বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬  

শিরোনাম

ছোটদের হাত ধরে বদলাচ্ছে রোহিঙ্গা ক্যাম্প, সুরক্ষার বার্তা ছড়াচ্ছে শিশুরা

নিজস্ব প্রতিবেদক    |    ০৫:১১ পিএম, ২০২৬-১০-১৪

ছোটদের হাত ধরে বদলাচ্ছে রোহিঙ্গা ক্যাম্প, সুরক্ষার বার্তা ছড়াচ্ছে শিশুরা

তখন তার বয়স সবেমাত্র ১২। পরিবারের সিদ্ধান্তে বিয়ের কথাবার্তাও প্রায় পাকা হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু শৈশবের গণ্ডি পেরোনো এই বয়সে পিঁড়িতে বসার বিন্দুমাত্র ইচ্ছা বা প্রস্তুতি কোনোটাই ছিল না সালেমার (ছদ্মনাম)। মনের ভেতর জমা হওয়া এই প্রতিবাদ আর আশঙ্কার কথা কার কাছে খুলে বলবে, দিশা পাচ্ছিল না সে। শেষ পর্যন্ত গভীর এক বুক সাহস সঞ্চয় করে সহপাঠীদের কাছে নিজের উদ্বেগের কথা প্রকাশ করে সালেমা। মুহূর্তেই তার পাশে এসে দাঁড়ায় অন্য কিশোরীরা। এরপর এগিয়ে আসেন শিক্ষাকেন্দ্রের শিক্ষিকা ও স্থানীয় শিশুসুরক্ষার কর্মীরা।

সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ও পরিবারের সঙ্গে একাধিক দফায় আলোচনার পর অবশেষে চিরতরে বন্ধ হয় সেই বাল্যবিয়ে। তবে, নিজের বিয়ে থামিয়েই থেমে থাকেনি সালেমা। বরং দুর্দিনে সে যে সাহস ও মায়াবী সহযোগিতা পেয়েছিল, আজ তা ছড়িয়ে দিচ্ছে ক্যাম্পের অন্য কিশোরীদের মাঝেও। বাল্যবিয়ে এড়াতে কোথায় যোগাযোগ করতে হবে কিংবা কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে কীভাবে নিজেকে রক্ষা করতে হবে— সেই অমূল্য জীবনপাঠ এখন সে পৌঁছে দিচ্ছে সবার দ্বারে দ্বারে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শনাক্ত হওয়া শিশুসুরক্ষা ঝুঁকির প্রায় ৮ শতাংশই সরাসরি বাল্যবিয়ে বা এর সঙ্গে সম্পর্কিত, যার মধ্যে ৯৯ শতাংশ ভুক্তভোগীই কিশোরী বা মেয়েশিশু। তবে পারিবারিক আর্থিক সংকট ও অনিশ্চয়তার বেড়াজাল ভেদ করে চাইল্ড ক্লাব ও কিশোরী দলের মাধ্যমে শিশুরা নিজেরাই এখন বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে সোচ্চার ভূমিকা পালন করছে এবং সুরক্ষার প্রথম দেয়াল হিসেবে দাঁড়িয়েছে
সালেমা একা নয়; কক্সবাজারের জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এমন বহু শিশুই এখন অন্ধকার ভেদ করে পরিবর্তনের অদম্য দূত হয়ে উঠেছে। তারা নিজেরা যা শিখছে, তা পরম যত্নে ছড়িয়ে দিচ্ছে বন্ধু, ভাই-বোন ও প্রতিবেশীদের মাঝে। কেউ ছোট্ট সহপাঠীকে পড়াশোনায় ফিরিয়ে আনছে, কেউবা শেখাচ্ছে হাত ধোয়া ও পরিচ্ছন্নতার জরুরি নিয়ম, আবার কেউ দিচ্ছে নিখাদ নিরাপত্তার পাঠ। এভাবেই নিজেদের ক্ষুদ্র অভিজ্ঞতার আলোয় অন্যের হাত ধরে তারা আনছে এক সুদূরপ্রসারী পরিবর্তন। নিজেদের অদম্য প্রচেষ্টা আর কাজের জাদুতে ক্যাম্পের চেনা ও পুরোনো দৃশ্যপটকেই যেন পাল্টে দিচ্ছে এই খুদে পরিবর্তনের কারিগররা।

