শিরোনাম
আমাদের বাংলা ডেস্ক : | ০৪:২৩ পিএম, ২০২৬-০৯-৩০
মাহাবুব রহমান দুর্জয় :
সমাজে কিছু আচরণ আছে, যেগুলোকে আমরা এতদিন ধরে স্বাভাবিক বলে মেনে নিতে নিতে একসময় ভুলেই গেছি যে সেগুলো আসলে অন্যায়। নারীর প্রতি লোলুপ দৃষ্টি, অশালীন মন্তব্য, অনাকাঙ্ক্ষিত ইঙ্গিত কিংবা সুযোগ বুঝে সীমা লঙ্ঘনের প্রবণতা তারই একটি উদাহরণ। এসব আচরণকে অনেক সময় হাসি ঠাট্টা, পুরুষালি স্বভাব কিংবা সামান্য দুষ্টুমি বলে এড়িয়ে যাওয়া হয়। অথচ এই আপাত ছোট ছোট আচরণের পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারে গভীর মূল্যবোধের সংকট। আর সেই সংকট যখন একটি পরিবারের ভেতরে প্রবেশ করে, তখন শুধু একজন নারীর মর্যাদাই ক্ষুণ্ন হয় না, ধীরে ধীরে ভেঙে যেতে পারে একটি সংসার, ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে সন্তানদের মানসিক জগৎ।
নারীর প্রতি সম্মান কোনো অতিরিক্ত সৌজন্য নয়। এটি একজন মানুষের মৌলিক অধিকার। একজন পুরুষ কোনো নারীকে কীভাবে দেখছেন, কীভাবে কথা বলছেন এবং তাঁর ব্যক্তিগত সীমারেখাকে কতটা সম্মান করছেন, তার মধ্যেই প্রকাশ পায় তাঁর চরিত্র ও মূল্যবোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।
সমাজে এমন কিছু পুরুষ রয়েছেন, যাঁদের কাছে নারীকে মানুষ হিসেবে দেখার চেয়ে তাঁর শরীর, বয়স কিংবা বাহ্যিক সৌন্দর্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। নারীটি গৃহকর্মী হতে পারেন, সহকর্মী হতে পারেন, প্রতিবেশী হতে পারেন, তরুণী হতে পারেন কিংবা বয়সে মায়ের সমান হতে পারেন। কুরুচিপূর্ণ মানসিকতার কাছে সম্পর্ক কিংবা বয়সের পার্থক্য অনেক সময় কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ায় না।
কেউ হয়তো প্রশ্ন করবেন, এ ধরনের আচরণ কি পুরুষের স্বাভাবিক প্রবৃত্তি? না। আকর্ষণ অনুভব করা মানুষের স্বাভাবিক অনুভূতি হতে পারে, কিন্তু সেই অনুভূতির কারণে অন্যের ব্যক্তিগত সীমানা লঙ্ঘন করা স্বাভাবিক বা গ্রহণযোগ্য আচরণ নয়। মানুষকে অন্য প্রাণী থেকে আলাদা করে তার আত্মসংযম, বিবেক এবং নৈতিক বোধ। একজন মানুষ নিজের ইচ্ছাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন বলেই তিনি সভ্য।
আর এখানেই সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি আসে। যে পুরুষ অফিসে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সামনে নিজের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন, সমাজের প্রভাবশালী মানুষের সামনে ভদ্র থাকতে পারেন, প্রকাশ্য স্থানে নিজের ভাষা ও আচরণ নিয়ে সতর্ক থাকতে পারেন, তিনি কেন একজন গৃহকর্মী কিংবা দুর্বল অবস্থানে থাকা কোনো নারীর সামনে সেই সংযম হারাবেন?
