শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৭:১৬ পিএম, ২০২৫-১১-২২
বিশেষ প্রতিবেদক/ বেঞ্জামিন রফিক :
গোটা নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়কে ধ্বংস করে দূর্নীতি আর লুটপাটের স্বর্ণখনিতে পরিণত করা পলাতক সাবেক প্রতিমন্ত্রী খালেদ মাহমুদের সকল স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি এবং আত্মসাৎ করা টাকার সুরক্ষা ও দেখভালকারী এপিএস তরিকুল ইসলাম প্রশাসনের নাকের ডগায় বসে বহাল তবিয়তে তার অবৈধ কাজকর্ম অব্যাহত রেখেছেন মর্মে গুরুতরো তথ্য পাওয়া গেছে। উপরন্তু টাকার বিনিময়ে এক শ্রেণীর মিডিয়াকে ম্যানেজ করে তাদের বিরুদ্ধে প্রকাশিত দূর্নীতির সংবাদগুলো সরিয়ে নিচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে সেদিনের চাল-চুলোহীন তরিকুল একই এলাকার লোক হিসেবে পলাতক খালেদ মাহমুদের দূর্নীতির ছায়াতলে আশ্রয় পেয়ে একদিকে যেমন তার অপকর্মের বিশ্বস্ত সঙ্গী হয়েছেন তেমনি নিজের আখের গুছিয়ে রাতারাতি আঙুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছেন। ৫ আগষ্ট পরবর্তী কিছুদিন ঘাপটি মেরে থাকলেও ধীরে ধীরে কৌশল খাটিয়ে চলমান লোকজনের ¯্রােতে মিশে গেছে এই আওয়ামী প্রেতাত্মা।
সুত্রমতে জানা গেছে,জাতীয় পরিচয়পত্র নং ২৭১২১২৭৮৭৯৯২০ এবং৭৮৯৯৫৭৫৭০১৩০ নম্বর টিন নম্বরধারী দিনাজপুরের বোচাগঞ্জস্থ মোল্লাজীপাড়া ছাতইল গ্রামের আকলিমা বেগম ও আব্দুল হাকিমের পুত্র রেপিস্ট তরিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন সাবেক নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালেদ মাহমুদ চৌধুরীর এপিএস ছিলেন। তার মাধ্যমেই প্রতিমন্ত্রী খালেদ মাহমুদ চৌধুরী পারসেন্টেস বা ঘুষ আদায় করতেন। এমন কি লন্ডনে থাকা খালেদের স্ত্রী সন্তানের কাছে টাকা পাঁচারের একমাত্র বাহক ছিলো ধুরন্ধর তরিকুল ইসলাম।
ভুক্তভোগী ও নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক তারই একসময়ের ঘনিষ্ট একজন জানিয়েছে, নাটকবাজ ও অত্যন্ত ধূর্ত প্রকৃতির তরিকুল ইসলামের মাধ্যমেই বিআইডব্লিউটিসি, বিআইডব্লিউটিএ, নৌপরিবহন অধিদপ্তর,চট্টগ্রাম বন্দরের সকল কেনাকাটা, টেন্ডার,ও নিয়োগ বদলী বাণিজ্য করা হতো। ফলে তারে আর পায় কে! মাত্র বছর ৫ এর মধ্যেই শত কোটি টাকা ও সম্পদের মালিক বনে গেছেন। বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজার বিভাগের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করে কোটি কোটি টাকা গিলে খাওয়া এই এপিএস ড্রেজার বিভাগের এক প্রকৌশলীকে চীফ ইঞ্জিনিয়ার পদে বসানোর টোপ ফেলে প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের নামে ৬ কোটি টাকা মেরে দিয়েছেন।
প্রাপ্ত সুত্র এবং অনুসন্ধানে দেখা যায়, গোটা নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দূর্নীতির রাজত্ব কায়েম করে এসব টাকায় নিজ এলাকায় শ’ শ’ বিঘা জমি ক্রয় এবং ঢাকায় ৭/৮ টি ফ্ল্যাট কিনে ভাড়া দিয়ে রেখেছে। মিরপুরের পূর্ব শেওড়া পাড়ায় ১০১৩ নম্বর হোল্ডিংয়ে ৭৫ লাখ টাকা মূল্যমানের ১৬৭৭ বর্গ ফুটের একটি ফ্ল্যাট ক্রয় করে নিজেকে আড়াল করতে কারসাজি করে ফ্ল্যাটের মালিকের নাম: শারমিন সুলতানা নারগিস বসিয়েছেন। সম্প্রতি ৫০ লাখ টাকা নগদ প্রদান করে বায়নানামাও রেজিস্ট্রি করা হয়েছে।সামান্য তদন্ত করলেই সহজে উপরোক্ত সীমাহীন দূর্নীতির সত্যতা মিলবে মনে করছে সংশ্লিষ্ট ওয়াকিবহাল মহল।