মিয়ানমারের সহিংসতা ও বাস্তুচ্যুতির নিষ্ঠুর বাস্তবতা মাথায় নিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া এই হতভাগ্য শিশুদের জন্য এমন উদ্যোগের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অপরিসীম। হাজারও অভাব-অনটন ও সীমাবদ্ধতার বেড়াজালে বন্দি থেকেও তারা কেবল অন্যের ত্রাণের বা সাহায্যের আশায় হাত গুটিয়ে বসে নেই; বরং নিজেরাই বুক চিতিয়ে এগিয়ে এসে পরম আস্থার প্রতীক হয়ে দাঁড়াচ্ছে একে অপরের পাশে। 

নিজের মতো অন্য শিশুরাও যেন শিক্ষার সুযোগ পায়, সেই ভাবনা থেকেই আমাদের ছোট্ট ঝুপড়ি ঘরেই তাদের পড়াতে শুরু করি। সবচেয়ে বেশি জোর দিতাম যেন কোনো মেয়েশিশু শিক্ষার বাইরে না চলে যায়। পরবর্তীতে যখন পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয় এবং শিক্ষাকেন্দ্রগুলো চালু হয়, তখন ঘরে পড়ানোর পাশাপাশি শিশুদের কেন্দ্রে যেতে উৎসাহিত করতাম। এমনকি তাদের সঙ্গে করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতাম।
— শামীমা (ছদ্মনাম), পড়াশোনার সুযোগ খোঁজা শিশু যখন শিক্ষক

শিশু সুরক্ষা ঝুঁকির ৮ শতাংশই বাল্যবিয়ে, ভুক্তভোগী ৯৯ শতাংশ কিশোরী

জাতিসংঘের শিশুসুরক্ষা সাব-সেক্টরের (সিপিএসএস) অফিসিয়াল তথ্য ও চাইল্ড প্রটেকশন ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (সিপিআইএমএস+) ড্যাশবোর্ড অনুযায়ী, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শিশুদের ওপর যেসব সুরক্ষা ঝুঁকি শনাক্ত হয়, তার প্রায় ৮ শতাংশই সরাসরি বাল্যবিয়ে বা বাল্যবিয়ে সংক্রান্ত ঝুঁকি। এই ঝুঁকির মুখে থাকা শিশুদের ৯৯ শতাংশই কিশোরী বা মেয়েশিশু।

যৌথ রেসপন্স প্ল্যান (আইএসসিজি) ও এমএসএনএ জরিপ অনুযায়ী, এসব বাল্যবিয়ের নেপথ্যে ৬০ শতাংশের বেশি ক্ষেত্রে পরিবারের আর্থিক সংকট, সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করে। এছাড়া, ১৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী রোহিঙ্গা তরুণ-তরুণীদের প্রায় ৭০ শতাংশই সামাজিক বিভিন্ন বাধার কারণে শিক্ষার বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকিতে থাকে।

তবে, সব বাধা পেরিয়ে বড় আশার আলো দেখাচ্ছে শিশুরা। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, শিশুদের নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে নিবন্ধিত ঘটনার প্রায় ২০ শতাংশই প্রথম শনাক্ত করে স্থানীয় প্রটেকশন কমিটিগুলো। অন্তত ২ শতাংশ ঘটনা সালেমাদের মতো শিশু, কিশোরী ক্লাব এবং এডোলেসেন্ট গ্রুপের শিশুরা সরাসরি প্রতিরোধ বা রিপোর্ট করছে। অর্থাৎ, কেবল সহায়তার আশায় বসে না থেকে শিশুরা নিজেরাই এখন সুরক্ষার প্রথম দেয়াল হয়ে উঠেছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, শিক্ষা, নিরাপত্তা ও বেড়ে ওঠার হাজারও সীমাবদ্ধতার মধ্যেও শিশুরা শুধু অন্যের সাহচর্যের অপেক্ষায় থাকে না। কিশোরী ক্লাব, শিক্ষাকেন্দ্র ও শিশু সুরক্ষাবিষয়ক কার্যক্রম থেকে যা শিখছে, তা তারা প্রয়োগ করছে পরিবার ও সমাজে। ফলে কোথাও বন্ধ হচ্ছে বাল্যবিয়ে, কোথাও চালু থাকছে পড়াশোনা, আবার কোথাও তৈরি হচ্ছে স্বাস্থ্যসম্মত অভ্যাস।