অনেক ক্ষেত্রে উত্তরটি খুব সহজ। তিনি জানেন, কার সামনে তাঁকে সংযত থাকতে হবে এবং কার সামনে তাঁর আচরণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার ক্ষমতা কম। তাই বিষয়টি শুধু রুচির সংকট নয়। এর সঙ্গে ক্ষমতার সম্পর্কও জড়িয়ে আছে।
একজন গৃহকর্মী হয়তো চাকরি হারানোর ভয়ে প্রতিবাদ করতে পারেন না। একজন তরুণী হয়তো সামাজিক অপমানের ভয়ে মুখ খুলতে চান না। একজন নারী হয়তো নিজের পরিবার ও সন্তানের কথা ভেবে অনেক কিছু সহ্য করেন। আর এই নীরবতাকে কেউ কেউ নিজের সুবিধা হিসেবে ব্যবহার করেন। এই জায়গাতেই ব্যক্তিগত কুরুচি সামাজিক অন্যায়ে পরিণত হয়।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, সমাজ এসব আচরণকে অনেক সময় খুব সহজেই ক্ষমা করে দেয়। বলা হয়, পুরুষ মানুষ, একটু আধটু এমন হতেই পারে। কেউ বলেন, মজা করেছে। কেউ বলেন, বিষয়টিকে এত বড় করে দেখার কী আছে? এই কথাগুলো শুধু একটি আচরণকে ছোট করে না, বরং অপরাধীকে সামাজিক নিরাপত্তাও দেয়। কারণ যে ব্যক্তি একবার বুঝতে পারেন তাঁর আচরণ নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলবে না, তিনি পরবর্তী সময়ে আরও বেশি সীমা অতিক্রম করার সাহস পেতে পারেন।
শিক্ষা, অর্থ কিংবা সামাজিক মর্যাদা সব সময় মানুষকে রুচিশীল করে না। একজন মানুষের হাতে বড় ডিগ্রি থাকতে পারে, সমাজে তাঁর পরিচিতি থাকতে পারে, নামের আগে সম্মানজনক পদবি থাকতে পারে। কিন্তু তিনি যদি অন্য মানুষের মর্যাদা বুঝতে না পারেন, তাহলে সেই শিক্ষা তাঁর চরিত্রে কতটা প্রতিফলিত হয়েছে, সেই প্রশ্ন থেকেই যায়। শিক্ষার উদ্দেশ্য শুধু জ্ঞান অর্জন নয়। শিক্ষা মানুষকে অন্যের অধিকার বুঝতে শেখায়, নিজের আচরণের সীমা বুঝতে শেখায় এবং অন্য মানুষকে মানুষ হিসেবে সম্মান করতে শেখায়।
এই কুরুচির সবচেয়ে গভীর আঘাত অনেক সময় আসে সংসারে। একজন নারী যখন বিবাহিত জীবনে প্রবেশ করেন, তখন তিনি শুধু একজন পুরুষকে বিয়ে করেন না। তিনি একজন মানুষকে বিশ্বাস করেন। একটি ভবিষ্যৎকে বিশ্বাস করেন। নিজের পরিচিত পরিবেশ, অনেক ব্যক্তিগত স্বপ্ন এবং জীবনের নানা অভ্যাসকে পেছনে রেখে নতুন একটি পরিবারের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন।
বছরের পর বছর সংসারের দায়িত্ব পালন করেন। সন্তানদের বড় করেন। পরিবারের সুখের জন্য নিজের অনেক ইচ্ছাকে বিসর্জন দেন। অসুস্থতা, দুঃসময়, আর্থিক সংকট কিংবা পারিবারিক সমস্যার মধ্যেও পাশে থাকার চেষ্টা করেন। কিন্তু সেই নারী যখন ধীরে ধীরে বুঝতে পারেন, যাঁর ওপর তিনি সবচেয়ে বেশি বিশ্বাস রেখেছিলেন, সেই মানুষটির দৃষ্টি ঘরের বাইরে অন্য নারীদের দিকে ঘুরে বেড়াচ্ছে, তখন আঘাতটি শুধু ঈর্ষার হয় না। সেখানে ভেঙে পড়ে বিশ্বাস।
