বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২৬  

শিরোনাম

সংসদের কাছে জনগণের প্রত্যাশা

নিজস্ব প্রতিবেদক    |    ০৭:০৭ পিএম, ২০২৬-০২-১৭

সংসদের কাছে জনগণের প্রত্যাশা

সাহাবুদ্দিন আহাম্মদ চৌধুরী (এমরান) 
দীর্ঘ প্রতীক্ষার বাঁধ ভেঙ্গে শত বাধাঁকে উপেক্ষা করে  ১২ই ফেব্রুয়ারী ২০২৬ইং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন হলো। যেখানে সংসদীয় পর্যায় হতে উপজেলা, পৌরসভা,ইউনিয়ন নির্বাচন মানেই জালিয়াতি, বোমাবাজী, নিহত শতাধিক আহত ক্ষমতাসীনদের ব্যালট পেপার ছিনতাই-  এমন  দৃশ্যপট আমরা স্বাধীনতার পর থেকে দেখতে দেখতে অভ্যস্থ হয়ে গেছি। সেখানে উপরোক্ত কোন ঘটনা ছাড়াই  নিভীগ্ন নিরাপদ এবারের নির্বাচন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। পশ্চিমা গোষ্টী কিংবা যুগযুগ ধরে ছড়ি ঘোড়ানো প্রতিবেশী রাষ্ট্রটির কোন উদ্দেশ্যমূলক বক্তব্য দেয়ারও  সুযোগ ছিলনা। নির্বাচন  
অনেক দিন থেকে আমার বন্ধ-বান্ধবের  পক্ষে থেকে বার বার তাগিদ আসছিল এ নির্বাচনকে  উপলক্ষ করে কিছু লেখার জন্য। আমারও গত কিছুদিন যাবৎ কৌতুহল জাগছিল আগামী  সংসদের  উপর কিছু লিখবো বলে।  তাই শত অনুরোধের ফসল স্বরূপ আজকের এ প্রতিবেদন উপহার দিচ্ছি। এ প্রতিবেদন সম্পূর্ণরূপে নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোন থেকে  তৈরী। কারণ আমি ১৯৬৯ সালে ছাত্র নেতৃত্বে ছিলাম।।  এরপর  ১৯৭১ সালে  মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করি। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে এ সংবাদ পত্র জগতের  সাথে  কাজ করে আসছি।  তারপর  থেকে  কাজ করে আসছি। তারপর থেকে  আর রাজনীতির সাথ কোনদিন সংশ্লিষ্ট হইনি। এখন প্রায় রাজনীতি থেকে দুরত্ব বজায় রেখে একজন  সাংবাদিক কলামিস্ট এর নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ থেকেই বিচার বিশ্লেষণ করে  নির্বাচনের উপর এ প্রতিবেদন তৈরী করে জনগণকে উপহার দিচ্ছি। এতে যদি কোন ভূলত্রুটি হয়, ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে  দেখবেন।  আচ্ছা যাক ভূমিকা না রেখে এবার আসল কথায় আসা যাক। 
শত  সন্দেহের অবসান করে নির্ভিক চিত্তে আমাদের সংসদ নির্বাচন প্রায় শান্তিপূর্নভাবেই সম্পন্ন হলো বিদেশ থেকে হাজার হাজার ডেলিগেট এসেছিলেন এ নির্বাচন  পর্যবেক্ষণের জন্য। উক্ত পর্যবেক্ষণ গন প্রত্যেক জেলায়  বা দেশের  প্রায় অঞ্চলে  দ্বিধা-বিভক্ত হয়ে  স্বশরীরে এ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করন এবং  দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন  হয়েছেবলে তারাও মত প্রকাশকরেন। কারণ বাংলাদেশে গত সংসদে  তত্ত্বাবধায়ক  সরকারের অধীনে  নির্বাচন সম্পন্ন করার  যে বিলটি পাশ করানো হয়েছিল। তা আজও বিশে^র  কোথাও হয়নি।  এ জন্য তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুস্ঠিত এ নির্বাচন দেখার জন্য আগত হাজার হাজার পর্যবেক্ষকদের কৌতুহলও বেশি ছিল।   এখন জনগনের একমাত্র প্রশ্ন  হচ্ছে  আগামী  সংসদ কি  আমাদের সমস্যাগুলোর ইতিবাচক সিদ্ধান্ত দিতে পারবে?
কারণ বিগত সংসদ জনগনের বহু সমস্যার সমাধান দিতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই চুন খেয়ৈ একাবার মুখ পেড়াতে এখন দই দেখেও  সাধারণ মানুষের  ভয় লাগে।  এ জন্য জনগণ আগামী সংসদের উপরও আস্থাশীল নয়। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পার্লামেন্টারিয়ান সংসদই হচ্ছে জনগনের ভাগ্য নির্ধারক। এ সত্যিটি আমাদের এক বাক্যে স্বীকার করতে হবে। 
আমরা সবাই গণতন্ত্রের কথা বলি। কিন্তু আমাদের দেশে গণতান্ত্রিক চর্চার  পরিবেশসুষ্ঠুভাবে গড়ে উঠেনি। আমাদের দেশেরবিভিন্ন পেশাজীবী থেকে শুরু করে এমনকি বুদ্ধিজীবীরা পর্যন্ত  গণতান্ত্রিক চর্চায় অভ্যস্থ নন বলে আমার ধারণা। কারণ আমরা গত সংসদের সরকার ওবিরোধীদলের  সংসদের  আাচর আচরণ ও কার্যকলাপ থেকেই তার  যথেষ্ট প্রমাণ পেয়েছি। 