বাস্তুচ্যুতির কারণে সৃষ্ট মানসিক ট্রমা ও বিভিন্ন সামাজিক বাধা কাটিয়ে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে শিশুরা অনন্য নেতৃত্ব দিচ্ছে। প্রায় ৩২০টি শিশু নেতৃত্ব দলের মাধ্যমে ৩ হাজার ২০০ এর অধিক শিশু-কিশোর যুক্ত হয়ে শুধু নিজেদের পড়াশোনা বা স্বাস্থ্যবিধি মানছে না, বরং ঝরে পড়া সহপাঠীদের বাড়ি থেকে ডেকে এনে শিক্ষাকেন্দ্রে ফিরিয়ে আনছে এবং শিক্ষকতার মতো দায়িত্বও পালন করছে
নিজের ও অন্যের গল্প বদলে দিচ্ছে সালেমা, সঙ্গী হয়েছে আরও অনেকে

সম্প্রতি নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সালেমা জানায়, ১০ বছর বয়স থেকেই তাকে বিয়ের চাপের মুখে পড়তে হয়েছে। ১২ বছর বয়সে বিয়ে প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গেলে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে সে। কিন্তু পরিবারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস ছিল না তার। কিশোরী ক্লাবে যুক্ত হওয়ার পর বাল্যবিয়ে, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং প্রয়োজনে সহায়তা চাওয়ার বিষয়ে জানতে পারে। এরপর নিজের পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলার সাহস পায় সে।

সালেমার ভাষ্য অনুযায়ী, আগে তাদের মধ্যে কারও বিয়ের কথা উঠলে অনেক সময় বিয়ে হয়েই যেত। এখন তারা কিশোরী ক্লাবে একসঙ্গে নানা বিষয় শিখছে। নিজেদের কীভাবে রক্ষা করতে হয়, বাল্যবিয়ের চাপ এলে কী করতে হবে— তা তারা জানছে। যারা ক্লাবে আসে না বা বাড়িতে থাকে, তাদেরও এসব বোঝানোর চেষ্টা করে সে।

অবশ্য সালেমার এই অভিজ্ঞতা, একা তার গল্প নয়। স্থানীয় এডোলেসেন্ট ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত ১৫ বছর বয়সী রহিমুল্লাহও (ছদ্মনাম) নিজের শেখা বিষয় অন্যদের জানায়। অন্যের প্রতি সম্মান দেখানো এবং কোনো অন্যায় দেখলে তার বিরুদ্ধে কথা বলার গুরুত্ব সে তুলে ধরে সহপাঠী ও আশপাশের শিশুদের কাছে। সে জানায়, ক্লাবে এসব বিষয়ে শেখার পর তারা অন্যদেরও সচেতন করার চেষ্টা করছে। তাদের কমিউনিটিতে এ ধরনের ঘটনা আগের তুলনায় কমছে বলে তার বিশ্বাস।

শুধু সুরক্ষাবিষয়ক সচেতনতাই নয়, ঝরে পড়া শিশুদের শিক্ষাকেন্দ্রে ফেরাতেও শিশুদের নিজস্ব নেতৃত্ব দেখা যাচ্ছে। রোহিঙ্গা শিশু নুসাবা (ছদ্মনাম) জানায়, আগে তার অনেক সহপাঠী শিক্ষাকেন্দ্রে আসত না। এখন তারা দল গড়ে একে-অন্যকে উৎসাহিত করছে। যারা কেন্দ্রে আসে না, তাদের বাড়িতে গিয়ে বুঝিয়ে কেন্দ্রে নিয়ে আসছে। ফলে অন্য শিশুরা শিক্ষাকেন্দ্রে শেখার সুযোগ সম্পর্কে জানতে পারছে।