গৃহকর্মীর প্রতি অস্বাভাবিক আগ্রহ, তরুণীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য, অন্য নারীর সঙ্গে গোপন যোগাযোগ, পরকীয়ার ইঙ্গিত কিংবা স্ত্রীর সামনে অন্য নারীর প্রতি অসম্মানজনক আগ্রহ অনেক সময় একটি দাম্পত্য সম্পর্ককে ভেতর থেকে ক্ষয় করতে থাকে।
স্ত্রী প্রথমে বিশ্বাস করতে চান না। নিজেকে বোঝান, হয়তো তিনি ভুল বুঝেছেন। তারপর বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে চান। অনেক সময় উত্তর আসে অস্বীকার, রাগ কিংবা উল্টো অভিযোগ। বলা হয়, তিনি সন্দেহপ্রবণ। তিনি নাকি অযথা সমস্যা তৈরি করছেন। তারপর শুরু হয় নীরব সহ্য।
সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে স্ত্রী অনেক কিছু সহ্য করেন। পরিবারের সম্মানের কথা ভেবে চুপ থাকেন। আত্মীয়স্বজন কী বলবে, সেই চিন্তায় নিজের কষ্ট গোপন করেন। কিন্তু মানুষের সহ্যেরও সীমা আছে। যেদিন অপমান নিয়মিত হয়ে যায়, যেদিন বিশ্বাসঘাতকতা সম্পর্কের স্বাভাবিক অংশ হয়ে দাঁড়ায়, যেদিন প্রতিবাদের জবাবে গালিগালাজ, ভয় দেখানো কিংবা নির্যাতন শুরু হয়, সেদিন সেই সংসার আর নিরাপদ আশ্রয় থাকে না।
কেউ তখন বিচ্ছেদের পথ বেছে নেন। কেউ আইনের আশ্রয় নেন। কেউ আবার সন্তানদের কথা ভেবে বছরের পর বছর একটি অসুস্থ সম্পর্কের মধ্যে আটকে থাকেন।
আর তখনই সমাজের সবচেয়ে কঠিন প্রশ্নটি সামনে আসে। সংসার ভেঙে গেলে কেন প্রায়ই প্রথম প্রশ্ন করা হয় নারীকে? কেন বলা হয়, তুমি আরেকটু মানিয়ে নিতে পারতে? কেন বলা হয়, সন্তানদের কথা ভেবে সহ্য করা উচিত ছিল? কেন প্রশ্ন করা হয় না, এমন পরিস্থিতি তৈরি করল কে?
একটি সংসার টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব কখনোই শুধু নারীর নয়। স্বামী ও স্ত্রী দুজনেরই সম্পর্কের প্রতি দায়িত্ব রয়েছে। বিশ্বস্ততা কোনো পুরুষের দয়া নয়। এটি দাম্পত্য সম্পর্কের মৌলিক ভিত্তি। সম্মান কোনো বিশেষ অনুগ্রহ নয়। এটি একটি সুস্থ সম্পর্কের ন্যূনতম শর্ত।
তাই কোনো নারী যখন দীর্ঘদিনের অপমান, অবিশ্বাস কিংবা বিশ্বাসঘাতকতার পর নিজের জন্য একটি সিদ্ধান্ত নেন, তখন তাঁর সিদ্ধান্তকে শুধু সংসার ভাঙার সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা উচিত নয়। দেখতে হবে সেই পরিস্থিতি কেন তৈরি হয়েছিল।
এই ভাঙনের সবচেয়ে বড় মূল্য অনেক সময় দিতে হয় সন্তানদের। একটি শিশু যখন প্রতিদিন বাবা মাকে অসম্মান করতে দেখে, তখন তার কাছে সেই আচরণই স্বাভাবিক হয়ে উঠতে পারে। একটি ছেলে যদি দেখে তার বাবা নারীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ কথা বলেন, মায়ের প্রতি অসম্মান করেন এবং তারপরও পরিবার ও সমাজে স্বাভাবিক জীবনযাপন করেন, তাহলে সে ভুল শিক্ষা পেতে পারে।
একটি মেয়ে যদি দেখে তার মা প্রতিনিয়ত অবহেলা ও অপমানের শিকার হচ্ছেন, তাহলে তার নিজের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক এবং পুরুষের প্রতি বিশ্বাসও প্রভাবিত হতে পারে। সন্তানকে শুধু মুখে ভালো কথা শেখানো যায় না। সন্তান সবচেয়ে বেশি শেখে দৃষ্টান্ত দেখে। বাবা মাকে কীভাবে সম্মান করেন, মা বাবার সঙ্গে কীভাবে আচরণ করেন, পরিবারের দুর্বল অবস্থানে থাকা মানুষদের সঙ্গে কেমন ব্যবহার করা হয়, সেসবই শিশুর কাছে জীবন্ত শিক্ষা হয়ে ওঠে।
নারীর প্রতি লোলুপ দৃষ্টি, যৌন হয়রানি, দাম্পত্যে বিশ্বাসঘাতকতা এবং যৌন সহিংসতা এক বিষয় নয়। প্রতিটির প্রকৃতি আলাদা এবং প্রতিটির সামাজিক ও আইনি গুরুত্বও আলাদা। বিশেষ করে ধর্ষণ একটি গুরুতর সহিংস অপরাধ, যার মধ্যে জবরদস্তি, ক্ষমতা ও আধিপত্যের প্রশ্ন থাকতে পারে।
তবে এসব আচরণের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক যোগসূত্র রয়েছে। নারীকে সমান মর্যাদার মানুষ হিসেবে না দেখে তাঁর ওপর অধিকার প্রতিষ্ঠার মানসিকতা সমাজে যত বেশি স্বাভাবিক হবে, নারীর নিরাপত্তা ও মর্যাদার জন্য ঝুঁকিও তত বাড়বে।
তাই ছোট অন্যায়কে ছোট করে দেখার সংস্কৃতি বদলাতে হবে। কোনো নারীকে রাস্তায় উত্ত্যক্ত করা হলে সেটিকে মজা বলা যাবে না। কর্মক্ষেত্রে অনাকাঙ্ক্ষিত মন্তব্যকে বন্ধুত্বের প্রকাশ বলা যাবে না। গৃহকর্মীর প্রতি অশোভন আচরণকে ব্যক্তিগত বিষয় বলে এড়িয়ে যাওয়া যাবে না। কোনো নারীর আপত্তিকে তাঁর চরিত্রের সমস্যা হিসেবে দেখানো যাবে না।
কারণ প্রতিটি মানুষের একটি ব্যক্তিগত সীমারেখা আছে। সেই সীমারেখার প্রতি সম্মান দেখানো সভ্যতার মৌলিক শর্ত।
এখানে সমাজের নীরবতার কথাও বলতে হয়। আমরা অনেক সময় জানি, কোন বাড়িতে কী হচ্ছে। জানি কে কর্মচারীর সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। জানি কে নারীদের নিয়ে অশালীন মন্তব্য করেন। জানি কার সংসারে অবিশ্বাস ও অশান্তি চলছে। কিন্তু মুখ খুলি না। কারণ আমরা বলি, অন্যের পারিবারিক ব্যাপারে মাথা ঘামিয়ে লাভ কী?
