শিরোনাম
মোঃ আরফান উদ্দীন | ০৫:৪৪ পিএম, ২০২৬-১০-০৩
২৩ বছর ধরে চট্টগ্রাম বন্দরে পড়ে থাকা বিপজ্জনক ও মেয়াদোত্তীর্ণ রাসায়নিক পণ্য অপসারণের কাজ শুরু হয়েছে। ২০০৩ সাল থেকে আটকে থাকা ৯টি কনটেইনারের ১৫০ দশমিক ৮৯ মেট্রিক টন রাসায়নিক পরিবেশসম্মত উপায়ে ধ্বংস করার উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টমস।
এর মধ্যে রয়েছে সালফিউরিক অ্যাসিড ১ কনটেইনার (২৫ দশমিক ৫৫ মেট্রিক টন), নাইট্রিক অ্যাসিড ১ কনটেইনার (৫০০ কেজি), মিথানল ৫ কনটেইনার (৯২ দশমিক ৫৪ মেট্রিক টন) এবং থিনার ২ কনটেইনার (৩২ দশমিক ৩০ মেট্রিক টন)।
শনিবার (৩ অক্টোবর) প্রথম ধাপে ১০৬ টন রাসায়নিক পণ্য নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশে পাঠানো হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও কনটেইনার জট নিরসনে কাস্টমস হাউস চট্টগ্রাম দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা মেয়াদোত্তীর্ণ ও ব্যবহার অনুপযোগী এসব অ্যাসিড ও অ্যাসিড জাতীয় পণ্য ধ্বংসের উদ্যোগ নিয়েছে।
ধ্বংসের উদ্যোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সহকারী কমিশনার রাসেল আহমেদ।
সূত্র জানায়, বাংলাদেশ জাতীয় কর্তৃপক্ষ, রাসায়নিক অস্ত্র কনভেনশন (BNACWC)-এর সুপারিশক্রমে এবং কাস্টমস হাউস, চট্টগ্রাম-এর ধ্বংস কমিটির উদ্যোগে এসব বিপজ্জনক কেমিক্যাল নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ মুড়াপাড়ার ওয়াটা কেমিক্যালস লিমিটেডের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব ও নিয়মানুগ পদ্ধতিতে ধ্বংস করা হবে।
শনিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে ধ্বংস কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে বিপজ্জনক কেমিক্যালবাহী যানবাহনগুলো পুলিশ স্কর্টে ওয়াটা কেমিক্যালস লিমিটেডের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছে।
বিএনএসিডব্লিউসি, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ, জেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, বিসিএসআইআর, বিস্ফোরক অধিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং আনসার ব্যাটালিয়ন বিশেষ এ ধ্বংসকাজের নিরাপত্তা প্রদানসহ সার্বিক সহায়তা দিচ্ছে।
এর আগে ২০২১ সালে বন্দরের পি শেডে পড়ে থাকা ২০ বছরের পুরোনো ২৫ টন বিপজ্জনক রাসায়নিক পণ্য সিলেটের সুনামগঞ্জের লাফার্জ হোলসিম সিমেন্ট কারখানায় পাঠানো হয়েছিল।
সর্বশেষ গত ২৪ আগস্ট চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি করা ৩৪ কনটেইনারে ৯৩৫ টন খেজুর, ৪০ কনটেইনারে ১ হাজার ২ টন মেয়াদোত্তীর্ণ সোডা অ্যাশসহ ১২৬ কনটেইনার পণ্য ধ্বংসের কাজ করেছিল কাস্টম হাউস কর্তৃপক্ষ। যার মধ্যে রয়েছে মেয়াদোত্তীর্ণ ফিড গ্রেড লাইম স্টোন, মেয়াদোত্তীর্ণ বেনটোনাইট পাউডার, পচা কমলা, নষ্ট পেঁয়াজ, নষ্ট কেশোনাট, ফুড স্টাফ ইত্যাদি।
বন্দর রিপাবলিক ক্লাবের পেছনে বিশাল গর্ত করে এসব পণ্য ধ্বংসের কাজ শুরু হয়। এর আগে গত ৬ আগস্ট বন্দরের কাস্টমস অকশন শেডে রোলার দিয়ে গুঁড়িয়ে দুই লটে পাঁচ কনটেইনারে থাকা ‘রয়েল টাইগার এনার্জি ড্রিংক’ ও পারসোনাল কেয়ার প্রডাক্ট (শ্যাম্পু) ধ্বংস করা হয়েছিল।
কাস্টম হাউস পরিচালিত পচনশীল ও ক্ষতিকর পণ্য ধ্বংসের এ কার্যক্রম চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার জট নিরসন ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি দূর করতে অত্যন্ত কার্যকরী অবদান রাখবে মনে করেন বন্দর ব্যবহারকারীরা।