শিশুদের নিজেদের নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতন করার পাশাপাশি বিপদের মুহূর্তে কীভাবে ও কোথায় সহায়তা চাইতে হবে, তা জানানো অত্যন্ত জরুরি। এ জন্য আমাদের কেন্দ্রে হটলাইন ও নিরাপদ অভিযোগ বাক্সের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। অনেক শিশু বিভিন্ন অসংগতি নিয়ে আমাদের কাছে অভিযোগ জানায়। তখন আমরা তাদের পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রেখে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করি। এসব বিষয়ে শিশুরা যদি এগিয়ে না আসত, তবে আমাদের কাজ করা অনেক কঠিন হয়ে যেত।
— ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রজেক্ট অফিসার মিঠু প্রভাকর
যে শিশু এক দিন পড়াশোনার পথ খুঁজেছিল, এখন সে-ই শিক্ষক

২০১৭ সালে মিয়ানমারের মংডুতে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ত শামীমা (ছদ্মনাম)। ওই বছর সেখানকার পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পরিবারের সঙ্গে বাংলাদেশে চলে আসতে হয় তাকে। পরিচিত বাড়িঘর, স্কুল ও শৈশবের পরিবেশ ছেড়ে নতুন জায়গায় এসে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়াই হয়ে ওঠে তার প্রথম চ্যালেঞ্জ। সঙ্গে নিয়ে আসা বই-খাতা দিয়ে শুরুতে নিজের মতো করে পড়াশোনা করত সে। পরে স্থানীয় শিক্ষাকেন্দ্রে যাওয়া শুরু করে। এ সময় একই এলাকা থেকে আসা কয়েকজন সহপাঠীকে নিয়ে বাড়িতে বসে মিয়ানমারে পড়া বিষয়গুলোও ঝালিয়ে নিত।

সম্প্রতি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের একটি শিক্ষাকেন্দ্রে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানান শামীমা (নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা রক্ষায় স্থান ও আসল পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে)। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে আসার পর নিজের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি আশপাশের শিশুদের কথা ভেবে আমার খুব চিন্তা হতো। তাদের অনেকেই তখন পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছিল, কেউ শিক্ষাকেন্দ্রে যাচ্ছিল না। বিশেষ করে মেয়েশিশুদের ভবিষ্যৎ ও পড়াশোনা একেবারে বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।’

‘নিজের মতো অন্য শিশুরাও যেন শিক্ষার সুযোগ পায়, সেই ভাবনা থেকেই আমাদের ছোট্ট ঝুপড়ি ঘরেই তাদের পড়াতে শুরু করি। সবচেয়ে বেশি জোর দিতাম যেন কোনো মেয়েশিশু শিক্ষার বাইরে না চলে যায়। পরবর্তীতে যখন পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয় এবং শিক্ষাকেন্দ্রগুলো চালু হয়, তখন ঘরে পড়ানোর পাশাপাশি শিশুদের কেন্দ্রে যেতে উৎসাহিত করতাম। এমনকি তাদের সঙ্গে করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতাম।’

শিশুদের এই স্বতঃস্ফূর্ত পরিবর্তন ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম দেখে ক্যাম্পের অভিভাবকদের দৃষ্টিভঙ্গিতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে। ‘ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স’ ও ‘ব্র্যাক’-এর মতো সংস্থার উঠান বৈঠক ও ইতিবাচক অভিভাবকত্ব সেশনের মাধ্যমে পরিবার ও কমিউনিটির সহযোগিতায় বাল্যবিয়ে প্রবণতা হ্রাসের পাশাপাশি সার্বিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার পরিবেশ তৈরি হচ্ছে
সেই চেষ্টার ধারাবাহিকতায় এখন নিজেই শিক্ষকতা করছেন শামীমা। একসময়ের যে শিক্ষাকেন্দ্রে তিনি শিখতে যেতেন, এখন সেখানেই অন্য শিশুদের শেখানোর দায়িত্ব পালন করছেন। মিয়ানমারের কারিকুলামের পাঠ্যবইয়ে নিজের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার যে সংগ্রাম ছিল, তার অভিজ্ঞতা এখন কাজে লাগাচ্ছেন অন্যদের শেখার সুযোগ করে দিতে।

