বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬  

শিরোনাম

যে কারণে হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়ের কপি যাচ্ছে না দুই মন্ত্রণালয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক    |    ০৪:১৮ পিএম, ২০২৫-১১-১৮

যে কারণে হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়ের কপি যাচ্ছে না দুই মন্ত্রণালয়ে

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার অসুস্থ থাকায় শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদণ্ডের রায়ের কপি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হচ্ছে না আজ।
মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) দুপুরে এ তথ্য জানায় ট্রাইব্যুনাল প্রশাসন। এদিন সকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণাল ও বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শকের দপ্তরে রায়ের কপি পাঠানো হবে বলে জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকা এ মামলায় দণ্ডিত সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের কাছেও পাঠানোর কথা ছিল।
ট্রাইব্যুনাল প্রশাসন জানায়, ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান অসুস্থ থাকায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদণ্ডের রায়ের কপি আজ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে পাঠানো সম্ভব হবে না।
এর আগে, সোমবার মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় হাসিনা ও কামালের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে রাজসাক্ষী মামুনের পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন। বাকি সদস্যরা হলেন- বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে করা এটিই প্রথম কোনো মামলার রায় পেলেন আসামিরা। ওই দিন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এজলাসে ওঠেন ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল। ঠিক দুই মিনিট পর মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান চেয়ারম্যান। এরপর ১২টা ৪০ মিনিট থেকে ছয় অধ্যায়ের ৪৫৩ পৃষ্ঠার রায়ের প্রথম অংশ পড়া শুরু করেন বিচারপতি মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। তার পড়া শেষে শুরু করেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ। সবশেষ পড়েন গোলাম মর্তূজা মজুমদার। দুই ঘণ্টা ১০ মিনিটজুড়ে এ সংক্ষিপ্ত রায় পড়া হয়।
চূড়ান্ত রায়ে ট্রাইব্যুনাল বলেন, হাত-পা, নাক-চোখ ও মাথার খুলি হারানো যেসব সাক্ষী ট্রাইব্যুনালে এসে সাক্ষ্য দিয়েছেন, তাদের বাস্তব অবস্থা দেখলে যেকোনো মানুষের পক্ষে স্বাভাবিক মানসিক অবস্থা ধরে রাখা কঠিন। ফলে এ অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের যেকোনো মূল্যে বিচারের আওয়াতায় আনা উচিত। এক্ষেত্রে ন্যায়বিচারকে ব্যাহত হতে দেওয়ার সুযোগ নেই।
প্রথম অভিযোগে শেখ হাসিনাকে সাজা দেওয়ার ব্যাখ্যায় ট্রাইব্যুনাল বলেন, সংঘটিত অপরাধে প্ররোচনা-উসকানি, আন্দোলনকারীদের হত্যার নির্দেশ এবং সংঘটিত অপরাধ প্রতিরোধে নিষ্ক্রিয়তা ও অপরাধ সংঘটনকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যর্থতার জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দায়ী। এসব অপরাধে তাকে দোষী সাব্যস্ত করে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হলো।
দুই নম্বর অভিযোগের অপরাধ বর্ণনা করে ট্রাইব্যুনাল বলেন, এই অভিযোগে দুটি অপরাধের জন্য শেখ হাসিনাকে দায়ী করা হচ্ছে। এর মধ্যে একটি অপরাধ হলো জুলাই গণআন্দোলন দমনে হেলিকপ্টার ও মারণাস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ। এই নির্দেশনা দিয়ে তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৭৩-এ ৩(২)(ছ) (জ) ও ৪(১) (২) (৩) ধারার অপরাধ সংঘটন করেছেন। দ্বিতীয় অপরাধটি হলো শেখ হাসিনার এই নির্দেশ মেনে গত বছরের ৫ আগস্ট রাজধানীর চানখারপুল এলাকায় ছয়জনকে গুলি করে হত্যা ও একই দিনে সাভারের আশুলিয়ায় ছয়জনকে হত্যার পর লাশ পুড়িয়ে দেওয়া। এসব অপরাধের দায়ে আদালতের সিদ্ধান্ত তার একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।
ট্রাইব্যুনাল বলেন, একই অপরাধসহ আসামি আসাদুজ্জামান খান কামাল ও চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামনু সমানভাবে দায়ী। এর জন্য কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলো। মামুনেরও সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্য। কিন্তু রাজসাক্ষী হয়ে সংশ্লিষ্ট অপরাধের বিষয়ে সম্পূর্ণ সত্য প্রকাশ করে তিনি সাক্ষ্য দিয়েছেন বলে মনে করে ট্রাইব্যুনাল। সম্পূর্ণ সত্য প্রকাশে তার এই সাক্ষ্য বিচারিক প্রক্রিয়ায় আদালতকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহযোগিতা করেছে। ফলে তাকে শাস্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে নমনীয়তা প্রদর্শন করছে আদালত। সবকিছু বিবেচনায় তাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হলো।
প্রথমটি হলো উসকানি। গত বছরের ১৪ জুলাই গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতাকে রাজাকার বলে সম্বোধন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই রাতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তখনকার ভিসি মাকসুদ কামালের সঙ্গে ফোনে আন্দোলনকারীদের ওপর নির্যাতন-নিপীড়নের আদেশ দেন তিনি। ১৮ জুলাই ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন সাবেক এই সরকারপ্রধান। ফোনে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার ওপর মারণাস্ত্র ব্যবহারের পাশাপাশি হেলিকপ্টারে গুলির নির্দেশ দেওয়া হয়।
একইসঙ্গে ড্রোনের মাধ্যমে ছাত্র-জনতার অবস্থান নির্ণয়ের নির্দেশ দেন হাসিনা। তার এমন প্রত্যক্ষ নির্দেশনার মাধ্যমে দেশজুড়ে প্রাণ হারিয়েছেন ১৪০০ ছাত্র-জনতা। আহত হয়েছেন কয়েক হাজার আন্দোলনকারী। তৃতীয় অভিযোগটি হলো রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা। আর চতুর্থ-পঞ্চম অভিযোগটি যথাক্রমে চানখারপুলে ছজ হত্যা ও আশুলিয়ায় ছয়জনকে হত্যার পর লাশ পুড়িয়ে দেওয়া।

