শিরোনাম
আবু ফাতাহ্ মোহাম্মদ কুতুব উদ্দীন : | ০৯:৪৮ পিএম, ২০২৪-০৮-০৬
নজিরবিহীন ক্ষমতার অপব্যবহার, চরম দুঃশাসন ও সীমাহীন স্বেচ্ছাচারিতার প্রতিবাদে ছাত্র-জনতার এক অবিস্মরণীয় অভ্যুত্থানের মুখে হাসিনা সরকারের পতন হয়েছে। পালিয়ে গেছেন ভীষণ শেখ হাসিনা। তার আজ্ঞাবহ মন্ত্রী-এমপিরা প্রায় সবাই গা ঢাকা দিয়েছেন।
ইতোমধ্যে শেখ হাসিনা সরকারের অনেকে মন্ত্রী-এমপি দেশ ত্যাগ করেছেন। তবে যারা দেশ ত্যাগ করতে পারেননি তাদের অনেকেই প্রাণভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
এদিকে পলায়নপর মন্ত্রী-এমপিদের বেশ কয়েকজন সেনা হেফাজতে ক্যান্টনমেন্টে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্য জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে বিভিন্ন দূতাবাসে আশ্রয় চেয়েছেন এমন খবরও পাওয়া গেছে।
এর আগে আওয়ামী ব্যাবসায়ী আমলা, এমপি-মন্ত্রীদের দেশত্যাগ ঠেকাতে দেশের সবকটি বিমানবন্দরে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়। দেশের সীমান্তগুলোতেও রেড এলার্ট জারি করা হয়।
সোমবার ভোর থেকেই প্রভাবশালী হিসাবে পরিচিত মন্ত্রী-এমপিদের অনেকের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না। অনেকের মুঠোফোন ছিল বন্ধ। বিশেষ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদ, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক,শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত অজ্ঞাত স্থানে চলে যান। তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক পালাতে চাইলেও সেনাবাহিনীর কৌশলগত দক্ষতায় তাকে বিমানবন্দরে আটক করা হয়।
এর আগে হাসিনা সরকারের ক্ষমতাধর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, অর্থমন্ত্রী মাহমুদ আলী, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস বিভিন্ন দেশের উদ্দেশে বিমানযোগে দেশ ছেড়ে গেছেন।
এর আগে রোববার রাতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদের পরিবারের সদস্যরা ইকে ৫৮৬ নম্বর ফ্লাইটযোগে দেশ ত্যাগ করেন। তাদের গন্তব্য ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই বিমানবন্দর।
মূলত এর পরপরই গণহারে মন্ত্রী-এমপিদের দেশ ত্যাগের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
মন্ত্রী-এমপিদের অনেকে শেষ মুহূর্তে শত চেষ্টা করেও আর দেশ ছাড়তে পারেননি। রোববার ও সোমবার দুদিন টিকিটের জন্য তারা বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যোগাযোগ করেও বিফল হন।
অনেকে পরিবারের সদস্যদের নিরাপদে বিদেশ পাঠাতে পারলেও নিজে আর যেতে পারেননি। এদের মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত দেশেই আত্মগোপনে আছেন বলে জানা যায়।
শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল সোমবার বিকাল পর্যন্ত তার বনানীর বাসায় অবস্থান করছিলেন। সরকারের পতনের খবর ছড়িয়ে পড়লে সন্ধ্যার পর থেকে তার সঙ্গে নেতাকর্মীদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন।
এদিকে আলোচিত সমাজকল্যণমন্ত্রী ডা. দীপু মনি সরকারের পতনের পরপরই গা ঢাকা দিয়েছেন। বিক্ষুব্ধ জনতা তার চাঁদপুরের গ্রামের বাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম-৩ আসনের (সন্দ্বিপ) সাবেক এমপি মাহফুজুর রহমান ওরফে মিতা সপরিবারে দেশ ছাড়তে ঢাকায় ছুটে আসেন। বিকাল ৫টায় তিনি শাহজালাল বিমানবন্দরে হাজির হন। কিন্তু বিমানবন্দর বন্ধ ঘোষণার খবরে তিনি ফিরে আসেন। পরে গুলশানের বাড়িতে ঢোকার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। পরে তিনি স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে অজ্ঞাত স্থানে চলে যান।
এর আগে রোববার মন্ত্রী-এমপি ও সরকার ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীদের অনেকে বিশেষ প্রটোকল চেয়ে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে চিঠি দেয়। বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় নিয়োজিত এভসেক-এর সহকারী পরিচালক নাছিমা শাহীন স্বাক্ষরিত তালিকা অনুযায়ী দেশ ছাড়া মন্ত্রী-এমপিদের মধ্যে রয়েছেন পূর্তমন্ত্রী র আ ম উবায়দুল মোক্তাদির, সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম, সাবেক হুইপ নুর-ই আলম চৌধুরী, কৃষিমন্ত্রী আব্দুস শহীদ ও সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, এমপি নুর-ই হাসনা লিলি চৌধুরী, উত্তরা এলাকার সাবেক এমপি হাবিব হাসান এবং জেপি প্রধান ও সাবেক মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বিমানযোগে দেশ ছাড়েন।এছাড়া দেশ ছেড়েছেন বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী, বিচারপতি ও উচ্চপদস্থ আমলা। এদের মধ্যে সিনিয়র সচিব ও তথ্য কমিশনার সুরাইয়া বেগম, নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল ও সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান শিবলী রুবায়েত উল ইসলাম, ব্যাংক অ্যাসোসিয়েশনের নেতা ও বেসরকারি এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার, ব্যবসায়ী নেতা জসিম উদ্দিন, ইমরানুর রহমান ওমহিউদ্দিন মোনেম।