৩২০টি ‘শিশু নেতৃত্ব দল’, যুক্ত ৩ হাজার ২০০ শিশু-কিশোর
শিক্ষাকেন্দ্রে শিশুদের শেখার বিষয় কেবল পাঠ্যবইয়ে সীমাবদ্ধ নয়। ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, শরীরের ব্যক্তিগত সীমারেখা, অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ শনাক্ত করা, বিপদে পড়লে বিশ্বস্ত বড়দের সহায়তা নেওয়া এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার মতো বিষয়ও শেখানো হয় সেখানে। শিশুরা এসব বিষয় বন্ধু, ভাই-বোন ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে ভাগ করে নেয়। ফলে শিক্ষাকেন্দ্রে শেখা বিষয়গুলো বাড়িতেও আলোচনার খোরাক জোগায়।

স্বাস্থ্যবিধি শেখানোর ক্ষেত্রেও শিশুদের সরাসরি অংশগ্রহণ রয়েছে। ইউনিসেফ ও অংশীদার সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ৩২০টির বেশি ‘শিশু নেতৃত্ব দল’ গঠন করা হয়েছে। এসব কার্যক্রমে যুক্ত হয়েছে প্রায় ৩ হাজার ২০০ শিশু-কিশোর, যাদের মধ্যে ১ হাজার ৪৪০ জনের বেশি মেয়ে। তারা খেলাধুলা, ছড়া ও গানের মাধ্যমে ছোট শিশুদের পরিচ্ছন্নতা শেখায় এবং এলাকার নালা বন্ধ বা পানির কল নষ্ট হলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনে।

আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মূল্যায়ন অনুযায়ী, বাস্তুচ্যুত এসব শিশুর প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ শতাংশ নানা ধরনের মানসিক ট্রমা বা চাপের মধ্য দিয়ে যায়। ফলে এসব চাইল্ড ক্লাবের মাধ্যমে শিশুরা কেবল নিজেদের অধিকার শিখছে না, বরং তাদের এই সামাজিক অংশগ্রহণ তাদের মানসিক স্বাস্থ্য বিকাশেও বড় রূপান্তর আনছে।

শিশুদের নিজেদের মধ্যে তৈরি হওয়া এই সচেতনতা ও বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রমের ইতিবাচক প্রভাবে ক্যাম্পগুলোতে বাল্যবিয়ে প্রবণতা আগের চেয়ে কিছুটা কমে এসেছে। যদিও এই সমস্যা এখনও পুরোপুরি দূর করা সম্ভব হয়নি। তবে, শিশুদের যদি তাদের অধিকার সম্পর্কে আরও সচেতন করা যায়, তবে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে আরও বড় অগ্রগতি সম্ভব।
— অভিভাবক জামিলা বেগম
শিশুদের বদলে যাওয়া দেখে সাড়া মিলছে অভিভাবকদেরও

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে শিশুদের নিজেদের উদ্যোগ ও সুরক্ষার শিক্ষা ছড়িয়ে দেওয়ার ইতিবাচক প্রভাবে এখন বদলাতে শুরু করেছে অভিভাবকদের মনোভাবও। শিশুরা যখন নিজেরা সচেতন হয়ে বাল্যবিয়ে রোধ, স্বাস্থ্যবিধি ও পড়াশোনায় এগিয়ে আসছে, তখন তাদের এই আগ্রহ দেখে পিছিয়ে থাকছেন না অভিভাবকেরাও। তবে, শিশুদের তৈরি এই পরিবর্তনের ধারাবাহিকতা ধরে রাখা এবং উদ্যোগটির স্থায়ী সাফল্যের জন্য পরিবার ও বয়োজ্যেষ্ঠদের সক্রিয় সমর্থনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষ করে কিশোরীদের নিয়মিত শিক্ষাকেন্দ্রে পাঠানো, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পড়াশোনা অব্যাহত রাখতে অভিভাবকদের উদ্বুদ্ধ করতে নিবিড়ভাবে কাজ করছে শিশু অধিকারবিষয়ক সংস্থা ‘ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স’। সংস্থাটির উদ্যোগে নিয়মিত ‘ইতিবাচক অভিভাবকত্ব’ শীর্ষক সেশন ও উঠান বৈঠকের আয়োজন করা হয়। এসব বৈঠকে শিশুদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা, তাদের সঙ্গে হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা, নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং পড়াশোনায় সার্বিক উৎসাহ দেওয়ার বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন করা হয়।

