শিরোনাম
মুহাম্মদ ওসমান বিন হাসান, ককসবাজার : | ০২:৩২ পিএম, ২০২৬-০৯-০২
উখিয়া (কক্সবাজার): একটি সড়কের দৈর্ঘ্য মাত্র ৯৬৩ মিটার। কিন্তু সেই সড়কের সংস্কার শেষ হতে সময় গড়িয়েছে চার বছর। উন্নয়নের প্রত্যাশায় যে সড়কের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছিল, সেটিই এখন হয়ে উঠেছে হাজারো মানুষের দুর্ভোগের প্রতীক।
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী পালংখালী ইউনিয়নের ‘আরএইচডি পালংখালী-ছেপটখালী মেরিন ড্রাইভ সড়ক’ (চেইনেজ ০০-৯৬৩ মিটার) সংস্কারের নামে দীর্ঘদিন আগে খুঁড়ে রাখা হয়েছে। এরপর আর এগোয়নি কাজ। সড়কের বুকজুড়ে এখন কাটা মাটি, গভীর গর্ত, কাদা ও জমে থাকা পানি।
সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কটির চেহারা বদলে যায়। গর্তগুলো পানিতে ডুবে গিয়ে কোথায় কতটা গভীর—তা বোঝার উপায় থাকে না। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে এই পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে প্রায় সাত হাজার মানুষকে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর তদারকির অভাবেই চার বছর ধরে আটকে আছে সড়কটির সংস্কারকাজ।
উন্নয়নের পথে দুর্ভোগের দেয়াল
সরেজমিনে পালংখালী থেকে মোছারখোলা পর্যন্ত ঘুরে দেখা যায়, সড়কটির কোথাও সংস্কারের দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। পিচ নেই, ইট নেই, খোয়া নেই। সংস্কারের প্রাথমিক ধাপ হিসেবে সড়কের ওপরের মাটি কেটে ফেলার পরই যেন থেমে গেছে উন্নয়নের পথচলা।
সময় যত গড়িয়েছে, ততই বেড়েছে গর্ত ও খানাখন্দ। বর্ষায় সেই গর্তে জমছে পানি; কাদায় পিচ্ছিল হয়ে উঠছে সড়ক। যানবাহনগুলোকে গর্ত এড়িয়ে চলতে গিয়ে হঠাৎ দিক পরিবর্তন করতে হচ্ছে। এতে তৈরি হচ্ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা।
স্থানীয়দের ভাষায়, যে রাস্তা মানুষের চলাচল সহজ করার কথা ছিল, সেটিই এখন প্রতিদিনের আতঙ্ক।
শিশুদের স্কুলযাত্রায় প্রতিদিনের শঙ্কা
সড়কটির বিকল্প কোনো কার্যকর সংযোগপথ না থাকায় প্রতিদিন এই পথ ব্যবহার করতে হয় আশপাশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের।
অ্যালফাবেট কিডস স্কুল, পালংখালী উচ্চ বিদ্যালয়, ফারির বিল মিনহাজুল কোরআন আলিম মাদ্রাসা, পালংখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং গোয়ালমারা দাখিল মাদ্রাসার শত শত শিক্ষার্থী এই সড়কের ওপর নির্ভরশীল।
অ্যালফাবেট কিডস স্কুলের পরিচালক হাকিম আলী চৌধুরী বলেন,
“প্রতিদিন অভিভাবক ও শত শত শিশু এই পথে আসে। খানাখন্দের কারণে প্রতিনিয়ত সিএনজি ও অটোরিকশা উল্টে বাচ্চারা রক্তাক্ত হচ্ছে। এমনকি পরীক্ষার সময় জ্যাম ও দুর্ঘটনায় আটকে শিক্ষার্থীরা যথাসময়ে কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারে না।”
অভিভাবকদের কাছে এখন সন্তানের স্কুলে যাওয়া মানেই শুধু পড়াশোনার পথে যাত্রা নয়; বরং প্রতিদিন একটি অনিশ্চিত ও ঝুঁকিপূর্ণ পথ পাড়ি দেওয়া।
প্রসূতি মায়ের জন্য পথটি আরও কঠিন
সড়কটির দুরবস্থার সবচেয়ে নির্মম প্রভাব পড়ছে জরুরি স্বাস্থ্যসেবায়।
প্রসূতি নারী, অস্ত্রোপচার-পরবর্তী রোগী কিংবা গুরুতর অসুস্থ কাউকে এই সড়ক দিয়ে হাসপাতালে নেওয়া যেন স্বজনদের জন্য আরেক দুশ্চিন্তার কারণ। প্রচণ্ড ঝাঁকুনিতে রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। জরুরি মুহূর্তে হাসপাতালে পৌঁছাতেও সময় লাগছে বেশি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক সময় হাসপাতালে নেওয়ার পথেই রোগীর অবস্থা আরও সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে।
এ ছাড়া সুপেয় পানি ও মৌলিক অবকাঠামো নিশ্চিত করতে সরকারি বিভিন্ন সেবামূলক যানবাহনের চলাচলও সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী কার্যালয়।
তিনবার তাগাদা, তবুও থামেনি অচলাবস্থা
চার বছরেও কেন কাজ শেষ হলো না—এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে সামনে এসেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘লিবি এন্টারপ্রাইজ’-এর গাফিলতির বিষয়টি।
উপজেলা এলজিইডি কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম জানান, কাজ শেষ করার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে তিনবার তাগাদা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এরপরও কাজ শেষ হয়নি।
একপর্যায়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী বিক্রম কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই চলে যান বলে জানান তিনি।
ঠিকাদার চলে গেলেন; কিন্তু তার ফেলে যাওয়া অসম্পূর্ণ সড়কের বোঝা থেকে গেল সাধারণ মানুষের কাঁধে।
ঠিকাদার গেলেন, দায় নেবে কে?