কিন্তু যখন সেই আচরণ একজন মানুষের মর্যাদা, নিরাপত্তা ও অধিকারকে আঘাত করে, তখন নীরবতা আর নিরপেক্ষতা থাকে না। নীরবতা কখনো কখনো অপরাধীকে সামাজিক প্রশ্রয় দেয়।
আর সবচেয়ে বড় অন্যায় হয় তখন, যখন ভুক্তভোগী নারী মুখ খুললে তাঁর চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। তিনি কী পোশাক পরেছিলেন, কোথায় গিয়েছিলেন, কার সঙ্গে কথা বলেছিলেন, কেন আগে বলেননি, কেন প্রতিবাদ করেননি, এসব প্রশ্নের ভিড়ে হারিয়ে যায় মূল প্রশ্নটি। অভিযুক্ত ব্যক্তি কী করেছিলেন? এই প্রশ্নটি সামনে আনতে হবে।
পরিবর্তনের জন্য আইন অবশ্যই প্রয়োজন। অভিযোগ জানানোর নিরাপদ ব্যবস্থা, দ্রুত ও ন্যায়সংগত বিচার এবং ভুক্তভোগীর মর্যাদা রক্ষা রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। কিন্তু শুধু আইন দিয়ে মানুষের রুচি পরিবর্তন করা যায় না। পরিবর্তন শুরু করতে হবে পরিবার থেকে।
ছেলেকে শেখাতে হবে, নারী কোনো সম্পত্তি নয়। কারও শরীরের ওপর তাঁর সম্মতি ছাড়া কারও অধিকার নেই। কারও অস্বস্তিকে মজা হিসেবে নেওয়া যাবে না। দুর্বল অবস্থানে থাকা মানুষকে সুযোগ হিসেবে দেখা শক্তির পরিচয় নয়।
এই শিক্ষা শুধু কথায় নয়, আচরণে দিতে হবে। বাবা যদি ঘরের নারীকে সম্মান করেন, গৃহকর্মীর সঙ্গে মানবিক আচরণ করেন, নারীর ব্যক্তিগত সীমারেখাকে সম্মান করেন, সন্তানও সেই আচরণ থেকে শিক্ষা নেবে।
পুরুষদের মধ্যেও আত্মসমালোচনার সংস্কৃতি প্রয়োজন। বন্ধুদের আড্ডায় যখন কোনো নারীকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ আলোচনা শুরু হয়, তখন একজন পুরুষ যদি বলেন, এই কথাটি ঠিক নয়, সেটিই সামাজিক পরিবর্তনের একটি ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। কারণ অনেক সময় কুরুচির বিরুদ্ধে সবচেয়ে কার্যকর প্রতিবাদ আসে সেই একই সামাজিক পরিসর থেকে, যেখানে কুরুচির জন্ম হয়।
আর যাঁরা নিজের আচরণকে প্রশ্নের ঊর্ধ্বে মনে করেন, তাঁদের নিজেদের কাছেই কয়েকটি প্রশ্ন করা দরকার। আপনি অন্যের কন্যার দিকে যে দৃষ্টিতে তাকান, কেউ যদি আপনার কন্যার দিকে একই দৃষ্টিতে তাকায়, আপনি কি সেটিকে স্বাভাবিক বলবেন? আপনি অন্য নারীর সঙ্গে যে আচরণ করেন, আপনার স্ত্রী যদি একই আচরণ আপনার সঙ্গে করতেন, আপনি কি তা মেনে নিতেন? অন্যের মর্যাদাকে আপনি যতটা গুরুত্ব দেন, নিজের মর্যাদার ক্ষেত্রেও কি একই মানদণ্ড প্রয়োগ করেন?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর অন্য কেউ দেবে না। প্রত্যেক মানুষকে নিজের কাছেই উত্তর দিতে হবে।
কারণ রুচি শুধু পোশাক, ভাষা কিংবা সামাজিক অবস্থানের বিষয় নয়। রুচির সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হয় তখন, যখন আপনার সামনে এমন একজন মানুষ থাকেন, যার ওপর আপনার কোনো ক্ষমতা নেই, কিন্তু যাকে সম্মান করা আপনার নৈতিক দায়িত্ব।