গত সেপ্টেম্বর মাসে এমনই এক উঠান বৈঠকে অংশ নিয়ে প্রবীণ অভিভাবক নজুমদ্দিন বলেন, ‘ক্যাম্পের শিশুদের এই কার্যক্রম ও নতুন কিছু শেখার প্রবল আগ্রহ দেখে আমরা অভিভাবকেরাও উৎসাহিত হচ্ছি। শিশুরা যখন পড়াশোনা করতে চায় এবং ভালো কোনো কাজে যুক্ত হতে উদ্যোগ নেয়, তখন তাদের পাশে দাঁড়াতে আমাদের নিজেদের মধ্যেও সচেতনতা ও তাগিদ তৈরি হচ্ছে।’

আরেক অভিভাবক জামিলা বেগম নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ‘শিশুদের নিজেদের মধ্যে তৈরি হওয়া এই সচেতনতা ও বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রমের ইতিবাচক প্রভাবে ক্যাম্পগুলোতে বাল্যবিয়ে প্রবণতা আগের চেয়ে কিছুটা কমে এসেছে। যদিও এই সমস্যা এখনও পুরোপুরি দূর করা সম্ভব হয়নি। তবে, শিশুদের যদি তাদের অধিকার সম্পর্কে আরও সচেতন করা যায়, তবে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে আরও বড় অগ্রগতি সম্ভব।’

আগে বাল্যবিয়ে ঘটনা অনেক সময় গোপন রাখার চেষ্টা করা হতো। এখন কোনো শিশুর বাল্যবিয়ের আশঙ্কা দেখা দিলে বা এমন ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট শিশুরা অনেক ক্ষেত্রেই সুরক্ষাকর্মীদের তথ্য জানাচ্ছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে পরিবার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। কোনো পরিবার শুরুতে বিষয়টি মেনে নিতে না চাইলে প্রয়োজনে মাঝি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তা নেওয়া হয়।
— ব্র্যাকের চাইল্ড প্রটেকশন টিমের ফোকাল পারসন মো. মাজেদুল ইসলাম
উদ্যোগটির সার্বিক অগ্রগতি নিয়ে ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রজেক্ট অফিসার মিঠু প্রভাকর জানান, তাদের এই বিশেষ প্রকল্পে মোট ৪৫৩ জন শিশুকে যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে, যার বিপরীতে বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ২০০ থেকে ৩০০ শিশু নিয়মিত শিক্ষাকেন্দ্রে উপস্থিত হচ্ছে।

শিশু ও কিশোরীদের শিক্ষার আলোয় ফেরানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মেয়েদের শিক্ষাকেন্দ্রে নিয়মিত উপস্থিতি বাড়াতে আমরা অভিভাবকদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছি এবং ইতিবাচক অভিভাবকত্ব সেশনের মাধ্যমে তাদের কাছ থেকে খুবই আশাব্যঞ্জক সাড়া পাচ্ছি।’

রোহিঙ্গা শিবিরে বিপুলসংখ্যক শিশু-কিশোরদের সুরক্ষার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি আরও যোগ করেন, ‘শিশুদের নিজেদের নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতন করার পাশাপাশি বিপদের মুহূর্তে কীভাবে ও কোথায় সহায়তা চাইতে হবে, তা জানানো অত্যন্ত জরুরি। এ জন্য আমাদের কেন্দ্রে হটলাইন ও নিরাপদ অভিযোগ বাক্সের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। অনেক শিশু বিভিন্ন অসংগতি নিয়ে আমাদের কাছে অভিযোগ জানায়। তখন আমরা তাদের পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রেখে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করি। এসব বিষয়ে শিশুরা যদি এগিয়ে না আসত, তবে আমাদের কাজ করা অনেক কঠিন হয়ে যেত।’