এখানে উল্লেখ্য যে, আমাদের সবাইকে বুঝতে হবে গণতন্ত্র কি? মুখে গণতন্ত্রের বুলি আউড়ালেই গনতান্ত্রিক হওয়া যায়না। গনতান্ত্রিক আচার আচারণ ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ  আমাদের চলমান জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে  কার্যোপযোগী করে তা ভবিষ্যত বংশধরদের জন্য প্রমাণ করে রেখে যেতে হবে। তাহলেই আমাদের দেশের জনগণ সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে পুরোপুরি গণতন্ত্রের সুফল ভোগ করতে পারবে। আমাদের আগামী সংসদের কাছে এটা একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। গনতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নির্বাচন হবে। নির্বাচনে একদল জিতবে, আর  একদল হারবে, এটাই স্বাভাাবিক। কিন্তু আমাদের দেশের  রাজীনতিকদের ভেতর পরাজয় মেনে নেয়ার মন এবং মানসিকতার যথেষ্ট অভাব রয়েছে।  এটা গত সংসদের সদস্যগণ তাদের আচার আচরনে এর আগে যথেষ্ট প্রমা রেখে গেছেন। তাই আমরা  আগামী সংসদের কাছে  আশা করবো তারা যেন তাদরে  মধ্যে  গনতান্ত্রিক আচার আচারণ এর সুষ্ঠু প্রয়োগ কর জনগণকে একটা সুন্দর সংসদ উপহার দেন। তার সাথে তারা  যেন গণতন্ত্রের মূল অর্থ যথা ঃ  উবসপৎধপু রং ধ মড়াবৎহসবহঃ ড়ভ ঃযব ঢ়বড়ঢ়ষব নু ঃযব ঢ়বড়ঢ়ষব ধহফ ভড়ৎ ঃযব ঢ়বড়ঢ়ষব এর মর্মার্থটা সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রয়োগ করে দেশ ও জনগনর গত ২৫ বছরের পাহাড়-পর্বত পরিমান স্তুপিকৃত  সমস্যা সমাধানের আংশিক হলেও চেষ্টা করেন।  ইহাই তাদের কাছে  জনগণর আশা-আকাংখ্যা। 
এবার আসা যাক, আসল কথায়। প্রতিক’লতার ভেতর আমাদের কেয়ারটোকার সরকারের  প্রধান উপদ্ষ্টো  ড: ইউনুস তার উপদেষ্টা পরিষদ এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার  এএমএম নাসির উদ্দিন দেশের জনগণকে এত সুন্দর একটি নির্বাচন  উপহার দিলেন। যা সত্যিই সর্বমহলের প্রশংসার দাবী রাখে। যা ইতিহাসের পাতায় সারা জীবন স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।  আর  প্রধান নির্বাচন কমিশনার নির্বাচন পরিচালনার ব্যাপারে যে সুন্দর পদক্ষেপ নিলেন তা সত্যিই প্রশংসার দাবীদার। আবু হেনা সাহেব নিজের প্রচেষ্টা ও দক্ষতার স্বাক্ষর রেখে গেছেন তাতে কোন সন্দেহ নেই। জাতি তাকে চির জীবন কৃতজ্ঞতাভরে স্মরণ করবে। 
স্বভাবতই আমাদরে দশের প্রশাসন সম্পর্কে সাধারণ মানুষের কাছে বদনাম রয়েছে। আমাদের প্রশাসনিক  কর্মকর্তারা সৎ ও দক্ষ নন বলেও অনেকে বলেন। আমাদের দেশে সবচেয়ে বেশি অভাব হচ্ছে সৎ রাজনীতিকের।  কারণ,   আমাদের রাজনীতিকদের ভেতর  সুষ্ঠু পরিকল্পনাকারী ও দক্ষ কোন রাজনীতিবীদ যে নেই, এটার প্রমাণ  আমরা গত কয়েক দশকে যথেষ্ট পেয়েছি। আমাদর  রাজনীতিবিদরা র্বিাচিত হয়ে সবচেয়ে বেশি সময় কাটান নিজেদের নিয়ে।  নির্বাচিত   হওয়ার পর  দেশ ও জনগনের কথা প্রায় ভূলতেই  বসেন।  তারা প্রায় জনগণ থেকে এতই ব্িিচ্ছন্ন  হয়ে পড়েন যে,  আগামী ৫ বছর পরে  যে তাদেরকে পুনরায় জনগণের  কাছে আসতে হবে তা প্রায় ভূলেই যান।  যার কারণে পরবর্র্তী সময়ে তারা জগণ দ্বারা প্রত্যাখ্যাাত হন। তারা এক মুহুর্তের  জন্য সংসদে জনগনের সমস্যার কতা তুলে ধরেন না।  এবং এলাকার  সমস্যা সমাধানের  চেষ্টাও করেননা।  এর যথেষ্ট প্রমাণ আমাদের কাছে আছে। 
যেমন ধরুন বিগত সংসদ ১৯৯১ সালের  তৎকালীন সাহাবুদ্দিন সাহেবের  তত্ত্বাবধানে কেয়ার টেকার সরকারের অধীনে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের  মাধ্যমে গঠিত সরকার ছিল। উক্ত সংসদ এর সরকারী দলের বিােধী দলের নেতাদের কাছে জনগণের অনেক আশা আকাংখ্যা ছিল। জনগন  আশা করেছিল, এবার তাদরে অনেক সমস্যার সমাধান হবে নির্বাচিত সংসদের মাধ্যমে। কিন্তু দেখা গেলো তারাও ব্যর্থতার পরিচয় দিলেন। তার উভয় দলই সংসদে বসেই তাদরে নিজেদের স্বার্থ রক্ষার জন্য বিভিন্ন বিল  উত্থাপন নিয়ে  ব্যতিব্যস্ত হয়ে গেলেন।  যেমন , নিজেদের  বেতন নির্ধারণ, ফ্রি-ট্যাক্সে গাড়ী আনা, পেনশন নির্ধারণ,  এগুলো তারা নিরে উদ্যোগ দিয়ে  পাশ করিয়ে নিলেন। কিন্তু জনগণের  ভোটে যে তার নির্বাচিত হয়ে এসেছেন, তাদের সমস্যার কথা তো তারা ভূলেই গেলেন। 
