শিরোনাম
আমাদের বাংলা ডেস্ক : | ০৭:৪৯ পিএম, ২০২৬-০৯-০৭
নিউজ: বরুন দে বাপ্পী, ফেনী -কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি :
ফুলের শুভেচ্ছা, শিক্ষার্থীদের করতালি, সম্মানসূচক স্যালুট ও বিদায়ী গানের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ৩৭ বছরের শিক্ষকতা জীবনের ইতি টানলেন জোরারগঞ্জ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক বিপুল চন্দ্র দে। কর্মস্থল থেকে শেষবারের মতো ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে বাড়ি ফিরলেন তিনি। প্রিয় শিক্ষককে ঘোড়ার গাড়িতে করে বাড়ি পৌঁছে দিয়ে ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার ব্যতিক্রমী নজির স্থাপন করেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
রোববার সকালে বিপুল চন্দ্র দের বিদায় উপলক্ষে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে নানা আয়োজন করা হয়। এ সময় স্কাউট সদস্য ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা করতালি ও ফুল দিয়ে তাঁকে শুভেচ্ছা জানান। প্রাত্যহিক সমাবেশে তাঁকে সম্মানসূচক স্যালুট দেওয়া হয়। পরিবেশন করা হয় বিদায়ী সংগীত।
পরে বিদ্যালয় মিলনায়তনে আয়োজিত হয় বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। এতে শিক্ষকদের স্মৃতিচারণ, শিক্ষার্থীদের বক্তব্য, মানপত্র পাঠ ও বিতরণ, নাটিকা উপস্থাপন, উত্তরীয় পরিয়ে দেওয়া, গীতা পাঠ ও উপহার বিতরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিপুল চন্দ্র দে ১৯৮৯ সালের ১ আগস্ট করেরহাট কামিনী মজুমদার উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। সেখানে প্রায় ২২ বছর গণিতের শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০১১ সালের ১ অক্টোবর জোরারগঞ্জ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন।
জোরারগঞ্জ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রায় ১৫ বছর দায়িত্ব পালনকালে তিনি শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। দীর্ঘ কর্মজীবনের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৫ সালে তিনি বিদ্যালয়ের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হন। ২০২৬ সালের ৪ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন তিনি।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বিপুল চন্দ্র দে। পরে তাঁকে ফুল দিয়ে সাজানো ঘোড়ার গাড়িতে করে বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া হয়। প্রিয় শিক্ষককে এমন ব্যতিক্রমী বিদায় জানাতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও উপস্থিত অতিথিরা।
বিদায়ী শিক্ষক বিপুল চন্দ্র দে বলেন, ‘শিক্ষকতা আমার কাছে শুধু একটি পেশা নয়, এটি আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ভালোবাসা। দীর্ঘ কর্মজীবনে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও পরিচালনা পরিষদের কাছ থেকে যে সহযোগিতা ও ভালোবাসা পেয়েছি, তা আজীবন স্মরণ রাখব।’
তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, শুধু ভালো ফলাফল অর্জন করলেই হবে না, ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। সততা, মানবিকতা ও নৈতিক মূল্যবোধ ধারণ করে দেশ ও সমাজের কল্যাণে কাজ করার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি আবুল হাশেম ভূঁইয়া বলেন, ‘একজন আদর্শ শিক্ষক জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বিপুল চন্দ্র দে তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনে অসংখ্য শিক্ষার্থীকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করেছেন। তাঁর কর্মনিষ্ঠা ও শিক্ষার্থীদের প্রতি ভালোবাসা অনুসরণীয় হয়ে থাকবে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইফুল আলম বলেন, ‘বিপুল চন্দ্র দে শুধু একজন দক্ষ শিক্ষকই নন, তিনি বিদ্যালয় পরিবারের একজন অভিভাবক ছিলেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে শিক্ষকতা ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর অবদান বিদ্যালয়ের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’