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শিশুদের অংশগ্রহণে সুরক্ষা ও সামাজিক সচেতনতার পরিধি ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কার্যক্রম পরিচালনা করা ব্র্যাকের চাইল্ড প্রটেকশন টিমের ফোকাল পারসন মো. মাজেদুল ইসলাম। ঢাকা পোস্টকে তিনি বলেন, ‘বাল্যবিয়ে প্রতিরোধসহ বিভিন্ন সুরক্ষাসংক্রান্ত বিষয়ে সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি শিশুরা নিজেদের শেখা বিষয় অন্যদের মধ্যেও ছড়িয়ে দিচ্ছে। তাদের এই অংশগ্রহণের ফলে বাল্যবিয়ের আশঙ্কা বা ঘটনা সম্পর্কে সুরক্ষাকর্মীদের তথ্য পাওয়ার সুযোগ বাড়ছে। তবে, শিশুদের এই উদ্যোগকে আরও কার্যকর ও টেকসই করতে পরিবার, কমিউনিটি এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সহযোগিতা প্রয়োজন।’

বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ, স্বাস্থ্য সচেতনতা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার মতো বিষয়ে শিশুদের অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন। ক্যাম্পে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা শিশুদের নিয়ে নানা কার্যক্রম পরিচালনা করলেও অর্থায়নের সংকটে কিছু কার্যক্রম ও কেন্দ্রের পরিসর সীমিত হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে শিশু-কিশোরদের গঠনমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রাখার সুযোগ ধরে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
— অভিবাসন ও শরণার্থী-বিষয়ক বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর
‘আগে বাল্যবিয়ে ঘটনা অনেক সময় গোপন রাখার চেষ্টা করা হতো। এখন কোনো শিশুর বাল্যবিয়ের আশঙ্কা দেখা দিলে বা এমন ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট শিশুরা অনেক ক্ষেত্রেই সুরক্ষাকর্মীদের তথ্য জানাচ্ছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে পরিবার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। কোনো পরিবার শুরুতে বিষয়টি মেনে নিতে না চাইলে প্রয়োজনে মাঝি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তা নেওয়া হয়।’

মাজেদুল ইসলাম মনে করেন, শিশুদের মধ্যে সচেতনতা তৈরির এই ধারা অব্যাহত রাখা গেলে ইতিবাচক পরিবর্তনের সুযোগ আরও বাড়বে। এ ক্ষেত্রে শিশুদের অংশগ্রহণের পাশাপাশি তাদের শেখা বিষয়গুলো অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার সুযোগও নিশ্চিত করতে হবে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শিশুদের অংশগ্রহণে সচেতনতা ও ইতিবাচক পরিবর্তনের উদ্যোগ আরও বিস্তৃত হতে পারে। তবে, এসব উদ্যোগের সুফল দীর্ঘস্থায়ী করতে শিশুদের পাশে পরিবার, কমিউনিটি ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত সহযোগিতা জরুরি বলে মনে করছেন অভিবাসন ও শরণার্থী-বিষয়ক বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর।

তিনি বলেন, ‘বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ, স্বাস্থ্য সচেতনতা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার মতো বিষয়ে শিশুদের অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন। ক্যাম্পে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা শিশুদের নিয়ে নানা কার্যক্রম পরিচালনা করলেও অর্থায়নের সংকটে কিছু কার্যক্রম ও কেন্দ্রের পরিসর সীমিত হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে শিশু-কিশোরদের গঠনমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রাখার সুযোগ ধরে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

আসিফ মুনীর আরও বলেন, ‘শিশুদের সৃজনশীল ও ইতিবাচক কাজে যুক্ত করা গেলে তারা নিজেদের শেখা বিষয় অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পারবে। এর মাধ্যমে তারা শুধু নিজেদের সচেতনতা বাড়াবে না, বরং কমিউনিটির উন্নয়নেও ভূমিকা রাখতে পারবে। তবে, শিশুদের উদ্যোগকে কার্যকর ও টেকসই করতে ক্যাম্পের নেতৃত্ব, পরিবার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।’

