শিরোনাম
কাজী হুমায়ুন কবির | ০৬:৪২ পিএম, ২০২৬-০৪-১৮
সেই ৪২ বছর আগের অর্গানোগ্রাম আপডেট না করে, সেই অরগানোগ্রামের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো আপডেট না করে চলছে সিডিএর সকল কার্যক্রম। একটি প্রতিষ্ঠানে অর্গানোগ্রাম বা সাংগঠনিক কাঠামো অনুসরণ না করলে দীর্ঘমেয়াদে সমস্যার সৃষ্টি হয় । এর ফলে প্রতিষ্ঠানের কর্মদক্ষতা হ্রাস পায় এবং বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। যেমন, কাজের সমন্বয়হীনতা ও বিশৃঙ্খলা, কর্তৃত্বের সংকট, সিদ্ধান্ত গ্রহণে ধীরগতি, জবাবদিহিতার অভাব, সম্পদের অপচয় ও অদক্ষতা। ,অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী না চলার অর্থ হলো একটি প্রতিষ্ঠানের 'মেরুদণ্ডহীন' হয়ে পড়া। এতে প্রতিষ্ঠানটি তার উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত হয় এবং প্রতিষ্ঠানের কর্তা ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।
এ বিষয়ে সিডিএ’র কয়েক কর্মকর্তার সাথে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে ১৯৮৪ সালের অর্গানোগ্রাম (জনবল কাঠামো) দিয়ে এখনো চলছে সিডিএ। বর্তমানে সিডিএ’র কার্যক্রম ও কাজের পরিধি বাড়লেও উল্টো কমতে থাকে লোকবল। অর্গানোগ্রাম পরিবর্তন ও জনবল নিয়োগের জন্য সিডিএ’র পক্ষ থেকে একাধিকবার উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেও কোন এক অজ্ঞাত কারণে নতুনভাবে অর্গানোগ্রাম আজো আলোর মুখ দেখেনি। চেয়ারম্যান আসে আর যায়, কিন্তু কোন চেয়ারম্যানই অর্গানোগ্রামকে প্রাধান্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানকে নগর বান্ধব করে এখনো সংকট উত্তরণে ব্যবস্হা নেয়নি। এতেই সিডিএতে ঘুষ, দুর্ণীতির প্রবনতা, দলীয়করণ, দালালীকরণসহ সঠিক সময়ে জবানদিহিতা নিশ্চিত করা যাচ্ছেনা।
জানা যায়, এক সময় সিডিএ নিজেই জনবল নিয়োগ দিতে পারলেও পরবর্তীতে জনবল নিয়োগের ক্ষমতা মন্ত্রণালয় নিয়ে যায়। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অর্গানোগ্রাম পরিবর্তন করা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী লোকবল নিয়োগও দিয়েছে। কিন্তু সিডিএ ৪২ বছর আগের অর্গানোগ্রাম দিয়ে চলছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী জনবল নিয়োগ দিতে পারেনি। এতে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) অর্গানোগ্রাম বা সাংগঠনিক কাঠামো অনুসরণ না করে চলার কারণে বিভিন্ন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, সিডিএ’র কার্যক্রমে অর্গানোগ্রাম বহির্ভূত পদায়ন এবং জনবল সংকটের মতো সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে।
অরগানোগ্রামে পদ থাকলেও আজকে প্রায় বিশ বছর যাবৎ প্রতিষ্ঠানটিতে চীফ ইঞ্জিনিয়ার পদ শুন্যই রয়ে গেল, দীর্ঘ বছর ভারপ্রাপ্ত দিয়ে চালানো হয়েছে চীফ ইঞ্জিনিয়ারের কার্যক্রম। সিডিএ’র বর্তমান অনুমোদিত অর্গানোগ্রামে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর পদ মাত্র ১টি। কিন্তু বাস্তবে সেখানে ৫ জন কর্মকর্তা এই পদে দায়িত্ব পালন করছেন, যা সরাসরি অর্গানোগ্রাম লঙ্ঘন, অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী পদোন্নতি না দিয়ে ভূমি মূল্যায়ন এস্টেট অফিসার (বিল্ডিং) এবং নকশাবিদদের মতো পদগুলোতে গ্রেড পরিবর্তনের মাধ্যমে পদোন্নতি প্রদানের অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রায় ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে জনবল নিয়োগ না হওয়ায় অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনায় চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে।
অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী তদারকি না থাকায় এবং কাজের পরিধি সুনির্দিষ্ট না হওয়ায় বেড়িবাঁধ কাম সড়কসহ বিভিন্ন প্রকল্পে সময় ও ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এই ধরনের অব্যবস্থাপনা সিডিএ’র প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে এবং সেবাপ্রার্থীরা চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন। দীর্ঘ বছর পর জনবল নিয়োগের জট খুলছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ)। দীর্ঘ ১৫ বছরের বেশি সময়ে জনবল নিয়োগ না হওয়ায় ভোগান্তি বেড়েছে সেবা প্রার্থীদের। মামলা জটিলতায় ২০১০ সালের পর থেকে সিডিএ কোন জনবল নিয়োগ দিতে পারেনি। তবে ২০১০ সালের পর সিডিএ’র চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা জনবল নিয়োগের উদ্যোগ গ্রহণ করলেও নানা কারণে তা বাস্তবায়ন হয়নি।প্রয়োজনে অগ্রানোগ্রাম পরিবর্তন করা হবে জানিয়ে সিডিএ চেয়ারম্যান বলেন, সিডিএ যেসব কাজ করছে তাতে আমাদের প্রায় দেড় হাজার জনবলের প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে আমাদের লোকবলের সংখ্যা অনেক কম। প্রথম ধাপে জনবল নিয়োগের পর অগ্রানোগ্রাম পরিবর্তন করে জনবল বাড়ানোর উদ্যোগ নিব।
যে কাজের পরিধি ও সিডিএ’র নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা বাড়লেও উল্টো কমেছে জনবল। ফলে কাঙ্খিত সেবা পাচ্ছেন না সেবাপ্রার্থীরা। অন্যদিকে, ২০২৩ সালে সিডিএ থেকে ‘ছিনিয়ে নেওয়া’ জনবল নিয়োগের ক্ষমতা ফেরত পেয়েছে সিডিএ।
এনাম কমিটির এক রিপোর্ট অনুযায়ী দেখা যায় সিডিএ’র জনবলের সাংগঠনিক কাঠামোয় মোট পদের সংখ্যা ছিল ৫২০টি। পরবর্তীতে সাংগঠনিক কাঠামোর ৫২টি পদ বিলুপ্ত করা হয়। আবার সৃজন করা হয় ৫১টি পদ। সেই হিসেবে সিডিএ’র অনুমোদিত মোট পদের সংখ্যা ৫১৯টি। তবে বর্তমানে মোট ১৯৪টি পদ শূন্য রয়েছে। এরমধ্যে প্রথম শ্রেণির ৫৮টি পদের মধ্যে ১৮টি, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ৪৭টি পদের মধ্যে ১০টি, তৃতীয় শ্রেণিতে ১৪১টি পদের মধ্যে ৬৪টি এবং চতুর্থ শ্রেণিতে ২৭৩টি পদের মধ্যে ১০২টি পদ শূন্য রয়েছে।
এ সম্পর্কে জানতে চাইলে সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার নুরুল করিম বলেন, আমার পূর্ববর্তীরা কেন অর্গানোগ্রাম আপডেট করতে পারেনি, সেটা তাদের বিষয়। আশা করি, আগামী ৩ থেকে ৪ মাসের মধ্যে অর্গানোগ্রাম আপডেট করে মন্ত্রনালয়ে পাঠাবো। দেরী হওয়ার কারন সিডিএর প্লানিং, অথোরাইজেশন, ইনস্টলেশন সব শাখার সমন্বয় নিয়ে এটা করতে হবে। চিফ ইঞ্জিনিয়ার প্রশ্নে তিনি বলেন, শীঘ্রই এই সমস্যারও সমাধান হয়ে যাবে।
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : চট্টগ্রামের কিশোরী সুপর্বা সুধা বিশ্বাস। ১৩ বছর বয়সী অষ্টম শ্রেণির এই শিক্ষার্থীর ঝুলিতে ইতোমধ্...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : বাংলাদেশ এডিটরস্ ফোরাম গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছে যে, সম্প্রতি চট্টগ্রামের একটি দৈনিক পত্রি...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : নোবিপ্রবি প্রতিনিধি : জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি ও শহীদদের স্মরণে বাংলাদেশ ইসলাম...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে শারীরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শুধু পুরুষের শাস্তির বিধান কেন অবৈধ নয়, তা জানতে ...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাগুলোর বিচার অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে এগোচ্...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষা প্রতি...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Bangla | Developed By Muktodhara Technology Limited