পরবর্তী পর্যায়ে দেখা গেলো, যার পরিপ্রেক্ষিতে  উক্ত সংসদে আমাদের  জনগণর কোন সমস্যারই সমাধান হয়নি বললেই চলে। ব্যর্থতা শুধু সরকারের উপর  ফেললেই চলবেনা।  বিরোধীদলের সংসদেরা দায়িত্বটুকু এড়াতে পারবেন না।  কারণ  একটি গনতান্ত্রিক দেশে পার্লামেন্টারিয়ান সংসদ হচেছ জনগণের ভাগ্য নির্ধারক।
গণতান্ত্রিক ধারা  মতে, সংসদ দেশের প্রশাসন থেকে শুরু করে দেশের যত সমস্যা আছে, সব কিছু সমাধানের পরিকল্পনা করবে ও সুষ্ঠু নীতি নির্ধারণ  করবে, আর উক্ত নীতিমালা বা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে প্রশাসন। আরপ্রশাসন যদি পরিকল্পনাগলো বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হয়  তাহলে এর জন্য জবাবদিহি করবে  সংসদের কাছে।  এটাই চিরন্তন নিয়ম। কিন্তু আমাদের দেশে গত ২৫ বছরে  যত সরকার গত হয়েছে, তাদের কাছে  প্রশাসনকে কোন জবাবদিহি করতে হয়নি। যার কারণ আমাদের দেশে গনতন্ত্রের সুফল আজ পর্যন্ত  কেউই ভোগ করতে পারেননি। এটা আজ আমাদের প্রতি মূর্হূতে   অনুধাবন করতে হবে। 
তবে  সংসদে প্রশাসনকে জবাবদিহিতার জন্য বিগত সরকার প্রত্যেক মন্ত্রণালয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল। কিন্তু আমরা দেখলাম,  বিগত সংসদ ৫ বছরের ভেতর   ৩ বছর পরিচালিত হওয়ার পর ঐ তদন্ত কমিটি একটি রির্পোটও  সংসদে দাখিল করতে পারেনি।  উক্ত তদন্ত কমিটি সংসদ সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যদের নিয়েই  করা হয়েছিল। কিন্তু তারা প্রশাসন এর উপর তাদের প্রভাব বিস্তার করতে পারেননি।   বরঞ্চ দেখা যায়, বিগত সরকার সম্পূর্ণরূপে প্রশাসনিক  কর্মকর্তাদের  উপর এতটাই নির্ভরশীল হয়ে পড়েন যে, যার কারণে  দেশর আপামর জনসাধারনের জমা হয়ে থাকা লাখ লাখ  সমস্যার আংশিকও পূরণ করা সম্ভব হয়নি। 
এতে শুধু সরকারই নয় বিরোধী দলের সদস্যরাও কম ব্যর্থতার পরিচয় দেন নি।  কারণ, একটি গণতান্ত্রিক দেশে পার্লাামেন্টারিয়ান সংসদ  সরকারের পাশাপাশি বিরোধী দলের দায়িত্ব কম নয়।  কারণ বিরোধী দল হচ্ছে সংসদ “ছায়া  সরকার”।  সেহেতু আমি বলবো আমাদের বিরোধী সংসদরাও তাদের সার্বিক দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে। 
এবার আসা যাক বর্তমান প্রেক্ষাপটে। গত১২ জুন আমাদের সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে।  আমাদের  দেশের বৃহ রাজনৈতিক দরে ভতর আওয়ামীলীগ  এ পর্যন্ত যতগুলো কেন্দ্রের  ফলাফল ঘোষিত হয়েছে তার ভেতর অগ্রগামী রয়েছে।  আর জাতীয়তাবাদী দল ২য় স্থানে রয়েছে। ৩০০ আসনের ভেতর ২৭৩টির ফলাফল এ পর্যন্ত সরকার ঘোষণা দিয়েছে। এর ভিতর আওয়ামী লীগ পেয়েছে ১৩৫টি। বিএনপি ১০৪টি, জাতীয় পার্টি- ২৯টি, জামাত- ২টি স্বতন্ত্র ১টি, জাসদ রব ১টি, ইসলামী ঐক্যজোট ১টি। আর বাকি ২৭টি আসনে নির্বাচন স্থগিত রয়েছে। এগুলো ১৯ তারিখ পুন: নির্বাচন করে ফলাফল ঘোষণা করা হবে বলে ইতিমধ্যে  নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দিয়েছে। এর ভেতর দেখা যায়, কেউই  একক সংখ্যা  গরিষ্ঠতা পায়নি।  আগামীতে দেখা যায়, আমাদের  রাজনীতিকদেরকে  গত সরকার  এর মত হয়তো পুনরায় কোয়ালিশন সরকার গঠন করতে হবে।  কারণ আওয়ামীলীগ বর্তমানে সে পদ্ধতিতে সরকার গঠন করতে পারে। আর বিএনপি হয়তো বিরোধী দলের নেতৃত্ব দেবে। 
এ পরিসংখ্যান  অনুযায়ী আমরা নিরপেক্ষ দৃষ্টি কোন থেকে বিচার বিশ্লেষণ  করলে দেখতে পাই, এবারকার নির্বাচনে, বিএনপি নেত্র বেগম খালেদা জিয়া আবারও প্রমাণ করলেন,বাংলাদেশে  তিনি সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় নেত্রী। কারণ প্রথম আমাদের দেশে একটি জিনিস প্রচালন আছে, কোন সরকার ক্ষমতায় থাকার পর, ক্ষমতা থেকে বিচ্যুত হলে পরবর্তী নির্বাচনে সে জনগণ দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হয়। কিন্তু এবার নির্বাচনে এটার  ব্যতিক্রম হয়েছে। দীর্ঘ ২ বছর বিরোধী দলের  ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মুখে বেগম  খালেদা জিয়ার সরকার  ক্ষমতা থেকে বিচ্যুত হওয়ারপরও বেগম খালেদা জিয়া দেশের ৫টি প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৫টিতেই বিজয়ী হয়েছেন। এবং সংসদে সর্ববৃহৎ  বিরোধী দল হিসেবে নিজেকে  প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছেন। আর তাছাড়া দেশের তিনটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ,জাতীয় পার্টি, জামাত ও অন্যান্য দল ঐক্যবদ্ধভাবে বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে ২ বছর যাবত আন্দোলন করে সরকারী কর্মকর্তাদের  জনতার মঞ্চে এনে একাত্মতা ঘোষণা করাতে পেরেছেন।। তাদের  বিরুদ্ধে বিএনপি বক্তব্য রেখে তাদের ক্ষেপিয়ে দিয়েছেন। উক্ত সরকারী কর্মকর্তারা ও এবারকার নির্বাচনে  পরোক্ষভাবে  বিএনপি’র বিরুদ্ধে  কাজ করেছেন। এছাড়া আমাদের সংবাদপত্র থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমগুলোর  প্রায় শতকরা ৮০% ভাগ বিএনপির বিরুদ্ধে হয়ে তথা: একটি  রাজনৈতিক দলের পক্ষে পরোক্ষভাবে কাজ করেছেন। 
এতগুলো  প্রতিকূলতার মধ্যেও বেগম খালেদা জিয়া  নিজে ৫টি আসনে জয় লাভ করে ও  ১০৪টি আসনে  উর্ত্তীণ   হয়ে একজন সফল জননেত্রী হিসেবেই প্রমাণ করতে পেরেছেন বলে আমার মনে হয়।  
কারণ আমাদের পত্রিকা মাধ্যমগুলো সংবাদ পত্রের নীতিমালা লংঘন করে ঢালাওভাবে  একটি দলের পক্ষে কাজ করেছে বলে দেখা যায়।  এজন্য  আমাদের  জাতীয় প্রেস কাউন্সিলও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন।  যার কারণে  গত ৯/৬/৯৬ইং প্রেসকাউন্সিলের চেয়ারম্যান সাহেব ৯ম কাউন্সিল অধিবেশনে নিজেই স্বীকার করেছেন  এবং সংবাদপত্রের ভবিষ্যত  সম্পর্কে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি  বলেন-নিরপেক্ষ সংবাদ মাধ্যমে  এর ভূমিকা  ভাবমূর্তি সমুন্নত রাখা আমাদের সবারই কর্র্তব্য। আমাদরে সংবাদ মাদ্যমগুলোতে যারা কাজ করছেন, তারা দলীয় রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট  থাকা উচিত নয়। এতে করে  তারা সমাজের তথা দেশের সঠিক চিত্র তুলে ধরতে অক্ষম হবেন বলে মনে হয়। তাই আমরা সব কিছুকে নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোন থকে বিচার বিশ্লেষণ করে সঠিক তথ্য জনগনের কাছে তুলে ধরা উচিত। তা না হলে আমাদের সংবাদ মাধ্যমের সদস্যরা ভবিষ্যতে জনগণের কাছে  গ্রহণযোগ্যতা হারাবে। এ অবস্থায় আমাদের অতিস্বত্ত¦র সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া উচিত। 
এবার আসল কথায় আসি।  সরকার থেকে সরাসরি জনগণের কাতারে এসে  একটি নির্বাচিত সরকারের  অধীনে  নির্বাচন করে এতগুলো পেয়ে বেগম জিয়া প্রমাণ করলেন, তিনি একজন সফল রাজনীতিবিদ হিসেবে  সাধারণ মানুষেরকাছে  তার গ্রহণ যোগ্যতা আছে।  এখানে উল্লেখ্য যে, ১৯৯১ সালের নির্বাচনে  তৎকালীন রাষ্ট্রপতি এরশাদ শুধু তার জেলায় কয়েকটি আসনে  দাড়িয়ে   এককভাবে  জয় লাভ করেন।  কিন্তু তিনি দেশের অন্য কোন জেলা থেকে দাড়াতে সাহস করেন নি। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া সেখানে বিভিন্ন জেলা থেকে  দাঁড়িয়ে  সব আসনেই  জয় লাভ করেন এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের প্রায় কাছাকাছি আসন পেতে সমর্থন হয়েছেন। 
যার কারণে নিরপেক্ষ  দৃষ্টিতে বিচার করলে , বেগম খালেদা জিয়া সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় নেত্রী হিসেবে আখ্যায়িত করা হবে মনে হয়।
স্বভাবত:ই প্রশ্ন এসে যায়, যদি বেগম খালেদা জিয়া  জনপ্রিয়  নেত্রী হন তাহলে এবারকার নির্বাচনে পরাজিত হলেন কেন? এ ক্ষেত্রে আমাদের কিছুটা রাজনৈতিক বিশ্লেষনের  প্রয়োজন রয়েছে। আমরা যদি একটু পিছনের দিকে তাকাই,তাহলে বলতে হয়,  ১৯৯১ সালে যখন জনাব এরশাদ সরকার পদচ্যুত হন, তখন  বেগম জিয়া তার দলের ৩০০ আসনে প্রার্থী নিয়োগ দানে বাধাগ্রস্থ হন। কারণ তার দলের যে সব রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন, এরশাদ সরকার সে সব রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বগণের সিংহভাগকেই তার দলে নিয়ে নেন। পরবর্তী পর্যায়ে   গণঅভ্যুত্থানে  যখন জনাব এরশাদ তার সরকারকে বিলুপ্ত  ঘোষণা করে পদত্যাগ করেন, এরপর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করেন ও নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেন। কিন্তু তখন  বেগম জিয়ার বিএনপি’তে সরকার পরিচালনার ব্যাপারে দু’ একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছাড়া উপযুক্ত লোক  খুুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে দাড়ায়। এমনকি ৩০০ আসনে প্রার্থী দেয়াও অসম্ভব হয়ে পড়ে 