রিটেলেড নিউজ

সংসদের কাছে জনগণের প্রত্যাশা

সংসদের কাছে জনগণের প্রত্যাশা

নিজস্ব প্রতিবেদক : সাহাবুদ্দিন আহাম্মদ চৌধুরী (এমরান)  দীর্ঘ প্রতীক্ষার বাঁধ ভেঙ্গে শত বাধাঁকে উপেক্ষা করে  ১২ই ফ...বিস্তারিত


জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা বুধবার

জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা বুধবার

নিজস্ব প্রতিবেদক : ১৪৪৭ হিজরি সনের পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা এবং এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের লক্ষ্যে আগামীকাল জাতী...বিস্তারিত


কোন বিভাগ কতজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী পেল

কোন বিভাগ কতজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী পেল

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিএনপির নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে সর্বোচ্চ ১২ জনকে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্য...বিস্তারিত


গণভোটের ফল বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে রিট

গণভোটের ফল বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে রিট

নিজস্ব প্রতিবেদক : গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোটের বৈধতা চ্যালেঞ্জ এবং ১৩ ফেব্রুয়ারি ঘোষিত গণভোটের ফল বাতিল চেয়ে ...বিস্তারিত


আলোচনায় থেকেও মন্ত্রিসভায় জায়গা পেলেন না যারা

আলোচনায় থেকেও মন্ত্রিসভায় জায়গা পেলেন না যারা

নিজস্ব প্রতিবেদক : সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানের পরপরই নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের আমন্ত্রণ জানানো শুরু করেছে মন্ত্র...বিস্তারিত


শপথ নিলেন মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা

শপথ নিলেন মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ শপথ নিয়েছেন মন্ত্রিষদের সদস্যরা। মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের ...বিস্তারিত



সর্বপঠিত খবর

দশম শ্রেণির ছাত্রীকে গণধর্ষণ করে ভিডিও ধারণ, গ্রেফতার ২

দশম শ্রেণির ছাত্রীকে গণধর্ষণ করে ভিডিও ধারণ, গ্রেফতার ২

নোয়াখালী প্রতিনিধি : : নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী (১৭) গণধর্ষণের শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় সম্পৃক্তার অ...বিস্তারিত


সৌদি আরবে  গাড়ির নির্দিষ্ট গতি  অমান্য করলে  ২ হাজার রিয়াল জরিমানা 

সৌদি আরবে  গাড়ির নির্দিষ্ট গতি  অমান্য করলে  ২ হাজার রিয়াল জরিমানা 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : : সৌদি ট্রাফিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, স্পীড লিমিট এর চাইতে অধিক গতিতে যানবাহন চালানো ব্যক্তিদের উপ...বিস্তারিত



সর্বশেষ খবর


A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: fwrite(): write of 34 bytes failed with errno=122 Disk quota exceeded

Filename: drivers/Session_files_driver.php

Line Number: 265

Backtrace:

A PHP Error was encountered

Severity: Warning

Message: session_write_close(): Failed to write session data using user defined save handler. (session.save_path: /var/cpanel/php/sessions/ea-php74)

Filename: Unknown

Line Number: 0

Backtrace: