শিরোনাম
মামুনুর রশিদ সেলিম | ০৮:২৭ পিএম, ২০২৬-০৫-২৪
চট্টগ্রাম জেলা ও মহানগরে শিশু ধর্ষণের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। এসব ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি বিচারিক জটও বাড়ছে। বর্তমানে চট্টগ্রামের দুটি শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে মোট ১ হাজার ৯২টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর বাইরে আইনি জটিলতার কারণে চট্টগ্রামের সাতটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল থেকে আরও অনেক মামলা এখনো শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে হস্তান্তর করা হয়নি সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিচারাধীন এসব মামলার সব ভিকটিমই ১৬ বছরের নিচের শিশু। সাম্প্রতিক সময়ে নগর ও জেলায় একের পর এক শিশু ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে।
জানা যায়, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর মাধ্যমে দেশে শিশু ধর্ষণ ও সংশ্লিষ্ট সহিংসতার বিচার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিশেষায়িত ‘শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল’ গঠনের বিধান করা হয়। আইনটি ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ থেকে কার্যকর হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। পরে ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারির মাধ্যমে এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন পায়।
চট্টগ্রাম শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর চট্টগ্রাম জেলা ও মহানগরের জন্য পৃথক দুটি শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের গেজেট প্রকাশ করা হয়। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি চট্টগ্রাম চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনে ট্রাইব্যুনাল দুটির কার্যক্রম শুরু হলেও বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয় একই বছরের ১২ জানুয়ারি থেকে। বর্তমানে চট্টগ্রাম শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে জেলার ১৭ থানায় দায়ের হওয়া শিশু ধর্ষণ মামলার বিচার চলছে। এ ট্রাইব্যুনালে বর্তমানে ৪১৫টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। অন্যদিকে, চট্টগ্রাম মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) আওতাধীন ১৬ থানার ৬৭৭টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। শিশু ও মানবাধিকারকর্মী সাউথ এশিয়ান ভয়েস ফর চিলড্রেনের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, শিশু হত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতন প্রতিরোধ রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব হলেও ধারাবাহিক ঘটনাগুলো প্রমাণ করে বিদ্যমান আইন কার্যকরভাবে প্রয়োগ হচ্ছে না। বিচারহীনতার সংস্কৃতি, দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া ও দুর্বল আইন প্রয়োগ পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে। এইচআরএসএসের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৬ মাসে দেশে অন্তত ৫৮০ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে এবং হত্যা করা হয়েছে ৪৮৩ জনকে। শিশুদের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধ ও মানবিক মূল্যবোধের পুনর্জাগরণ জরুরি। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ মে সাতকানিয়া উপজেলার পাহাড়ি এলাকায় নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া ১৫ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীকে একটি মৎস্যখামারের সাত শ্রমিক পথ আটকান। এরপর নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া ওই ছাত্রীকে গহিন পাহাড়ে নিয়ে গিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন। এ ঘটনার পর রাতে ওই স্কুলছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে ৭ জনের নাম উল্লেখ করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সাতকানিয়া থানায় মামলা করেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা প্রাথমিকভাবে শিশুকে ধর্ষণ করার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছেন। অন্যদিকে গত ২১ মে নগরের বাকলিয়া থানার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মনির হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ সময় পুলিশের সঙ্গে বিক্ষুব্ধ জনতার দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিশু ধর্ষণ মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করতে সাক্ষ্যগ্রহণ ও বিচারিক প্রক্রিয়া আরও গতিশীল করা জরুরি। দীর্ঘসূত্রতার কারণে অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী পরিবার মানসিক ও সামাজিক চাপে পড়ে। দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক সাজা নিশ্চিত করা গেলে শিশু নির্যাতনের ঘটনা কমাতে তা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন আইন সংশ্লিষ্টরা। চট্টগ্রাম শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালেলে পাবলিক প্রসিকিউটর আলমগীর মোহাম্মদ ইউনুস বলেন, চট্টগ্রাম জেলার শিশু ধর্ষণের ৪১৫টি মামলা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল থেকে অধিকাংশ শিশু ধর্ষণের মামলা নতুন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়েছে। তবে কিছু মামলা প্রক্রিয়াধীন থাকায় সেগুলো এখনও স্থানান্তরের পথে রয়েছে। সাক্ষীরা সময়মতো আদালতে হাজির হলে মামলার বিচার দ্রুত এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়। আবার ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন সময়মতো না পাওয়ায় তদন্ত কর্মকর্তারা নির্ধারিত সময়ে অভিযোগপত্র জমা দিতে পারেন না এবং সময়ের আবেদন করতে হয়। চার্জশিট জমা ও অভিযোগ গঠনের পর সাক্ষ্যগ্রহণ দ্রুত শেষ করা গেলে মামলাগুলো অল্প সময়ে নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে। চট্টগ্রাম মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালেলে পাবলিক প্রসিকিউটর মাহমুদ-উল আলম চৌধুরী মারুফ বলেন, ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম জানুয়ারিতে শুরু হলেও আমাদের পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে গেজেটের মাধ্যমে দায়িত্ব কার্যকর হয় ১৯ জানুয়ারি থেকে। বর্তমানে এই ট্রাইব্যুনালে ৬৭৭টি মামলা বিচারাধীন। শিশু সহিংসতার মামলার বিচার দ্রুত শেষ করতে বাদী, ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের সময়মতো আদালতে উপস্থিতি জরুরি। সাক্ষী অনুপস্থিতি, সমন পৌঁছাতে বিলম্ব ও ঠিকানা পরিবর্তনের কারণে বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘ হয়। আদালত লোকবল সংকট ও বিপুল মামলার চাপের মধ্যেও দ্রুত বিচার শেষের চেষ্টা করছে। চার্জশিট ও সাক্ষ্যগ্রহণ দ্রুত সম্পন্ন হলে মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি সম্ভব। শিশু নির্যাতনের মামলায় আপসের কোনো সুযোগ নেই।
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : সিরাজগঞ্জ ব্যুরো চীফ : সিরাজগঞ্জ জেলার কামারখন্দ উপজেলার হালুয়া কান্দি মফিজ উদ্দিন তালুকদার স্ম...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : সিরাজগঞ্জ ব্যুরো চীফঃ বিগত সতেরো বছরে ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সকল রক্ত চক্ষুকে উপেক্ষা করে ...বিস্তারিত
মাহাদী বিন সুলতান, রাঙ্গামাটি: : সারাদেশের ন্যায় 'নৌযান শুমারি-২০২৬' সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে রাঙামাটিতে অংশীজনদের নিয়...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি : জুলাই ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভ...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি : ৫ আগস্ট ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি ...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি : জুলাই ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভ...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Bangla | Developed By Muktodhara Technology Limited