আমরা এমন একটি সমাজ চাই, যেখানে একজন গৃহকর্মী নিরাপদে কাজ করতে পারবেন। একজন তরুণী অযাচিত দৃষ্টির ভয় ছাড়াই চলতে পারবেন। একজন স্ত্রী তাঁর জীবনসঙ্গীর ওপর বিশ্বাস রাখতে পারবেন। একটি সন্তান তার বাবা মায়ের কাছ থেকে ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও পারস্পরিক মর্যাদার শিক্ষা পাবে।
এই সমাজ একদিনে তৈরি হবে না। কিন্তু পরিবর্তন শুরু হতে পারে আজই। শুরু হতে পারে আমাদের ভাষা থেকে। আমাদের দৃষ্টি থেকে। আমাদের ঘরের আচরণ থেকে। আমাদের সন্তানদের শিক্ষা থেকে। অন্যায় দেখলে নীরব না থাকার সিদ্ধান্ত থেকে।
সংসার ভাঙে শুধু আদালতের কাগজে নয়। অনেক সংসার তারও বহু আগে ভাঙতে শুরু করে। ভাঙে বিশ্বাসে, ভাঙে সম্মানে, ভাঙে নিরাপত্তাবোধে। আর সেই ভাঙনের পেছনে কখনো কখনো থাকে একজন মানুষের কুরুচিপূর্ণ দৃষ্টি, অনিয়ন্ত্রিত আচরণ এবং নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে ভয়াবহ উদাসীনতা।
তাই নারীর প্রতি সম্মানকে কেবল নারীর সমস্যা হিসেবে দেখলে চলবে না। এটি পুরুষেরও আত্মসম্মানের প্রশ্ন। এটি পরিবারের প্রশ্ন। এটি সন্তানের ভবিষ্যতের প্রশ্ন। সর্বোপরি এটি একটি মানবিক সমাজের প্রশ্ন।
রুচির সংস্কার কোনো বিলাসিতা নয়। এটি সামাজিক প্রয়োজন।
যে দৃষ্টি অন্যকে অপমান করে, সেই দৃষ্টি বদলাতে হবে। যে আচরণ একটি নারীর আত্মসম্মান ভেঙে দেয়, সেই আচরণ থামাতে হবে। আর যে কুরুচি একটি সংসারের ভেতরে অবিশ্বাসের আগুন জ্বালায়, তার বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিবাদটি শুরু হোক আমাদের নিজেদের ঘর থেকেই।
লেখক : মানবাধিকার সংগঠক, লেখক ও কলামিস্ট
ইমেইল : mahabubrahmandurjoy@gmail.com
আবদুল্লাহ মজুমদার : : ইতিহাসে কিছু মানুষ জন্ম নেন একটি দেশকে বদলে দিতে, আবার কিছু মানুষ তাঁদের জীবন ও আদর্শ দিয়ে সমগ্র বà...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : মে. জে. (অব.) এইচআরএম রোকন উদ্দিন প্রায় দুই দশক ধরে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর ভেতরে একটি নীরব যন্ত্à...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : মেজর (অব.) মনজুর কাদের সম্রাট নেপোলিয়ন বলেছিলেন, ‘চীনকে ঘুমাতে দাও; যখন সে জেগে উঠবে, সে বিশ্বকে কাà¦...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : কাজী আব্দুল্লাহ আল বোরহান রিজভী বাংলাদেশ গত এক দশকে অবকাঠামো উন্নয়ন, রপ্তানি প্রবৃদ্ধি এবং সামাজà...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : জাহাঙ্গীর আলম, সাংবাদিক ও কলামিস্ট আমরা এমন এক সময়ে বাস করছি, যেখানে মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, কিন্তà...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : আবদুল্লাহ মজুমদার : শহরের ব্যস্ত মোড়ে দাঁড়ানো ক্ষুদ্র দোকানি, গ্রামের হতাশ তরুণ কিংবা চাকরির আশায়...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Bangla | Developed By Muktodhara Technology Limited