অপরদিকে দেখা গেল ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বেগম জিয়া তার তুমুল জনপ্রিয়তার কারণে  ১৪৩ সিটে জয় লাভ করন এবং পরবর্র্তী পর্যায়ে সরকার গঠন করেন। এরপর তিনি এ অদক্ষ রানৈতিকদের নিয়ে মন্ত্রী সভা গঠন করতে পর্যন্ত বিপাকে পড়ে যান। কিন্তু  তিনি তড়িঘড়ি করে অনভিজ্ঞ ও অদক্ষ একটি মন্ত্রীসভা গঠন করে জনগনকে উপহার দেন। যার কারণে পরবর্তী পর্যায়ে  উক্ত মন্ত্রীরা   দেশের আপামর  জনসাধারনের  বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সম্পূর্ণরূপে অদক্ষতার পরিচয় দেন।  এও   আমরা দেখেছি উক্ত মন্ত্রী সভার অদক্ষ মন্ত্রীরা এক সময় নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন এবং প্রায়ই আমলা নির্ভরশীল ছিলেন। 
এ ব্যাপারে আমরা এও দেখতে পাই যে অরাজনৈতিক  মন্ত্রীরা ক্ষমতায় আসার আগে যে তাদেরকে কেউ চিনতো না,তারা এ কথাটি পর্যন্ত ভ’লে যান। তারা যে একমাত্র বেগম জিয়ার  একচ্ছত্র জনপ্রিয়তার কারণে  নির্বাচনে নির্বাচিত সদস্য হয়ে ক্ষমতায় বসেছেন একথাটি তারা এক মুহুর্তের জন্য অনুধাবন করেনি। তারা ক্ষমতায় থেকে নেতৃত্বের লোভে দলের ভিতর অর্ন্তদ্বন্দ্ব শুরু করেছেন। তাদের এসব অর্ন্তদ্বন্দ্বের কারণে গত মেয়র  নির্বাচনে বেগম জিয়া দেশের রাজধানী ঢাকা ও বানিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের মতো দুটি গুরুত্বপূর্ন সীট হারান। এ ব্যাপারে  ভারতের বিশিস্ট সাংবাদিক/কলামিস্ট জনাব কুলদীপ নায়ার ১৯৯৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারী তারিখে চুন্দ্রিঘরের “ঃড়নঁৎব  পত্রিকায় উযধশধ ষবধৎহরহম ঃড় ষরাব রিঃয উরষযর শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেন, যা আমি পরে ১৯৯৪ সালের ২০ এপ্রিল তারিখে বাংলা ভাষায় অনুবাদ কর “দৈনিক নয়া বাংলা” পত্রিকায় প্রতিবেদন দিয়েছিলাম।
জনাব নায়ার উক্ত প্রতিবেদনে স্পষ্ট ভাবে বাংলাদেশের  রাজনৈতিক  ভবিষ্যতের একটি চিত্র তুলে ধরেছিলেন। সেখানে তিনি বেগম জিয়ার সরকার  এর পতনের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছিলেন এবং বেগম জিয়াকে অতিসত্ত্বর সাবধানতা অবলম্বন করার জন্যে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। কিন্তু বেগম জিয়া সরকারের মন্ত্রীরা এতই অদক্ষ ছিলেন যে, তারা কোন বিদেশী পত্রপত্রিকার ফিচারগুলো পর্যন্ত পড়ার প্রয়োজন অনুভব করতেন না।  আমি এও দেখেছি যে ওইসব মন্ত্রী এমপিরা   দলীয় কোন্দল ও বিভিন্ন গ্রুপিং নিয়ে  ঘন্টার পর ঘন্টা সময় কাটাতেন।  তিনি যে সরকারের দায়িত্ব পালন করছেন এটা তিনি বিন্দু মাত্র ও অনুধাবন করতে পারেননি। তার উপর রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বা যে কোন সমস্যার সিদ্ধান্তের জন্য গোটা অফিস তার জন্য অপেক্ষা করছে তা তার খেয়ালই নেই। তিনি শুধু কতগুলো টাউট-বাটপার নিয়ে তার দলের  অবস্থানকে সুদৃঢ়  করার জন্যে দিনের পর দিন সময় কাটিয়েছেন। তার একতা খেয়াল ছিলনাযে আমি কি ছিলাম, এখন কি হয়েছি। তার তো  এ কথা অনুধাবন করা উচিত ছিল। আমাদের তো এলাকার লোক চিনতো না আমরাতো একমাত্র  বেগম জিয়ার জনপিয়তার কারনে  নির্বাচনে জয়লাভ করে মন্ত্রী  নির্বাচিত হয়েছি। এখন আমাদেরকে দেশের ও এলাকার কাজ করে আমাদের এ সুযোগটি কাজে লাগানো দরকার। 
