শিরোনাম
আ.ন.ম. তাজওয়ার আলম | ০৮:৫৭ পিএম, ২০২৬-০৭-০৬
বাংলাদেশের নিবন্ধন অধিদপ্তর ও দেশের বিভিন্ন রেজিস্ট্রি অফিসে এখনো একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের সময় গড়ে ওঠা এ সিন্ডিকেট বর্তমানে অধিদপ্তরের বিভিন্ন কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করে চলেছে। প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার ঘুষ লেনদেন, অবৈধ তদবির, বদলি বাণিজ্য এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে অযাচিত হস্তক্ষেপের মাধ্যমে সিন্ডিকেটটি নিবন্ধন অধিদপ্তরের বিভিন্ন স্তর নিয়ন্ত্রণ করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন নিবন্ধন অধিদপ্তর, রেজিস্ট্রি অফিস এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের প্রভাবে প্রায় ২ থেকে ৩ হাজার ব্যক্তি বিতর্কিত ও অনিয়মতান্ত্রিকভাবে নিয়োগ লাভ করেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাসিন্দা বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের ভাষ্য, সাবেক মন্ত্রীর প্রভাব খাটিয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত একটি চক্র বর্তমানে নিবন্ধন অধিদপ্তরের বিভিন্ন স্তরে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে। এই চক্রই অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রম, পদায়ন এবং বদলি প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ:
অভিযোগের তীর উঠেছে নিবন্ধন অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামানের বিরুদ্ধেও। অভিযোগকারীদের দাবি, তিনি সাবেক আইনমন্ত্রীর আশীর্বাদপুষ্ট একটি গোষ্ঠীর হয়ে কাজ করছেন এবং তাদের স্বার্থ রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তিনি মহাপরিদর্শক (আইজিআর)-কে বিভিন্ন বিষয়ে বিভ্রান্তিকর বা ভুল তথ্য প্রদান করে সিন্ডিকেটের বাইরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দেশের বিভিন্ন স্থানে বদলি করিয়ে দেন। একই সঙ্গে সিন্ডিকেট-ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অর্থের বিনিময়ে পছন্দসই ও সুবিধাজনক কর্মস্থলে পদায়নের ব্যবস্থা করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর দাবি, বিপুল অর্থ লেনদেন ছাড়া বদলি সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি কোনো সহযোগিতা করেন না। ফলে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন এবং সারাদেশে রেজিষ্ট্রি অফিসগুলোতে কর্মপরিবেশ নিয়ে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।
অভিযোগ রয়েছে, চট্টগ্রামের বাসিন্দা আশরাফুজ্জামান দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব ও অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্যমতে, চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশ থানার কাতালগঞ্জ এলাকায় একটি বহুতল ভবনের মালিকানার সঙ্গেও তার নাম জড়িত রয়েছে।
রেজিষ্ট্রি অফিসগুলো ২২ জনের কাছে জিম্মি:
এদিকে সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের প্রভাব বা সুপারিশে নিয়োগপ্রাপ্ত বলে দাবি করা অন্তত ২২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর একটি তালিকা প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। তালিকাটিতে সংশ্লিষ্টদের নাম, পদবি, কর্মস্থল, নিজ জেলা, যোগদানের তারিখ এবং অভিযোগ অনুযায়ী কার মাধ্যমে বা কী সম্পর্কের ভিত্তিতে নিয়োগ পেয়েছেন । নিয়োগপ্রাপ্ত সব কর্মচারী সাবেক আওয়ামী আইনমন্ত্রী নিজের এলাকার লোক বলে তথ্য উঠে এসেছে।
