শিরোনাম
মিজানুর রহমান চৌধুরী | ০৯:৩১ পিএম, ২০২৫-০৭-২২
ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনে ছাত্র-জনতার রক্তঝরা গণঅভ্যুত্থানের বিজয়ীদের বিজয় বেহাত করে মাফিয়া চক্রের অব্যাহত আস্ফালনে সয়লাব গোটা দেশ। দেড় দশকে যারা একটা ঢিল ছুড়তে পারেনি আজ তারাই নিজেদের ক্ষমতার হকদার ভাবছে। বেনিফিসিয়ারী হিসেবে আবারো আবির্ভূত হয়ে ফ্যাসিস্টদের নতুন রূপে মাঠে নেমে ক্ষমতার রুটি-হালুয়া ভক্ষণ শুরু করে দিয়েছে।
১৫ আগষ্ট শেখ মুজিবকে স্বপরিবারে হত্যার পর যারা ক্ষমতায় এসেছিল তারা হচ্ছে সে বিপ্লবের পর ক্ষমতার বেনিফিসিয়ারী। চিহ্নিত বেনিফিসিয়ারী চক্র এমনকি শেখ হাসিনাসহ আওয়ামীলীগের আরো অনেকেই। যারা আগষ্ট বিপ্লবে অংশ গ্রহণ করেছে নেতৃত্ব দিয়েছে কর্ণেল ফারুক, কর্ণেল রশিদ, মেজর ডালিম, বজলুল হুদাসহ শত শত সেনা অফিসার যারা জীবনের গ্লানি নিয়ে পরাজিত জীবন যাপন করেছেন। সর্বস্ব হারিয়েছে। তারা জীবনের স্বাদ তারা পায়নি। দেশে বিদেশে পালিয়ে আত্মগোপনে জীবন পার করেছে। অনেকের ফাঁসিও হয়েছে। ফাঁসি হওয়ার পর তাদের লাশের উপর কবরের উপর প্রকাশ্যে জুতা নিক্ষেপ করা হয়েছে। তখন কারো একটা বিবৃতি পর্যন্ত দেওয়ার মুরোদ হয়নি। যা কাপুরুষিত দলের সমতুল। তারা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর জন্যও কিছু করেনি। যে সালাউদ্দিন তার সারাজীবন দলটির জন্য ব্যয় করে গেছেন। মিথ্যা অভিযোগে যে সব নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধীর মামলা হয়েছে তাদের পক্ষে কোন কথা বলেননি দলটির মহাসচিব । বর্তমানে ও জুলাই বিপ্লবে যারা অংশ গ্রহণ করেছে নেতৃত্ব দিয়েছে, শহীদ হয়েছে রক্ত দিয়েছে, চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণ করেছে,সবর্স্ব ত্যাগ করেছে তাদের শতকরা ৮৫ভাগ নিষ্ক্রীয় জীবন যাপন করছে। অথচ আন্দোলনে না থাকা বেনিফিসিয়ারী ধান্ধাবাজ চক্রটি সচিবালয় থেকে শুরু করে সারাদেশে নানা ধরণের ক্ষমতার ধান্ধাবাজি এবং হালুয়া-রুটি উপভোগ করছে।
ক্ষমতার মোহে রীতিমতো আত্মহারা দিশেহারা এই দলটি সারাদেশে ফ্যাসিস্ট আদলে দখল বাণিজ্য হতে শুরু করে পতিত সরকারের সকল স্থানে তাদের অবস্থান পাকাপোক্ত করে নিয়েছে। পরস্পর হানাহানিসহ সকল অপকর্মে নিজেদের জড়িয়ে নিচ্ছে। নিজেদের অর্ন্তদ্বন্ধসহ নানান হিংসা প্রতিহিংসায় শতাধিক খুনের রেকর্ড পর্যন্ত গড়েছে।
অন্যদিকে জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে শুরু করে বিভিন্ন জেলায় বর্ণচোরা সাংবাদিক চক্রটি জুলাই বিপ্লবে অংশগ্রহণ না করেও নানাভাবে ক্ষমতার সুযোগ সুবিধা বেনিফিট উপভোগ করছে। ৫ আগষ্ট সরকার পতনের পর কিছুদিন গাঁ-ঢাকা দিয়ে থাকলেও ধীরে ধীরে খোলস পাল্টে নতুন রূপে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের বিজয়ের একমাত্র ভাগিদার সেজে যাচ্ছে তাই করে যাচ্ছে। তাদের দেশের জন্য এহেন মায়া কান্নার অভিনয় দারুন কষ্টের সৃষ্টি করেছে হাসিনাশাহী বিরোধী ফ্যাসিস্ট সরকার পতনের মূল দাবিদার ভূক্তভোগী মজলুম জনতার মাঝে। সর্বত্র মজলুম ও নির্যাতিত জনতা এসব পল্টিবাজদের ক্ষমতার আস্ফালন দেখে ক্ষোভ জানালেও ক্ষমতার আশেপাশে লজ্জা শরম বিহিন জারজরা বিচরণ করে যাচ্ছে।
