।
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : চট্টগ্রামের কিশোরী সুপর্বা সুধা বিশ্বাস। ১৩ বছর বয়সী অষ্টম শ্রেণির এই শিক্ষার্থীর ঝুলিতে ইতোমধ্...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : বাংলাদেশ এডিটরস্ ফোরাম গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছে যে, সম্প্রতি চট্টগ্রামের একটি দৈনিক পত্রি...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : নোবিপ্রবি প্রতিনিধি : জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি ও শহীদদের স্মরণে বাংলাদেশ ইসলাম...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে শারীরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শুধু পুরুষের শাস্তির বিধান কেন অবৈধ নয়, তা জানতে ...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাগুলোর বিচার অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে এগোচ্...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষা প্রতি...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Bangla | Developed By Muktodhara Technology Limited