শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৩:০৮ পিএম, ২০২৬-০৯-০২
সিলেটের বন্ধ পাথর কোয়ারিগুলো থেকে ফের পাথর উত্তোলন শুরুর দাবি দীর্ঘদিন ধরেই জানিয়ে আসছেন পাথর ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা। যদিও পরিবেশ সংশ্লিষ্টরা এর বিরোধিতা করে আসছেন।
বিএনপি সরকার গঠনের পর পাথর কোয়ারি চালুর বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে উচ্চপর্যায়ের একটি সভাও হয়। মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মো. সালাহউদ্দিন আহমদ প্রথমবারের মতো সিলেটে এলে বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে।
এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সিলেটের বালু, পাথর ও অন্যান্য খনিজ সম্পদ আহরণসংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে পরিবেশ, স্থানীয় জনগণের কর্মসংস্থান, আদালতের রায় এবং দেশের প্রয়োজন, সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে গঠিত জাতীয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কার্যক্রম যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ, বিজিবি, পরিবেশ সংশ্লিষ্ট দপ্তরসহ প্রয়োজনীয় সংস্থার সমন্বয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, সিলেটের বালু-পাথর ব্যবসার সঙ্গে বিপুল জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান জড়িত। একই সঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাও জরুরি। পাহাড়ি ঢল, আকস্মিক বন্যা ও নদীভাঙনসহ সীমান্ত এলাকার ঝুঁকির বিষয়গুলোও সমন্বিতভাবে মোকাবিলা করতে হবে। আদালতে চলমান মামলাগুলোর নিষ্পত্তির ক্ষেত্রেও সরকারের পক্ষ থেকে যথাযথ উদ্যোগ নিতে হবে।
মঙ্গলবার সিলেট সার্কিট হাউসে জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও উন্নয়নসংক্রান্ত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি পাথর কোয়ারি চালুর বিষয়ে এসব কথা বলেন।
এ সময় সিলেটের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মাদক, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, অবৈধ অস্ত্র ও অন্যান্য অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সতর্কতামূলক ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করতেও নির্দেশ দেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদকের কারণে সমাজে নানা ধরনের অপরাধ ও সামাজিক অবক্ষয় সৃষ্টি হচ্ছে। মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদারের পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা এবং জনসচেতনতা সৃষ্টিতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। চাঁদাবাজির ক্ষেত্রেও কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী কোনো রাজনৈতিক দল বা সরকারের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি করলে তা বরদাশত করা হবে না।
সন্ত্রাস ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সরকারের অগ্রাধিকারের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের সময় বিভিন্ন থানা ও কারাগার থেকে লুট হওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদের একটি অংশ এখনো উদ্ধার হয়নি। এসব অস্ত্র ভবিষ্যতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। তাই লুট হওয়া অস্ত্র, অবৈধ অস্ত্র এবং নির্ধারিত সময়ে জমা না দেওয়া অস্ত্র উদ্ধারে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি জানান, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে তথ্য প্রদানকারীদের জন্য সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। পূর্ববর্তী সময়ে বিতর্কিতভাবে দেওয়া অস্ত্রের লাইসেন্স যাচাই-বাছাই করে বাতিল করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট অস্ত্র উদ্ধারে মামলা ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
মব সৃষ্টি বা ‘মব জাস্টিস’-এর বিষয়ে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দাবি আদায়ের নামে মহাসড়ক বা সড়ক অবরোধ, সরকারি প্রতিষ্ঠান ঘেরাও কিংবা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দাবি থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি প্রদান, সংবাদ সম্মেলন, জনসভা, সেমিনারসহ নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে তা তুলে ধরতে হবে। তিনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে মব সৃষ্টির কোনো সুযোগ না দেওয়ার নির্দেশ দেন।
সভায় মাদক নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সম্প্রতি সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) নতুন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠকে মাদকের শীর্ষ ৫০ ব্যবসায়ীর তালিকা প্রণয়ন করে তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সিলেটে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ অভিযান পরিচালনা করা গেলে এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে পরিস্থিতির দৃশ্যমান পরিবর্তন আনা সম্ভব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
এ কাজে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় লজিস্টিক ও যানবাহন সরবরাহের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, সিলেট এসএমপি দেশের অন্যতম বৃহৎ পুলিশি এলাকার দায়িত্ব পালন করছে। আগামীতে এসএমপি, রেঞ্জ পুলিশ ও জেলা পুলিশকে আরও কার্যকর ভূমিকা রেখে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে দৃশ্যমান ফলাফল অর্জন করতে হবে।
সভায় সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম এ মালিক, সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আবুল হাসান ও সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমেদ চৌধুরী, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ্ সিদ্দিকীসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন
নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রতিদিন নানা কাজে ঘর থেকে বের হন মানুষ। কেউ যান কর্মক্ষেত্রে, কেউ বেড়াতে, কেউ জরুরি কাজে। কাজ শেষে ...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : চাল ও ভোজ্যতেল, প্রতিদিনের খাদ্যতালিকার এই দুই অপরিহার্য পণ্যের দাম বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব পড়à§...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি : নজরুল বর্ষ উপলক্ষে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় কà§...বিস্তারিত
চট্টগ্রাম ব্যুরো : : মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন এবং ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি করাকে কেন্দ্র করে ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর ২০২৬ ...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : সেনবাগ উপজেলা প্রতিনিধি : নোয়াখালীর সেনবাগে পারিবারিক কলহের জের ফোন ভিডিও কলে রেখে মোঃ হোরন মিয়...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : মো:সোহেল তালুকদার,পটুয়াখালী : পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার পায়রা নদীতে নৌ পুলিশের এক সফল অভিযানে বিশা...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Bangla | Developed By Muktodhara Technology Limited