রোববার রাত থেকেই নানা মাধ্যমে মন্ত্রী-এমপিদের দেশত্যাগের খবর ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি বেশ কয়েকজনের ফ্লাইট নম্বর ও বিমানের ভেতরে বসে থাকার ছবিও আসতে থাকে। কিন্তু বিক্ষুব্ধ পরিস্থিতিতে এসব খবরের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার কোনো উপায় ছিল না। এমনকি পদত্যাগ করে দেশ ছাড়ার আগ পর্যন্ত হাসিনা সরকারের ভেতরের এমন কাহিল অবস্থা বাইরে থেকে কেউ এতটুকুও আঁচ করতে পারেনি। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে শেখ হাসিনা পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন এমন খবর ছিটেফোঁটাও জানাতে পারেনি কেউ।সাংবাদিধানিক বিধিমোতাবেক অন্তবর্তীকালীন জাতীয় সরকার গঠনের পাশাপাশি দ্রুত মন্ত্রী-এমপিসহ আওয়ামীলীগের চিহ্নিত লুটেরা মাফিয়া রাষ্ট্রের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাটকারীদের আটক করে আইনের আওতায় আনার ব্যবস্থা সার্বিকভাবে লুটকৃত অর্থ ফেরতে সহায়তা করবে। আমরা বিগত অন্তবর্তীকালীন জাতীয় সরকারের সময়ে দেখেছি কৌশলী তৎপরতার দুর্বলতায় অনেক অপরাধী নাগালের বাইরে চলে গিয়েছিল। কাজেই আওয়ামীলীগের লুটপাটে গড়ে তোলা দালান-কোঠাসহ সকল স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি পরিত্যক্ত ঘোষণা করুন। তাদের দেশদ্রোহি ও রাষ্ট্রবিরোধী হিসেবে তালিকাভূক্ত করে বিচারের ব্যবস্থা করুন। তাদের লুটকৃত অর্থ উদ্ধার করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করুন। বিদেশে পাঁচারকৃত অর্থ ও বেগমবাড়ীসহ সকল বিষয়ে অবৈধ পাঁচারকৃত অর্থ দেশে ফেরত আনুন। গত ১৫ বছর কিংবা এরও আগে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় থাকাকালে সকল দূর্নীতির খতিয়ান বের করুন এবং অবিলম্বে তাদের বিরুদ্ধে দূর্নীতি দমন ব্যুরোতে মামলা করতে বলুন। আওয়ামীলীগের যে সব মন্ত্রী-এমপি মিথ্যা ও ধোঁকাবাজী করে জনগণকে জুলুম করেছে, রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকা লোপাট করে টেলিভিশন ও নানান প্রচার মাধ্যমে মিথ্যা প্রচারণা করে দেশকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে। নানান জালিয়াতি করে ব্যাংক, ইন্সুরেন্সের লাইসেন্স নিয়ে ব্যাপক হারে টাকা বিদেশে পাঁচার করছে। তাদের দেশ ছেড়ে পলায়নের পথ বন্ধ করে দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে। এসব মাফিয়ারা নানান সর্বদলীয় সিন্ডিকেট করে বছরের পর বছর গুম, খুন, রাহাজানি, জমি দখল, মাদক ব্যবসাসহ এমন কোন অপরাধ নেই যা তারা করেনি। এদের সিন্ডিকেট ভেঙ্গে দিতে না পারলে শিক্ষার্থী-জনতার এ বিপ্লবের সুফল দীর্ঘকাল ভীত মজলুম নাগরিকরা পাবেনা। বিগত ওয়ান ইলেভেনের সময় এমনি একটি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। সিন্ডিকেট দমনে কৌশলী না হওয়ার কারণে সেবার অনেক অপরাধী সটকে পড়তে সক্ষম হয়েছিল।
নিজস্ব প্রতিবেদক : সাহাবুদ্দিন আহাম্মদ চৌধুরী (এমরান) দীর্ঘ প্রতীক্ষার বাঁধ ভেঙ্গে শত বাধাঁকে উপেক্ষা করে ১২ই ফ...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : ১৪৪৭ হিজরি সনের পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা এবং এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের লক্ষ্যে আগামীকাল জাতী...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : বিএনপির নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে সর্বোচ্চ ১২ জনকে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্য...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোটের বৈধতা চ্যালেঞ্জ এবং ১৩ ফেব্রুয়ারি ঘোষিত গণভোটের ফল বাতিল চেয়ে ...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানের পরপরই নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের আমন্ত্রণ জানানো শুরু করেছে মন্ত্র...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ শপথ নিয়েছেন মন্ত্রিষদের সদস্যরা। মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের ...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Bangla | Developed By Muktodhara Technology Limited