টানা দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ফ্যাসিস্ট রাজত্ব কায়েম করে গোটা দেশকে করদ রাজ্যে পরিণত করেছিল আওয়ামী জালেমরা। ভোল পাল্টে তারা এখন ইনশাআল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ বলে বিএনপি-জামাতের ভেতর নিজেদের শক্ত অবস্থান নেয়ার বিষয়টি দিবালোকের মতই স্পষ্ট। ছাত্র জনতার রক্তলাল আন্দোলনে পতন পরবর্তি ঘাপটি মেরে থাকা আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত দোসর ছাত্রলীগ-যুবলীগসহ মাফিয়া গোষ্ঠি বরাবরের মতো ক্ষমতার স্বপ্নে বিভোর মাফিয়াদের পুরাতন কায়দায় লুটপাটে সহযোগীতা করছে। হাজারো ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ আর অগুণতি আহতের আর্তনাদকে পাশ কাটিয়ে, তাদের অর্জিত বিজয়কে ধূলিস্যাৎ করে মাঠ পর্যায়ে এবং প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে সদর্পে অবস্থান করা আওয়ামী প্রেতাত্মা আর মাফিয়াচক্র মিলে মিশে একাকার। কোন প্রকার বিপ্লবে অংশ গ্রহণ ব্যতিতই বিগত ৬/৭মাসে বিজয়ের ভাগীদারদের নুন্যতম অধিকার নিশ্চিত করার পরিবর্তে তাদের লুটপাট অব্যাহত রেখেছে। দেশ জুড়ে চাঁদাবাজির পুরোনো মডেলকেই নতুন করে চাঙা করায় ব্যস্ত থেকে অন্তবর্তীকালীন সরকারের ইমেজ নিয়ে প্রশ্ন তোলার দু:সাহস দেখাচ্ছে।
ইতোমধ্যে দেশ জুড়ে অভিনব কায়দায় রাজনৈতিক পরিচয় পাল্টে নেতা বনে যাওয়ার হিড়িক চলছে। আওয়ামী আর্শিবাদপুষ্ট ও লুটপাটের হালুয়া-রুটি ভক্ষণকারী মাফিয়ারা কিছুকাল ঘাপটি মেরে থাকলেও নতুন পরিচয়ে সেই পুরোনো দেশ বিরোধী, জনবিরোধী গতানুগতিক ধারাকে চাঙ্গা করে নিজেরাও চাঙ্গা হচ্ছে।
রক্তক্ষয়ী আন্দোলনে বিজয়ী ছাত্র-দেশ-জনতার পক্ষীয় আদর্শবাদী নেতৃত্বদানকারী লোকবলের স্বল্পতার সুযোগে একই মাফিয়া গোষ্ঠী তাদের লেবাস পাল্টে পুরোনো লুটপাটের পরিধি বাড়াচ্ছে। তারা এতটাই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে যে স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচনের বিষয়টিকে বেমালুম চেপে গেছে। বর্তমান অন্তবর্তীকালীন সরকারকেও নানান পন্থায় বিদেশী প্রভূদের দিয়ে জাতীয় নির্বাচনের জন্য হুক্কা হুয়া সোরগোল শুরু করে দিয়েছে। একের পর এক বিভ্রান্তিমূলক কু-কর্মসূচী আর রাস্তা-ঘাটের পাগলা কুকুরকে হার মানিয়ে গলাফাটিয়ে গণতন্ত্রের নামে নিজেদের কায়েমী স্বার্থ হাছিলের প্রচার প্রচারণায় নিজেদের ঘুম হারাম করছে।
