শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৫:৪৭ পিএম, ২০২৬-০২-০৮
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে প্রকাশ পাওয়া রাষ্ট্র সংস্কারের গণআকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের পথে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও সরকারের সমন্বয়হীনতা, আইনি বিভ্রান্তি এবং রাজনৈতিক চাপ বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, ঐতিহাসিক গুরুত্বের গণভোট আয়োজনের ক্ষেত্রে অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্ত, অস্পষ্ট আইনগত ব্যাখ্যা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার ঘাটতি জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করছে, যা পুরো প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘গণভোট ও প্রাক-নির্বাচন পরিস্থিতি : টিআইবির পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক প্রতিবেদন উপস্থাপনকালে তিনি এসব কথা বলেন। ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, নির্বাচন কমিশন তাদের ওপর অর্পিত সাংবিধানিক দায়িত্ব ও ক্ষমতা কার্যকরভাবে প্রয়োগে দৃশ্যমান দুর্বলতা দেখাচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলোর চাপের মুখে কমিশন অনেক ক্ষেত্রে দৃঢ় অবস্থান নিতে ব্যর্থ হচ্ছে। অনলাইন ও অফলাইন উভয় পরিসরে আচরণবিধির ব্যাপক লঙ্ঘন এবং অনিয়ম ঘটলেও ইসি কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারছে না। তিনি আরও বলেন, প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি অংশও নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রাহকদের হয়রানি ও হুমকির ঘটনাও উদ্বেগজনক।
অনলাইন অপপ্রচার ও প্রযুক্তি কোম্পানির দায়
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অপপ্রচার, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য এবং ব্যক্তিগত আক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ইসির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক। তিনি বলেন, গুগল ও মেটার মতো বৈশ্বিক প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো নিজেদের নীতিমালা লঙ্ঘনকারী কনটেন্ট সরাতে কার্যকর ভূমিকা রাখছে না। ড. ইফতেখারুজ্জামানের মতে, এসব প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক স্বার্থ বা ‘মানি ডিপেন্ডেন্সি’ বড় ভূমিকা রাখছে। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে তাদের পর্যাপ্ত ও প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ বা সমন্বয় না থাকায় ভবিষ্যৎ নির্বাচনী প্রক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষা গ্রহণ করা যাচ্ছে না।
গণভোটে সরকারের দোদুল্যমানতা ও আইনি জটিলতা
গণভোট ইস্যুতে সরকারের ভূমিকা নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তার ভাষায়, প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলগুলোর বিপরীতমুখী অবস্থানের কারণে সরকার শুরু থেকেই দোদুল্যমান অবস্থানে ছিল। উভয় পক্ষকে সন্তুষ্ট করার চেষ্টায় যে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে, তা গণভোটের প্রশ্ন ও উদ্দেশ্যকে আরও অস্পষ্ট করেছে। তিনি বলেন, একই দিনে নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্ত বিষয়টিকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে জটিল করে তুলেছে। সবচেয়ে বড় আইনি বিচ্যুতি হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচন কমিশন গণভোটকে ‘নির্বাচন’-এর সমার্থক হিসেবে বিবেচনা করছে। অথচ গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী গণভোট কোনোভাবেই নির্বাচনের সমার্থক নয়, কারণ এখানে কোনো ব্যক্তি বা আসনের পক্ষে ভোট প্রদান করা হয় না। তফসিল ঘোষণার পর সরকারি কর্মচারীরা আইনত নির্বাচন কমিশনের অধীনে থাকলেও সরকার তাদের গণভোটের পক্ষে প্রচারণার নির্দেশনা দিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে বলে মন্তব্য করেন ড. ইফতেখারুজ্জামান। তার মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ইসির সম্মতি নেওয়া প্রয়োজন ছিল। তিনি বলেন, ইসি এ ক্ষেত্রে আইনের ভুল ব্যাখ্যার ওপর নির্ভর করে কার্যত নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। পাশাপাশি ব্যাংক ও এনজিওসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওপর সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া, গণভোট পরিচালনায় অর্থায়ন ও ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে।
জুলাই সনদ ও রাষ্ট্র সংস্কারে টিআইবির প্রস্তাব
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, গণভোটের মূল ভিত্তি হওয়া উচিত জুলাই অভ্যুত্থান থেকে উৎসারিত ‘জুলাই সনদ’। এই ঐতিহাসিক সুযোগ কাজে লাগিয়ে মৌলিক সাংবিধানিক সংস্কার বাস্তবায়ন জরুরি বলে তিনি মনে করেন। টিআইবির পক্ষ থেকে তিনি কয়েকটি নির্দিষ্ট সংস্কারের প্রস্তাব তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে—সংবিধানের ২০(২) অনুচ্ছেদ সংশোধন করে ক্ষমতার অপব্যবহারকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা, দুর্নীতি দমন কমিশনকে সাংবিধানিক মর্যাদা দেওয়া, সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব ১০০ আসনে উন্নীত করা এবং অন্তত ৩৩ শতাংশ নারী প্রার্থী মনোনয়ন নিশ্চিত করা। এছাড়া সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধনের মাধ্যমে অর্থবিল ও অনাস্থা প্রস্তাব ছাড়া অন্যান্য বিষয়ে সংসদ সদস্যদের নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দেওয়ার সুযোগ এবং ডেপুটি স্পিকার ও গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটির সভাপতির পদে বিরোধী দলের সদস্যদের নিয়োগের দাবি জানান তিনি। ড. ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের মূল প্রত্যাশা অনুযায়ী জবাবদিহিমূলক গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য বিচার বিভাগসহ সব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা ছাড়া বিকল্প নেই। তিনি দেশবাসীকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘না’ এবং জুলাই সনদের আলোকে রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে স্পষ্টভাবে ‘হ্যাঁ’ বলার আহ্বান জানান।