তালিকা অনুযায়ী ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাসিন্দা মো. সাখাওয়াত হোসেন নিজাম, মো. সাদ্দাম হোসেন, মো. আবুল হোসেন ও শাবরিয়া সুলতানা (সুচি) বর্তমানে নিবন্ধন অধিদপ্তরে অফিস সহকারী পদে কর্মরত রয়েছেন।
ইমতিয়ার আলম শ্যামপুর সাব-রেজিস্ট্রার অফিস, ঢাকা; জয়নাল আবেদীন ধানমন্ডি সাব-রেজিস্ট্রার অফিস এবং মো. ছামিউন ইসলাম পল্লবি সাব-রেজিস্ট্রার অফিস, ঢাকায় অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
মো. শরিফ মিয়া - জেলা রেজিস্ট্রার অফিস, নরসিংদী। শাহীন মিয়া - জেলা রেজিস্ট্রার অফিস, ঢাকা। আয়েশা আক্তার - জেলা রেজিস্ট্রার অফিস, ব্রাহ্মণবাড়িয়া। মো. শরিফুল ইসলাম - জেলা রেজিস্ট্রার অফিস, নেত্রকোনা। মাহমুদুল হক - জেলা রেজিস্ট্রার অফিস, টাঙ্গাইল। মো. আবু সাইদ - জেলা রেজিস্ট্রার অফিস, নারায়ণগঞ্জ। মো. মোজাম্মেল হক -জেলা রেজিস্ট্রার অফিস, মৌলভীবাজার। মাহমুদুল হাছান খাদেম - জেলা রেজিস্ট্রার অফিস, ফরিদপুর। মো. রানা খলিফা - জেলা রেজিস্ট্রার অফিস, লক্ষ্মীপুর। সুমাইয়া কায়সার মুক্তি - জেলা রেজিস্ট্রার অফিস, চাঁদপুর। মো. ইয়াছিন কাউছার ভুঁইয়া - জেলা রেজিস্ট্রার অফিস, নোয়াখালী। সুমাইয়া আক্তার - জেলা রেজিস্ট্রার অফিস, কুমিল্লা। শাকিল আহমেদ -জেলা রেজিস্ট্রার অফিস, রাজবাড়ী। খন্দকার কামরুল হাসান -জেলা রেজিস্ট্রার অফিস, দিনাজপুর। মারুফ রেজা -জেলা রেজিস্ট্রার অফিস, নীলফামারী।
তালিকার মন্তব্য অংশে সংশ্লিষ্টদের অনেকের ক্ষেত্রে সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের আত্মীয়, ব্যক্তিগত সহকারীর স্বজন, ঘনিষ্ঠ সহযোগী অথবা রাজনৈতিক বলয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ একটি সরকারী তদন্ত সংস্থার রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। কয়েকজনের ক্ষেত্রে আইনমন্ত্রীর সাবেক ব্যক্তিগত সহকারী আলাউদ্দিন বাবু, কায়সার তুহিন ও অন্যান্যরা একে অপরের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় হওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য রয়েছে।
সূত্রমতে, উল্লিখিত ব্যক্তিদের বাইরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আরও প্রায় ২ থেকে ৫ হাজার ব্যক্তি সাবেক আইনমন্ত্রীর প্রভাব খাটিয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দপ্তরে চাকরি পেয়েছেন।
এ বিষয়ে সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, নিবন্ধন অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান এবং কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ব্যপারে জরুরী তদন্ত পূর্বক আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
মোঃ আরফান উদ্দীন : নিজস্ব একটি সিএনজি টেক্সির মালিক হয়ে পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন অনেক মা...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, কৃষিতে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের যথেচ্ছ ব্যবহার নিয়ন...বিস্তারিত
মুহাম্মদ ওসমান বিন হাসান, ককসবাজার : : উখিয়া (কক্সবাজার): একটি সড়কের দৈর্ঘ্য মাত্র ৯৬৩ মিটার। কিন্তু সেই সড়কের সংস্কার শেষ হতে সময় গড়িয়েছ...বিস্তারিত
চট্টগ্রাম ব্যুরো : : বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে দলটির দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি ক...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : মোঃ ছলিম উল্লাহ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ে ত্যাগী ও দীর...বিস্তারিত
মোঃ আরফান উদ্দীন : টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ ...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Bangla | Developed By Muktodhara Technology Limited