পরিবারের সদস্যদের অনুভূতি : রুদ্র দে, বলেন আমার শ্রদ্ধেয় কাকু (বিপুল চন্দ্র দে)—আমাদের গর্ব ও অনুপ্রেরণা
আজকে আমার অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় কাকা তাঁর দীর্ঘ ৩৭ বছরের গৌরবময় শিক্ষকতা জীবনের ইতি টানলেন। একজন সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে দীর্ঘ এই কর্মজীবনে তিনি অত্যন্ত সততা, নিষ্ঠা, দায়িত্ববোধ ও আন্তরিকতার সঙ্গে তাঁর পবিত্র দায়িত্ব পালন করে গেছেন।
একজন শিক্ষক শুধু শিক্ষার্থীদের পাঠদান করেন না, তিনি মানুষ গড়ার কারিগর। দীর্ঘ ৩৭ বছরের শিক্ষকতা জীবনে আমার কাকা অসংখ্য শিক্ষার্থীর মাঝে জ্ঞানের আলো ছড়িয়েছেন এবং তাঁদের জীবনের সঠিক পথ দেখিয়েছেন। তাঁর কর্মনিষ্ঠা, সততা ও আদর্শ আমাদের জন্য সবসময়ই অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে পথের পথিক হয়ে থাকবে।
আমার কাছে তিনি শুধু আমার কাকা নন—তিনি আমার গর্ব, আমার অনুপ্রেরণা এবং একজন আদর্শ মানুষ। তাঁকে নিয়ে আমি যেমন গর্ববোধ করি, তেমনি আমাদের পুরো পরিবারও তাঁকে নিয়ে গর্বিত। তাঁর এই দীর্ঘ ও সফল কর্মজীবন আমাদের পরিবারের জন্য সত্যিই এক বিশেষ সম্মান ও গৌরবের বিষয়।
আজকে হয়তো তাঁর শিক্ষকতা জীবনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটলো , কিন্তু একজন প্রকৃত শিক্ষকের কর্ম ও আদর্শ কখনো শেষ হয় না। তাঁর হাতে গড়া অসংখ্য শিক্ষার্থী এবং তাঁর রেখে যাওয়া আদর্শ তাঁকে সবসময় স্মরণীয় করে রাখবে।
প্রিয় কাকা, আপনার দীর্ঘ ৩৭ বছরের সফল ও গৌরবময় শিক্ষকতা জীবনের জন্য আপনাকে জানাই আন্তরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও অভিনন্দন। আপনি আমাদের পরিবারের গর্ব, আমাদের অনুপ্রেরণা এবং আমাদের ভালোবাসার একজন মানুষ।
আপনার কর্মজীবনের এই গৌরবময় অধ্যায়ের সমাপ্তিতে আমরা সবাই গর্বিত এবং আনন্দিত। ঈশ্বরের নিকট প্রার্থনা করি, আপনার আগামী দিনের জীবন হোক সুখ, শান্তি, সুস্বাস্থ্য ও আনন্দে পরিপূর্ণ।
আপনাকে নিয়ে আমরা গর্বিত কাকু (বিপুল চন্দ্র দে) । আপনি আমাদের পরিবারের গর্ব ছিলেন, আছেন এবং সবসময় থাকবেন।
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : গফরগাঁও (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি: গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন ভর্তি রোগী ও তাদের...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : মোঃ নাজিম উদ্দীন, হাটহাজারী : চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলন চলাকালে ট্যাংক থেক...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধিঃ প্রতিষ্ঠার প্রায় পাঁচ বছর পর ধীরে ধীরে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেতে এগিয়ে য...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি : কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ৩নং ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের ভোগডাঙ্গা মডেল কলেজ এলা...বিস্তারিত
মোঃ জহির উদ্দিন, কক্সবাজার : : সম্প্রতি জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ‘হেবা সম্পত্তি হস্তান্তর’ বিলটিকে সম্পূর্ণ কুরআন ও সুন্নাহ প...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা পুরোপুরি বন্ধ না করে একটি ডিজিটাল, নিবন্ধিত ও শৃঙ্খলিত ব্যবস্থার আওতায় আন...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Bangla | Developed By Muktodhara Technology Limited