ক্ষমতার স্বপ্নে এতটাই অস্থির হয়ে উঠেছে যে রহস্যজনকভাবে আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশগ্রহণে কোন আপত্তি নেই মর্মেও তাদের সূর নরম করেছে। তারা ভূলেই গেছে বিগত দশকে তাদের উপর আওয়ামী নির্যাতনের কথা। কথায় বলে রশুনের কোয়ার সব শেকড় এক জায়গায়। সংস্কার বিহিন, পরিবর্তন বিহিন রাষ্ট্রকাঠামো ও চরিত্রকে অপরিবর্তিত রেখে তারা সেই পুরোনো লুটপাটের রাজত্ব ও রাজতন্ত্রই কায়েম করতে চাইছে।
এই আওয়ামী লীগই বিগত তিন নির্বাচনে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার হরণ করেছে। ‘গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের কাঠামোগত পরিবর্তন করার সুযোগ এলেও বিএনপি’র মাফিয়ারা তা অবমূল্যায়ন করে এক-এগারোর সরকারের ফর্মুলার আলাপ নিয়ে হাজির হলো। অন্যদিকে অন্তবর্তীকালীন সরকার সংস্কারের প্রক্রিয়া শুরু করলে দলটি বলল, এ সংস্কার করার ম্যান্ডেট তাদের নেই। অথচ বিএনপি’ মাঝে ঘাপটি মেরে থাকা চক্রটি এ কথা ভুলে গেল, গণ-অভ্যুত্থানের ফলে গঠিত হওয়া সরকারের ম্যান্ডেট ৬০-৭০ ভাগ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হওয়া রাজনৈতিক দলের চেয়েও বেশি।’
জনগণের আকাংখ্যার পরিপ্রেক্ষিতে গণ-অভ্যুত্থানের পর একটি নতুন রাজনৈতিক দলের প্রয়োজনীয়তা জনসমক্ষে উপস্থিত হলো। ঠিক এ কারণেই ফ্যাসিবাদবিরোধী ও জুলাই স্পিরিটকে ধারণকারী ছাত্র-জনতার সম্মিলনে নতুন রাজনৈতিক দলের উত্থান হওয়ার আভাস পেয়ে বিএনপি সেটিকে হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করল।
ছাত্র জনতার রক্তক্ষয়ী আত্মত্যাগ আর আন্দোলনে পতিত আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের সকল ক্রেডিট একাই ভোগ করতে চায় দলটি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আগেই সম্মিলিত ঐক্যের কোন বিকল্প নেই।
আবদুল্লাহ মজুমদার : : একসময় একটি চাকরি মানেই ছিল একটি পরিবারের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, স্বস্তি ও ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা। মাস ...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : মিজানুর রহমান চৌধুরী : রাজনীতি মানে কি ধোঁকাবাজি? অব্যাহত বাটপারি, মিথ্যাবাদিতা ও প্রতারণা করা! আজ...বিস্তারিত
মিজানুর রহমান চৌধুরী : “রাষ্ট্র আসলে কারা চালায়?” — এই প্রশ্নটি আজ আর কেবল কৌতূহল নয়, এটি এক তীব্র বাস্তবতা। একটি স্বা...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : ভাষাশহিদ সালামের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন পরিষদ গঠিত হয়েছে। শনিবার ঢাকার গুলশানে আয়োজিত এক বৈঠকে র...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : মিজানুর রহমান চৌধুরী: আমাদের গ্রামীন জনপদে ভিলেজ পলিটিক্স নামে একটা কথা প্রচলিত আছে। যাঁরা গ্রা...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : মিজানুর রহমান চৌধুরী সর্বদলীয় মাফিয়া সিন্ডিকেট প্রত্যেক সরকারের আমলে এক শ্রেণীর দূণীর্তিবাজ...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Bangla | Developed By Muktodhara Technology Limited