শিরোনাম
আমাদের বাংলা ডেস্ক : | ০৭:৩২ পিএম, ২০২৬-০৬-১৭
শিবুকান্তি দাশ :
জাতীয় নির্বাচনের ন্যায় স্থানীয় নির্বাচনেও আওয়ামী লীগকে সুযোগ দিতে রাজি না সরকারের শরীক দলগুলো। বিশেষ করে জামায়াত ও এনসিপি কোন ভাবেই বিগত সরকারে থাকা আওয়ামী লীগকে এখনই ছাড় দেবে না। কারণ তারা দেশের মানুষ গুলি করে মেরেছে ক্ষমতায় বসে। তাদেরকে কোন ভাবেই সুযোগ দেয়া হবে না। তবে বিএনপি স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে আপাতত কৌশলে এগুতে চায়। এ নিয়ে সরকারের মধ্যে প্রস্তুুতি শুরু হয়ে গেছে। বিএনপির স্থানীয় নেতারা নির্বাচনে দলীয় সমর্থন পেতে ঢাকায় দৌড় ঝাপ করে যাচ্ছে বলে দলীয় সূত্র জানায়।
বিএনপি সরকার গঠনের পর বিশেষ করে সিটি করপোরেশন গুলোতে দলীয় নেতাদেরকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে আগে ভাগে দখলে নিয়ে রেখেছে। ঢাকা সিটির দুই মেয়র পদে বিএনপি একাধিক নেতারা মাঠে সক্রিয় রয়েছে। তবে দলীয় প্রশাসক নিয়োগ নিয়ে বিরোধী দল জামায়াত মন্তব্য করেছিল বিএনপি প্রশাসক দিয়ে পুরো মেয়াদ পার করে দেবে বলে দলীয় নেতাদেরকে প্রশাসক করেছে। এ বক্তব্যকে নাকচ করে দিয়ে গত মঙ্গলবার (১৬ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে বিএনপির মহাসচিব ও এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আগামী বর্ষাও পর সেপ্টেম্বর অক্টোবরের দিয়ে স্থানীয় সরকারের সকল স্তরে নির্বাচন দেয়া হবে। তবে নির্বাচনের সুস্পষ্ট তারিখ ঘোষণার আগে থেকেই নিজেদের প্রার্থিতা জানান দিচ্ছেন ক্ষমতাসীন বিএনপির নেতারা। ইতোমধ্যে ভোটারদের দোয়া চেয়ে ব্যানার-ফেস্টুন পোস্টারে ছেয়ে গেছে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকা। তৃণমূলে যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন নেতারা। একই এলাকায় রয়েছেন মনোনয়ন প্রত্যাশী একাধিক নেতা। সবাই নিজস্ব অবস্থান থেকে প্রচারণা চালাচ্ছেন।
জানা গেছে, নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকায় প্রার্থী বাছাইয়ে নানা কৌশল অবলম্বন করবে বিএনপি। ভেতরে ভেতরে প্রস্তুতি নিয়েছে কেন্দ্রীয় সংগঠন। নির্বাচন হবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ। কাউকে কোনও ধরনের অন্যায় হস্তক্ষেপের সুযোগ দেওয়া হবে না। অগ্রাধিকার দেওয়া হবে ক্লিন ইমেজধারীদের। পরিস্থিতি অনুযায়ী যুগপতের শরিকদেরও কিছু কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হতে পারে।
তবে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সমর্থিতদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সুযোগ দেওয়া হবে কিনা, সেটিও খোলাসা করেননি ক্ষমতাসীন দলের নেতারা।
এদিকে এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এ বিধিমালা পাস হলে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ যেকোনও দলের কর্মী-সমর্থকরা অংশ নিতে পারবেন বলে জানা গেছে।
আলোচনা আছে, তাহলে কি আওয়ামী লীগ নেতাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের কোনও বাধা নেই? এ নিয়ে নির্বাচন কমিশন এক ধরনের দৃষ্টিভঙ্গির কথা বললেও বিএনপির দলগত সিদ্ধান্ত এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
গত ১০ জুন এই বিধিমালা প্রণয়ন কমিটির সভাপতি ও নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমান মাছউদ সাংবাদিকদের বলেন, কোনও দল বাদ দেওয়ার মতো কোনও বিধান আচরণবিধিতে রাখা হয়নি। নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার যোগ্য যে কেউ অংশ নিতে পারবেন। এ বিষয়ে গত ১৫ জুন জাতীয় সংসদে বিএনপি বা সরকারের মনোভাব জানতে চান স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।
জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে আমি আশ্বস্ত করতে পারি যে যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আমরা যে সিদ্ধান্তে একমত হয়েছি, সেই সিদ্ধান্তে যথাযসময়ে নির্বাচন করতে পারবো। তবে আওয়ামী লীগের নেতারা অংশগ্রহণ করতে পারবেন কিনা, প্রশ্নের উত্তর তিনি পাশ কাটিয়ে যান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপি চেয়ারপারসনের এক উপদেষ্টা বলেন, এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে এক ধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছেন তারা। নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতারা নির্বাচনে দাঁড়াতে পারেন। আবার প্রধান বিরোধী দল জামায়াতের প্রার্থীরাও শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়তে পারেন, তা মাথায় রেখেই তারা প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এ নিয়ে অচিরেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হবে। সব বিষয়ে খোঁজ রাখছেন বিএনপির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরইমধ্যে অতীতের পরিক্ষিত নেতারা রয়েছেন দলের গুডবুকে।
এ বিষয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু গণমাধ্যমকে বলেন, ‘‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে বিএনপির প্রস্তুতি অনেকটাই এগিয়ে। ইতোমধ্যে দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে যোগ্য প্রার্থীদের গ্রিন সিগন্যাল দেওয়া হয়েছে। তবে চূড়ান্ত প্রার্থী বাছাই নিয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি।’’ তিনি বলেন, ‘‘দলীয় প্রতীক না থাকলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে রাজনৈতিক দলের সমর্থন থাকে।’’ বলেন, ‘‘দলের নিবেদিতপ্রাণ ও ক্লিন ইমেজের নেতাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বিএনপি যেহেতু বড় দল, তাই একেকটি এলাকায় একাধিক প্রার্থী থাকেন। তাদের মধ্যে কীভাবে সমন্বয় করা যায়, সে কৌশল নিয়েও কাজ করছেন শীর্ষ নেতারা।’’
ঢাকার দুই সিটিতে কারা
স্থানীয় সরকার নির্বাচন সবচেয়ে আলোচনায় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের মেয়র পদের প্রার্থী হচ্ছেন কারা?
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) প্রশাসক ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এরইমধ্যে তার পক্ষে নগরীতে ব্যাপক পোস্টারিং হয়েছে। আরও আলোচনায় আছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, অবিভক্ত ঢাকা সিটির সাবেক মেয়র ছাদেক হোসেন খোকার ছেলে ও মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।
অপরদিকে ঢাকা উত্তর সিটিতে এবারও আলোচনায় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল। ২০২০ সালের ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ছিলেন তিনি। আরও রয়েছেন বর্তমান প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৫ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন তিনি। তবে এর বাইরেও বিকল্প প্রার্থী থাকতে পারে বলে জানা গেছে।
#
নিজস্ব প্রতিবেদক : রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র দাখিলের ...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : চট্টগ্রামের কিশোরী সুপর্বা সুধা বিশ্বাস। ১৩ বছর বয়সী অষ্টম শ্রেণির এই শিক্ষার্থীর ঝুলিতে ইতোমধ্...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : বাংলাদেশ এডিটরস্ ফোরাম গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছে যে, সম্প্রতি চট্টগ্রামের একটি দৈনিক পত্রি...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : নোবিপ্রবি প্রতিনিধি : জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি ও শহীদদের স্মরণে বাংলাদেশ ইসলাম...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে শারীরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শুধু পুরুষের শাস্তির বিধান কেন অবৈধ নয়, তা জানতে ...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাগুলোর বিচার অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে এগোচ্...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Bangla | Developed By Muktodhara Technology Limited