কিন্তু তারা এক মুহুর্তের জন্যও ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় এক সেকেন্ডের জন্য অনুধাবন করেননি। যার  পরিণতিতে এবারকার সংসদ নির্বাচনে প্রায় বিগত সরকারের ১৫ জন মন্ত্রী  ধরাশায়ী হয়েছেন। যারা সততার সাথে কাজ করেছেন, তারা তাদের  কাজের উপহার ঠিকই পেয়েছেন।  এতে কোন সন্দেহ নেই।   মন্ত্রীদের  এসব অদক্ষতার কারণে দেশের   মানুষের  অনেক সমস্যার  সমাধান দিতে গত সরকার ব্যর্থ হয়েছে। তাই এ থেকে প্রত্যেকেরই শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত বলেআমি মনে করি। যাই হোক আমরা  মনে করি, যে দলই ক্ষমতায় আসুক, আগামী সংসদ  যেন পূর্বের  সংসদের  ন্যায়  ব্যর্থতায় পর্যবসিত না হয়।  আমাদের   গরীব  দেশের মতো  একটি দেশে শত শত কোটি টাকা ব্যয় করে বার বার  নির্বাচিন  করা সম্ভব নয়।  এজন্যে আমাদের  সরকার’ ও বিরোধী  সংসদের  কাছে একমাত্র  অনুরোধ হচ্ছে দেশ ও জনগণের স্বার্থে  আগামীতে  আপনারা পরস্পর পরস্পরের প্রতি সহিঞ্চুতার পরিচয় দেবেন।  আপনাদের উপর ভবিষ্যতে কঠিন দায়িত্ব  অর্পিত হয়েছে দেশের জনগন লক্ষ লক্ষ সমস্যায় দিশেহারা।  এ থেকে  তারা কিভাবে  পরিত্রাণ  পাবে, সেটাও তারা চিন্তা করে কুলকিনারা করতে পারছেনা।  তাই জনগন  আপনাদের দিয়ে  আশার আলো জে¦লে তাকিয়ে আছেন। ভবিষ্যতে সংসদের  সরকার ও বিরোধী  দলের সদস্যরা পরম সহিঞ্চুতার  পরিচয়  দিয়ে সাধারণ জনগনকে  এ লক্ষ লক্ষ সমস্যা থেকে  পরিত্রাণ দেবেন বলে  আমরা আশা করছি। 
এখানে উল্লেখ্য যে, বেগম খালেদা জিয়ার সরকার প্রকাশ্যে জনসমক্ষে তথাকথিত সরকারী কর্মকর্তাদের প্রকাশ্যে  জনসমক্ষে সমালোচনা করে প্রশাসনকে ক্ষেপিয়ে তোলেন, যদিও  তিনি সত্যি কথা ও সঠিক সমালোচনা করেছেন, তবুও ইহা এ মুহুর্তে  বা নির্বাচনের পূর্বে করা উচিত হয়নি। এটা পরবর্তী পর্যায়ে  ও  করতে পারতেন।  আর অপরদিকে বিরোধীদল এর নেত্রী  বির্তকিত ৭জন সরকারী কর্মকর্তার ইস্যু টিকে অস্ত্র হিসেবে নির্বাচনে ব্যবহার করেন। এতে করে বিএনপি দলের যথেষ্ট ক্ষতি হয়।  এক্ষেত্রে  আমরা  বলবো, দেশ ও  জাতির স্বার্থে  বিরোধী দল  এ সরকার কর্মকর্তাদের  ইস্যুটিকে  হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা ঠিক নয়। সরকারের প্রশাসনিক কর্মকর্তারা আইন অনুযায়ী সরাসরি রাজনীতিতে  জড়িয়ে পড়া ঠিক নয়।  কারণ এটা সম্পূণরূপে  আইন পরিপন্থী। কারণ আন্দোলনের  তিনটি বিরোধীদল তিন জায়গায় তিনটি মঞ্চ গঠন করেন। 
কিন্তু দেখা গেলো, কতিপয় সরকারী কর্মকর্তা  তিনটি মঞ্চে না গিয়ে একটি দলের গঠিত মঞ্চে গিয়ে  আন্দোলনের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করেন। এটা তারা ঠিক করেননি। এক্ষেত্রে  আমাদের অভিমত হচ্ছে, তারা নিজেরা সরকারী  কর্মকর্তাদের  পক্ষ থেকে একটি মঞ্চ তৈরী করে উক্ত আন্দোলনের  সাথে একাত্মতা ঘোষণা করতে পারতেন। অথবা যখন তারা অন্য মঞ্চে শ^শরীরে গেলেনই, তখন তারা তিনটি মঞ্চে গিয়েই  আন্দোলনের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করতে পারতেন।  যেহেতু  তারা  একটি  দলের  মঞ্চে গিয়ে উঠেন।  তাহলে কি  এটা প্রমাণ করেনা, তারা একটি দলের পক্ষ হয়ে কাজ করছেন। এ ব্যাপারে আমরা বলবো, তারা সরকারী আইন কানুন সম্পূর্ণরূপে লংঘন করেছেন।
এক্ষেত্রে আমরা বলবো, বিরোধী দলের নেত্রী  উক্ত  সরকারী কর্মকর্তাদের  এ বেআইনি কার্যকলাপকে সমর্থন দেয়া ঠিক হয়নি। এতে করে  প্রশাসনে  দ্বন্দ্বের  সৃষ্টি   হওয়ার আশংকা থাকে।  কারণ গণতান্ত্রিক  রাষ্ট্রে   আজ একদল ক্ষমতায় আাছেন কালকে হয়তো বিরোধী দল  ক্ষমতায় আসবে।  ইহাই স্বাভাবিক। এজন্য  আমরা বলবো, সরকারী দল বা বিরোধী দল  স্বস্তা জনপ্রিয়তার জন্য অন্যায়কেও সমর্থন দিয়ে যাবেন এটা ঠিক নয়। এতে করে হয়তো বিগত সংসদের বিরোধীদল  এবার ক্ষমতায় বসবেন, যদি বর্তমান সংসদের যারা বিরোধী নেতৃত্বে আসবেন, তারাও এ ধরণের ইস্যু নিয়ে  আগামী সরকারের বিরুদ্ধে লেগে বসেন,  তাহলে সরকার বা প্রশাসনের অবস্থাটা কি হবে?
আমরা মনে করি, এক্ষেত্রে  সরকারী দল ও বিরোধী দল উভয়কে   যে কোন সিদ্ধান্ত ভেবে চিন্তে নেয়া উচিত। আর সাথে সাথে ধৈর্য্য ও সংযমের পরিচয় দেয়া উচিত।  তা না হলে প্রশাসনিক  বিশৃংখলা দেখা দিতে পারে,  যার পরিণতিতে যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক প্রশাসনকে ভবিষ্যতে  দেশ পরিচালনা করা দায় হয়ে দাড়াবে।  এজন্য আমরা বলবো প্রশাসনকে কোন অবস্থাতেই  রাজনীতির সাথে  যুক্ত করা ঠিক নয়।  তাই এ ব্যাপারে ভবিষ্যতে  যে দলই সরকার গঠন করুক অবিলম্বে তাদেরকে অবশ্যই সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। 