৫৯ শতাংশ কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ, হত্যাকাণ্ডেও কার্যকর ব্যবস্থা নেই : টিআইবি
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও একইসঙ্গে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জুলাই জাতীয় সনদের ওপর গণভোটকে ঘিরে প্রাক-নির্বাচনী পরিবেশ উদ্বেগজনক হয়ে উঠলেও নির্বাচন কমিশন (ইসি) পরিস্থিতির দায় এড়িয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড, সহিংসতা ও মব ভায়োলেন্সকে ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ হিসেবে ব্যাখ্যা করে কমিশনের দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সংস্থাটি। টিআইবির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, দেশের ৫৯ শতাংশ ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হলেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপের ঘাটতি স্পষ্ট। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির সিনিয়র রিসার্চ ফেলো মো. মাহফুজুল হক ‘গণভোট ও প্রাক-নির্বাচন পরিস্থিতি : টিআইবির পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে এ কথা বলেন। লিখিত বক্তব্যে মাহফুজুল হক বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় নির্বাচন কমিশন নিজেই দেশের ৫৯ শতাংশ ভোটকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছে। অথচ এসব কেন্দ্রের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে যে প্রস্তুতি নেওয়ার কথা ছিল, তা বাস্তবে প্রতিফলিত হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের নিরাপত্তার জন্য সিসি ক্যামেরা, লাইট ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ ক্রয়ের নামে স্লিপ ফান্ডের মাধ্যমে বরাদ্দ করা অর্থ কিছু ক্ষেত্রে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের অনানুষ্ঠানিক নির্দেশে উত্তোলন করে উপজেলা কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। পরে সেই অর্থের সামান্য অংশ অবকাঠামো সংস্কার বা লজিস্টিক ক্রয়ে ব্যবহার করা হলেও বড় অংশ আত্মসাতের নির্ভরযোগ্য তথ্য টিআইবি পেয়েছে। সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডকে ‘বিচ্ছিন্ন’ বলাকে দায় এড়ানো উল্লেখ করে মাহফুজুল হক বলেন, তফসিল ঘোষণার আগেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড, সংঘর্ষ, মব ভায়োলেন্স এবং ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। অতীতের জাতীয় নির্বাচনে সহিংসতাপ্রবণ এলাকা এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যেসব জেলায় সহিংসতা বেশি ছিল, সেসব উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ জেলাতেও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। এমন বাস্তবতায় সম্ভাব্য এক প্রার্থীর হত্যাকাণ্ডকে ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, এতে নির্বাচনের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না। এই বক্তব্যকে দায়িত্বহীন ও বাস্তবতা-বিবর্জিত উল্লেখ করে টিআইবি বলেছে, এ ধরনের অবস্থান কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে অনীহা এবং ঝুঁকিকে খাটো করে দেখার প্রবণতারই বহিঃপ্রকাশ। লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, নিবন্ধন স্থগিত থাকায় একটি বড় রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নিতে না পারা এবং তাদের পক্ষ থেকে নির্বাচন প্রতিহতের ঘোষণা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এর মধ্যেই সহিংসতার আশঙ্কা বাড়লেও কমিশনের পক্ষ থেকে কোনো সমন্বিত ও প্রতিরোধমূলক কৌশল দৃশ্যমান নয়। মাহফুজুল হকের মতে, নির্বাচন পরিবেশ সৃষ্টি শুধু ভোটের দিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং তফসিল ঘোষণার আগের সময় থেকেই সহিংসতা, ভয়ভীতি ও অনিশ্চয়তা দূর করতে দৃঢ় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক উদ্যোগ প্রয়োজন ছিল, যা বাস্তবে দেখা যায়নি। টিআইবি মনে করে, সহিংসতা ও নিরাপত্তা সংকটকে ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ হিসেবে চিহ্নিত করে দায় এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। নির্বাচন কমিশনকে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, অর্থ ব্যবহারের জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা এবং সহিংসতার প্রতিটি ঘটনায় দ্রুত ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিতে হবে। এই অবস্থার পরিবর্তন না হলে একই দিনে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট— উভয় প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও সতর্ক করেছে টিআইবি।
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : চট্টগ্রামের কিশোরী সুপর্বা সুধা বিশ্বাস। ১৩ বছর বয়সী অষ্টম শ্রেণির এই শিক্ষার্থীর ঝুলিতে ইতোমধ্...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : বাংলাদেশ এডিটরস্ ফোরাম গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছে যে, সম্প্রতি চট্টগ্রামের একটি দৈনিক পত্রি...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : নোবিপ্রবি প্রতিনিধি : জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি ও শহীদদের স্মরণে বাংলাদেশ ইসলাম...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে শারীরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শুধু পুরুষের শাস্তির বিধান কেন অবৈধ নয়, তা জানতে ...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাগুলোর বিচার অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে এগোচ্...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষা প্রতি...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Bangla | Developed By Muktodhara Technology Limited