আমদানি করা পণ্য জাহাজ থেকে বন্দর ইয়ার্ডে নামার ৩০ দিনের মধ্যে সরবরাহ নিতে হয়। বাজারে পণ্যের দাম পড়ে যাওয়ায় লোকসানের শঙ্কা, মিথ্যা ঘোষণা, রাজস্ব ফাঁকি, ছাড়পত্র না মেলা, মামলাসহ নানা কারণে অনেক চালান খালাস হয় না। বছরের পর বছর, যুগের পর যুগ বন্দরে পড়ে থাকে। কোনো আমদানিকারক পণ্য সরবরাহ না নিলে নোটিশ দেওয়া হয়। নোটিশ দেওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে এই পণ্য সরবরাহ না নিলে তা নিলামে তোলা যায়। নিলামে বিক্রি না হলে বা পণ্যের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে জনস্বার্থ ও জনস্বাস্থ্যের হুমকি বিবেচনায় এসব পণ্য ধ্বংসের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পণ্য ধ্বংসের পর খালি কনটেইনার ফেরত পায় শিপিং এজেন্ট।
চট্টগ্রাম কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, এসব কনটেইনারে থাকা রাসায়নিকের মধ্যে রয়েছে ১৩ হাজার ৮০০ কেজি থিনার এবং ৯২ হাজার ৫৪৪ কেজি মিথানল। দীর্ঘদিন বন্দরে পড়ে থাকায় এসব বিপজ্জনক রাসায়নিক বন্দরের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করছিল।
চট্টগ্রামে এ ধরনের জটিল রাসায়নিক ধ্বংস করার প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও পরিবেশগত সুবিধা না থাকায় এগুলো নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ওয়াটা কেমিক্যালস লিমিটেডের কারখানায় পাঠানো হচ্ছে। সেখানে রোববার থেকে বৈজ্ঞানিক ও নিরাপদ পদ্ধতিতে রাসায়নিকগুলো ধ্বংস করার প্রক্রিয়া শুরুর কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ জাতীয় কর্তৃপক্ষ, রাসায়নিক অস্ত্র কনভেনশন (বিএনএসিডব্লিউসি)-এর সুপারিশের ভিত্তিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা কনটেইনার সরিয়ে বন্দরের কনটেইনার জট কমানো এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।
চট্টগ্রাম কাস্টমসের সহকারী কমিশনার মো. রাসেল আহমেদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বন্দরে পড়ে থাকা বিপজ্জনক ও মেয়াদোত্তীর্ণ রাসায়নিক অপসারণের মাধ্যমে নিরাপত্তাঝুঁকি কমবে। পাশাপাশি বন্দরের জায়গা ব্যবহারের সুযোগ বাড়বে। গত ২২ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম কাস্টমসের সভার সিদ্ধান্ত মতে আজ এসব বিপজ্জনক পণ্য নারায়নগঞ্জে পাঠানো হচ্ছে।
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : ময়মনসিংহ প্রতিনিধি : ময়মনসিংহ নগরের রহমতপুর বাইপাস সড়কে রাজীব পরিবহনের বাসের সঙ্গে সিএনজিচালিত à¦...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি : কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার রামখানা সীমান্তে অভিযান চালিয়ে একটি পিস্তল,...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : পাবনা প্রতিনিধি : পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের রিফুয়েলিং এà...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: কুড়িগ্রাম নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের নওদাবাস ইটের ভাটায় অনুষ্à¦...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : হোমনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি : কুমিল্লার হোমনা উপজেলার ঘাগটিয়া ইউনিয়নের দড়িচর বাজারের পূর্ব পাশের খ...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : মোস্তাক আহমেদ মনির, সরিষাবাড়ী (জামালপুর) থেকে : জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রাম বাà¦...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Bangla | Developed By Muktodhara Technology Limited