সাংবাদিক সাহাবুদ্দিন আহাম্মদ চৌধুরী সংবাদপত্র জগতের একজন উজ্জল নক্ষত্র। তিনি সালে ইষ্টার্ণ নিউজ পত্রিকায় রিপোর্টার  হিসেবে সাংবাদিকতায় যোগ দেন,তখন তিনি সবে সিটি কলেজে বিএ পড়তেন। পাশাপাশি  তিনি ছাত্র  নেতৃত্বেও ছিলেন। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। এরপরতিনি চট্টগ্রাম থেকে ভারতে চলে যান। পাকিস্তান আমলে তিনি রেডিও পাকিস্তানেও কর্মরত ছিলেন।মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে১৯৭১ সালে কলকাতা থেকে প্রকাশিত জাতীয় বাংলাদেশ পত্রিকার চীফ রিপোর্টার ছিলেন। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের প্রথম দিকে বাসস এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ.বি.এম মুসার হাত ধরে কিছুদিন বাসস’এ কাজ করেন। তাছাড়া তিনি দৈনিক নয়াবাংলা, দৈনিক দেশ বাংলা, দৈনিক নব অভিযানসহ বহু দৈনিক ও সাপ্তাহিক পত্রিকায় নিয়মিত কলাম লিখতেন। এখনো লিখে চলেছেন।  সরকারের বিভিন্ন সেক্টরের উপর দিক  নির্দেশনা ও গঠনমূলক প্রতিবেদন তৈরী করে প্রকাশের কারণে সংশ্লিষ্ট সকলের  কাছে  গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেন। আন্তর্জাতিকভাবেও খ্যাতি অর্জন করেন তিনি।  ১৯৯৭ সালের আগষ্ট মাসে কলিকাতা ক্যান্সার হাপতালের উপর কভার  স্টোরী করেন এবং  ক্যালকাটা  ক্যন্সার হাসপাতালের  প্রতিষ্ঠাতা ড. সরোজ  গুপ্তের সাক্ষাতকার গ্রহণ করেন যা ১৯৯৭  সালের ১২ আগষ্ট ঞযব উধরষু খরভব পত্রিকাসহ বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
তিনি ১৯৯৮ সালে  ভারত সরকারের পরিত্যক্ত সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষনের  ব্যাপারে   গবেষণামূলক প্রতিবেদন তৈরী করে দেন যা দীর্ঘদিন যাবত “দৈনিক নয়া বাংলা” ও ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক “নব অভিযান” পত্রিকাসহ বিভিন্ন  সাপ্তাহিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।  
বাংলাদেশ পুলিশ প্রশাসনের উপর বিভিন্ন সময়ে  দিক নির্দেশনা দিয়ে গবেষণামূলক প্রতিবেদন প্রকাশ  করে পাঠক মহলে গ্রহণযোগ্যতা লাভ করেন। 
২০০২ সালের ২০ আগষ্ট মাসে ঢাকা জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত “ আপনার স্বাস্থ্য সাময়িকীর’ অনুষ্ঠানে  সাংবাদিকতার উপর অবদান রাখার  জন্য সম্মাননা পদক অর্জণ করেন যা “দৈনিক নওরোজ” পত্রিকায় ২০০২  সালের ২৬শে অক্টোবর প্রকাশিত হয়। 
এ ছাড়া ১৩ই মার্চ ২০০৮ সালে সাংবাদিকতায় অবদান রাখার জন্য চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের চেম্বারে পুলিশ কমিশনার কর্তৃক  সিএমপি’র  চাবির রিং উপহার হিসেবে পান। যা ২০০৮ সালের ২ শে মার্চ  তারিখে “দৈনিক নওরোজ’ পত্রিকায় খবর  আকারে সংবাদ প্রকাশিত হয়। 
তাছাড়াও ২০১৮ সালের ২৬শে মার্চ স্বাধীনতা আন্দোলনে   বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন তাকে স্বাধীনতা সম্মাননা পদকে ভূষিত করেন। 
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি  দুই পুত্র এবং এক কন্যার গর্বিত পিতা। তারঁ  মেয়ে ফাহমিদা আক্তার চৌধুরী  ৩৩তম বিসিএস ক্যাডারে সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে কর্মরত রয়েছেন।  
 