তারই এককালের ঘনিষ্ট সুত্র আরো জানিয়েছে, শুধু দূর্নীতির জগতে কুখ্যাতি নয় চরিত্রগত অনেকগুলো ফুটো রয়েছে দুশ্চরিত্রবান তরিকুলের। অতীতে তার নিজ এলাকায় এবং ঢাকায় একাধিকবার নারীঘটিত চরিত্র সংক্রান্ত শালিস হলেও খোদ নিজের দূর্নীতিবাজ গুরু সাবেক প্রতিমন্ত্রী খালেদ মাহমুদ চৌধুরীর বাসার সুন্দরী কাজের মেয়ের উপর লোলোপ দৃষ্টি দেন। ছলেবলে বশ করে নিয়মিত ভোগের খেলায় মেতে উঠতেন। গর্ভবতী হওয়া মেয়েটিকে জোরপূর্বক গর্ভপাত করানো হয়। সেই ঘটনা এবং প্রতিমন্ত্রীর স্ত্রী ও পরিবারের অনেক কেলেংকারী ফাঁস হওয়া এড়াতে প্রতিমন্ত্রীর গুণধর স্ত্রীর রোষানলে পড়ে এপিএসের চাকরীটা খোয়াতে হয়। যদিও দায়িত্বের সব কিছু আগের মতই বহাল রয়ে যায়।
অবশেষে ঐতিহাসিক ভরাডুবি আর রসাতলে যাওয়ার ৫ আগস্ট এসে যায়। গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনে অন্যান্যদের মতো প্রতিমন্ত্রী খালেদ মাহমুদ চৌধুরীও নিজেকে রক্ষায় বেমালুম গায়েব হয়ে যান। তার নামে বেনামে অঢেল সম্পত্তি ও ব্যবসা বাণিজ্য দেখভাল করার দায়িত্ব বর্তায় তরিকুল ইসলামের উপর। সেই থেকে পুলিশ-প্রশাসন ও বিচার বিভাগকে বৃদ্ধাঙুলী দেখিয়ে সুকৌশলে আগের মতোই অব্যাহত ভাবে সাবেক প্রতিমন্ত্রী খালেদ মাহমুদ চৌধুরীর সম্পদ পাহারা দিচ্ছেন। প্রতিদিনই পলাতক প্রতিমন্ত্রী খালেদ মাহমুদ চৌধুরীর সাথে ফোনালাপ চলে। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী স্টাইলে চাদাবাঁজি এখনো বহাল রেখে বীরদর্পে ড্রেজিং বিভাগের চীফ ইঞ্জিনিয়ার রাকিবুল ইসলাম তালুকদারের কাছ থেকে প্রতিমাসে মোটা অংকের মাসোহারা গিলে যাচ্ছে এই তরিকুল।
প্রশ্ন উঠেছে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পরও কোন অদৃশ্য শক্তিবলে সাবেক এপিএস তরিকুল ও এপিএস বাশার গং একের পর এক অবৈধ কার্যক্রম অব্যাহত রেছেছে? কি সেই অদৃশ্য শক্তি? প্রশ্ন উঠেছে এপিএস তরিকুল ও এপিএস বাশার গং কি আইনের উর্ধে?
সামগ্রিক বিষয়ে জানতে বারবার তার নাম্বারে কল দেয়া এবং ম্যাসেজ দিয়েও তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্ট ওয়াকিবহাল ও সচেতন মহলের মতে পলাতক সাবেক নৌ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদের কোটি কোটি টাকার ব্যবসা ও অর্থ যা তরিকুলের মতো দেশবিরোধীরা আগলে রেখেছে তার অনুসন্ধান ও তদন্ত করে গ্রেফতার পূর্বক সকল অর্থ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেয়া সময়ের দাবী।
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : চট্টগ্রামের কিশোরী সুপর্বা সুধা বিশ্বাস। ১৩ বছর বয়সী অষ্টম শ্রেণির এই শিক্ষার্থীর ঝুলিতে ইতোমধ্...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : বাংলাদেশ এডিটরস্ ফোরাম গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছে যে, সম্প্রতি চট্টগ্রামের একটি দৈনিক পত্রি...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : নোবিপ্রবি প্রতিনিধি : জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি ও শহীদদের স্মরণে বাংলাদেশ ইসলাম...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে শারীরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শুধু পুরুষের শাস্তির বিধান কেন অবৈধ নয়, তা জানতে ...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাগুলোর বিচার অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে এগোচ্...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষা প্রতি...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Bangla | Developed By Muktodhara Technology Limited