শিরোনাম
আ.ন.ম. তাজওয়ার আলম | ০৮:২৭ পিএম, ২০২৪-১২-৩০
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ছাত্র আন্দোলন বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে আসছে। বিশেষ করে সামাজিক ও রাজনৈতিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজের অবস্থান বরাবরই শক্তিশালী। সাম্প্রতিক সময়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন তাদের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে, যেখানে তারা ৩১শে ডিসেম্বর "মুজিববাদী সংবিধানের কবর রচনার" আহ্বান জানিয়েছে। তারা এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে "জুলাই বিপ্লব"-এর লক্ষ্য ও আদর্শ প্রকাশ করার কথা বলেছে।
এই আন্দোলন এবং তাদের বক্তব্য সমাজের একটি অংশে আলোড়ন তুলেছে। তবে এ নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।
তাদের দাবির প্রেক্ষাপট
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন একটি সাহসী এবং তাত্ত্বিকভাবে সমৃদ্ধ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, মুজিববাদী সংবিধান বিদ্যমান সামাজিক, অর্থনৈতিক, এবং রাজনৈতিক বৈষম্যের মূল কারণ। তারা মনে করে, এটি জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রকৃত প্রতিফলন ঘটাতে ব্যর্থ হয়েছে এবং একটি নতুন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রয়োজন।
তাদের কর্মসূচি "জুলাই বিপ্লবের" দিকে ইঙ্গিত করে, যা একটি রূপান্তরমুখী আন্দোলন হিসেবে গণ্য হতে পারে। তবে এই দাবিগুলোর ভিত্তি কী এবং এগুলো কতটা বাস্তবসম্মত তা প্রশ্নবিদ্ধ।
মূল্যায়ণ ও বিশ্লেষণ
১. সংবিধান সংস্কারের দাবি:
মুজিববাদী সংবিধানকে নিয়ে যে আপত্তি তোলা হয়েছে, সেটি নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে। সংবিধান একটি জাতির মূল দিকনির্দেশনা। এটি সমাজের বিভিন্ন স্তরে মানুষের অধিকার রক্ষা এবং উন্নয়ন নিশ্চিত করতে প্রণীত। যদি এটি সংস্কার প্রয়োজন হয়, তবে সেই প্রক্রিয়া গণতান্ত্রিক এবং আইনি পথে হওয়া উচিত। শুধুমাত্র "কবর রচনা" বা "বিপ্লবের" মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।
২. আন্দোলনের ভাষা ও টোন:
আন্দোলনের ভাষা অনেক ক্ষেত্রে উত্তেজক এবং বিভাজন সৃষ্টিকারী মনে হতে পারে। "কবর রচনা" বা "বিপ্লব" শব্দগুলো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সাথে সাংঘর্ষিক। এর পরিবর্তে যদি তারা সুনির্দিষ্ট ও গঠনমূলক সমাধানের প্রস্তাব দিতো, তাহলে তাদের বক্তব্য আরও গ্রহণযোগ্য হতো।
3. আদর্শিক ভিত্তি:
"জুলাই বিপ্লবের" আদর্শ কতটা জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটায়, সেটি আরও পর্যালোচনার দাবি রাখে। একটি বিপ্লব বা আদর্শ তখনই সফল হতে পারে, যখন তা দেশের সাধারণ জনগণের প্রয়োজন এবং ইচ্ছার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। কেবল তাত্ত্বিক ধারণার ওপর ভিত্তি করে বিপ্লব বাস্তবায়ন করা কঠিন।
সমাজে এর প্রভাব
এই ধরনের আন্দোলন সমাজে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। একদিকে কিছু মানুষ এটি একটি "আশার আলো" হিসেবে দেখেন, যারা মনে করেন দেশে প্রকৃত পরিবর্তন প্রয়োজন। অন্যদিকে, অনেকেই এটিকে একটি "অবিবেচক উত্তেজনা" হিসেবে গণ্য করেন, যা স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত করতে পারে।
এ ধরনের আন্দোলন যদি সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা এবং বাস্তবসম্মত সমাধানের পথ প্রদর্শন করতে পারে, তাহলে তা সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। কিন্তু যদি এটি কেবলমাত্র একটি ধ্বংসাত্মক বক্তব্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তবে এটি আরও বিভেদ এবং অস্থিরতা সৃষ্টি করবে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেছে, তবে তাদের ভাষা এবং পদ্ধতির মধ্যে আরও গঠনমূলক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন। দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে ছাত্রসমাজের বক্তব্য একটি শক্তিশালী বার্তা বহন করে।
তাদের উচিত হবে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করা, সুনির্দিষ্ট সমাধানের প্রস্তাব দেওয়া, এবং দেশবাসীর সমর্থন অর্জনের জন্য আরও ব্যাপক প্রচারণা চালানো। সমাজে একটি দীর্ঘস্থায়ী ও ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হলে কেবল বিপ্লবের ডাক নয়, বরং জনসচেতনতা এবং অংশগ্রহণমূলক উদ্যোগ প্রয়োজন।
আবু ফাতাহ্ মোহাম্মদ কুতুব উদ্দীন : : আজ ১ ডিসেম্বর। শুরু হলো মহান বিজয়ের মাস। বাঙালির সুদীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ ঘটনা ১৯৭১ সাল...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : সিনিয়র সাংবাদিক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন পরিবারসহ পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ...বিস্তারিত
আবু ফাতাহ্ মোহাম্মদ কুতুব উদ্দীন : : দীর্ঘ ১৬ বছর পর প্রাথমিকে বৃত্তি পরীক্ষা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নীতিমালা তৈরি, মানবণ্টন প্রক...বিস্তারিত
খবর বিজ্ঞপ্তি : : দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় রাজনীতির অন্যতম শীর্ষ নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : জবি প্রতিনিধি: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন্ন জকসু নির্বাচনকে সামনে রেখে সমাজসেবা ও শিক্ষার্থীকল...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি : জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) নির্বাচনে প...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Bangla | Developed By Muktodhara Technology Limited