একটি সরকারি প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তদারকি ও অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের কথা। কিন্তু কাজ অসম্পূর্ণ রেখে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চলে যাওয়ার পরও দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি পড়ে থাকায় তদারকি ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় সুশীল সমাজ ও আইনজীবীদের প্রশ্ন—ঠিকাদার কাজ ফেলে চলে যাওয়ার সুযোগ পেলেন কীভাবে? আর চার বছর ধরে একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এ অবস্থায় পড়ে থাকার দায়ই বা কার?
কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২-এর পিপি অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম রেজা বলেন,
“কোমলমতি শিশু এবং গর্ভবতী নারীদের প্রতিদিন এমন ঝুঁকিপূর্ণ পথে যাতায়াত করতে বাধ্য করা নাগরিক অধিকার লঙ্ঘনের শামিল। এটি সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও ঠিকাদারের চরম অবহেলার উদাহরণ।”
ইউপি সভায় আলোচনা, বাস্তবে নেই অগ্রগতি
পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম. গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ইউপি সমন্বয় সভায় সড়কটির বিষয়টি একাধিকবার উত্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট দপ্তরের গাফিলতির কারণে কাজ এগোয়নি।
স্থানীয়দের ক্ষোভ, সময় বদলেছে, রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলেছে; কিন্তু বদলায়নি তাদের সড়ক। চার বছর ধরে একই দুর্ভোগের সঙ্গে বসবাস করতে হচ্ছে তাদের।
‘অবগত’ প্রশাসন, অপেক্ষায় মানুষ
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার সম্প্রতি জানান, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। এলজিইডির সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত সমস্যাটি সমাধানের চেষ্টা করবেন বলেও জানান তিনি।
তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন—চার বছর ধরে অপেক্ষার পর এখন আর আশ্বাস নয়, তারা দেখতে চান কাজ।
একটি সড়ক, অসংখ্য প্রশ্ন
মাত্র ৯৬৩ মিটার একটি সড়ক। কিন্তু এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে হাজারো মানুষের জীবন ও জীবিকা, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ এবং জরুরি চিকিৎসাসেবার সুযোগ।
চার বছর ধরে একটি সড়কের সংস্কার ঝুলে থাকা কেবল একটি উন্নয়ন প্রকল্পের দীর্ঘসূত্রতা নয়; এটি সরকারি প্রকল্পের তদারকি, ঠিকাদারি ব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহি ব্যবস্থা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে।
পালংখালীবাসীর দাবি—আর কোনো আশ্বাস নয়। কাজ ফেলে চলে যাওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ ও বিধি অনুযায়ী কালোতালিকাভুক্তকরণ, দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং নতুন ঠিকাদারের মাধ্যমে জরুরি ভিত্তিতে সড়কটির সংস্কারকাজ সম্পন্ন করতে হবে।
চার বছর ধরে এই সড়ক তাদের দিয়েছে কাদা, গর্ত, দুর্ঘটনার ভয় আর অনিশ্চিত যাত্রা।
এবার তারা চায় একটি চলনসই রাস্তা—আর কোনো প্রতিশ্রুতি নয়।
মোঃ জহির উদ্দিন, কক্সবাজার : : কক্সবাজারের হিমছড়ি পেঁচারদ্বীপ সৈকতে সমুদ্রে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়া আরও এক পর্যটকের লাশ উদ্à...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : যশোর ব্যুরো প্রশাসন ও গণমাধ্যমের কাজের মূল লক্ষ্য জনগণের সেবা নিশ্চিত করা। তাই সাংবাদিক ও প্রশà...বিস্তারিত
মো. আরফান উদ্দীন : নিজস্ব একটি সিএনজি টেক্সির মালিক হয়ে পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন অনেক মাà...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, কৃষিতে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের যথেচ্ছ ব্যবহার নিয়ন...বিস্তারিত
চট্টগ্রাম ব্যুরো : : বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে দলটির দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি কà...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : মোঃ ছলিম উল্লাহ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ে ত্যাগী ও দীরà§...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Bangla | Developed By Muktodhara Technology Limited