শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৪:১১ পিএম, ২০২৫-১২-২২
জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত দেশে কোনো নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ার দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হাদির রক্তের সঙ্গে কোনধরনের আপসের প্রশ্নই ওঠে না; প্রয়োজনে খুনিদের বিচারের দাবিতে সরকার পতনের আন্দোলনেও নামবে তারা। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) দুপুরে শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি এই হুঁশিয়ারি দেন। আব্দুল্লাহ জাবের বলেন, বিচার এড়িয়ে নির্বাচন দিয়ে দায় ঝেড়ে ফেলার সুযোগ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পাবে না। দ্রুত দৃশ্যমান ও বিশ্বাসযোগ্য বিচারিক পদক্ষেপ না নিলে ইনকিলাব মঞ্চ রাজপথেই থাকবে। সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল্লাহ জাবের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। জানাজার মাঠে আবেগী বক্তব্য দিলেও হাদি হত্যার বিচার নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার স্পষ্ট অবস্থান নেই বলে অভিযোগ করেন তিনি। জাবের বলেন, জনগণ ড. ইউনূসকে দায়িত্ব দিয়েছে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য— অসহায়ত্ব প্রকাশের জন্য নয়। তদন্তে কারা বাধা দিচ্ছে, সরকার কেন দৃঢ় অবস্থান নিতে পারছে না, তা জাতির সামনে পরিষ্কার করতে হবে।
দ্রুত বিচারিক ট্রাইব্যুনাল ও আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি
ইনকিলাব মঞ্চ সরকারের কাছে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে দুটি প্রধান দাবি তোলে। প্রথমত, শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্ত করে একটি বিশেষ দ্রুত বিচারিক ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে হবে। দ্বিতীয়ত, দেশীয় সংস্থাগুলো যদি খুনিদের শনাক্তে ব্যর্থ হয়, তাহলে এফবিআই বা স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের মতো আন্তর্জাতিক পেশাদার সংস্থার সহায়তা নিতে হবে। জাবের বলেন, অতীতেও রাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ মামলায় আন্তর্জাতিক সহায়তা নিয়েছে। জুলাই বিপ্লবের মুখ্য কণ্ঠস্বর ও ঢাকা-৮ আসনের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতা হিসেবে হাদির বিচার রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। ভারতের সঙ্গে বন্দি বিনিময় ও সহযোগিতা চুক্তির উদাহরণ টেনে আব্দুল্লাহ জাবের বলেন, খুনিরা বিদেশে পালিয়ে থাকলে তাদের ফিরিয়ে আনতে হবে। উলফা নেতাদের হস্তান্তরের নজির দেখিয়ে তিনি বলেন, একতরফা সমঝোতার রাজনীতি জনগণ আর মেনে নেবে না। আব্দুল্লাহ জাবের আরও বলেন, ওসমান হাদি শুধু একজন ব্যক্তি নন; তিনি জুলাই বিপ্লব, স্বাধীনতা ও রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতার প্রতীক। সরকার যদি পরিকল্পিতভাবে হাদিকে আলোচনার কেন্দ্র থেকে সরিয়ে দিতে চায়, তাহলে সরকার নিজেই রাজনৈতিকভাবে টিকে থাকতে পারবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটামে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সন্তোষজনক সাড়া না পাওয়ায় ইনকিলাব মঞ্চ এখন থেকে রাজপথ ছাড়বে না। বিকেল ৩টার বিক্ষোভ মিছিলের পর পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। তখনই চূড়ান্তভাবে সিদ্ধান্ত হবে— সরকারের সঙ্গে আলোচনায় যাবে নাকি সরকার পতনের আন্দোলনে নামবে সংগঠনটি। ঢাকা-৮ আসনে হাদির স্থলাভিষিক্ত প্রার্থী দেওয়ার বিষয়েও এখনই কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানান জাবের। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, হাদির বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক সমঝোতার পথ খোলা নেই। আব্দুল্লাহ জাবের বলেন, হাদির রক্তের দাবি একটি নৈতিক ও রাজনৈতিক লঙ্গর— এই লঙ্গর উপড়ে ফেলতে চাইলে শুধু সরকার নয়, পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থাই দিক হারাবে। ইনকিলাব মঞ্চ সেই লঙ্গর আঁকড়ে ধরেই ন্যায়বিচারের লড়াই চালিয়ে যাবে।
