শিরোনাম
আমাদের বাংলা ডেস্ক : | ০৭:২৬ পিএম, ২০২৬-০৬-০৩
মুহাম্মদ আমির হোসেন :
নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে ব্যাংকের অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রতিরোধ করা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। অথচ সেই সংস্থারই এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মোটা অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ মিলেছে। খুরশীদ আলম নামে ওই কর্মকর্তা বাংলাদেশ ব্যাংকের রংপুর অফিসের মহাব্যবস্থাপক থাকাকালে কৌশলে কেনাকাটা ও সংস্কার খাতের অন্তত ৫৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, নিজের মেয়ে ও তার বন্ধুদের আপ্যায়নের বিলও তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অর্থ থেকে পরিশোধ করেছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের দুটি তদন্ত প্রতিবেদন, বাণিজ্যিক অডিট অধিদপ্তরের নিরীক্ষা এবং সমকালের অনুসন্ধানে এসব তথ্য উঠে আসে (সমকাল অনলাইন, ১৭ জুন ২০১৭)।
গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের নিয়োগ বাতিল করে মো. মোস্তাকুর রহমানকে একই পদে নিয়োগ দেয় বর্তমান সরকার।
তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির ৪১ সদস্যের কমিটির ২৩তম সদস্য ছিলেন। তিনি হেরা সোয়েটার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালকও। জানা যায়, হেরা সোয়েটার্সের মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকে ৮৬ কোটি টাকার ঋণ রয়েছে। ঋণ খেলাপি হওয়া সত্ত্বেও বিশেষ সুবিধার আওতায় গত বছরের জুনে তা পুনঃতফসিল করা হয়।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ দিকে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে যেতে থাকে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে যায়, ডলারের দাম দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণও বাড়তে থাকে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ, জ্বালানি, গ্যাসসহ বিভিন্ন পণ্য ও সেবার মূল্যবৃদ্ধিতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
এই সময়ে ব্যাংক খাতে লুটপাট, ঋণের নামে অর্থ আত্মসাৎ, অর্থ পাচার এবং জোরপূর্বক ব্যাংক মালিকানা দখলের মতো ঘটনা ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। এরপর ১৪ আগস্ট অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুরকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
৫ আগস্টের আগে দেশের রিজার্ভ ছিল ২৫.৯২ বিলিয়ন ডলার (আইএমএফের বিপিএম-৬ অনুযায়ী ২০.৪৮ বিলিয়ন ডলার)। দায়িত্ব গ্রহণের পরদিন রিজার্ভ দাঁড়ায় ৩৫.০৪ বিলিয়ন ডলারে, আর আইএমএফের হিসাবে তা ছিল ৩০.৩০ বিলিয়ন ডলার।
ক্ষমতাচ্যুত সরকারের সময়ে খেলাপি ঋণ গোপন রাখার প্রবণতা দূর করে আহসান এইচ মনসুর দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্যাংক খাতের প্রকৃত চিত্র সামনে আসে। তিনি খেলাপি ঋণের সংজ্ঞাকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উন্নীত করেন।
বর্তমানে ব্যাংক খাতের প্রায় ৩৬ শতাংশ ঋণ, অর্থাৎ প্রায় সাড়ে ৬ লাখ কোটি টাকা খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে অর্থ ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ইসলামি ধারার পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠন করা হয়েছে। এছাড়া ছয়টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণের অর্থ ইতোমধ্যে বিদেশে পাচার হয়ে গেছে বলে ধারণা করা হয়। এসব অর্থ উদ্ধারে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সহায়তাও নেওয়া হচ্ছে।
তবে আহসান মনসুরের সময়ে সব সংস্কার সম্পূর্ণ হয়নি। তাঁর নেতৃত্বে শেখ হাসিনার পরিবারের পাশাপাশি ১০টি বড় শিল্পগোষ্ঠীর অনিয়ম নিয়ে যৌথ তদন্ত শুরু হয়। এর মধ্যে রয়েছে এস আলম গ্রুপ, বেক্সিমকো গ্রুপ, নাবিল গ্রুপ, সামিট গ্রুপ, ওরিয়ন গ্রুপ, জেমকন গ্রুপ, নাসা গ্রুপ, বসুন্ধরা গ্রুপ, সিকদার গ্রুপ ও আরামিট গ্রুপ। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে লুট হওয়া অর্থ দেশে-বিদেশে উদ্ধারের কাজ চলছে।
বাংলাদেশ ব্যাংককে স্বাধীন ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পাশাপাশি ব্যাংক কোম্পানি আইনসহ একাধিক আইন সংস্কারের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।
অন্যদিকে খুরশীদ আলম ২০১৪ সালের মার্চ থেকে ২০১৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের রংপুর অফিসের মহাব্যবস্থাপক ছিলেন। অনিয়মের অভিযোগে তাঁকে ওএসডি করে ঢাকায় এনে মানবসম্পদ বিভাগে সংযুক্ত রাখা হয়। পরবর্তীতে বিভাগীয় তদন্ত ও অডিট প্রতিবেদনে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়। তবে দীর্ঘ সময় কোনো কঠোর ব্যবস্থা না নিয়ে তাকে পরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
জুলাই আন্দোলনের পর ডেপুটি গভর্নরের পদ হারানোর পর মো. খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকটির চেয়ারম্যান পদত্যাগের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ সিদ্ধান্ত নেয়।
৯২ হাজার কোটি টাকার লুটপাট ও সংকটে থাকা ইসলামী ব্যাংকের এই নিয়োগ নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী গোষ্ঠীর প্রভাবেই এই নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে।
ফলে প্রশ্ন উঠছে—সংস্কারের নামে কি পুরোনো লুটেরাদেরই নতুন মোড়কে পুনর্বাসন করা হচ্ছে?
লেখক: সাংবাদিক ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : আলেয়া মান্নান প্রিয়, তুমি একটি বার ভালোবেসে যেও। ব্যস্ততার পরে একবার অবসর করে আসিও...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : আবদুল্লাহ মজুমদার ডিজিটাল যুগে একটি ভিডিও কখনো কখনো হাজার বক্তৃতার চেয়েও বেশি প্রভাব ফেলে। কয়...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : সমকালীন বাংলা কবিতায় এমন কিছু কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়, যেগুলো কেবল কবিতার সংকলন নয়; বরং সময়, স...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : ইতিহাসে কিছু মানুষ জন্ম নেন একটি দেশকে বদলে দিতে, আবার কিছু মানুষ তাঁদের জীবন ও আদর্শ দিয়ে সমগ্র ব...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : একসময় একটি চাকরি মানেই ছিল একটি পরিবারের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, স্বস্তি ও ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা। মাস ...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : প্রাকৃতিক দুর্যোগ মানুষের সক্ষমতার সীমাবদ্ধতাকে যেমন প্রকাশ করে, তেমনি মানুষের মানবিকতা, রাষ্ট্...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Bangla | Developed By Muktodhara Technology Limited