রিটেলেড নিউজ

অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী সুপর্বার সাফল্যের ঝুলিতে ৫৩ পদক

অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী সুপর্বার সাফল্যের ঝুলিতে ৫৩ পদক

আমাদের বাংলা ডেস্ক : : চট্টগ্রামের কিশোরী সুপর্বা সুধা বিশ্বাস। ১৩ বছর বয়সী অষ্টম শ্রেণির এই শিক্ষার্থীর ঝুলিতে ইতোমধ্...বিস্তারিত


বাংলাদেশ এডিটরস্ ফোরাম এর উদ্বেগ : বাংলাদেশ এডিটরস্ ফোরাম এর কেন্দ্রীয় প্রেসিডেন্ট মিজানুর রহমান চৌধুরীর বিরুদ্ধে মিথ্যাচার

বাংলাদেশ এডিটরস্ ফোরাম এর উদ্বেগ : বাংলাদেশ এডিটরস্ ফোরাম এর কেন্দ্রীয় প্রেসিডেন্ট মিজানুর রহমান চৌধুরীর বিরুদ্ধে মিথ্যাচার

আমাদের বাংলা ডেস্ক : : বাংলাদেশ এডিটরস্ ফোরাম গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছে যে, সম্প্রতি চট্টগ্রামের একটি দৈনিক পত্রি...বিস্তারিত


নোবিপ্রবি ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান বিষয়ক

নোবিপ্রবি ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান বিষয়ক "জুলাই অনির্বাণ" আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত 

আমাদের বাংলা ডেস্ক : : নোবিপ্রবি প্রতিনিধি : জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি ও শহীদদের স্মরণে বাংলাদেশ ইসলাম...বিস্তারিত


হাইকোর্টের রুল জারি: বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে শারীরিক সম্পর্কে শুধু পুরুষের শাস্তি কেন অবৈধ নয়?

হাইকোর্টের রুল জারি: বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে শারীরিক সম্পর্কে শুধু পুরুষের শাস্তি কেন অবৈধ নয়?

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে শারীরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শুধু পুরুষের শাস্তির বিধান কেন অবৈধ নয়, তা জানতে ...বিস্তারিত


জুলাইয়ের বিচারই অগ্রাধিকার, চলবে গুম-ক্রসফায়ারের মামলাও : চিফ প্রসিকিউটর

জুলাইয়ের বিচারই অগ্রাধিকার, চলবে গুম-ক্রসফায়ারের মামলাও : চিফ প্রসিকিউটর

নিজস্ব প্রতিবেদক : জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাগুলোর বিচার অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে এগোচ্...বিস্তারিত


ক্যাম্পাসগুলোকে আবারও সন্ত্রাসের অভয়ারণ্যে পরিণত করা হচ্ছে : নাহিদ ইসলাম

ক্যাম্পাসগুলোকে আবারও সন্ত্রাসের অভয়ারণ্যে পরিণত করা হচ্ছে : নাহিদ ইসলাম

নিজস্ব প্রতিবেদক : জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষা প্রতি...বিস্তারিত



সর্বপঠিত খবর

দশম শ্রেণির ছাত্রীকে গণধর্ষণ করে ভিডিও ধারণ, গ্রেফতার ২

দশম শ্রেণির ছাত্রীকে গণধর্ষণ করে ভিডিও ধারণ, গ্রেফতার ২

নোয়াখালী প্রতিনিধি : : নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী (১৭) গণধর্ষণের শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় সম্পৃক্তার অ...বিস্তারিত


সৌদি আরবে  গাড়ির নির্দিষ্ট গতি  অমান্য করলে  ২ হাজার রিয়াল জরিমানা 

সৌদি আরবে  গাড়ির নির্দিষ্ট গতি  অমান্য করলে  ২ হাজার রিয়াল জরিমানা 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : : সৌদি ট্রাফিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, স্পীড লিমিট এর চাইতে অধিক গতিতে যানবাহন চালানো ব্যক্তিদের উপ...বিস্তারিত



সর্বশেষ খবর