শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৬:২৯ পিএম, ২০২৬-০৪-০৯
আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে সরকারকে জ্বালানি খাতে প্রতি মাসে প্রায় আড়াই হাজার থেকে ৩ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি বহন করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ও যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী। একই সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই বলেও জানান তিনি। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সচিবালয়ে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। বিশ্ববাজারে জ্বালানি নিয়ে অস্থিরতার প্রভাব সম্পর্কে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মুখপাত্র মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে সরকারকে ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। বর্তমানে প্রতি লিটার ডিজেল ১০০ টাকায় বিক্রি হলেও প্রকৃত মূল্য প্রায় ১৫৫ টাকা হওয়া উচিত। এ কারণে সরকারকে প্রতি মাসে প্রায় আড়াই হাজার থেকে ৩ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি বহন করতে হচ্ছে। তবে চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মোট আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ এখনই নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। জ্বালানি সংকট নিয়ে জনমনে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে ওঠার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশে কোনো জ্বালানি সংকট নেই। অযথা মজুত বা আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি সংগ্রহ করলেই নিয়মিত সরবরাহ পাওয়া যাবে। সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিয়মিত সরবরাহ অব্যাহত থাকলে ধীরে ধীরে বাজারে স্থিতিশীলতা এবং ভোক্তাদের দুর্ভোগ কমে আসবে। মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, শুধু গতকালই সারা দেশে ৩৬১টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে ১৯২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং মোট ৫ লাখ ৭ হাজার ৯৫০ টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়েছে। পাশাপাশি দুইজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত মোট ৭ হাজার ৩৪২টি অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এতে মামলা হয়েছে ৩১টি এবং মোট অর্থদণ্ড আদায় হয়েছে ১ কোটি ৪৩ লাখ ৮৪ হাজার টাকা। এছাড়া ৩৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অভিযানে উদ্ধার হওয়া জ্বালানি তেলের পরিমাণও উল্লেখ করে মুখপাত্র ও যুগ্মসচিব বলেন, এখন পর্যন্ত ৩ লাখ ৫২ হাজার ২৪৭ লিটার ডিজেল, ৩ হাজার ৬২১ লিটার অকটেন এবং ৮০ হাজার ৩৭৪ লিটার পেট্রোলসহ মোট ৪ লাখ ৬৯ হাজার ৪২ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে। দেশের জ্বালানি তেলের বর্তমান মজুদ পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমানে ডিজেলের মজুদ রয়েছে প্রায় ১ লাখ ৪৩ হাজার ১৪৩ টন, অকটেন ৯ হাজার ৫৬৯ টন এবং পেট্রোল ১ হাজার ৬৮২ টন। তিনি বলেন, নিয়মিত আমদানি ও সরবরাহ অব্যাহত থাকায় অন্তত আগামী দুই মাস অকটেন ও পেট্রোলের কোনো সংকট হবে না। অবৈধ মজুতের পেছনে কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তির সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে মুখপাত্র বলেন, নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি মামলার মাধ্যমে বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরীক্ষামূলকভাবে চালু হচ্ছে ফুয়েল পাস
শৃঙ্খলা আনতে রাজধানীর দুটি পেট্রোল পাম্পে পরীক্ষামূলকভাবে ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপের মাধ্যমে জ্বালানি তেল বিক্রি শুরু হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সচিবালয়ে সার্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের মুখপাত্র ও যুগ্ম সচিব (অপারেশন অনুবিভাগ) মনির হোসেন চৌধুরী এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, পরীক্ষামূলকভাবে আমরা দুটি ফিলিং স্টেশনে কাজ শুরু করেছি, একটি আসাদগেটের সোনার বাংলা, আরেকটি তেজগাঁয়ের ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন। এরই মধ্যে প্রচুর সাড়া পাওয়া যাচ্ছে, অনেকেই রেজিস্ট্রেশন করছেন। আমার মনে হয় রেজিস্ট্রেশনকারীর সংখ্যা ১০ হাজার অতিক্রম করেছে। যুগ্ম সচিব বলেন, তবে এই কাজটা একটু সময়সাপেক্ষ। আমরা মোটরসাইকেলে ফোকাস করে দুটি ফিলিং স্টেশনে কাজটি শুরু করেছি। আশা করি ধীরে ধীরে ঢাকা শহর পুরোটা কাভার করতে পারবো। এরপর হয়তো আমরা এটি দেশব্যাপী রেপ্লিকেট করার চেষ্টা করবো। জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বৈশ্বিক সংঘাতের কারণে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব এখনও বিদ্যমান। যুদ্ধ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে স্বল্পমেয়াদে কিছুটা স্বস্তি আসতে পারে, তবে এর দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রভাব বিশ্বব্যাপী পড়বে। সংসদে মন্ত্রীর জ্বালানি তেলের দাম আগামীতে বাড়তে পারে এমন ইঙ্গিত নিয়ে প্রশ্নের জবাবে যুগ্মসচিব বলেন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ শুরু করেছে। জ্বালানি তেলের দাম আগামীতে বাড়তে পারে এমন ইঙ্গিত থাকলেও এপ্রিল মাসের শুরুতে দাম অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কোনো পরিবর্তন হলে তা জনসাধারণকে জানানো হবে। প্যানিক বায়িং নিয়ে সরকার আর কি উদ্যোগ নিয়েছে? এমন প্রশ্নেন জবাবে এই মুখপাত্র বলেন, প্যানিক বায়িং বা আতঙ্কে অতিরিক্ত জ্বালানি কেনার প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা বৃদ্ধিকেই প্রধান উপায় হিসেবে দেখছে সরকার। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাব নিয়ে মানুষের মধ্যে যে মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি হয়েছে, তা ধীরে ধীরে কেটে যাবে।
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : নতুন এক দেশ গঠনের স্বপ্ন নিয়ে বাংলাদেশের মানুষ ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। কিন্ত...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : Bangladesh Society for the Enforcement of Human Rights (BSEHR)-এর চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলা শাখার দ্বিবার্ষিক নির্বাচন গত ৬ নভেম্বর, শুক্রà¦...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : পোশাকশ্রমিকদের নতুন ন্যূনতম মজুরি ডিসেম্বর থেকে কার্যকর এবং জানুয়ারি মাসে বর্ধিত বেতন দেওয়ার বà¦...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটলেও তরুণ প্রজন্মের রাষ্ট্র মেরামতের আকাঙ্ক্ষà¦...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর মুগদা থানার সাইফুল হত্যা মামলায় তথ্য গোপন করে নিম্ন আদালতের একই আদেশের বিপরীতে তিনবার à¦...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : মোঃ মিজানুর রহমান, কুড়িগ্রাম :: সরকারি দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নির্ধারিত কুড়িগ্রাম জেà...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Bangla | Developed By Muktodhara Technology Limited