‘শিশুদের ইতিবাচক উদ্যোগ বাড়াতে যেকোনো সহযোগিতা দিতে আমরা প্রস্তুত’
রোহিঙ্গা শিশুদের অধিকার, শিক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন কক্সবাজারের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয়ের অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার নাজমুল ইসলাম ভূঁইয়া। তিনি বলেন, ‘শিশুদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। তাদের জন্য পরিচালিত বিভিন্ন কার্যক্রমে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো কাজ করছে, আর সরকার প্রয়োজন অনুযায়ী সহযোগিতা দিয়ে থাকে।’

‘প্রতিটি শিশুরই সুন্দর জীবন গড়ে তোলার অধিকার রয়েছে। রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। শিশুদের কল্যাণে এ ধরনের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা হলে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতে সরকারও প্রস্তুত রয়েছে’— যোগ করেন নাজমুল ইসলাম ভূঁইয়া।

রিটেলেড নিউজ

জিএম কাদেরের বাড়িতে সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে গাইবান্ধায় বিক্ষোভ সমাবেশ

জিএম কাদেরের বাড়িতে সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে গাইবান্ধায় বিক্ষোভ সমাবেশ

আমাদের বাংলা ডেস্ক : : ‎গাইবান্ধা প্রতিনিধি : ‎জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের বাড়িতে সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবা...বিস্তারিত


সোনারগাঁয়ে ফ্লাইওভার ব্রিজের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত 

সোনারগাঁয়ে ফ্লাইওভার ব্রিজের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত 

আমাদের বাংলা ডেস্ক : : নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে আন্ডারপাস নয় - সুপরিকল্পিত ফ্লাইওভার ব্রিজের ...বিস্তারিত


চাঁপাইনবাবগঞ্জ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ওরিয়েন্টেশন ক্লাশ ও মতবিনিময় সভা

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ওরিয়েন্টেশন ক্লাশ ও মতবিনিময় সভা

আমাদের বাংলা ডেস্ক : : চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি: 'একটাই লক্ষ-হতে হবে দক্ষ' এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চাঁপাইনবাবগঞ্জ...বিস্তারিত


চাঁপাইনবাবগঞ্জে আইএফআইসি ব্যাংকের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন

চাঁপাইনবাবগঞ্জে আইএফআইসি ব্যাংকের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন

আমাদের বাংলা ডেস্ক : : চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি: “অবিচল বিশ্বাসের ৫০ বছর”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আইএফআইসি ব্à¦...বিস্তারিত


চাঁপাইনবাবগঞ্জে নিরাপদ সড়ক বিষয়ে সচেতনতামূলক সেমিনার ও আলোচনা সভা 

চাঁপাইনবাবগঞ্জে নিরাপদ সড়ক বিষয়ে সচেতনতামূলক সেমিনার ও আলোচনা সভা 

আমাদের বাংলা ডেস্ক : : আখতারুজ্জামান চাঁপাইনবাবগঞ্জ: জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে চাঁপাইনবাবগঞ্জে সকালে à...বিস্তারিত


ডিজিটাল অপরাধ মোকাবিলায় সক্ষমতা বাড়াবে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ডিজিটাল অপরাধ মোকাবিলায় সক্ষমতা বাড়াবে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

চট্টগ্রাম ব্যুরো : : ডিজিটাল জগতে সংঘটিত অপরাধ প্রতিরোধ ও মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানো হবে à...বিস্তারিত



সর্বপঠিত খবর

দশম শ্রেণির ছাত্রীকে গণধর্ষণ করে ভিডিও ধারণ, গ্রেফতার ২

দশম শ্রেণির ছাত্রীকে গণধর্ষণ করে ভিডিও ধারণ, গ্রেফতার ২

নোয়াখালী প্রতিনিধি : : নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী (১৭) গণধর্ষণের শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় সম্পৃক্তার অà¦...বিস্তারিত


সৌদি আরবে  গাড়ির নির্দিষ্ট গতি  অমান্য করলে  ২ হাজার রিয়াল জরিমানা 

সৌদি আরবে  গাড়ির নির্দিষ্ট গতি  অমান্য করলে  ২ হাজার রিয়াল জরিমানা 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : : সৌদি ট্রাফিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, স্পীড লিমিট এর চাইতে অধিক গতিতে যানবাহন চালানো ব্যক্তিদের উপà¦...বিস্তারিত



সর্বশেষ খবর