শিরোনাম
চট্টগ্রাম ব্যুরো : | ০৫:২৫ পিএম, ২০২৫-১২-০৮
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) আপত্তি থাকা সত্ত্বেও সন্দ্বীপ চ্যানেলে বালু উত্তোলনের জন্য পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। ইজারা পাওয়ার পরও প্রতিষ্ঠানগুলো নির্ধারিত জোন অগ্রাহ্য করে সুবিধামতো স্থান থেকে ইচ্ছেমতো বালু তুলছে। এমনকি সম্ভাবনাময় পর্যটন স্পট গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকতের খুব কাছে থেকেও বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে তীব্র ভাঙনের মুখে পড়েছে উপকূলীয় জেলেপল্লি ও বিস্তীর্ণ সমুদ্রসৈকত।
সূত্র জানায়, ঢাকা ও চট্টগ্রামের প্রভাবশালী বালু সিন্ডিকেট প্রথমে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ ও বিআইডব্লিউটিএর কাছে অনুমতি চেয়ে ব্যর্থ হয়। পরে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে তারা সন্দ্বীপ চ্যানেল থেকে বালু উত্তোলন শুরু করে। তবে স্থানীয়রা বলছেন, এভাবে অনুমতি দিলে চার প্রতিষ্ঠানের অসংখ্য বাল্কহেড নৌপথে অবস্থান করবে, যা জাহাজভাঙা শিল্প ও নৌযান চলাচলকে মারাত্মকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ করবে।
ইতোমধ্যে কুমিরা নৌ-পুলিশ সম্প্রতি ১৩টি অবৈধ বাল্কহেড জব্দ করেছে। নৌ-পুলিশ জানায়, এসব বাল্কহেডের কোনো সরকারি অনুমোদন বা নিবন্ধন নেই। আদালতের মাধ্যমে জব্দ করা হলেও মালিকরা আবারও তা ফিরে নিয়ে বালু উত্তোলন করছে। প্রতিটি বাল্কহেড ১০-২০ হাজার ঘনফুট বালু উত্তোলন করতে সক্ষম।
এদিকে, সম্প্রতি ভাটিয়ারী উপকূলেও অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের ধাওয়া দিয়েছে স্থানীয়রা। শিপইয়ার্ডের পাশে বালু সংরক্ষণের জন্য মাটি খনন করে বড় গর্ত তৈরি করা হয়। সাগরে ড্রেজার ও বাল্কহেড সংযুক্ত করে প্রায় আধা কিলোমিটার পাইপ বসানো হয়েছিল। স্থানীয়রা বাধা দিলে বালু উত্তোলনকারীরা পাইপ তুলে উপকূলের বার্জে নিয়ে যায়। এ ব্যাপারে গুলিয়াখালী বিচ-ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও ইউএনও মো. ফখরুল ইসলাম জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের সহকারী-পরিচালক মো. আশরাফ উদ্দিন বলেন, ‘বালু উত্তোলনের অনুমতি জেলা প্রশাসন দেয়, আমরা দিই না। তবে বালু উত্তোলন এলাকায় পরিবেশের ক্ষতি পর্যবেক্ষণ করে রিপোর্ট দিতে পারি।’
পরিবেশবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, এভাবে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলতে থাকলে সাগরের তলদেশে পরিবর্তন ঘটতে পারে, উপকূল ভেঙে যেতে পারে এবং মাছের প্রজনন কমে যেতে পারে। পাশাপাশি এ ধরনের কার্যক্রম জাহাজ চলাচলেও ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সন্দ্বীপ চ্যানেল থেকে উত্তোলিত বালু প্রতি ঘনফুট ৫-৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতিদিন ১২-১৫টি বাল্কহেড ও ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে এবং এভাবে ৫-৭ লাখ টাকার বালু সাগর থেকে বিক্রি করা হচ্ছে। উত্তোলিত বালু ভোলা, বরিশাল, খুলনা, হাতিয়া ও নোয়াখালীর চরাঞ্চল এলাকায় পাঠানো হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার সকালে কুমিরা ফেরিঘাট সংলগ্ন এলাকায় দেখা গেছে, একাধিক এক্সক্যাভেটর ব্যবহার করে কৃষিজমি কেটে তৈরি করা হচ্ছে বিশাল গর্ত, যেখানে সাগর থেকে উত্তোলিত বালু রাখা হবে। স্থানীয়রা জানান, এই জমি সলিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন আজিজের। অভিযোগ, চেয়ারম্যানের জমি জোরপূর্বক দখল করে বালু সংরক্ষণের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। এ ছাড়া পরিত্যক্ত শিপইয়ার্ড এলাকায় বালু রাখা হচ্ছে বিক্রির জন্য।