তিন দফা আল্টিমেটাম : ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে বিচার ও তিন জনের পদত্যাগ চায় ইনকিলাব মঞ্চ
শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রশ্নে অন্তর্বর্তী সরকারকে তিন দফা আল্টিমেটাম দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। সংগঠনটির দাবি, দ্রুত বিচারিক ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে ওসমান হাদি হত্যার বিচার শেষ করতে হবে, প্রয়োজনে তদন্তে এফবিআই বা স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থা যুক্ত করতে হবে। একইসঙ্গে অপারগতার দায় নিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, বিশেষ সহকারী ও আইন উপদেষ্টাকে পদত্যাগ করতে হবে বলেও জানিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে এই তিন দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, হাদি হত্যাকাণ্ড কোনো সাধারণ অপরাধ নয়; এটি রাষ্ট্র, স্বাধীনতা ও গণআকাঙ্ক্ষার ওপর সরাসরি আঘাত। তাই বিচার প্রক্রিয়ায় কোনো দীর্ঘসূত্রতা বা আপস মেনে নেওয়া হবে না। প্রথম দফায় বলা হয়েছে, বিশেষ দ্রুত বিচারিক ট্রাইব্যুনাল গঠন করে সর্বোচ্চ ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে বিচারকার্য সম্পন্ন করতে হবে। একইসঙ্গে তদন্তে নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করতে এফবিআই বা স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের মতো আন্তর্জাতিকমানের গোয়েন্দা সংস্থাকে যুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়। দ্বিতীয় দফায় বলা হয়, সিভিল ও মিলিটারি ইন্টেলিজেন্সের ভেতরে লুকিয়ে থাকা আওয়ামী সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করে অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, এই ঘাপটি মেরে থাকা নেটওয়ার্কই বিচার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে। এছাড়াও তৃতীয় দফায় ইনকিলাব মঞ্চ সরাসরি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দায় নির্ধারণ করে জানায়, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, বিশেষ সহকারী এবং আইন উপদেষ্টা জনগণের কাছে তাদের অপারগতার কারণ প্রকাশ করে এই হত্যাকাণ্ডের দায় নিয়ে পদত্যাগ করবেন। সংগঠনটির মতে, দায়িত্বে থেকেও যদি তারা বিচার নিশ্চিত করতে না পারেন, তবে তাদের নৈতিক অধিকার নেই পদে থাকার। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এসব দাবি বাস্তবায়নে গড়িমসি করা হলে ইনকিলাব মঞ্চ রাজপথে কঠোর কর্মসূচিতে যাবে। হাদির রক্তের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে—এ কথা স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হয়।
নিজস্ব প্রতিবেদক : সাহাবুদ্দিন আহাম্মদ চৌধুরী (এমরান) দীর্ঘ প্রতীক্ষার বাঁধ ভেঙ্গে শত বাধাঁকে উপেক্ষা করে ১২ই ফ...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : ১৪৪৭ হিজরি সনের পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা এবং এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের লক্ষ্যে আগামীকাল জাতী...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : বিএনপির নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে সর্বোচ্চ ১২ জনকে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্য...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোটের বৈধতা চ্যালেঞ্জ এবং ১৩ ফেব্রুয়ারি ঘোষিত গণভোটের ফল বাতিল চেয়ে ...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানের পরপরই নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের আমন্ত্রণ জানানো শুরু করেছে মন্ত্র...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ শপথ নিয়েছেন মন্ত্রিষদের সদস্যরা। মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের ...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Bangla | Developed By Muktodhara Technology Limited