বিআইডব্লিউটিএ জানিয়েছে, সন্দ্বীপ চ্যানেলে কখনোই বালু উত্তোলনের অনুমতি দেয়নি তারা। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত প্রতিষ্ঠানগুলো বন্দর কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে বালু উত্তোলন করছে। স্থানীয়রা বলছেন, এমন অবৈধ কার্যক্রম চলতে থাকলে উপকূলীয় এলাকার পরিবেশ ধ্বংস হবে, পর্যটন স্পট ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রা বিপন্ন হবে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের অনুমোদনপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো, ডিপ ডিগার্স লিমিটেড, এমআর ট্রেডার্স, কনস্টা এইড লিমিটেড, শামা গ্রুপসহ অন্য একটি প্রতিষ্ঠান। তারা দাবি করছে, বন্দর কর্তৃপক্ষের অনুমতি থাকায় তাদের বালু উত্তোলন বৈধ। তবে স্থানীয়রা ও পরিবেশবাদীরা বলছেন, প্রশাসনের তদারকি নেই এবং বালু উত্তোলন নিয়ন্ত্রণহীনভাবে চলছে। সন্দ্বীপ চ্যানেলের গুলিয়াখালী সৈকত তীব্র ভাঙনের শিকার হচ্ছে। মাসের পর মাস টানা ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলনের ফলে সাগরের তলদেশে পরিবর্তন ঘটে গেছে। এতে উপকূলীয় জনপদ সাগরে বিলীন হচ্ছে।
ভাটিয়ারী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নুরুল আনোয়ার বলেন, ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পূর্বে পাহাড় ও পশ্চিমে সাগর। এক কিলোমিটার এলাকায় যদি অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হয়, তাহলে পরিবেশ ধ্বংস হবে এবং স্থানীয় বসতি ও মানুষ ক্ষতির সম্মুখীন হবে।’
বালু উত্তোলনকারী প্রতিষ্ঠান ডিপ বিগাস লিমিটেডের কর্মকর্তা সাহিদুল আলম মাসুদ জানান, বন্দর কর্তৃপক্ষের অনুমতি অনুযায়ী বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। উপজেলার একাধিক স্থানে বালু উত্তোলন চলছে বলে নিশ্চিত করেছেন ইঞ্জিনিয়ার মামুন নামে প্রতিষ্ঠানটির অন্য এক কর্মকর্তা।
কুমিরা নৌ-পুলিশের ইনচার্জ মো. ওয়ালী উদ্দিন আকবর বলেন, ‘বন্দর কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে বালু উত্তোলন করা হলেও জব্দকৃত ১৩টি বাল্বহেডের কোনো সরকারি নিবন্ধন নেই। আদালতের মাধ্যমে এগুলো জব্দ করা হয়েছে, কিন্তু মালিকরা আবার তা নিয়ে এসে বালু উত্তোলন করছে।’
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, ‘মিরসরাই পর্যন্ত পোর্ট লিমিট বৃদ্ধির ফলে পুরো এলাকা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্দরের আওতায় এসেছে। নাব্যতা ধরে রাখতে ড্রেজিং নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ। এ কারণে ৫ প্রতিষ্ঠানকে বালু উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।’
সূত্র : সমকাল
নিজস্ব প্রতিবেদক : সাহাবুদ্দিন আহাম্মদ চৌধুরী (এমরান) দীর্ঘ প্রতীক্ষার বাঁধ ভেঙ্গে শত বাধাঁকে উপেক্ষা করে ১২ই ফ...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : ১৪৪৭ হিজরি সনের পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা এবং এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের লক্ষ্যে আগামীকাল জাতী...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : বিএনপির নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে সর্বোচ্চ ১২ জনকে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্য...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোটের বৈধতা চ্যালেঞ্জ এবং ১৩ ফেব্রুয়ারি ঘোষিত গণভোটের ফল বাতিল চেয়ে ...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানের পরপরই নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের আমন্ত্রণ জানানো শুরু করেছে মন্ত্র...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ শপথ নিয়েছেন মন্ত্রিষদের সদস্যরা। মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের ...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Bangla | Developed By Muktodhara Technology Limited